সুসং রাজবংশ ও তাদের পরগনার ইতিবৃত্ত

ঠিক ৭৩৯ বছর আগের কথা। ভারতীয় উপমহাদেশ তখন পৃথিবীর বুকে সদর্পে বিদ্যমান৷ বিশাল সেই দেশের কানক্যুব্জ থেকে তীর্থযাত্রায় কামরূপ ভ্রমণের লক্ষ্যে বেরিয়েছেন একদল সাধু। পথের ক্লান্তি দূর করতে এক সময় তারা এসে বসলেন গারো পাহাড়ের এক পাথরখণ্ডের ওপর। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি খুবই পরিচিত একটি দৃশ্য।

সেই পাহাড়ের বুক চিরে সমতলের দিকে কলকলিয়ে বয়ে গেছে স্রোতস্বিনী নদী। জায়গাটি যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। পাহাড়ের কোলঘেঁষে বয়ে চলা স্রোতস্বিনী যে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে! ঈশ্বরকে পাবার জন্য এরচেয়ে উপযুক্ত স্থান আর কী হতে পারে? সাধুরা তাই এই নির্জন স্থানটিকে বেছে নিয়ে মগ্ন হলেন আরাধনায়। জায়গাটি ছিল পূর্ব ময়মনসিংহের উত্তরভাগ ‍‍’পাহাড় মুল্লুকে’।

জমিদার বাড়ির সীমানায় এই মন্দির; image source : মাদিহা মৌ

কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গাতেই সৌন্দর্য আর কদর্যের ঠাঁই পাশাপাশি। সুন্দর এই জায়গাটিতে চলে অনাচার। এই ‘পাহাড় মুল্লুক’ ছিল ‘বৈশ্য গারো’ নামের প্রবল পরাক্রমশালী এবং অত্যাচারী এক গারো রাজার অধীনে। একদিন দরিদ্র ধীবরের দল সেখানে এসে হাজির। সাধুদের প্রণাম করে ধীবররা জানালেন, তারা পাহাড় মুল্লুকের অত্যাচারী রাজা বৈশ্য গারোর নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার। সামান্য কারণে রাজা তাদের ধন-সম্পদ লুট করে, বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়, এমনকি খুন করতেও পিছপা হয় না। তারা এ অবস্থার পরিত্রাণ চান। গরীব জেলেদের মুখে এই নির্যাতনের কাহিনী শুনে এক প্রবীণ সাধুর মনে দয়া হলো। তিনি কনিষ্ঠ সাধু সোমেশ্বর পাঠক, কারো কারো মতে সোমনাথ পাঠককে নির্দেশ দেন, ‘তুমি এই অরণ্য ভূমি অধিকার করিয়া একটি রাজ্য স্থাপন করো। তাহাতেই তোমার অভীষ্ট সিদ্ধি ও সমূহ মঙ্গল হইবে।’

জ্যেষ্ঠ সাধুর নির্দেশ শিরোধার্য ভেবে আরও কয়েক সন্ন্যাসী নিয়ে সোমেশ্বর পাঠক থেকে গেলেন সেখানে, বাকিরা চলে গেলেন কামরূপ কামাখ্যায়। সোমেশ্বর পাঠক অন্যান্য সহচর ও ধীবরদের নিয়ে অত্যাচারী রাজা বৈশ গারোকে পরাজিত করে গারো পাহাড়ের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ও সমতল ভূমির বিরাট অংশ জুড়ে প্রতিষ্ঠা করলেন নতুন এক রাজ্য। রাজ্যের নাম হলো সু-সঙ্গ। অর্থাৎ ভালো সঙ্গ নাম নিয়ে তিনি একটি সামন্ততামিত্রক রাষ্ট্র স্থাপন করেন।

একটা স্কুলও করেছে নতুন করে; image source : মাদিহা মৌ

সোমেশ্বর পাঠকের পরবর্তী তিন’শ বছর এই বংশের রাজ পুরুষগণ বহু উপাধি বদলে অবশেষে সিংহ উপাধি ধারণ করেন। প্রায় তিনশত বছর স্বাধীনভাবে থাকার পর উত্তরে জ্যোতিস্পুর (আসাম) ও দক্ষিণে ঈশাখাঁর সঙ্গে বিবাদ বেঁধে যায়। এই দুই দিক থেকে চাপ সৃষ্টির ফলে এই বংশের রাজা রঘু অন্য কোনো উপায় না দেখে মানসিংহের মারফতে বাদ্শাহ আকবরের শরনাপন্ন হন।

বাদশাহকে উপঢৌকন দেওয়ার জন্য সঙ্গে নেন এই এলাকার ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি কাঠ আগর। এই সুগন্ধি আগরের গন্ধে বাদশাহ দরবারের সবাই মাতোয়ারা হয়ে যান। বাদশাহ আকবর ও রাজা রঘুর মধ্যে এক চুক্তি হয়। রাজা প্রতি বছর আগর কাঠ পাঠাবেন আর বাদশাহ আকবর সব আক্রমণ থেকে রাজা রঘুকে রক্ষা করবেন। রাজা রঘুকে পাঁচ হাজারী মনসবদারীর অধিকার দেওয়া হয়। এই চুক্তির অংশ হিসেবে রাজা রঘুনাথ সিংহকে মানসিংহের পক্ষে বিক্রমপুরের চাঁদ রায়, কেদার রায়ের বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে হয়।

যুদ্ধে চাঁদ রায়, কেদার রায় পরাস্ত হলে রাজা রঘুনাথ সেখান থেকে অষ্ট ধাতুর এক দুর্গা প্রতিমা নিয়ে আসেন এবং রাজ মন্দিরে স্থাপন করেন যা আজো দশভূজা মন্দির নামে সুপরিচিত। তখন থেকেই সু-সঙ্গের সাথে দুর্গাপুর যোগ করে এই অঞ্চলের নামকরণ হয় সুসঙ্গ দুর্গাপুর। সুসঙ্গ ছিল একটি পরগনা, আর দুর্গাপুর হচ্ছে জমিদারের বাসস্থান। সম্রাট আকবরের আমলে সুসঙ্গকে বলা হত মুলক-এ সুসঙ্গ।

পরবর্তীতে সোমেশ্বরী পাঠকের নামানুসারেই পাহাড়ি সেই নদীটি সোমেশ্বরী নদী হিসাবে পরিচিতি পায়। সোমেশ্বরী পাঠকের এই সোমেশ্বরী নদী বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময় একেক রকম সৌন্দর্য মেলে ধরে। শীতকালে পানি কমে গেলেও সদা স্বচ্ছ জলের সোমেশ্বরী নদী বর্ষায় যেন যৌবন ফিরে পায়।

মধ্যম বাড়ির বাইরের পূর্ব দিকের একটি ঘর এখন দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে  ব্যবহৃত হচ্ছে; image source : newsg24.com

সুসং রাজবংশটি ১৯৪৭ সনের ভারত বিভাগের পূর্ব সময় পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। বৃটিশ শাসনামলের শেষ দিকে সুসং রাজবংশের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি হয়ে জমিদার বংশের প্রভাব ক্ষীণ হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কমিউনিষ্ট নেতা কমরেড মনিসিংহের নেতৃত্বে সুসং জমিদারদের বিরুদ্ধে টংক প্রথা উচ্ছেদের আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।

৩ হাজার ৩৫৯ বর্গমাইল এলাকা ও প্রায় সাড়ে নয়শ গ্রাম নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সুসঙ্গ রাজ্যের রাজধানী ছিল দুর্গাপুর। এরপর বহু রাজা সুসং রাজ্য অধিকার করেন। রাজা রাজকৃষ্ণের শাসনামল থেকে সুসং রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজ পরিবারে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এক পর্যায়ে গোটা রাজ্য চারটি হিস্যায় ভাগ হয়ে যায় এবং চারটি পৃথক রাজবাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাড়িগুলো বড় বাড়ি, মধ্যম বাড়ি, ‘আবু বাড়ি’(ছোট অর্থে) ও দুআনি বাড়ি। ’৪৭-এর দেশ বিভাগ এবং পরবর্তীতে ’৫৪ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ আইন পাস হবার পর রাজ বংশের সদস্যরা ভারত চলে যান। ফলে অবসান ঘটে সুসং রাজ্যের।

দশভুজা বাড়ি মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজায় মহাদেব পার্বতীরূপে অংশগ্রহণ; image source : যুগান্তর

জানা যায়, সুসং রাজবাড়ি দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। পরিখাবেষ্টিত রাজবাড়ির অভ্যন্তরে ছিল সৈনিকদের আবাস, বিচারালয়, কারাগৃহ, অস্ত্রাগার, চিড়িয়াখানা, হাতিশালা, প্রাসাদ, শয়নকক্ষ, কাছারিবাড়ি, বৈঠকখানা ইত্যাদি। ১৩০৪ খ্রিস্টাব্দে ভূমিকম্পে সুসং রাজ্যের তৎকালীন রাজা জগৎকৃষ্ণ সিংহ প্রাচীর চাপা পড়ে নিহত হন এবং সেই সময়ই রাজবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ধ্বংস হয়ে যায় অনেক স্মৃতিচিহ্ন। বর্তমানে যে নিদর্শনগুলো টিকে আছে এর অধিকাংশই জগৎকৃষ্ণের পরবর্তী বংশধরেরা তৈরি করেছেন।

‘বড় বাড়ি’র সামনে তিনতলা বিশিষ্ট একটি বড় ঘরকে ‘রংমহল’ বলা হতো। দেশ বিভাগের পরও ঘরটি ছিল। ১৯৭০ সালে সেখানে সুসং ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে কলেজ কর্তৃপক্ষ রংমহলের ভগ্নপ্রায় ঘরটি বিক্রি করে দেন। একটি পানির ইদারা ও সীমানা প্রাচীর ছাড়া বড় বাড়ির কোনো স্মৃতিচিহ্ন এখন আর নেই।

মহারাজা কুমুদচন্দ্র মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ; image source : মহারাজা কুমুদচন্দ্র মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় এর ফেইসবুক পেইজ

‘মধ্যম বাড়ি’র বাইরের পূর্ব দিকের একটি ঘর এখন দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে  ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বাড়ির একটি কাছারি ঘর ব্যবহৃত হচ্ছে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে। ১৯৬৯ সালে মধ্যম বাড়ির অভ্যন্তরের কয়েকটি ঘর নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় দুর্গাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

আবু বাড়িতে স্বাধীনতার চার-পাঁচ বছর আগেও অমরেন্দ্র সিংহ শর্মা নামে সুসঙ্গ রাজবংশের এক সদস্য বাস করতেন। তিনিই সর্বশেষ দেশ ত্যাগ করেন। দুর্গাপুরে তিনি ‘মিনি বাহাদুর’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি চলে যাবার পর এ বাড়ির কয়েকটি ঘর বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তাদের বাসাবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ওই ঘরটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। এর ভিতরবাড়ির পিছনের ঘরটিতে ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘আদর্শ বিদ্যানিকেতন’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

১৯১৮ সালে স্থাপিত মহারাজা কুমুদচন্দ্র মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও দশভূজা মন্দির ও রাজবাড়ির এক ম্যানেজারের বাসভবন। মহারাজা কুমুদচন্দ্র মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়টি দুর্গাপুরের প্রথম উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমানে এটি সরকারি বিদ্যালয়। দশভূজা মন্দিরটি পরিচালিত হয় কমিটির মাধ্যমে। এটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আদর্শ বিদ্যানিকেতন’ নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; image source : ফেসবুক

সুসং রাজ্যের আরেক ঐতিহ্য ‘সাগর দীঘি’। রাজা জানকীনাথের আমলে খনন করা এই দীঘিটি পরবর্তীতে পরিচিত হয় ‘কমলা রানীর দীঘি’ নামে। কয়েক বছর আগে এই ঐতিহাসিক দীঘি সোমেশ্বরী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সুসং রাজ্যের এসব স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় কারোর কোনো উদ্যোগ নেই। তাই সব একে একে হারিয়ে যাচ্ছে কালের গহ্বরে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সরাসরি দুর্গাপুর (Durgapur) যাওয়ার বাস ছাড়ে। এ পথে চলাচলকারী দু’একটি বাস সার্ভিস হলো সরকার, জিন্নাত ইত্যাদি। ভাড়া ২৫০-৩৫০ টাকা। ৫-৭ ঘণ্টার মধ্যেই আপনি পৌঁছে যাবেন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিরিশিরিতে। বিরিশিরির বাস বলা হলেও এটি মূলত দুর্গাপুর পর্যন্ত যাবে। সেখান থেকে নৌকায় সোমেশ্বরী নদী পার হতে হবে। ওপার থেকে রিকশা, টেম্পু, বাস বা মোটরসাইকেলে চীনামাটির পাহাড়ে যাওয়া যায়। রাস্তা আগে খারাপ থাকলেও এখন খুব ভালো। অটোয় করে প্রতিজন ৩০ টাকা ভাড়া।

ঢাকা ফেরার জন্য দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র তালুকদার প্লাজার সামনে থেকে রাত এগারটায় এবং সাড়ে এগারটায় দুটি নাইট কোচ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এখান থেকে টিকিট সংগ্রহ করে বাসে যেতে পারেন। ভোর পাঁচটার মধ্যেই মহাখালী পৌঁছে যাবেন।

মোহনীয় সোমেশ্বরী নদী; image source : মাদিহা মৌ

ট্রেনে যেতে হলে ঢাকা থেকে হাওড় এক্সপ্রেস রাত ১১.৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়। এই ট্রেনে ভোরের দিকে নামতে হবে শ্যামগঞ্জ ট্রেন স্টেশনে। ওখান থেকে বাস কিংবা সিএনজি করে দুর্গাপুর। ট্রেনে ময়মনসিংহ গিয়েও সেখান থেকে বাসে কিংবা সরাসরি সিএনজিতে করেও দুর্গাপুর যেতে পারবেন। ময়মনসিংহ থেকে বাসে গেলে প্রচুর সময় লাগবে। সিএনজিতে বড়জোর দেড় ঘণ্টা লাগে। সিএনজিতে দুর্গাপুর পর্যন্ত ভাড়া পড়বে ১৬০ টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে কিছু সাধারন গাড়ি যায় যা অলংকার মোড় থেকে ছাড়ে। ভাড়া ৪৫০-৬০০টাকা নিবে (আরো কমও নিতে পারে)

ঢাকা কাউন্টার: ০১৯১৭৭১০০০৮ (এরশাদ)
সুসং দুর্গাপুর কাউন্টার: ০১৭১১৬৬৯৭৭৪ (শিপার)

কোথায় থাকবেন

সুসং দুর্গাপুরে থাকার জন্য ভালো মানের বেশ কয়েকটি গেস্ট হাউস আছে। নিম্নে এদের নাম এবং যোগাযোগ করার নাম্বার দেয়া হলো-

জেলা পরিষদ ডাক বাংলো: ০১৫৫৮৩৮০৩৮৩, ০১৭২৫৫৭১৭৯৫

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমী গেষ্ট হাউজ। ফোন: ০৯৫২৫-৫৬০৪২, মোবাইল: ০১৮১৫৪৮২০০৬

গারো পাহাড়ের একাংশ; image source : মাদিহা মৌ

ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএর রেস্ট হাউস: ০১৮১৮৬১৩৪৯৬, ০১৭১৬২৭৭৬৩৭, ০১৭১৪৪১৮০৩৯, ০১৭৪৩৩০৬২৩০, ০১৯২৪৯৭৫৯৩৫, ০১৭২৭৮৩৩৩৩২। এখানকার রুম ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা।

YWCA গেষ্ট হাউজ: ০১৭১১০২৭৯০১। YWCA এর জন্য অমিতা সাংমার মোবাইল নাম্বার – ০১৭১২০৪২৯১৬। রুম ভাড়া পড়বে ৭৫০ টাকা (২ বেড) আর চাইলে VIP রুমের ব্যবস্থাও করতে পারেন। এদের বিরাট একটা হলরুম আছে যেখানে একসাথে ১৮ জন থাকতে পারবে, সেক্ষেত্রে পার বেডে খরচ পড়বে ২০০ টাকা করে। YWCA এর ছাদটা সবচাইতে সুন্দর, সেখান থেকে পূর্ণিমা দেখতে অসাধারণ লাগে।

এছাড়া দুর্গাপুরে আরও কিছু মধ্যম মানের হোটেল আছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –

স্বর্ণা গেস্ট হাউস ( ০১৭১২২৮৪৬৯৮),

হোটেল সুসং (০১৯১৪৭৯১২৫৪),

হোটেল গুলশান (০১৭১১১৫০৮০৭),

হোটেল জবা ( ০১৭১১১৮৬৭০৮, ০১৭৫৩১৫৪৬১৭),

নদীবাংলা গেষ্ট হাউজ ( ০১৭৭১৮৯৩৫৭০, ০১৭১৩৫৪০৫৪২)।

এসব হোটেলে ১৫০-৪০০ টাকার মধ্যে থাকার ব্যবস্থা আছে।

কোথায় খাবেন

যে রেস্ট হাউজে থাকবেন সেখানেই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। তবে এছাড়াও বিভিন্ন মধ্যম মানের রেস্টুরেন্টে ভাত, ডাল থেকে শুরু করে সব ধরনের মাছ আর মাংসই পাবেন দুর্গাপুরে। দুর্গাপুরের উল্লেখযোগ্য রেস্টুরেন্ট হলো নিরালা হোটেল। এদের ব্যবহার খুবই ভালো।

ইতিহাস অংশের তথ্যসূত্র : ঐতিহাসিক চিত্র (পঞ্চম পর্য্যায়) – শ্রী নিখিলনাথ বি এল সম্পাদিত

Feature image source : মাদিহা মৌ

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মরক্কোর আকর্ষণীয় মার্কেটগুলো

গোলাপি-সাদা চীনা মাটির পাহাড়ে নীলাভ-সবুজ রঙা হ্রদের বিন্দুবিসর্গ