কাশ্মীর ভ্রমণ: খরচের খেরো খাতা

অপূর্ব, অপার্থিব কাশ্মীর। ছবিঃ 1.bp.blogspot.com

কাশ্মীর ভ্রমণ যে কোনো ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ভ্রমণের একটি। আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত কাশ্মীর ভ্রমণের শুধু খরচের গল্প এটি। কে কোনো বড় ধরনের কোনো ভ্রমণ ইচ্ছা থাকলে, অনেক দিনের লম্বা ট্যুরের কথা ভেবে থাকলে একটি সঠিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

এ ক্ষেত্রে যে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কবে যাবো, কবে ফিরবো? কোথায় যাবো? ক’জন যাবো? কতদিন ঘুরে বেড়াবো? এই ব্যাপারগুলো ক্লিয়ার হলেই অনেক ঝামেলা আর খরচ কমে যেতে পারে। তবে এবার আমাদের কাশ্মীর ট্যুরের খরচের খাতাটা খুলি, কী বলেন?

বালতাল, কাশ্মীর। ছবিঃ লেখক

কলকাতা-দিল্লী:

ঢাকা থেকে কলকাতা যাবার বাস বা ট্রেনের টিকেট ফিক্সড থাকবে জানতাম তাই এই টিকেটটা আমরা সবার শেষে করেছিলাম। সেই খরচ ১,৯০০ টাকা। রয়েল এর হুন্দাই এসি। কলকাতা থেকে দিল্লি প্লেনের টিকেট করেছিলাম দুইমাস আগে, ৩,১০০ রুপী করে প্রতি টিকেট। কলকাতাতে একদিন থেকে হোটেল ভাড়া, খাওয়া, ট্যাক্সি ভাড়া দেবার কোনো ইচ্ছা ছিল না বলে। তবে এই পরিকল্পনাটা ভালোই ছিল।

আর এর চেয়েও কম দামে দিল্লী থেকে শ্রীনগরের প্লেন টিকেট পেয়েও কাটিনি তখন, কেননা বাকিটুকু ট্রেনে যাবো বলে। দিল্লী থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসের টিকেট পর্যন্ত কেটে রেখেছিলাম ১,৫০০ টাকায়। কিন্তু যাবার ঠিক আগে আগে, ৭/৮ দিন হবে হয়তো, দিল্লীর গরমে থাকবে না কেউ এই কারণ দেখিয়ে দিল্লী-জম্মু ট্রেন টিকেট ফেরত দিয়ে প্লেন টিকেট করাতে প্রায় ৫,৮০০ টাকা করে লেগেছিল প্লেন টিকেটেই! যা কলকাতা-দিল্লী প্লেন টিকেটের প্রায় দ্বিগুণ!

সোনায় মোড়ানো কাশ্মীর! ছবিঃ লেখক

শ্রীনগর:

পরিবার নিয়ে প্রথমবার কাশ্মীর গিয়ে কেউ হোটেল আর গাড়ি খোঁজার মতো বিড়ম্বনায় পড়তে চায় না দেখে অনলাইনে হাইজবোট আর গাড়ি বুক করে কিছুটা ধরা খেয়েছিলাম, ১,৬০০ রুপীতে ডাবল রুম নিয়ে আর সারাদিনের জন্য ১৪ সিটের গাড়ি ভাড়া করে ৩,৩০০ রুপী করে!

যদিও এই একই হাউজ বোট পরে ১,০০০ রুপীতেই রুম দিতে রাজি ছিল। আর আগে গাড়ি ঠিক না করে এয়ারপোর্টে নেমে করলেও খুব বেশী হলে ৮০০ থেকে ১,০০০ এ গাড়ি পেয়ে যেতাম ডাল লেক যাবার জন্য। কারণ সবাই ক্লান্ত থাকায় ওই দিনের গাড়ির টাকাটা নষ্টই হয়েছে, তেমন কোথাও না ঘুরে।

হাউজ বোটের খাবারের বেশ দাম। জন প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ রুপী! যেটা ভারতের অন্যান্য জায়গায় ১২০/১৫০ রুপী।

অথচ ওই দিনই, পরের দিনগুলোর জন্য চমৎকার হোটেল পেয়েছিলাম মাত্র ১,০০০ রুপীতে বিশাল ডাবল রুম, সকল প্রয়োজনীয় সুবিধাসহই। তাও একেবারে ডাল লেকের সাথে লাগোয়া, অসাধারণ ডাল লেকের ভিউসহ। হোটেলও ছিল ডাল ভিউ নামেই। গেট-৭ এর সাথে লাগোয়া।

এক মুঘল দোকানে রাতের খাবার খেয়েছিলাম মাটন বিরিয়ানি। ওহ, ৫ জনের জন্য দুটি বিরিয়ানি যথেষ্টর চেয়েও বেশি কিছু ছিল। দাম পড়েছিল ৮৪০ রুপী। তবে মান, স্বাদ, পরিমাণ আর পরিবেশের কাছে এই দাম যথেষ্ট সহনীয় ছিল।

গুল্মারগ কাশ্মীর। ছবিঃ লেখক

শ্রীনগরের অন্যান্য জায়গায় ২০০ রুপীর মতো লাগে জনপ্রতি প্রতি বেলার খাবারে।
শ্রীনগর শহর, ডাল লেকের আশেপাশে প্রায় ৫/৬টি মুঘল বাগান দেখার জন্য সারাদিনের জন্য ২,২০০-২,৫০০ (৪-৬ জনের) বা ৩,০০০-৩,৩০০ (৮-১২+ জনের) রুপী দিয়ে গাড়ি ভাড়া (একদিনের জন্য) করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। শুধু মাত্র পরীমহল ও চসেমশাহী দেখার জন্য গাড়ি প্রয়োজন।

গুলমার্গ:

পুরো কাশ্মীরের মতো এত এত বাটপার, ছেঁচড়া আর ঠগবাজ আপনি আর কোথাও খুঁজে পাবেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। গাড়ি গিয়ে থামতেই আপনাকে ঘিরে ধরবে ঘোড়া নেবার জন্য। বলবে ঘোড়া ছাড়া বিকল্প নেই। ওদিকে যাওয়া যায় না, যেতে দেয় না, সরকারি নিয়ম। অনেক নয়-ছয় পনেরো বোঝাবে আপনাকে। কোনো কিছুতে কান দেবার কোনো দরকার নেই। তবে হ্যাঁ, ঘোড়ায় চড়ার খুব খায়েশ জাগলে দামাদামি করে ২০০-৩০০ এর মধ্যেই পেয়ে যাবেন। অথচ বলবে যে সরকারি রেট ১,০০০/১,২০০/১,৫০০ বলে আপনাকে ঘাবড়ে দিয়ে ব্লাকমেইল করবে।

দুই ফেসের গণ্ডোলা রাইডে ১,৬০০ রুপী জন প্রতি দেয়ার মতো আহাম্মকি আর অপচয় অন্য কোনোটায় আছে বলে আমার মনে হয় না। আমার মতে পুরোপুরি একটা ফালতু খচর। আপনাকে বরফের লোভ দেখাবে, স্কি, স্লেজিং, স্নো বাইকের রোমাঞ্চের লোভ দেখাবে। উপরে নিয়ে গিয়ে পোশাকের বাধ্যবাধকতা দেখিয়ে আরও হাজার হাজার রুপীও খসিয়ে নিতে পারে নিমেষেই।

আমার মতে এই পথে পা না বাড়িয়ে, গুলমার্গের সবুজ ঘাসের মখমলে বসে থাকুন, একটা বেলা ধীরে ধীরে হেঁটে হেঁটে পুরো গুলমার্গ দেখুন। সময় কাটবে দারুণ। মন ভরে যাবে ভীষণ, আর পয়সা বেচে যাবার আনন্দে কাশ্মীরে আরেকদিন বেশি থেকে যান। পরে আমাকে বাহবা দিয়েন ফিরে এসে! কারণ এখানে যেসব রোমাঞ্চের লোভ আপনাকে ওরা দেখাবে তারচেয়ে অনেক বেশী রোমাঞ্চ আপনি পাবেন সোনামার্গ গিয়ে আর যোজিলা পাস গিয়ে। অনেক কম খরচে, অনেক নিরাপদে আর অনেক বৈচিত্রপূর্ণ পরিবেশে।

সোনামার্গ:

সোনামার্গ পর্যন্ত কোনো আলাদা খরচ নেই। তবে এখান থেকে যোজিলা পাস যেতে আলাদা গাড়ি নিতে হয়। এটাই নিয়ম, তবে এই গাড়ি নিয়ে নানা রকম বাহানা আছে, ভাড়ার ব্যাপারে। ৭,০০০/১০,০০০ চাইবে আপনাকে নিয়ে যেতে আর আসতে। আপনি অবশ্যই দামাদামি করে নেবেন। যেমন আমরা যোজিলা পাস গিয়েছিলাম ১০ জনের গাড়িতে করে ৫,৫০০ রুপীতে, যেটা আমাদের কাছে ৭,৫০০ রুপী চেয়েছিল। এটাও নাকি সরকারি রেট ছিল, কিন্তু কমলো কীভাবে কে জানে!

তবে যোজিলা পাসে গিয়েও পাবেন ঘোড়া, স্লেজিং, স্নো বাইক সবকিছুই দামাদামি করে নিন। যেমন আমি আমার ছেলেকে নিয়ে স্লেজিং করেছিলাম নিজে নিজে মাত্র ১০০ রুপীতে! যেটা আমার কাছে ৪০০ চেয়েছিল দুইজনের জন্য। আমি শুধু একটু ঝুঁকি নিয়ে রোমাঞ্চ করেছি মাত্র। নিজে নিজেই বরফের উপর থেকে কাঠের বাহনে দুজনে বসে কোনো গাইড ছাড়াই নেমে এসেছি ভীষণ দ্রুততায়! তবে এটার জন্য ভীষণ দুঃসাহসী হতেই হবে।

এখানে খাবারের দাম তুলনামূলক বেশ কম। তবে সোনামার্গে সময় থাকলে একদিন বা রাতে থেকে যেতে পারেন। পয়সা উশুল হয়ে যাবে আমি নিশ্চিত। তবে থাকার খরচটা বেশ বেশী। ২,০০০/২,৫০০ রুপীর নিচে কোনো কটেজ খুঁজে পাইনি। যেগুলো পছন্দ হয়েছিল তার দাম ৭,০০০ রুপী এক রাতের জন্য! আর এখানকার ভেড়ার মাংসের স্পেশাল রান্নার সাথে যবের রুটি না খেলেই নয় কিন্তু! দাম মনে হয় রুটিসহ ১৭০ রুপী ছিল।

সোনমার্গ। ছবিঃ লেখক

পেহেলগাম:

এটা একটা পাগল করা জায়গা। সেই গল্প বলবো পরে, লিখে রেখেছি।

এখানে সকল রকম পাগল করা প্রকৃতির পাশাপাশি অবাক করেছিল মাত্র ৮০০ রুপীতে স্বর্গীয় একটা কটেজে ডাবল রুম পেয়ে! স্বর্গ প্যালেসে। যেটা অন লাইনেই ২,২০০ রুপী দেখেছিলাম! এখানে খাবারের খরচ প্রায় একই রকম কিন্তু ওদেরকে বললে কী খাবেন, ক’জন খাবেন বাজার করে রান্না করে দিলে খরচ অনেকটা কম পড়ে।

যেমন আমরা ১০ জনের জন্য এক কেজি মুরগীর মাংস রান্নাসহ দাম নেবে ৬০০ রুপী, ভাত ৬০ টাকা করে, অনেক দাম ভাতের। পানি আর ডাল নিলে খরচ আর একটু বাড়বে। তবে যে পরিমাণ ঝোল দেয় তাতে আর ডালের দরকার হয় না।

মোটামুটি ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় ৯-১০ জনের খাবার হয়ে যায়, ওভাবে বললে আর বাজার করে রান্না করে দিলে মাংসের পরিমাণ বলে দিয়ে। কিন্তু একা একা মিল নিয়ে খেতে গেলে জনপ্রতি ২৫০ রুপীর কমে হবে না।

পেহেলগামে বাইরের স্পটগুলোতে ঘুরতে যাবার আলাদা খরচ সোনামার্গের মতোই, তবে এখানে নতুন একটা ভণ্ডামি আছে। সেটা হলো দুই স্পট ১,৪৫০ রুপী গাড়ি। আরুভ্যালী আর বেতাব ভ্যালী। চার স্পট ১,৮০০ রুপী। এমন করে স্পট হিসেবে গাড়ির ভাড়া নির্ধারণ করে ওরা। তবে একটা শর্ত দিয়ে দেয়। সেটা হলো যে স্পটে যাবেন আপনার জন্য সময় বেঁধে দেয় এক ঘণ্টা মাত্র! এর বেশী হলেই অতিরিক্ত ৩০০ রুপী দিতে হবে প্রতি ঘণ্টার জন্য।

আপনি-আমি এখানেই আসল বাঁশটা খেয়ে থাকি! কারণ এক একটা স্পট এত এত আর এতটাই মুগ্ধ করে চুম্বকের মতো টেনে ধরবে আপনাকে, যে এক ঘণ্টা কেন, এক বেলাতে নয়, এমনকি এখানে কেন একবারে চলে এলেন না সেই আফসোসে পুড়বেন! সুতরাং এমন জায়গায় এক ঘণ্টায় কী করবেন বলুন?

তারপর রয়েছে ঘোড়ায় চড়ে, মিনি সুইজারল্যান্ড যাত্রা পাইনের ঘন অরণ্যর মধ্য দিয়ে। সে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা, তবে হতে হবে অনেক সাহসী আর বেপরোয়া উপভোগ করতে এই রাইড। এখানেও সরকারি রেট ১,৪০০/১,২০০/১,০০০ নানা রকম কথা বলে। আমরা মাত্র ৫০০ টাকায় উপভোগ করেছিলাম ৩/৪ ঘণ্টার ঘোড়ার রোমাঞ্চকর এক রাইড পাইনের ঘন অরণ্য, পাথুরে পাহাড় আর ঝর্ণা পেরিয়ে গিয়ে এক সবুজ ভ্যালীতে।

ফুলেল কাশ্মীর। ছবিঃ লেখক

এভাবে মোট ৭ দিন ছিলাম কাশ্মীরে, একদিন ছিলাম দিল্লীতে আর যাওয়া-আসা ৪ দিন, মোট ১২ দিনের ভ্রমণের খেরো খাতা।

দিল্লী: প্লেন লেট আর আবহাওয়া খারাপ থাকায় ট্রেন মিস করেছিলাম, যে কারণে দিল্লীতে একদিন ছিলাম ৯০০ রুপীর এসি ডাবল রুমে। বেশ ভালো ছিল রুম, হোটেল আর সার্ভিসও। সাথে পরদিন গিয়েছিলাম ইন্ডিয়া গেট দেখতে আর একটু দিল্লীর অলিগলি, ট্যাক্সি ভাড়া করে ১৫০ রুপী আর ফেরার সময় ১০০ রুপী দিয়ে কেএফসিতে খেয়ে।

ফেরা: ফিরতে পারেন একইভাবে। আগে থেকে প্লেন টিকেট যদি করে রাখেন অন্তত দুই বা তিনমাস আগে তবে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ রুপীতেই চলে আসতে পারবেন শ্রীনগর থেকে কলকাতা। বা শ্রীনগর থেকে দিল্লী এরপর ট্রেনের অন্য রকম অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে প্লেনের সাথে ৬/১২ ঘণ্টা গ্যাপ রেখে কেটে রাখতে পারেন ট্রেনের টিকেট। নইলে প্লেন লেট হলে ট্রেন ছেড়ে দিলে ২,৮০০ রুপীর টিকেট কাটতে হতে পারে ৪,২০০ রুপী দিয়েও! তবে সেক্ষেত্রে সাথে অনেক টাকা বা তেমন ব্যবস্থা থাকতে হবে নিরাপত্তার জন্য আর পরিবারের সুরক্ষার জন্য।

মনে রাখবেন, বিপদে পড়লে আপনি শুধু একা। আপনার আশেপাশে তেমন কাউকে পাবেন না। তাই নিজের, পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে যে পরিমাণ বাজেট আর খরচ করতে যাচ্ছেন বলে ধরে নিয়েছেন, ঠিক সেই পরিমাণ নাহলেও কিছুটা কম-বেশি টাকা সাথে রাখবেন যে কোনো বিপদের কথা মাথায় রেখে। খরচ না হলে সেই টাকা তো আপনার কাছেই থাকবে। ফিরে এসে কাজে লাগাবেন বা ব্যাংকে রেখে দেবেন, কিন্তু খরচ হয়নি বলে ফিরে না এসেই আগে থেকে খরচ করবেন না, যেটা বাড়তি নিরাপত্তার জন্য নিয়েছিলেন! খবরদার।

তো বাকি হিসেবটা এবার আপনারাই করে নিন নিজে থেকে, একটু কষ্ট করে!

মোট কত হলো জনপ্রতি? সম্ভবত ৩০,০০০ এর মতো বা এর আশেপাশে, একটু কম বেশী হতে পারে। তবে এই ভ্রমণটাই যদি আপনি আরও তিনদিন সময় হাতে বেশী নিয়ে আর প্লেনের পরিবর্তে কলকাতা-জম্মু ট্রেনে করতে পারেন যাওয়া-আসা, তবে অন্তত ৫-১০ হাজার টাকা কমে শেষ করতে পারবেন নিশ্চিতভাবেই।

আমাদের সব টিকেট প্রায় দুই মাস আগেই করে রেখেছিলাম।

Loading...

3 Comments

Leave a Reply
  1. কাশ্মীর যেতে আলাদা অনুমতি লাগে? আমার চেংড়াবানদা দিয়ে ভিসা।

  2. আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পদব্রজে ঐতিহ্যের পুরান ঢাকা: মসজিদের শহরে

মাজুলা সিঙ্গাপুর: সিঙ্গাপুরের পথে এগিয়ে চলা