জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ দেখার গল্প

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামটি আইসিসি অনুমোদিত টেস্ট প্লেয়িং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠসমূহের একটি। এটি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম হিসেবে পূর্বে পরিচিত ছিল। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়াম হিসেবে এটির পরিচিতি রয়েছে। বাংলাদেশের এই মাঠে ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ হয়েছে। ঐ বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যেই সংস্কার করা হয়েছিল এই মাঠটি। স্টেডিয়ামটি জানুয়ারি ২০০৬ এ পূর্ণ আন্তর্জাতিক মর্যাদা পায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সাগরিকায় এটি অবস্থিত।

স্টেডিয়ামটির পাশেই রয়েছে বঙ্গোপসাগর। ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপে এই মাঠে গ্রুপ-পর্বের দুইটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এখানে। তেমনই একটা ম্যাচ ছিল, বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি। এই ম্যাচটিই ছিল অঘোষিত ফাইনাল। কারণ এটিই নির্ধারণ করবে, কোন দল সিরিজ জিতবে। এই ম্যাচটি দেখতে মাঠে গিয়েছিলাম সেদিন। সেই গল্পই আজ শোনাবো।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। সোর্স: cricket365.com

ক্যাপশনটা হতে পারতো, “রোজা রেখে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামে খেলা দেখতে এসে স্টেডিয়ামের পাশের টংয়ের দোকানে বৃষ্টিবন্দি।” আক্ষেপপূর্ণ ক্যাপশন দেখে লেখাটা কেউ পড়তে আগ্রহী হতো, কেউবা এড়িয়ে যেত। আমিও লেখাটা লিখতাম দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে। কিংবা হয়তো কষ্টের আতিশয্যে ক্রিকেট নিয়ে আমার দুঃসহ স্মৃতির দিনটা সম্পর্কে লিখতামই না।

প্রথম থেকেই শুরু করি। আগের রাতটা ছিল ক্বদরের রাত। ঘুমানোর সুযোগ পাইনি। ভোররাতে সেহরি খেয়েই রওনা হলাম স্টেশনে। ভোর পাঁচটায় চট্টলার ট্রেইন। লম্বা সময় জার্নি করে আমরা ছয় বন্ধু স্টেডিয়ামে ছুটলাম। মামা বলেছিল টিকিট নিয়ে আমার কোনো চিন্তাই করতে হবে না। দুপুর একটায় মামার পরিচিত একজন আমাকে চারটা টিকিট দিয়ে যাবে। আর বাকি দুটোর ব্যবস্থা করবে আব্দুর রাজ্জাকের ভাইয়া।

প্র‍্যাক্টিস সেশন। সোর্স: www.gettyimages.ae

একটার মিনিট পাঁচেক বাকি থাকতে স্টেডিয়ামে পৌঁছলাম। পতাকা রঙের হ্যাট কিনে মাথায় পরে ফটো সেশন করলাম কিছুক্ষণ। ক্রিকেটারদের বাস এলো। উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করলাম, যদি মাশরাফিদের দেখা পাওয়া যায়! গেল না। কিন্তু চিৎকার করে চিয়ার আপ করতে ভুললাম না।

দেড়টা বেজে গেছে। মামার পাঠানো লোকের খবর নেই। ফোন করলাম। বলল, আসছে।

দুটো বাজল।

আড়াইটা।

পৌনে তিনটা।

পনেরো মিনিটের মাথায় খেলা শুরু হয়ে যাবে। মরিয়া হয়ে ফোন করলাম। করতেই থাকলাম। একবার বলল, এক ঘণ্টা। এরপর আধা ঘণ্টা, পনেরো মিনিট, দশ মিনিট। লোকটার বেঁধে দেওয়া সবগুলো সময়ই শেষ হলো। কিন্তু তার দেখা নেই।

বৃষ্টিবিঘ্নিত স্টেডিয়াম। সোর্স: NDTV Sports

ইতোমধ্যে খেলা শুরু হয়ে গেছে। দুটো উইকেট পড়ে গেছে। যেই আমি বল বাই বল খেলা দেখি, কখনো বাংলাদেশের ম্যাচ মিস করি না, সেই আমাকে স্টেডিয়ামে সরাসরি খেলা দেখতে এসে রাস্তার পাশে বসে বসে ক্রিকবাজে খেলার আপডেট দেখতে হচ্ছে! এই ছিল কপালে? ডাক ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।

ওইদিকে ফ্রেন্ডদের মুখ দেখাতে পারছি না। আব্দুর রাজ্জাকের দুটো টিকিট হাতে এসে গিয়েছে। কিন্তু ওরা আমাদের চারজনের মুখের দিকে চেয়ে খেলা দেখতে ঢুকছে না। আমার ভরসায় ওরা সেই চাঁদপুর থেকে খেলা দেখতে এসেছে। আর আমি! থমথমে মুখে রাস্তার মাঝখানের ডিভাইডারে বসে রইলাম।

অবশেষে সেই লোক এলো। তার কথা শুনে আক্ষরিক অর্থেই আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। বলে কিনা, ব্ল্যাকে কেউ চারশ-পাঁচশ টাকায় টিকিট বিক্রি করে কিনা, সেটার খোঁজ খবর নেবে সে! তার মানেটা কী? সে আমাদের জন্য টিকিট কেনেইনি? নাকি কিনেও মামাকে না জানিয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে দিয়েছে? জানি না। হতাশায় মনটা একদম দমে গেল। যেভাবেই হোক, টিকিট ম্যানেজ করেই ফিরবে সে – এই বলে ছেলেটা চলে গেল।

মাঠের পরিচর্যা। সোর্স: samaa.tv

কী করব, ভেবে পাচ্ছিলাম না। ঝুম করে বৃষ্টি নামল। আব্দুর রাজ্জাক একটা দোকানের ছাউনিতে ঢুকে আমার দিকে ফিরে বলল, “দোস্ত! এদিকে আয়! খেলাটা টিভিতে দেখ অন্তত!” দৌড়ে এলাম খেলা দেখতে। হুড়মুড় করে একগাদা ছেলেমেয়েকে ঢুকতে দেখে দোকানি টিভি বন্ধ করে দিল। আমি তো পুরোই অবাক! এটা দেখারই বাকি ছিল?

বৃষ্টি তখন টিপ টিপ করে পড়ছে। ছেলেটা ফোন করে বলল, স্টেডিয়ামের দিকে এগোতে। গেলাম সবাই। বলল, আমাদের কাছে যে টিকিট দুটো আছে, সেগুলো দিতে। সে নাকি এগুলো দিয়ে আমাদের সবাইকে ঢুকানোর ব্যবস্থা করতে পারবে। গাধার মতো দিয়ে দিলাম টিকিট। আধা ঘণ্টা টিপ টিপ বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করছি। হতাশায় ডুবে আছে মন। খালি ভাবছি, একটা বার, অন্তত একটাবার যদি মাশরাফিকে সামনে থেকে দেখতে পারতাম! ওর সাথে একটু কথা বলার সুযোগ যদি পেতাম! স্বগতোক্তি  করলাম, “কী করলে মাশরাফির দেখা পাব?”

কেউ কোনো জবাব দিল না।

গ্যালারি। সোর্স: VOA Learning English

একটু  পর ছেলেটা ফোন করে বলল, টিকিট পাওয়া গেছে। একটা ১,০০০ করে।

মাথায় রক্ত চড়ে গেল। এইবার ঝাড়লাম ইচ্ছামতো। বললাম, তার টিকিট দরকার নেই আমাদের। আমাদের টিকিট দুটো যেন দিয়ে যায়। ঝাড়িতে কাজ হলো। দিয়ে গেল টিকিট। প্ল্যান করলাম, আমি আর আব্দুর রাজ্জাক ঢুকব টিকিট দুটো দিয়ে। তারপর বাকিদের ঢোকানোর ব্যবস্থা করব।
ছেড়া টিকিট দিয়ে আরো দুইজনকে ঢোকানো যায় কিনা, সেটার ফন্দি আঁটছি। হঠাৎ পিছনে ফিরে দেখি, বাকি চারজন দাঁড়িয়ে! আমাকে চোখ বড় বড় করে তাকাতে দেখে ওরা বলল, পুলিশকে ১০০ টাকা করে ঘুষ দিয়ে দেয়াল টপকে ঢুকেছে। খেলা দেখতে এসে শেষ পর্যন্ত আমাদেরও দুর্নীতি করতে হলো!

এটা ভেবে সান্ত্বনা পেলাম যে আমাদের সাথেও তো কম জোচ্চুরি হয়নি! দীর্ঘসময় টেনশনে থাকার পর অবশেষে মুখে হাসি ফুটল।

কিন্তু ঝামেলা তখনো শেষ হয়নি। আমরা তো আর জানি না যে স্টেডিয়ামে ঢোকার জন্য আরো একটা গেট পার হতে হবে। আমি আর রাজু আমাদের টিকিট দিয়ে আরামসে ঢুকে গেলাম। মাঠে তখন পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। ইস্টার্ন গ্যালারি ২ এর নিচের দিকে কিছু সিট খালি ছিল।  রাজু আমাকে ওখানে বসিয়ে দিয়ে বাকিদের ভেতরে ঢোকাবার ব্যবস্থা করতে গেল।

গ্যালারিতে আমরা। সোর্স: তুষার

বিশাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চারপাশে তাকালাম। বৃষ্টির পরেও স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষ! তার উপরে মাথার উপরে ছাউনি নেই। দেশের মানুষ যে কী পরিমাণ ক্রিকেট পাগল, আগেই জানতাম। এবার নিজের চোখে দেখলাম। মাঠের পানি নিষ্কাশনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। নাসির আর সৌম্য মাঠে নেমে প্র‍্যাক্টিস করতে শুরু করে দিয়েছে। আমাদের গ্যালারির দর্শক চিৎকার করে চিয়ার আপ করল ওদের।

আজান হয়ে গেছে। কিন্তু গ্যাঞ্জামে থাকায় স্টেডিয়ামের আউটার থেকে কিছু কিনে আনা হয়নি। খুঁজে পেতে পানিও পাওয়া গেল না। পাশের ভদ্রমহিলা দয়া করে পানি দিলেন আমাদের। রোজা ভাংলাম। খাবার টাবার না পেলেও গায়ে মাখলাম না। প্রচণ্ড এক্সাইটেড হয়ে আছি। সত্যিই স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখছি আমি!

পতাকারঙের হ্যাট মাথায়। সোর্স: লেখিকা

সতেরো ওভার বোলিং বাকি ছিল টাইগারদের। আমাদের গ্যালারির সামনে ফিল্ডিং করতে এলেন সাকিব আল হাসান। আমরা সবাই চিৎকার করে ওর নাম ধরে ডাকলাম। কতগুলো পোলাপান শিশির ডাকছিল। দর্শক হিসেবে আমরা এখনো যথেষ্ট মার্জিত হতে পারিনি, আরেকবার তার পরিচয় পাওয়া গেল।

বোলিংয়ের কথা আর কী বলব! দিন দিন আমাদের বোলিং ডিপার্টমেন্ট আরো বেশি দুর্দমনীয় হয়ে যাচ্ছে। হিসেব করলে দেখা যায় যে ম্যাশ বোলিং না করলেও ৫০ ওভার ইজিলি বোলিং করানো যায়। বাকিদের সাথে ও ২-১ টা ওভার করলে ৫০ ওভারের কম্পলিট প্যাকেজ হয়ে যায়। বোলিংয়ে প্রেশার কম পড়লে, ওকে হয়তো আরো অনেকগুলো দিন ক্যাপ্টেন হিসেবে পেতে পারব।

যাকগে, যেটা বলছিলাম, দারুণ বোলিং করছিল বোলাররা। একেকটা উইকেট পড়ছিল, আর তারস্বরে চিৎকার করছিলাম। কোত্থেকে এত এনার্জি পাচ্ছিলাম, নিজেই জানি না। এম্নিতেই আমার চিল্লাচিল্লির অভ্যাস আছে। তার উপরে এত্তগুলো মানুষ একসাথে বসে দেখছি। এক্সাইটমেন্ট কিছুতেই ধরে রাখা যাচ্ছে না। আর আমি রাখার চেষ্টাও করছি না।

স্বপ্ন ছোঁয়ার আনন্দে আত্মহারা এক তরুণী। সোর্স: লেখিকা

আমাদের গ্যালারির বাউন্ডারির সামনে সাকিবের পর মোস্তাফিজ, সাব্বির, সৌম্য আর লিটন ফিল্ডিং করেছিল। তারমধ্যে সৌম্যকে সানি তোয়ালে দিয়ে গিয়েছিল। এই কয়েকজনকে ভালোমতো দেখার সুযোগ পেয়েছি। আর একটু দূরে তামিম আর রুবেলকেও মোটামুটি দেখেছি। এমনকি খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে শামিম চৌধুরীকেও দেখেছি, বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের দিকে যাচ্ছিল। আমরা চিৎকার করে চিয়ারআপ করার পর উনি আমাদের দিকে ফিরে হাত নাড়িয়েছিলেন। কিন্তু যাকে দেখার জন্য এতদূর ছুটে এসেছি, তাকে কাছ থেকে দেখতে পেলাম না। দুই নম্বর জার্সি পরা মানুষটার মুভমেন্ট কেবল দূর থেকেই দেখলাম।

বোলিং শেষ হবার পর ফ্রেন্ডদের দিলে তাকিয়ে বললাম, “দোস্ত! কষ্ট যা করছি, সব ভুলে গেলাম এই মুহূর্তে। এরপরে যদি বৃষ্টির কারণে খেলা পরিত্যক্তও হয়, আমার আক্ষেপ থাকবে না!” যদিও মনে প্রাণে দোয়া করছিলাম, বৃষ্টি যেন না হয়। আব্দুর রাজ্জাক বলছিল, “৫ ওভার পর ২৫ রান হয়ে, বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে গেলে আমরা জিতে যাব।”

কিন্তু বাংলাদেশ এভাবে জিতে যাক আমি চাচ্ছিলাম না। ডিএল মেথডে জেতার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেতাটাই হবে উপভোগ্য। আমাদের গ্যালারির ঠিক অপোজিটেই স্ক্রিনবোর্ডটা ছিল। মাঠের দূরতম প্রান্তে দৃষ্টিসীমা ঘোলা হয়ে গেলে স্ক্রিনবোর্ডের রিপ্লাইতে দেখে নিচ্ছিলাম। কে যেন বলেছিল, মাঠে খেলা দেখে মজা নেই। অনেক কিছু মিস হয়ে যায়। আমি বলব, এটা একদম ভুয়া কথা! যথেষ্ট মজা পেয়েছি আমি মাঠে খেলা দেখে।

ব্যাটিং শুরু হবার পর থেকেই আমি বললাম, ‘আজকে তামিমের দেড়শ তম ম্যাচ। আমার মনে হয়, আজকে ও ভাল খেলবে।’ কেউ কিছু বলল না। সবাই একটু একটু করে আস্থা হারাচ্ছে ওর উপর থেকে। তবে আমার ধারণা মিথ্যে হলো না। ব্যাটিং র‍্যাংকিংএর বাংলাদেশের সর্বসময়ের সেরা ব্যাটসম্যানকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়ে গেল সে। গত ওয়ানডেতে সৌম্যর সাথে মিস্টার ওয়াল হিসেবে ছিল মাহমুদুল্লাহ, আর শেষ ওয়ানডেতে ছিল তামিম। ওকে এত ধৈর্যশীল ইনিংস খেলতে দেখিনি কখনো। প্রত্যেকটা শট অসাধারণ খেলেছে সে।

আর সৌম্য! এখন তো সবার মুখে মুখে ওর কথা। আমি আর তেমন কিছু বলব না। শুধু এটুকু বলি, আমাদের ব্যাটিংয়ের মাঝামাঝি সময়ে আমি বলছিলাম, “দোস্ত! সৌম্যর পেরিস্কুপটা আমি চিনি না। আজকে যদি ওর শটটা দেখতে পেতাম!”

আমার আক্ষেপটা শুনতে পেয়েই ও হয়তো বাউন্সার বল পেয়েই পেরিস্কুপ মেরে দিয়েছিল। আর মজার ব্যাপার হল, ও তখন ব্যাট করছিল, ইস্পাহানী এন্ড থেকে। ফলে একদম ক্লিয়ার দেখতে পেয়েছি শটটা।

সৌম্যর সেঞ্চুরীটার জন্য স্টেডিয়ামে বসে আক্ষেপ করলেও, এখন আর খারাপ লাগছে না। নার্ভাস নাইন্টির শিকার হওয়া তো ক্রিকেটেরই অংশ।

চিৎকার করতে করতে গলার অবস্থা খারাপ। কিছুক্ষণ পর পর দর্শকদের আনন্দধ্বনি পুরো মাঠে ঘুরছে। কী এক অদ্ভুত নিয়মে গ্যালারি বাই গ্যালারিতে কোরাসটা ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিজের চোখে না দেখলে, বা নিজে স্টেডিয়ামে না থাকলে ব্যাপারটা এক্সপ্লেনেশন করে বোঝানো সম্ভব না।

বন্ধুরা সিটের উপর দাঁড়িয়ে লাফাচ্ছে। একটা তো সিটই ভেঙে ফেললো। ধমক দিয়ে নিচে নামালাম। কিন্তু চিৎকার বন্ধ নেই। আমিও চিল্লাই, ওরাও চিল্লায়। হঠাৎ স্ক্রিনবোর্ডের দিকে তাকিয়ে একদম চুপ হয়ে গেলাম। দর্শকদের দেখাচ্ছিল সেখানে। চকিতে মনে হলো, তারস্বরে চেঁচাতে থাকা, সাদা-গোলাপি হিজাব পরা মেয়েটাকে দেখাচ্ছে। আসলেই কি তাইই? নাকি চোখের ভুল? সেটা জানা হবে না কখনোই।

কখনো কল্পনাও করিনি এরকম একটা অসাধারণ ম্যাচ সরাসরি দেখার সুযোগ হবে। আমি তৃপ্ত। এই দিনটা সত্যিই আজীবন মনে থাকবে আমার। স্ক্রিনবোর্ডে পুরস্কার বিতরণী প্রোগ্রাম দেখে চিয়ার আপ করে শেষ হলো আমার মাঠে বসে দেখা প্রথম ম্যাচ।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মেঘালয়ে মেঘবিলাস: ক্রাংসুরির উদ্দামতা

বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী মন্দির ভ্রমণ