স্পেনের গোপন দ্বীপগুলো

ক্যান্যারি থেকে শুরু করে ব্যালিয়ারিক পর্যন্ত স্পেনের দ্বীপগুলো ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় হলিডে ডেস্টিনেশনের একটি। ভ্রমণকারীরাও প্রায়ই এই দ্বীপগুলোতে ছুটি কাটাতে আসে৷ জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় ভিড়ও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এই জায়গাগুলোতে। ভিড় বাড়ায় এখন পর্যটকরাও নতুন বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। সময় হয়েছে এখন টেনেরিফ, ইবিৎসা, মায়োর্কার বাইরে থাকা দ্বীপগুলোর দিকে নজর দেওয়ার। নিচে স্পেনের এমনই কিছু স্বল্প পরিচিত দ্বীপের কথা উল্লেখ করা হলো।

আইলা সিয়েস, গ্যালিসিয়া

গ্যালিসিয়ার উপকূলে অবস্থিত সিয়েস দ্বীপপুঞ্জের সাদা বালিময় সৈকত এবং সবুজ শ্যামল বন দেখে অনেকেই এগুলোকে সাউথ প্যাসিফিকের আইল্যান্ড ভেবে ভুল করে বসে৷ এই দ্বীপপুঞ্জটি মন্টে আগুদো, ও ফারো এবং স্যান মার্টিনো নামে তিনটি ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত হয়েছে। তিনটি দ্বীপই যানবাহন এবং হোটেল মুক্ত। প্রতিদিন এখানে সর্বোচ্চ ২,২০০ পর্যটককে পরিভ্রমণের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।

এখানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রাইয়া দি রোদাস৷ আঠালো বালির এই বালুতটটি মন্টে আগুদো এবং ও ফারোকে সংযুক্ত করে রেখেছে৷ সৈকতে কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করার পর যাওয়া যেতে পারে দ্বীপে থাকা দিক নির্দেশিত হাইকিং ট্রেইলগুলোর দিকে। এগুলোর কয়েকটি ট্রেইল চলে গেছে মন্টে ফারোর লাইটহাউজ এবং অল্টো দো প্রিন্সিপের ভিউ পয়েন্টের দিকে। এছাড়া বাকিটা সময় কাটিয়ে দেওয়া যাবে ডুব সাঁতার, কায়াকিং এবং নৌকা ভ্রমণ করেই।

আইলা সিয়েস, image source : daugimagery

আইলা দি অন্স, গ্যালিসিয়া

পন্তেভেদ্রার উপকূলে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি তৈরি হয়েছে সাতটি ছোট ছোট দ্বীপে। দ্বীপটির অধিবাসী মাত্র ৮০ জন। এই পুরো দ্বীপপুঞ্জটিই আসলে একটি ন্যাশনাল পার্ক। স্পেনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ন্যাচার কনজার্ভেশন এবং ওয়াইল্ড লাইফ সাইট এটি। পাখি প্রেমীদের জন্য স্বর্গ এই দ্বীপগুলো। কমর‍্যান্ট এবং পেরেগ্রাইন ফ্যালকন থেকে শুরু করে ইউরোপিয়ান স্টর্ম-পেট্রেল এবং র‍্যাজরবিল সহ অনেক পাখিই বাস করে এখানে। দ্বীপটিতে প্রায় ১০টি সৈকত রয়েছে।

সৈকতগুলোর কোনোটা চঞ্চল, কোনোটা নীরব বা পাথুরে – পর্যটকেরা তাদের মন মতো যে কোনো সৈকতেই সময় কাটাতে পারবে। আবার যদি শুয়ে বসে অলস ছুটি কাটানোর ইচ্ছা না থাকে, তাহলে সেই ব্যবস্থাও রয়েছে অন্সে। পুরো দ্বীপে প্রায় চারটি ছোট দৈর্ঘ্যের হাইকিং ট্রেইল রয়েছে। এখানে কোনো হোটেল নেই, তবে দ্বীপে একদিনের বেশি থাকতে চাইলে ক্যাম্পিং আইল দি অন্স থেকে তাঁবু খাটানোর সরঞ্জাম ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা করা যাবে।

আইলা দি অন্স, image source : arousa

আইলা মিদেস, কাতালুনিয়া

কাতালুনিয়ার কোস্ট ব্রাভার উপকূলে অবস্থিত মিদেস দ্বীপপুঞ্জটি৷ দ্বীপটির ঠিক বিপরীতেই রয়েছে পাহাড়ি শহর বেগুর। সাতটি ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত হয়েছে এই দ্বীপমালাটি। দ্বীপটিতে কোনো জনমানবের বাস নেই। অবশ্য বুনো প্রাণী সংরক্ষণের জন্য এই দ্বীপটিতে কারো পা ফেলারও অনুমতি নেই। দ্বীপের স্থলে ঘুরতে না পারলেও, দ্বীপকে ঘিরে রাখা জলে পরিভ্রমণ করতে কোনো বাধা নেই।

স্পেনের সেরা ডাইভিং এবং ডুব সাঁতারের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে এই দ্বীপপুঞ্জেই। রং-বেরঙের কোরাল বন; স্পঞ্জ, গ্রাউপার এবং এমনকি স্টিংরে সহ হরেক রকমের মাছের ঝাঁক রয়েছে দ্বীপপুঞ্জের তীরবর্তী পাশগুলোতে গড়ে ওঠা এই ন্যাশনাল মেরিন রিজার্ভে। নৌকায় করে ঘোরার সময় মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া অনেক রকম পাখির ঝাঁকেরও দেখা মেলে এখানে।

আইলা মিদেস, image source : Amazing Travels

ক্যাবরেরা, ব্যালিয়ারিক আইল্যান্ডস

গ্রীষ্মকালে যখন মায়োর্কার ট্যুরিস্টের সংখ্যা বেড়ে যায়, তখন স্থানীয়রা ভিড় থেকে রক্ষার জন্য যাত্রা করে এক ঘণ্টা বোট জার্নি দূরত্বে থাকা ক্যাবরেরা দ্বীপের উদ্দেশ্যে। দ্বীপটিতে কোনো বাসিন্দা নেই। তাছাড়া এই দ্বীপের ভূমি এবং ভূমি সংলগ্ন পানিকে ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বেশির ভাগ পর্যটকই দিনে গিয়ে দিনেই ঘুরে আসে দ্বীপ থেকে। এর মূল কারণ দ্বীপটিতে প্রতিরাতে মাত্র ২৪ জনকেই থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি খাঁজকাটা পাথুরে একটি দ্বীপ৷ সাঁতার, ডুব সাঁতার, হাইকিং সহ প্রায় সবকিছুরই সুযোগ রয়েছে এখানে।

ক্যাবরেরা আইল্যান্ড, image source : Gudrun Muenz

লোবো, ক্যান্যারি আইল্যান্ডস

ফুয়ের্তেভেঞ্চুরার ভিড় বেশি হয়ে গেলে কাছেই থাকা আইলক দি লোবোতে চলে যাওয়াই ভালো৷ ৪.৬ বর্গকিলোমিটার ধরে বিস্তৃত এই ছোট দ্বীপটির নামকরণ করা হয়েছিল দ্বীপের এক সময়ের বাসিন্দা মঙ্ক সিলের নামানুসারে। যদিও এখন আর এই দ্বীপে কোনো সিল নেই। তবে এখনো এই খাঁজকাটা দ্বীপটি পাখিদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। দ্বীপের এক পাশের অনেকটাই দখল করে রেখেছে প্রাচীন মনটানা লা ক্যালডেরা। তবে এরপরও আগ্নেয় পাথরে ঘেরা এখানের উপহৃদগুলো সাঁতারের জন্য একদম পারফেক্ট।

লোবো আইল্যান্ড, image source : nito

লা গ্রাসিওসা, ক্যান্যারি আইল্যান্ডস

সাদা বালির সৈকতে ছেয়ে থাকা লা গ্রাসিওসা দ্বীপটি ক্লান্তি ও ব্যস্ততা দূরে রেখে বিশ্রামের জন্য আদর্শ একটি গন্তব্য। ইউরোপের সবচেয়ে বড় মেরিন রিজার্ভগুলোর একটি – রিজার্ভা দেল আর্চিপিয়েলাগো শিনিজোর অভ্যন্তরে অবস্থিত এই দ্বীপটি৷ নিঃসন্দেহেই প্রচুর সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা মেলে এখানে, এছাড়া একই সাথে এটি পাখিদের অভয়ারণ্যও৷ ধূসর সৈকত এবং নীলচে পানিতে ঘিরে থাকা দ্বীপের কেন্দ্রে রয়েছে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়গিরির একটি গুচ্ছ।

এছাড়া দ্বীপের উত্তরপ্রান্ত ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে পিঙ্গল বর্ণের মনটানা বার্মেজা৷ এটি ইউরোপের ঐ বিরল জায়গাগুলোর একটি যেখানে এখনো কোনো পাকা রাস্তা নেই৷ সেজন্যেই ক্যান্যারি দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য দ্বীপগুলোর চেয়ে এখানে পর্যটকদের ভিড় অনেক কম থাকে।

Feature image source : gadzius

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দেবতাখুম নামক স্বর্গীয় পথটির উপক্রমের খোঁজে

একদিনে বৌদ্ধমন্দির, শুভলং ও বালুখালি ভ্রমণের গল্প