কেরানীর বিদেশ ভ্রমণ ও ভিসার জটিলতা

আপনি কি কেরানী নাকি অফিসার? যদি আপনি পূর্ণকালীন কোনো কর্মে নিয়োজিত থেকে থাকেন আর সেটা যদি হয় নিখাদ কেরানী গোছের, তবে এই লেখাটা আপনার জন্য। আর যদি আপনি কোনো অফিসের অফিসার শ্রেণীর চাকুরে হয়ে থাকেন তবে এই লেখা আপনার জন্য নয়। এই লেখাটা শুধু কেরানী ও একই সংসারী ভ্রমণ নেশায় নেশাগ্রস্ত যারা তাদের জন্য।

আচ্ছা এসব প্যাঁচাল বাদ দিয়ে এবার আসল কাহিনীতে আশা যাক, কী বলেন?

ধরুন আপনি একজন কেরানী, সেই সাথে যদি হয়ে থাকেন পুরোদস্তুর সংসারী, কিন্তু সংসারী আবার কেরানী হওয়া সত্ত্বেও যদি আপনার থেকে থাকে বিশেষ ঘুরে বেড়ানোর বিলাসিতা। নানা অজানা, অচেনা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে আপনি ভীষণ রকম ভালোবাসেন, ভালোবাসেন প্রকৃতি আর পৃথিবী দেখতে। আপনি গাড়ি, বাড়ি আর ব্যাংক ব্যালান্সের কথা কখনোই ভেবে দেখেননি। কিন্তু নানা রকম কষ্ট করেন, অল্প-অল্প টাকা জমান শুধু মাত্র একটু নতুন নতুন জায়গা দেখার নেশায়, তবে কিন্তু আপনাকে নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে প্রতিনিয়ত।

অফিস ও ভ্রমণ প্রতিবন্ধকতা। ছবিঃ সংগ্রহ

অর্থের সংস্থান, ছুটি ছাটার বন্দোবস্ত, সঙ্গী জোগাড় করা, নানা রকম রুট প্ল্যান করা, ছোট ছোট স্বপ্ন দেখার মাঝে নানা রকমের, ধরনের সমস্যা দেখা দেয় প্রতিনিয়ত। কিন্তু এসব নানা রকম সমস্যার মাঝে যে সমস্যা সবচেয়ে প্রকট হয়ে দেখা দেয় সেটা হলো ভিসার সমস্যা। জ্বী, ঠিক পড়েছেন ভিসার সমস্যাই এইসব কেরানীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আর প্রায় অলঙ্ঘনীয় সমস্যা।

অনেকেই হয়তো ভাবছেন, যে আজকাল তো ভিসা পাওয়া এত কঠিন কিছু না, তাহলে ভিসাকেই কেন বিদেশ ভ্রমণের প্রধান সমস্যা হিসেবে বলছি? আসলে যারা এটা ভাবছেন তারা হলেন অফিসার মানুষ, বস লেভেলের জব করেন। কিন্তু যারা কেরানী গোছের তারা মাত্রই জানে যে ভিসার জটিলতাই এদের বেড়াতে যাওয়ার প্রধান সমস্যা। কারণ কোনো রকমে ক’টি টাকা, দুটি দিনের ছুটি, দুই-চারজন সঙ্গী, একটা ভ্রমণ পরিকল্পনা ঠিক করে ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে ফেললেও শুধুমাত্র ভিসার জটিলতায় এরা বারবার জীবন উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয় সময়ে বা অসময়ে।

পণ্ডিচেরী বীচ, তামিলনাডু, ভারত। ছবিঃ সংগ্রহ

জ্বী ভাই, ভিসাই এদের অন্যতম প্রধান সমস্যা, কারণ কি জানেন? কারণ এই কেরানীদের শুধু একটা ভিসা পেলেই কোথাও যাওয়া হয়ে ওঠে না। এই কেরানীদের কোথাও যেতে হলে, বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণে যেতে চাইলে তিন রকমের ভিসার দরকার হয়! জ্বী ঠিক দেখেছেন তিন রকমেরই। যদিও অফিসার বা বস লেভেলের মানুষের একটা ভিসা হলেই যথেষ্ট, আর সেটা হলো যে দেশে যেতে চায় সেই দেশের ভিসা। কিন্তু কেরানীদের যে দেশে যেতে চায় সেই দেশের ভিসা ছাড়াও আর দুই রকমের ভিসার দরকার হয়, যদি এই তিন রকমের ভিসার সময়সূচী একই সাথে মিলে যায়, তবেই মাত্র তারা তাদের কোনো এক কাঙ্ক্ষিত গন্ত্যব্যের অজানা আনন্দ উপভোগের জন্য বেরিয়ে যেতে পারে। নয় তো নয়।

তো কী সেই তিন রকমের ভিসা? একটা তো না হয় যে দেশে যাবে সেই দেশের ভিসা। বাকি দুটো? বাকি দুটো হলো গিয়ে, একটা অফিসের ভিসা। না অফিসের ভিসা মানে আবার এনওসি নয়, ছুটিও নয়, এ ছাড়াও নানা রকম ব্যাপার স্যাপার থাকে, যেটা কেরানী মাত্রই বুঝতে পারবে, অফিসার হলে নয়। যে ভিসা না পেলে আপনি ইচ্ছা হলেই উড়াল দিতে পারবেন না, পকেটে টাকা থাকলেও। এই হলো ভিসার দ্বিতীয় ধরন।

সবুজ দেখার আকুলতা, অফিসের সবুজ চায়েই সীমাবদ্ধ! ছবিঃ লেখক

আর ভিসার তৃতীয় ধরন বা তিন নাম্বার ভিসা হলো, যদি আপনি একই সাথে কেরানী এবং সংসারী হয়ে থাকেন তবেই এটা ঠিকঠাক বুঝবেন। কারণ আপনি হয়তো অন্য দেশের ভিসা পেয়েছেন, অফিসের ভিসাও কেঁদেকেটে ম্যানেজ করেছেন! কিন্তু ভাইজান আপনি যদি সংসার ঠিক রেখে ঘরের ভিসাটা নিতে না পারেন তবে কিন্তু আগের দুই ভিসাই অকার্যকর। কারণ এই ঘরের ভিসা না পেলে না পারবেন শান্তিমতো যেতে আর না পারবেন কোথাও গিয়ে নিজের সময়টাকে উপভোগ করতে।

তাই, আপনাকে শুধু একটি ভিসা নিলে বা পেলেই হবে না, একই সাথে কেরানী আর সংসারী যদি হয়ে থাকেন তবে আপনাকে বিদেশ ভ্রমণে যেতে চাইলে, সেই দেশের ভিসা, টাকা পয়সার জোগাড়, ছুটি অনুমোদন, নানা রকম টিকেট করা থাকার পরেও আপনি যেতে পারবেন না, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন না। যদি না থাকে অফিস ও বাসার বাকি দুটি ভিসার মিল। তিন রকমের ভিসার যদি না থাকে সমন্বয়।

সবকিছু প্রস্তুত থাকার পরেও যখন যাওয়া হয় না। ছবিঃ লেখক

যার জলজ্যান্ত প্রমাণ আছে আমার কাছেই। নামটা না হয় নাই বলি, শুধু এইটুকু বলায় যথেষ্ট, যে একজন কেরানীর, যে কিনা আবার সংসারীও, আছে নানা রকমের জায়গা দেখার নেশা, যার আজকে, হ্যাঁ আজকে এই সময়ে থাকার কথা ছিল সবুজ কচি ডাব হাতে পণ্ডিচেরীর বীচে কিন্তু তিন রকমের ভিসার সমন্বয় না ঘটাতে তিনি এখন অফিসে কেরানী গিরিতে ব্যস্ত! অথচ তার ছিল সেই দেশের ভিসা, জোগাড় করেছিল কিছু টাকা পয়সা, নিয়েছিল ছুটি, কেটেছিল ট্রেন আর প্লেনের টিকেটও, শুধু তিন রকমের ভিসার সম্মীলন না ঘটাতে আজ সে অফিসে!

থাকার কথা ছিল ডাব হাতে বীচে, তা না থেকে আছে বসে অফিসে, ব্যস্ত কেরানীগিরিতে।

তাই আর কি কেরানীর বিদেশ ভ্রমণ মানেই হলো তিন রকমের ভিসার একত্রীকরণ!

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পেহেলগামের প্রেমে

কীভাবে করবেন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট?