স্লিপিং ব্যাগের আদ্যোপান্ত

ভ্রমণের সময় সারাদিন পর ভালো ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে হোক কোনো আরামদায়ক ভ্রমণ বা হোক কোনো কঠিন ট্রেকিং। আর বাইরের বিভিন্ন রকম পরিবেশে ভালো ঘুমের জন্য দরকার হয় একটি ভালো স্লিপিং ব্যাগ। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুয়াযী দুই ধরনের স্লিপিং ব্যাগ বাজারে পাওয়া যায়। একটি গরম আবহাওয়ার জন্য চারকোনা কিছু স্লিপিং ব্যাগ, আর শীতের পাহাড় অনান্য জায়গায় ভ্রমণের জন্য মমি শেইপের কিছু স্লিপিং ব্যাগ।

চারকোনা স্লিপিং ব্যাগ ও শীতের জন্য হতে পারে। তবে মমি শেইপের স্লিপিং ব্যাগগুলো বেশ ভালো কাজ দিয়ে থাকে। ভ্রমণের সময় আবহাওয়ার উপযোগী একটি স্লিপিং ব্যাগ আপনাকে শান্তিতে ঘুমাতে সাহায্য করবে।

Photo: takemetohimalaya 

তবে ঢাকার রাস্তায় পাওয়া কম্বলের দুটো লেয়ারে চেইন লাগানো স্লিপিং ব্যাগগুলো কিন্তু সব সময় কাজে দেবে দেবে না। আবার যদি দেশের বাইরে কোনো শীতপ্রধান অঞ্চলে দেশে ব্যবহার উপযোগী স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে ঘুমাতে যান তাহলেই বিপদ। কারণ আমাদের দেশের উপযুক্ত স্লিপিং ব্যাগগুলো শুধু আমাদের দেশের তাপমাত্রার হিসেব করেই বানানো হয়।

তাই কোথায় কোন কাজে আপনার স্লিপিং ব্যাগটি ব্যবহার করবেন সেটি নির্ধারণ করার পর আপনাকে দেখতে হবে আপনার স্লিপিং ব্যাগটি সর্বনিম্ন কত তাপমাত্রাতে ব্যবহারের উপযোগী, কোন ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি এবং যে ধরনের শেইপের ব্যাগ আপনার পছন্দ হয়। এগুলো নিয়ে ভালোভাবে জেনে বুঝে তারপর স্লিপিং ব্যাগ নির্ধারণ করা উচিৎ।

তাপমাত্রা বিষয়ক:

এক এক ধরনের তাপমাত্রার জন্য এক এক ধরনের স্লিপিং ব্যাগ তৈরি করা হয়। কিছু কিছু স্লিপিং ব্যাগ গরমের সময় কোথাও ক্যাম্পিং করার জন্য তৈরি করা হয়। এগুলো অপেক্ষাকৃত পাতলা লেয়ারের উপাদান দিয়ে ছোট আকৃতির করে তৈরি করা হয়।


গরমের মৌসুমের স্লিপিং ব্যাগগুলোর ভেতরে ভালোভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। তাই বেশী তাপমাত্রায় এর ভেতরে গরম লাগে না। অপরদিকে মাঝারি শীতের জন্য বা আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্য এক ধরনের তাবু তৈরি করা হয়। এই স্লিপিং ব্যাগগুলোতেও দুটি লেয়ার দেয়া থাকে। তবে দুটি লেয়ারের মধ্যে সিনথেটিক ফোমের একটা পরত থাকে। যা আমাদের দেশের সর্বোচ্চ শীতের মধ্যে শরীরের তাপকে ভেতরে রাখতে সাহায্য করে ও শরীর উষ্ণ রাখে।


এক্সট্রিম ওয়েদারের জন্য স্লিপিং ব্যাগের বেশ কিছু ভাগ আছে। যেমন ১০ ডিগ্রি থেকে পাঁচ ডিগ্রি, ০ থেকে মাইনাস চার ডিগ্রি, বা – ১৫ থেকে – ৩০ ডিগ্রি, এরকম। এর থেকে শীতল পরিবেশের স্লিপিং ব্যাগগুলো আমাদের দেশে সহজলভ্য নয়। দেশের বাইরে পাহাড়ে বা কোথাও ট্রেকিংয়ে যাবার জন্য ওই এলাকার তাপমাত্রা নিয়ে স্ট্যাডি করে তারপর স্লিপিং ব্যাগ বাছাই করতে হয়।

এই স্লিপিং ব্যাগগুলোর ভেতরে বেশ কিছু ফোম ও ফেদারের লেয়ার থাকে। এছাড়া আউটার শেল বা কাভারগুলো তাপনিরোধী, বাতাস বা বরফ নিরোধী করে তৈরি করা হয় বলে এগুলোর বাজার দর বেশ বেশী হয়। তাই কোথায় যাচ্ছেন, সেখানকার তাপমাত্রা জানার পরই উপযুক্ত স্লিপিং ব্যাগ বাছাই করা উচিৎ।

স্লিপিং ব্যাগে তৈরির উপাদান:

আমাদের দেশের তাপমাত্রা গড়ে সর্বনিম্ন ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। তাই দেশে ক্যাম্পিং বা কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য যে স্লিপিং ব্যাগগুলো তৈরি করা হয় তা মূলত পাতলা সিনথেটিক ফোম ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এটি সহজেই ব্যবহার করা যায়, ধোয়া যায়, শুকানো যায় এবং বাজার দর কম।

গড়ে দুই হাজার টাকার ভেতর এই স্লিপিং ব্যাগগুলোতে দুইটি পলিয়েস্টার বা নাইলনের লেয়ারের ভেতর সিনথেটিক ফোমের একটি পরত দেয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে তুলো বা মোটা কোম্বলের ফেব্রিক ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।


আর গরমের সিজনে ব্যবহারের জন্য খুব বেশী মানুষ স্লিপিং ব্যাগ ব্যবহার করেন না। কিন্তু যদি দরকার থেকেই যায় তাহলে এই স্লিপিং ব্যাগগুলো নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিন্তু দেশের বাইরে অভিযানগুলোর জন্য অবশ্যই থার্মাল স্লিপিং ব্যাগ দরকার হবে।

দেশের বাইরে হিমালয়ের মতো পর্বতমালায় তাপমাত্রা রাতারাতি ২০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৩০ ডিগ্রি নেমে যেতে পারে। তাই এই এলাকার জন্য উপযোগী করে যে স্লিপিং ব্যাগগুলো তৈরি করা হয় তাতে মোটা সিনথেটিক ফোম, ফেদার অথবা ডাউন ফেদার দিয়ে তৈরি করা হয়।


সিনথেটিক ফোম গুলো ওজনে হালকা হয় তবে তাপমাত্রা অতিরিক্ত নেমে গেলে এটির কার্যক্ষমতা কমে যায়। তাই ফেদার বা ডাউন ফেদার দিয়ে তৈরি ফোলা স্লিপিং ব্যাগগুলো সব থেকে উত্তম কাজে দেয়। ফেদারের তৈরি স্লিপিং ব্যাগে আউটার শেলের ভেতর হাঁস বা পাখির বড় পালকের একটা মোটা আস্তরন থাকে। আবার ডাউন ফেদারের ব্যাগে পাখি বা হাঁসের পালকের ছোট ছোট অংশের আস্তরণ থাকে। এর জন্য তীব্র শীত প্রতিরোধ করতে পারে, ওজনে খুবই হালকা হয় ও খোলা অবস্থায় বিশাল দেখালেও কম্প্রেস করলে ছোট্ট আকৃতিতে রূপ নেয়। বাইরের লেয়ার হিসেবে ভালো মানের তাপ নিরোধী আস্তরণ ব্যবহার করা থাকে যা একাধারে পানি, বাতাস ও বরফ নিরোধীও হতে পারে।

Photo: takemetohimalaya 

স্লিপিং ব্যাগের আকৃতি:

বেশ কিছু শেইপের  স্লিপিং ব্যাগ বাজারে পাওয়া যায়। চৌকো, মমি আকৃতি, অন সাইড রাউন্ডেড বা ফানেল। সাধারত চৌক ব্যাগগুলো অল্প শীত বা গরমের সিজনের জন্য তৈরি করা হয়। বাদ বাকিগুলো বিভিন্ন রকম তাপমাত্রার উপযোগী করে তৈরি করা হয়। এদের মধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় হলো মমি শেইপের ব্যাগগুলো। এগুলো মূলত মানুষের শরীরের শেইপে তৈরি হয় তাই পায়ের দিকটা সরু রাখা হয়।


কোমর থেকে স্ফিত হয়ে কাঁধ অব্দি আসে এবং গলা থেকে মাথার জন্য টুপির মতো আকৃতি দেয়া হয়। শরীরের সাথে মিশে থাকে বলে অন্য স্লিপিং ব্যাগগুলো থেকে দ্রুত উষ্ণতা অনুভব করা যায়। এছাড়া পায়ের দিকটা সরু থাকায় ভেতরে ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকে জমে থাকতে পারে না। অনেকেই মমি আকৃতির শেইপটা পছন্দ করেন না তাই আপনার পছন্দ মতো একটি শেইপের ব্যাগ সংগ্রহ করে ফেলতে পারেন।

কিছু তথ্য:

প্রথমত তাপমাত্রার কথা বিবেচনা করেই উপযুক্ত স্লিপিং ব্যাগ সংগ্রহ করুন। কেনার সময় ভেতরের লাইনিং বা ভেতরের লেয়ার যেন কোমল হয় সেটি দেখে কিনুন। যে জিপার টেনে স্লিপিং ব্যাগ লক করতে হয় সেটি মূলত দুই দিক থেকে করার মতো সুবিধা থাকলে ভালো হয়। এতে জিপার লক করতে অন্যের সাহায্য লাগে না। বাইরে থেকে বা ব্যাগের ভেতরে ঢুকে নিজেই জিপার টেনে আটকে নিতে পারবেন।


চেষ্টা করবেন শুধু মাত্র স্লিপিং ব্যাগের উপর না শুয়ে এর নিচে স্লিপিং ম্যাট জাতীয় কিছু ব্যবহার করার, এতে ঠাণ্ডা কম লাগবে। শুধু ট্রেকিং বা যাত্রার সময় এটি কম্প্রেস করে রাখুন আর ব্যবহার ব্যতীত এটা খুলে অল্প চাপে ভাঁজ করে রাখুন, নতুবা দীর্ঘ চাপে এর ভেতরকার উপাদানগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

Loading...

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাঙামাটির পেদা টিং টিং: সাধারণের মাঝে এক অসাধারণ রেস্তোরাঁ!

কম খরচে ফিলিপাইন ঘুরে আসার অভিনব উপায়