তিন নেতা শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, নাজিমুদ্দিনের সফেদ মাজার

হাজী শাহবাজের মসজিদ ও মাজার ঘুরে দোয়েল চত্বরে হেঁটে গেলাম। এক সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা রকমারি সাজানোর দোকানগুলো পেরিয়ে ওপাশে গেলাম। শুনেছিলাম, এই দোকানগুলোর পিছনেই নাকি তিন নেতার মাজার রয়েছে। রাস্তায় দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশকে জিজ্ঞেস করতেই যে রাস্তা ধরে এসেছি ওই রাস্তাই দেখিয়ে দিল। আমি মাথা নেড়ে বললাম, ‘ওখানে তো হাজী শাহবাজের মাজার। আপনারা ভুল করছেন।’
ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এই মাজারের কথা বলছেন?’
ওরা মাথা নেড়ে বলে, এই রাস্তাতেই। বিভ্রান্ত হয়ে যাই। এই রাস্তাতে তো আর কোনো মাজার দেখিনি। তবে? আমি ভাবছিলাম, এরা হয়তো তিন নেতার মাজার চেনেই না।

রাস্তা থেকে এরকমটাই দেখায় স্থাপনাটি। সোর্স: লেখিকা

পরে ঢাবিতে পড়ুয়া বন্ধু সজলের কাছ থেকে জানতে পারলাম, রিকশায় করে শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বরের দিকে যাওয়ার পথে হাতের বামে সাদা রঙের বিশাল যে স্থাপনাটি দেখা যায়, সেটিই তিন নেতার মাজার হিসেবে পরিচিত। কী আশ্চর্য! হাজী শাহবাজের মসজিদ ঘুরে দেখার সময় এই সফেদ স্থাপনাটির ছবিও আমি তুলেছি। বহুবার এই রাস্তা ধরে যাওয়া আসা করলেও জানতামই না, এরকম একটা স্থাপত্যিক ভাস্কর্য মাজার হতে পারে! মুগ্ধ হয়ে দেখতামই কেবল। আচ্ছা, এটা কি কেবল আমারই মূর্খতা, নাকি আমার মতো আরো কেউ আছেন?
আচ্ছা, যদি জেনেও থাকেন এই স্থাপত্যিক ভাস্কর্যের নাম তিন নেতার মাজার, তাহলে বলেন তো এই নেতাদের নাম কী? আচ্ছা, আমিই বলে দিচ্ছি। স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলার দুজন বিখ্যাত ও একজন অজনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা – শেরে-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিনের কবরের উপর নির্মিত ঢাকার অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। জাতীয় এই তিন নেতার রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে একটু জেনে নিই।

শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক

১৯৫৪ সালের ১৫ মে শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ লাভ করেন। ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার তাকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপরই তিনি তার ৪৬ বছরের বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক জীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। সোর্স: কল্লোল

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর এ কে ফজলুল হক বরিশাল জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ সাইদুন্নেসা খাতুনের একমাত্র পুত্র। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের কাছে তিনি শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ) এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন।
১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র, ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন।
স্থাপত্যের পিছনেই হাজী শাহবাজের মসজিদ ও মাজার। সোর্স: লেখিকা

১৯৫৪ সালের ১৫ মে শেরে বাংলা পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ লাভ করেন। ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার তাকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপরই তিনি তার ৪৬ বছরের বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক জীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ. কে. ফজলুক হক।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন মহান পুরোধা। জীবনের অন্তিম মূহুর্ত পর্যন্ত তিনি বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রের বিকল্প নেই।
মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি, সুনাম ও সুখ্যাতি লাভ করেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সোর্স: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ফেসবুক পেইজ

কলকাতা শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘সোহরাওয়ার্দী’ পরিবারে ১৮৯২ খ্রীষ্টাব্দের ৮ই সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তাঁর পিতার নাম জাহিদ সোহরাওয়ার্দী এবং মাতার নাম খুজিস্তা আখতার বানু। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা উর্দু ভাষা ব্যবহার করলেও শহীদ সোহরাওয়ার্দী নিজ উদ্যোগে বাংলা ভাষা শেখেন এবং চর্চা করতেন। গৃহ শিক্ষকের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি কলকাতা মাদরাসা স্কুলে ভর্তি হন।
এ স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি কলকাতার প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন। এরপর উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড গমন করেন এবং বিশ্ব বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কৃতিত্বের সাথে ইংরেজিতে এমএ এবং জুরিসপ্রুডেন্সে অনার্স ও দুর্লভ বিসিএল ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৮ সালে তিনি গ্রেজ ইন হতে ব্যারিস্টারী পাশ করেন।
এরপর তিনি দেশে ফিরে এস কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবী ভাষায় এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯১৮ সালে ২৬ বৎসর বয়সে তিনি আইন ব্যবসা শুরু করেন।
সোর্স: লেখিকা

১৯৪৭-১৯৪৮ সালে ভারত উপমহাদেশে এক ভয়াবহ হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা সৃষ্টি করা হয়েছিল। উক্ত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসনকল্পে সোহরাওয়ার্দী ও মহাত্মা গান্ধী একই সাথে উক্ত ঐতিহাসিক শান্তি মিশনে ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল পায়ে হেঁটে সফর করেন। এই মহান দুই নেতার শান্তি মিশনের ফলে তখন ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধ হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে কয়েকটি বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ করার ১৯৫৩ সালে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে একটি প্রভাবশালী বিরোধী রাজনৈতিক ফোরাম গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচি ছিল।  যুক্তফ্রন্টের প্রথম দাবি ছিল ‘বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ।’ ‘২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিতে ‘শহীদ মিনার’ নির্মাণ।’ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন তার অন্যতম শীর্ষনেতা।
যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল, আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নিজামে ইসলাম পার্টি ও গণতন্ত্রী পার্টি। ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী নৌকা প্রতীক নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক এই সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ চরমভাবে পরাজয় বরণ করে। সুদক্ষ রাজনীতিবিদ সোহরাওয়ার্দীর সফল রাজনৈতিক জীবনের ঐতিহাসিক বিজয় হিসাবে অভিহিত করা হয় উক্ত নির্বাচনকে।
১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তারিখে শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক শাসনের পূর্বাভাস, চরম ষড়যন্ত্র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে ১৯৫৭ সালের ১৬ অক্টোবর তারিখে সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
সোর্স: লেখিকা

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা হয়। এসময় সামরিক শাসক কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে কয়েক মাস কারাবরণের পর মুক্তি লাভ করেন সোহরাওয়ার্দী। মুক্তি লাভের পর সোহরাওয়ার্দী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তথা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বৃহত্তর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর নেতৃত্বে সমগ্র পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সুসংহত হয়। যে সময় পাকিস্তানে গণতন্ত্রের আন্দোলন তুঙ্গে, দুর্ভাগ্যবশত তখন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অতঃপর চিকিৎসার জন্য বৈরুত গমন করেন।
১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর এ মহান নেতা কোটি কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে স্বদেশ-স্বজন হতে বহুদূরে বৈরুতে একটি হোটেলের নির্জন কক্ষে মৃত্যুর হিমশীতল কোলে ঢলে পড়েন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে, লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্ববিখ্যাত টাইমস পত্রিকায় তাঁর বৈচিত্রময় জীবনী প্রকাশিত হয় এবং এতে বলা হয়, তিনি একজন স্বাধীনচেতা বিরাট ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ ও অসম সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। স্বাধীনতা পূর্ব আমলে এবং পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি বর্ণাঢ্য ভূমিকা পালন করেন।
হাজী শাহবাজের মসজিদ ও মাজার থেকে। সোর্স: লেখিকা

মৃত্যুর আগে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আমি যখন কারও কাজে লাগছি না, যদি শুধু নিজের জন্যই বাঁচতে হয়, তা হলে সে বাঁচার কী মূল্য আছে?’
মৃত্যুর পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ঢাকায় এনে শেরে বাংলার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

খাজা নাজিমুদ্দিন

খাজা নাজিমুদ্দিন ছিলেন একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্য ছিলেন। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে নাজিমুদ্দিন দুইবার বাংলার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর মৃত্যু পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন।
১৯৫১ সালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের মৃত্যুর পর তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি রক্ষণশীল গড়নের ছিলেন এবং তাকে অজনপ্রিয় বিবেচনা করা হয়। খাজা নাজিমুদ্দিন আমৃত্যু বাংলা ভাষা ও বাঙালি বিরোধী ছিলেন। একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ হয়েও ছিলেন উর্দুভাষী । বাঙালিদের তিনি কখনো ভালো চোখে দেখেননি।

খাজা নাজিমুদ্দিন। সোর্স: ফেসবুক

রাজনীতির প্রথম জীবনে খাজা নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর খুব মধুর সম্পর্ক ছিল।  ১৯৩৫ সালে খাজা নাজিমুদ্দিন ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মিলে স্বতন্ত্র মুসলিম দল গঠন করেছিলেন। এ দলে সভাপতি ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন এবং সম্পাদক ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
১৯৪৩ সালে খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভায় তিনি শ্রমমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্ক দা-কুমড়োয় পরিণত হয়। খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বেশ কয়েকবার সোহরাওয়ার্দীকে ভারতীয় এজেন্ট এবং পাকিস্তানের শত্রু হিসেবে অভিহিত করেন।
সোর্স: লেখিকা

তার সরকার মাত্র দুই বছর ক্ষমতায় ছিল। তার সময়ে গৃহবিবাদ ও বৈদেশিক চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পায় যা তার পদচ্যুতির দিকে ধাবিত হয়। ১৯৫৩ সালে লাহোর দাঙ্গার পর তিনি মেজর জেনারেল আজম খান ও কর্নেল রহিমউদ্দিন খানের অধীনে পাঞ্জাবে সামরিক আইনজারি করেন।
দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচিতে ব্যর্থতার পর পশ্চিম পাকিস্তানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলনের পর তার সরকার আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের সাথে বৈদেশিক সম্পর্ক ক্রমাবনতি হয় এবং এসব দেশে পাকিস্তান বিরোধী অনুভূতি বৃদ্ধি পায়।
রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯২৬ সালে নাজিমুদ্দিনকে কম্পেনিয়ন অব দ্য অর্ডার অব দ্য ইন্ডিয়ান এম্পায়ার (সিআইই) ও ১৯৩৪ সালে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। তবে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হওয়ায় তিনি ১৯৪৬ সালে নাইট উপাধি ত্যাগ করেন।
করাচির নাজিমাবাদ ও উত্তর নাজিমাবাদ শহরতলী এবং ঢাকা ও ইসলামাবাদের নাজিমুদ্দিন রোড তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। তার সম্মানে পাকিস্তান ডাকবিভাগ স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করেছে।
১৯৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল নাজিমুদ্দিনকে পদচ্যুত করা হয় এবং দেশের বাইরে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৯৬৪ সালে ৭০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিজ শহর ঢাকায় শেরে বাংলা ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
এই তিনজনের সমাধিস্থলই ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার নামে পরিচিত। ১৯৬৩ সালে স্থপতি মাসুদ আহমেদ এবং এস এ জহিরুদ্দিন প্রখ্যাত এই তিন নেতার স্মরণে এটি নির্মাণ করেন।
তথ্যসূত্র:
https://www.dailyinqilab.com/article
http://www.ittefaq.com.bd/national
ফিচার ইমেজ: মাদিহা

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‘প্রাচ্যের মুক্তা’ খ্যাত গোয়ার কোলভা বীচ ভ্রমণ

গোয়া ভ্রমণ: স্টার বীচ রিসোর্ট ও সুইমিং পুলের নীল জলে