কুয়েতের সেরা পাঁচটি দর্শনীয় স্থান

কুয়েত একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র যা পারস্য উপসাগরের তীরে আরব উপদ্বীপের উত্তর পূর্বে অবস্থিত। এখানকার রাষ্ট্রীয় ভাষা আরবী। ৩,৪৬০,২১৭ জনসংখ্যার এই দেশটির আয়তন মাত্র ১৭,৮২০ বর্গকিলোমিটার। কুয়েত রাজনৈতিকভাবে রাজতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এই দেশের সিংহভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী।

বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় আটগুণ ছোট তেল সমৃদ্ধ এই দেশটি পর্যটকদের জন্য একটি স্বপ্নের জায়গা। দেশটি ছোট হলেও এখানে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান। আজকের এই পর্বে কুয়েতের এমনি পাঁচটি ভ্রমণ আকর্ষণ নিয়ে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব। তো চলুন ঘুরে কুয়েতের সেসব জায়গাগুলো থেকে।

কুয়েতের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কুয়েত মিউজিক্যাল ফাউন্টেইন; সোর্সঃyoutube.com

১/ কুয়েত মিউজিক্যাল ফাউন্টেইন (Kuwait Musical Fountain)

কুয়েত মিউজিক্যাল ফাউন্টেইন কুয়েতের একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। এটি কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটির কাছেই অবস্থিত। যার ফলে পর্যটকরা এখানে খুব সহজেই যেতে পারে। এই মিউজিক্যাল ফাউন্টেইন বা ড্যান্সিং ফাউন্টেইনে ২২০টি ফোয়ারা রয়েছে।

সবগুলো ফোয়ারা যখন চালু করে দেয়া হয়, তখন মনোরম সঙ্গীতের তালে তালে কালারফুল আলোকসজ্জায় ফোয়ারাগুলো নাচতে থাকে। এই ওয়াটার ড্যান্স দেখতে খুবই আকর্ষণীয় এবং প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পর্যটক এখানে ভিড় করে এই দৃশ্য দেখার জন্য।

মেসোপটেমিয়া সভ্যতার নিদর্শন সমৃদ্ধ ফাইলাকা আইল্যান্ড; সোর্সঃ www.kuwaitbirds.org

২/ ফাইলাকা আইল্যান্ড (Failaka Island)

ফাইলাকা আইল্যান্ড কুয়েত সিটি হতে ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত। প্রায় ১৪ কিলোমিটার লম্বা এই দ্বীপটি একসময় মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অংশ ছিল। আজও এই দ্বীপটি কুয়েতের প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

খৃষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে ফাইলাকা দ্বীপে মেসোপটেমিয়ানরা এসে প্রথম বসতি গড়ে। চার হাজার বছরের পুরনো দালান-কোঠা এখনো এ দ্বীপে দাঁড়িয়ে আছে। কিউনিফর্ম লিপির অনেক ডকুমেন্টস এই দ্বীপে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো। যেটি এই দ্বীপে ব্যবলনীয় সময়কার মানুষের অস্তিত্বকে প্রমাণ করে। এসব প্রাচীন নিদর্শন দেখতে প্রতিদিন এই দ্বীপটিতে হাজার হাজার পর্যটকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।

পারস্য উপসাগরের প্রথম কৃত্রিম দ্বীপ গ্রীন আইল্যান্ড; সোর্সঃ www.youtube.com

৩/ গ্রীন আইল্যান্ড (Green Island)

গ্রীন আইল্যান্ড হলো কুয়েতের কৃত্রিম দ্বীপ যেটি ১৯৮৮ সালে উন্মুক্ত করা হয় এবং পারস্য উপসাগরে এটিই প্রথম কৃত্রিম দ্বীপ। নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই মরুর দেশে এ যেন এক সবুজ স্বর্গ। পারস্য উপসাগরের প্রায় তীর ঘেঁষেই অবস্থান এই ছোট সবুজ দ্বীপের। পার্ক, ফুটবল খেলার মাঠ, রেস্টুরেন্ট, শুটিং স্পট এবং এই আইল্যান্ডের একপাশে হাজার হাজার ছোট, মাঝারি গাছের সারি অন্য পাশে বৃত্তের মতো পানির উপর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে চলার পথ।

কুয়েতে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই জায়গাটির আয়তন সাত লক্ষ পঁচাশি হাজার বর্গকিলোমিটার। এই আর্টিফিশিয়াল দ্বীপটিতে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো অনেক কিছু রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল লেক। বিশেষ করে এখানে শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা বিনোদনের জায়গা যেখানে শিশুরা সাইক্লিংসহ অন্যান্য বিনোদন উপভোগ করতে পারে।

কুয়েতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু বিল্ডিং দ্য লিবারেশন টাওয়ার; সোর্সঃ dissolve.com

৪/ দ্য লিবারেশন টাওয়ার (The Liberation Tower)

পারস্য উপসাগরের বুকে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য নানা ধরনের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। কুয়েত সিটির প্রাণকেন্দ্র মিরকাবে (মুরগাব) অবস্থিত বিশ্বের ৩৯তম দৃষ্টিনন্দন উঁচু টাওয়ার যার নাম কুয়েত লিবারেশন টাওয়ার। এর উচ্চতা ৩৭২ মিটার বা ১,২২০ ফুট। এই টাওয়ারটি বছরে একবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। টাওয়ারের উপরের ল্যান্ডিং থেকে সমগ্র কুয়েতকেই দেখা যায়।

এই টাওয়ারটি কুয়েতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু বিল্ডিং এবং একই সাথে এটি বিশ্বের অন্যতম লম্বা টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ার। এটি আইফেল টাওয়ার থেকেও প্রায় ৪০ মিটার লম্বা। এই টাওয়ারটির রাতের আলোকসজ্জা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে থাকে দারুণভাবে।

টাওয়ারটির পাশেই রয়েছে ‘আইস স্কেটিং রিংক’। ৮৩৯৮ স্কয়ার মিটার ক্ষেত্রফলের এই আইস স্কেটিং রিংকটি নির্মাণ করা হয় ১৯৮০ সালে। যারা স্কেটিং করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য একদম আদর্শ জায়গা এটি।

দ্য কুয়েত টাওয়ার্স; সোর্সঃ www.videoblocks.com

৫/ দ্য কুয়েত টাওয়ার্স (The Kuwait Towers)

কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে অবস্থিত এই টাওয়ারটি ১৯৭৯ সালের মার্চে উদ্বোধন করা হয়। এই টাওয়ারটি মূলত তিনটি সিলিন্ডার টাওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত। মূল টাওয়ারটি ১৮৭ মিটার লম্বা এবং এর দুটি অংশ রয়েছে যার নিচের অংশটি একটি পানির ট্যাংক আর উপরের অংশটি একটি রেস্টুরেন্ট। এই মূল টাওয়ারটির উপর থেকে আপনি সমগ্র কুয়েত সিটিকে উপভোগ করতে পারবেন। ছোট কুয়েত সিটির অসাধারণ এক ভিউ দেখতে পাওয়া যায় এখান থেকে যা দেখতে প্রতিদিন এখানে হাজারো পর্যটক ভিড় করে।

এখানকার অপর টাওয়ারটি ১৪৮ মিটার লম্বা যেটির পুরোটাই পানির ট্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এবং সর্বশেষ ৩য় টাওয়ারটি অন্য দুইটি টাওয়ার মেইনটেইন করার কাজে ব্যবহার করা হয়। কুয়েত টাওয়ারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় রাতে। তখন রঙবেরঙের আলোকসজ্জা দিয়ে এর চারদিক সজ্জিত থাকে। আধুনিক কুয়েতের একটি ল্যান্ডমার্ক হিসেবে গন্য করা হয় এই কুয়েত টাওয়ার্সকে।

কুয়েত টাওয়ার্সের পাশেই রয়েছে একটি অত্যাধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। কুয়েতের সবচেয়ে বড় এই অ্যামিউজমেন্ট পার্কটি কুয়েত সিটি হতে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই পার্কটিতে সুইমিংপুলসহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক রাইডের ব্যবস্থা।

ফিচার ইমেজঃ লেখক

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উয়ারী-বটেশ্বর; ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় নগর সভ্যতা

পদব্রজে ঐতিহ্যের পুরান ঢাকা: মসজিদের শহরে