ভ্রমণে গেলে যে রোগগুলো হতে পারে

ভ্রমণ মনকে শীতল করে এবং প্রাণকে করে উচ্ছ্বল ও প্রাণবন্ত। ভ্রমণে গেলে অজানাকে জানা যায়, অদেখাকে দেখা যায়। ভ্রমণ সর্বদাই আনন্দের। তবে ভ্রমণে গেলে আপনাকে কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। আপনাকে সচেতন থাকতে হবে নয়তো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কারণ একেক অঞ্চলের আবহাওয়া, পরিবেশ একেক রকম। তাই যেখানেই যান না কেন আগে থেকে সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরী। ভ্রমণে গেলে নিম্নোক্ত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। জেনে নিন রোগগুলো সম্পর্কে।

ম্যালেরিয়া

আপনার আনন্দের ভ্রমণকে নষ্ট করে দিতে পারে ম্যালেরিয়া। ভ্রমণে গেলে সচেতন না থাকলে আপনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। কারণ বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রাদুর্ভাব বেশি। মশার কামড়ে উক্ত এলাকার অধিবাসীরা যেমন আক্রান্ত হয়, তেমনি আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন। ডক্টর থমাস এল মিলার মনে করেন ভারত, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বেড়াতে গেলে আগে থেকে সচেতন থাকতে হবে এবং ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক ওষুধ বহন করতে হবে।

Photo: rd.com

সকাল ও সন্ধ্যায় এনোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়ে থাকে। যেখানে বেড়াতে যান সেখানে মশার স্প্রে, এরোসোল সাথে রাখুন। নয়তো মশার কামড়ে জীবন তো অতিষ্ট হবেই সেই সাথে রোগে আক্রান্ত হবেন। তাই বেড়াতে গেলে সাবধান থাকুন আর থাকার জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।

ত্বকের ক্যান্সার

ছুটির দিনে বেড়াতে গেলে কার না ভালো লাগে। তবে সামান্য অসতর্কতার জন্য যদি রোগে আক্রান্ত হন তাহলে পুরো ভ্রমণ মাটি হয়ে যাবে। ভ্রমণে গিয়ে সতর্ক না থাকলে ত্বক, মুখ, কোলন, ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া রোদের প্রচণ্ড তাপে ত্বক পুড়ে যেতে পারে, ত্বকে র‍্যাশ উঠতে পারে।
রোদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। সাথে পর্যাপ্ত পানি রাখতে পারেন। মাথায় টুপি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন ভ্রমণে গেলেও সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে। গ্রীষ্মকালে বেড়াতে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও ওষুধ সঙ্গে নিতে হবে। শীতকালে বেড়াতে গেলে আনুসঙ্গিক জিনিসিপত্র, গরম কাপড় সঙ্গে নিতে হবে। নতুবা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ও ভয় থেকে যাবে।

ডেঙ্গু জ্বর

অনেকে বিশ্বাস করে না অনেক জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতে গিয়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে, দক্ষিণ আমেরিকার সমুদ্র সৈকতে গেলে মশার কামড়ে ডেঙ্গু হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য ও সার্বজনীন নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ইয়েসিম টোযান জানান ১২৮টি দেশে এই রোগের জীবাণু রয়েছে।

Photo: rd.com

ডেঙ্গু মশার কামড়ে মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে। ভ্রমণে গিয়ে বিছানায়ও পড়ে থাকতে হতে পারে। পুরো ভ্রমণ নিরানন্দ ও হতাশার করার জন্য একটি মশার কামড়ই যথেষ্ট। ভ্রমণে গিয়ে ডেঙ্গু হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার হতে পারে। টোযান ভ্রমণ পিপাসুদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন ভ্রমণে গেলে ফুল হাতা জামা পরার, সাথে মশার স্প্রে রাখার।

ইনফ্লুয়েঞ্জা

চমৎকার কোনো দর্শনীয় স্থান কিংবা সমুদ্র সৈকতে গিয়ে অসতর্কতার কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জা হতে পারে। একটি ক্লিনিক কয়েক বছরের জরিপ থেকে জানিয়েছে, ভ্রমণে গেলে প্রায় সব মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়। এটি খুব সাধারণ একটি রোগ। এটি যে কোনো সময়ে যে কারো হতে পারে।

Photo: rd.com

বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। গ্রীষ্ণকালের প্রচণ্ড গরমে এবং শীতকালের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় এই রোগ হয়ে থাকে। তাছাড়া বাতাসে ভেসে বেড়ায় ফ্লু। যে কোনো ব্যস্ত রাস্তায় চলাচলের সময়, এয়ারপোর্টে চলাচলের সময়ও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই ভ্রমণে গেলে ধুলোবালিময় ও অপরিষ্কার স্থান এড়িয়ে চলুন। ধুলোবালি থেকে বিস্তার লাভ করবে ফ্লু যা আপনাকে ভোগাবে।

ডায়রিয়া

অনুন্নত দেশে ভ্রমণ করতে গেলে ৪০ শতাংশ লোকের ডায়রিয়া হয়। এমনটাই জানিয়েছেন ডক্টর মিলান। সাধারণত খাবারের সমস্যা, অপরিষ্কার পাত্রে রান্না, মাছ ও মাংস ভালো করে রান্না না করা হলে, অপরিষ্কার পানি পান করলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। ভ্রমণে গেলে হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খেতে হয়। পরিবেশ অতো স্বাস্থ্যকর থাকে না।

Photo: rd.com

অনেকের বাইরে খাওয়ার অভ্যাস বিশেষ করে হোটেলে খাওয়ার অভ্যাস থাকে না। ভ্রমণে গিয়ে হঠাৎ একদিন হোটেলে খেলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যায়। তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে নিতে হবে। ফুটানো পানি নিতে হবে। স্যালাইন সাথে রাখতে হবে। কারণ দর্শনীয় স্থান, পর্যটন স্থানে ভালো ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া নাও যেতে পারে, আশেপাশে ফার্মেসী নাও থাকতে পারে।

পায়ে সংক্রমণ

বেড়াতে গেলে অথবা ভ্রমণে গেলে পায়ে সংক্রমণ হতে পারে। সমুদ্র বা নদীর পানিতে নামলে পায়ে র‍্যাশ, চুলকানি, গোটা হতে পারে। এমনকি বিভিন্ন ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের আক্রমণও হতে পারে।

Photo: rd.com

সমুদ্র সৈকতে হাঁটার সময় বিষাক্ত পোকা কামড় দিতে পারে যার ফলে পায়ে সংক্রমণ হতে পারে। তাছাড়া পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে গেলে জোঁক, কেঁচোর কবলে পড়তে হতে পারে। তাই ভ্রমণে গেলে সতর্কতা সবসময় দরকার। তাই পুরো পা ঢাকা থাকে এমন জুতো ব্যবহার করা উচিত ভ্রমণে। নয়তো পায়ে মারাত্মক কিছু হতে পারে।

সাঁতারুদের খোস পাঁচড়া

আমেরিকা, আফ্রিকা সহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে গিয়ে সাঁতার কাটলে শরীরে খোস পাঁচড়া হতে পারে। হাতেও এর সংক্রমণ হতে পারে। পুরো শরীরে মারাত্মক চুলকানি হতে পারে।

Photo: rd.com

পুকুর, লেক, নদী বা সমুদ্র যাই হোক না কেন আপনি যদি সাঁতার কাটেন আপনার খোস পাঁচড়া হতে পারে। তাই আগে থেকে সাবধান থাকুন।
ফিচার ইমেজ সোর্সঃ depositphotos

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পাহাড় খোদাই করে হাজার বছর ধরে তৈরি অজন্তা-ইলোরা গুহার অজন্তা পর্ব

চিলেদের সাথে ঘুরে আসুন তিনাপ সাইতার, চাইতালেংভা ও তিদংক্ষত