যে ৮টি কারণে বাতিল হয়ে যেতে পারে আপনার আমেরিকান ভিসা

প্রতিবছর প্রচুর মানুষ আমেরিকার ভিসার জন্য আবেদন করে। আমেরিকা এমনই এক দেশ যার ভিসা পাওয়া অনেকটা আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা, এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা দিয়ে থাকে আমেরিকা। প্রতিবছর প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মানুষ আমেরিকার ভিসার জন্য আবেদন করে এবং তাদের মধ্যে প্রতিদিন হাতে গোনা কয়েকজন পাসপোর্টে আমেরিকান ভিসা নিয়ে বাসায় ফেরে।

অধিকাংশই চলে যায় বাতিলের খাতায়। গুলশানের আমেরিকান অ্যাম্বাসির সামনে দাঁড়ালেই বোঝা যায় কত মানুষ প্রতিদিন আবেদন করেই যাচ্ছে এই অতি সাধের আমেরিকার ভিসার জন্য। বাংলাদেশিদের জন্য আমেরিকার ভিসা আবেদনে ভিসা ফি বাবদ খরচ হয় ১২,৮০০ টাকা। কিন্তু যখন পুরো টাকাটাই জলে যায়, যখন ভিসা মেলে না এই দেশে প্রবেশ করার তখন কিছুই করার থাকে না।

আবেদন করার আগে কখনো কি ভেবেছি কেন বাতিল হয়ে যায় আমেরিকার ভিসা আবেদন? চলুন দেখে আসা যাক ঠিক কী কী কারণে বাতিল হয়ে যায় আমেরিকান ভিসা।

সত্যিই ঘুরতে যাচ্ছেন আমেরিকা?

আমেরিকার ননইমিগ্রেন্ট অ্যাক্ট এত বেশি শক্তিশালি যে আপনি যদি ট্যুরিস্ট ভিসায় (B-2) আমেরিকা গিয়ে সেখানে চিরদিনের মতো থাকার পরিকল্পনা করে বসেন তবে ধরা খেয়ে যাবেন অচিরেই।

ছবিঃ dreamstime.com

শুধুমাত্র ঘুরতেই যাচ্ছেন আমেরিকায় আর ট্যুরিস্ট ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিজ দেশে ফিরে আসবেন এর একটা প্রমাণপত্র চায় আমেরিকান হাই কমিশন যাকে বলা হয় “ননইমিগ্রেন্ট ইন্টেন্ট”। কেউ যদি এই প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয় তবে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বাতিল হয়ে যাবে তার ভিসার আবেদনপত্র।

প্রতারণা করছেন/প্রতারণার শিকার হচ্ছেন না তো?

অধিকাংশ আমেরিকান ভিসা আবেদনপত্র প্রথমেই বাতিল হয়ে যায় ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র প্রতারণার কারণে। যেমন ধরুন পূর্বের কোনো অপরাধের নথি আছে কিনা বা আমেরিকায় আত্মীয় আছে কিনা এমন সব প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে।

ছবিঃ livepunjab.com

আবেদনকারীরা মনে করেন এতো অনেক ছোট মিথ্যা, কিন্তু ক্রস চেকের সময় ধরা পড়ে গেলে সাথে সাথে বাতিল হয়ে যায় সাধের ভিসা আবেদনপত্র। আগের আমেরিকান ভিসা প্রাপ্তিতে প্রতারণার আশ্রয় নিলেও বাতিল হয়ে যাবে ভিসা আবেদন।

পূর্বের ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের কারণে আবেদন বাতিল হয়ে যায়নি তো?

একবার ভিসা পেয়ে যারা দিন-দুনিয়া ভুলে নিজের ইচ্ছেমতো আইনের অপব্যবহার করতে থাকেন তাদের জন্য এই পয়েন্টটুকু। আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে যখন ভিসা আবেদন করা হয় তখন আপনার পুরো ইতিহাস ধরে টান দিবে তারা, যদি সামান্যতম ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের নথি পেয়ে যায় তাহলেই কেল্লাফতে!

ছবিঃ i2.wp.com

আইন ভঙ্গের ভেতর যে বিষয়গুলো পড়ে সেগুলো হলো, ঘুরতে গিয়ে সে দেশে অপরাধে জড়িয়ে যাওয়া, ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত দিনযাপন থেকে শুরু করে সেদেশে আইন পরিপন্থী যেকোনো কাজে জড়িয়ে যাওয়া।

অগ্রহনীয়তার জন্য নয়তো?

আমেরিকা প্রায় সময়ই একটি বিশেষ কারণে ভিসার আবেদন নাকচ করে থাকে আর তা হলো সেই ব্যক্তির অগ্রহনীয়তা!

ছবিঃ davieslegal.com

আবেদনকারী আমেরিকার জন্য কতটুকু উপকারী, আমেরিকায় দীর্ঘদিন থাকাকালীন (স্টুডেন্ট ভিসা) আমেরিকার প্রতি তার অবদান কতটুকু হবে এইসব খুব গুরুত্ব নিয়ে দেখে আমেরিকান হাই কমিশন। শারীরিকভাবে অসুস্থ, মাদকাসক্ত, মারাত্মক রোগাক্রান্ত আমেরিকা ফেরত ব্যক্তিদের আমেরিকার পরবর্তী ভিসাটি আর দিতে চায় না।

ভালো ইংরেজী জানেন তো?

আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে প্রতিদিন শত শত আবেদনপত্র জমা পড়ে, প্রায় সাথে সাথেই ভিসার স্টিকার লাগিয়ে দেয় তারা। তবে সংখ্যাটা প্রতিদিন দশ থেকে বিশ জনের বেশি নয়। কারণ সবাইকেই একটা সাধারণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, কেন যাচ্ছেন আমেরিকা?

ছবিঃ missionoverseas.com

খরচ চালাতে পারবেন তো? যদিও আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্টে কাগজে কলমে সবই লেখা আছে তবে অ্যাম্বাসিতে গিয়ে তাদের সামনে মুখ না খুললে, কথা না বুঝলে আর একটু অসতর্কতার সাথে কাঁপাকাঁপা গলায় আধো বাংলা আধো ইংরেজিতে কথা বললে ভিসা দেয়ার ইচ্ছেটা ঠিক হারিয়ে ফেলে আমেরিকান হাইকমিশন।

বৈবাহিক অবস্থানে বিভ্রান্তি?

দম্পতিদের বড়সড় একটি ভুল হয়ে যায় আমেরিকার ভিসার আবেদনকালে। যদি কোনোভাবে স্বামীর পাসপোর্টে বৈবাহিক অবস্থা “অবিবাহিত” লেখা থাকে আর স্ত্রীর নতুন পাসপোর্টে “বিবাহিত” লেখা থাকে তবে পুরো ব্যাপারটাকেই ঝামেলা হিসেবে দেখে ভিসার আবেদনটাই বাতিল করে দেয় আমেরিকান হাই কমিশন।

ছবিঃ radiokorea.com

এর প্রতিকার হিসেবে পাসপোর্টের সাথে বিবাহের কোনো প্রমাণপত্র দিলে ভালো হয়। স্বামীর আমেরিকার ভিসা হয়ে গেলে স্ত্রীর আমেরিকান ভিসা দিতে কার্পণ্য করে না আমেরিকা। তবে এই ব্যাপারটাকেই কাজে লাগিয়ে নকল স্বামী-স্ত্রী সেজে ভিসা পাওয়ার গ্যাঁড়াকলে আটকে যায় অনেকেই। ভিসা তো মেলেই না, বরং খাটতে হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

প্র‍য়োজনীয় কাগজপত্র সাজিয়ে নিয়েছেন তো?

আমেরিকান অ্যাম্বাসি যদিও কাগজপত্র নিয়ে খুব বেশি ঝামেলা করে না যদি আপনি তাদের বোঝাতে পারেন কেন যাচ্ছেন আর ঠিক কোনো কারণে নিজ দেশে ফিরে আসবেন সেটা ঠিক ঠিক বললেই হয়ে যায়।

ছবিঃ slidesharecdn.com

‌তবে আমেরিকায় যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার একটি আমন্ত্রণ পত্র, স্টুডেন্ট ভিসার আবেনপত্রের সাথে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করতে যাচ্ছেন তার যাবতীয় কাগজপত্র আমেরিকান এম্বাসিতে দেখালে আবেদনপত্রের ওজন বেড়ে যায় অনেকখানি। আর এমনিতে বিশেষ সতর্কতা মেনে পূরণ করতে হয় ভিসার আবেদনপত্র। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ভুলই হয়ে দাঁড়ায় ভিসা বাতিলের কারণ।

আমেরিকান হাইকমিশনের ইচ্ছাই সব!

আপনার সব কিছুই ঠিক আছে, যথেষ্ট সামর্থ্য আছে, আছে পর্যাপ্ত কারণ আমেরিকা ভ্রমণের। অথবা আছে শতভাগ স্কলারশিপ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের। তারপরও বাতিল হয়ে যেতে পারে আমেরিকান ভিসা, কারণ?

ছবিঃ gannett-cdn.com

কারণ আর কিছুই না আমেরিকান অ্যাম্বাসির মনে হয়েছে আপনি যে কারণে আমেরিকা যাবেন বলছেন তা তাদের বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না, তারা মনে করে না আপনি আমেরিকা গিয়ে তাই করবেন যেটা আপনার আবেদনে লেখা আছে। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, চালচলন, কথাবার্তা থেকেই অনেক সময় তারা আন্দাজ করে নেয় এই ব্যক্তি আমার দেশে প্রবেশ করার জন্য উপযোগী নয়। আর সেখান থেকেই সব কিছু ঠিক থাকার পরও বাতিল হয়ে যায় আমেরিকান ভিসা আবেদনপত্র।
ফিচার ইমেজ- collegepond.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভারতের জিভে জল আনা সব মজাদার স্ট্রিটফুড

হরিণ প্রজনন কেন্দ্র ও পশু পাখির অভয়ারণ্য কক্সবাজারের ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক