শাহজাদপুরের পথে রবীন্দ্রনাথের সাথে: কাছারি বাড়ি

বাংলা নববর্ষ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। সবাই গেছে বনে, আর আমি ঢাকা নামক বৃহত্তর বনে বন্দী যেথায় এসো হে বৈশাখের তালে আজ সাময়িক নাগরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবার আশায় যাবে সবাই রমনা বটমূল। দীর্ঘ মানব জ্যাম, মানুষ আর যন্ত্রণা। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ঢুকে পড়বে সবাই আরেক যন্ত্রণার লুপে। মনটা খারাপ, পাহাড় বন জঙ্গল কোথাও যাওয়া হচ্ছে না।

এর মধ্যে ঈসমাইল হোসেন ভাই ফোন দিলেন। ‘আশিক ভাই, কালকে কোনো প্ল্যান আছে?’ আমি বললাম, ভাই একটু ভেবে বলি। ফোন রেখে ভাবি, শুধু ভাবি। পাশের বাসা থেকে ভেসে আসে এসো হে বৈশাখ এসো এসো গানের সুরেলা ধ্বনি। আহা, কালকে এই গানের ধ্বনিতে একদিনের বাঙালি হতে সবাই মাঠ কাপাবে। কবি গুরুর বাড়ি গেলে কেমন হয়, ঢাকা নামক বন থেকে বের হয়ে? রাত ১১টায় ঈসমাইল ভাইকে প্ল্যান জানালাম। তিনি বললেন, সকালে উঠে ফোন দিয়েন। যথারীতি আমাদের সিরাজগঞ্জ যাবার পেক্ষাপট তৈরি। যাব রবীন্দ্র কাচারি বাড়ি, ঘুরবো রবী ঠাকুরের স্মৃতির সাথে। সাহিত্যিক বলুন বা এতিহ্য। উত্তেজিত হয়ে ঘুমাতে গেলাম।

যথারীতি ভোর ছয়টায় উঠে প্রস্তুতির ফাঁকে ঈসমাইল ভাইকে ফোন দিলাম। ঘুম বিজড়িত কন্ঠে বললো, আচ্ছা উঠছি। সাতটার ভেতর বের হয়ে গেলাম বাসা থেকে। আমার ড্রাইভার জহিরকে আগেই বলে রেখেছিলাম আমাদের মহাখালী বাস স্ট্যান্ড নামিয়ে দিতে হবে। সকাল সকাল বের হয়ে গেলাম বাসা থেকে। জয়কালী মন্দির হোটেল সুপারে হবে যাত্রা বিরতি। সেখানেই আসবেন ঈসমাইল ভাই। সকালের নাস্তা সেরে রওনা হব সেখান থেকে।

ভ্রমণ আপনার দেখার চোখকে বড় করে। এটা ধ্রুব সত্য। আমার গাড়ী রাজধানী সুপার মার্কেটে আসার পর ইস্কনের একটা শোভাযাত্রা দেখতে পেলাম। পহেলা বৈশাখের রং লেগেছে যেন শোভাযাত্রায়। হরে রামা হরে রামা ধ্বনিতে লাফাচ্ছে ভক্তবৃন্দ। ব্যাপারটা এতটাও চোখে লাগতো না যদি না দেখতে পেতাম তাদের গার্ড দেওয়া পুলিশ সদস্যও তাদের সাথে লাফাচ্ছে।

নিচ তলার বারান্দা। ছবিঃ লেখক।

হোটেল সুপার থেকে নাস্তা সেরে ঈসমাইল ভাইকে নিয়ে রওনা হলাম মহাখালী বাস স্ট্যান্ডের দিকে। যথারীতি সকালে বাসের টিকেট কেটে ফেললাম। ছাড়বে সকাল ৭-৫০ এ। হাতে এখন ২০ মিনিট আছে। যথা সময়ে বাস ছাড়লো। বাস চলছে সিরাজগঞ্জের পথে। স্টার লিটের মতো ভয়ংকর চক্কর বাসে চড়ে পুরো যাত্রা বিপত্তির মধ্যে গেল।

কাউন্টার সার্ভিস যাত্রী না পাওয়ার বেদনায় লোকাল হয়ে যায় তা স্টার লিটে উঠে হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। হেলেদুলে যমুনা ব্রীজ পার হয়ে এসে পড়লাম কটকা। এখান থেকে বাস বামে যাবে সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে আর আমরা নেমে যাব। এখান থেকে শুরু হবে শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাচারী বাড়ি যাবার যাত্রা।

উপরতলার বারান্দা। ছবিঃ লেখক।

স্টার লিট থেকে নামার পর যথারীতি স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করতে লাগলাম কীভাবে শাহজাদপুর যাওয়া যায়। এখান থেকে সরাসরি বাস নেই আর মহা সড়কে সিএনজি চলে না। কী মহা মুসিবত। বাস একখানা পাওয়া গেলে বটে, সে বাস আমাদের সিরাজগঞ্জ সড়কের চৌরাস্তায় নামিয়ে দিবে। উঠে বসলাম। চিপা সিটে বসলে উটের মতো সোজা থাকতে হয়। যেমন বাস তেমনই তার স্পীড। কচ্ছপের গত কে হার মানিয়ে আধা ঘণ্টার মাথায় আমাদের সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তার রাউন্ডবটের সামনে নামিয়ে দিল। এরপর এখান থেকে পাবনার গাড়িতে চড়ে বসলাম। নেমে যাব শাহজাদপুর। শাহজাদপুরটা ঠিক পাবনা সিরাজগঞ্জের বর্ডারে পড়েছে।

চলছে বাস সবুজ ছায়ায় আচ্ছাদিত এক মায়াভোলা রাস্তায়। চারদিকের গাছগুলো যেন মহীরুহ হয়ে ঝুকে পড়ে সূর্যটাকে প্রতিনিয়ত চোখে রাঙিয়ে যাচ্ছে। এক অদ্ভূত ভালো লাগা কাজ করে এই রোডে আসলে। দেখতে দেখতে এসে পড়লাম শাহাজাদপুর। আমাদের ঠিক নামিয়ে দিল রবী ঠাকুরের ভাষ্কর্যের সামনে। অদ্ভূতভাবে দাঁড়িয়ে যেন অভিশাপ দিচ্ছেন রবি ঠাকুর। ভাষ্কর্যখানা কে বানালো? আর যে কেউ নয় শ্রদ্ধেয় মৃণাল হক। যেন চোখে অগ্নি জ্বলছে রবী ঠাকুরের- কাছে আসবি, সব কিছু জ্বালিয়ে দেব। আমরা আর দাঁড়ানোর ধৃষ্টতা না দেখিয়ে রিক্সা ঠিক করলাম কাচারি বাড়ির উদ্দেশ্যে। রিক্সা যখন কাচারির বাড়ির গেটের সামনে থামলো ঘড়ির কাঁটায় দেড়টা ছুঁইছুই।

অদ্ভূত ফ্রেম। ছবিঃ লেখক।

বাইরে থেকে কাচারি বাড়ির গেটের ছবি তুলে ভিতরে প্রবেশ করলাম। রবীন্দ্র স্মৃতির সুবাতাসের গন্ধে ম ম করছে পুরো কমপ্লেক্স। বলতে হবে প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর বেশ যত্নের সাথে রাঙিয়ে তুলেছে রবীন্দ্র ভুবন। রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত শাহাজাদপুর কাচারি বাড়ি এই জেলার অন্যতম আর্কষণ। বিশ্বকবি সাধারণত রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়ী থেকে নৌকাযোগে শাহজাদপুর নওগার পতিসরে তাঁর কাচারি বাড়ি আসতেন। এর আগে এই বাড়িখানা ইংরেজরা নীলকর আদায়ের জন্য ব্যবহার করত।

রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষ প্রিন্স দ্বারকা নাথ ১৮৪০ সালে নাটোরের রানী ভবানীর কাছ থেকে ১৩ টাকা ১০ আনায় এই শাহজাদপুরের জমিদারী কিনে নেন। তিনি এই শাহজাদপুর আসতেন তার জমিদারীর দেখভাল করতে। ইন্দো-ইউরোপীয় স্টাইলে তৈরি দ্বিতলা বাড়ি দুটি যেন কালের সাক্ষী বহন করছে। পূর্বদিকের দ্বিতল বাড়িটি বর্তমানে জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে আর পশ্চিমদিকে বাড়িটি অডিটোরিয়াম। লোক শ্রুতি আছে রবীন্দ্রনাথ পশ্চিমদিকের বাড়িটিতে কখনও যেতেন না। নীলকর চাষীদের অত্যাচার, নির্যাতনের সাক্ষ্য বহন করছে এই বাড়িটি। বর্তমানে জাদুঘরটিতে রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি, আর্টিকেল ছাড়াও তার ব্যবহত বিভিন্ন তৈজসপত্র সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

দেখে ফিরে ভুবন মাঝি রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি। ছবিঃ লেখক।

রবীন্দ্র ভুবন যেন আমাদের হাত নেড়ে ডাকছে। সে ডাকে মুখ ফেরানো যে দায়। ভিউ ফাইন্ডার ঈসমাইল ভাই যথারীতি ছবি তুলছেন প্রকৃতির মাঝে ভেসে ভেসে। আমিও কাচারি বাড়ির দুয়েকটা ছবি তুলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলাম। এখন রবীন্দ্র স্মৃতি সংরক্ষণে বাড়িখানা জাদুঘর হিসাবে গড়ে তুলেছে।

১৮৯৭ সালে কবির বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই জমিদারির ভাগ বাটোয়ারা করার পর কাকা জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুর, বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহ এবং কবি নিজে পতিসরের দায়িত্ব পান। এরপর আর শাহজাদপুরের মাটিতে কবির পায়ের স্পর্শ পড়েনি। তবে স্মৃতি কি সহজে যায় ভোলা? ১৩০৪ বঙ্গাব্দের অশ্বিন মাসের কোনো একদিনে কবি এসেছিলেন তার এই প্রিয় নীড়ে ফিরে। পতিসর যাবার পথে নৌকা ভিড়িয়েছিলেন এই শাহজাদপুর কাছারি বাড়ির আঙিনায়। সে দিন কবি ডুবে গিয়েছিলেন স্মৃতি কুঞ্জে। এই বিচ্ছেদ স্মরণে এই কাছারি বাড়ির আঙিনায় বসে সেদিন লিখেছিলেন ““ভালোবেসে সখি নিভৃতে যতনে-আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে”। এরপর আর বিশ্বকবির পদধূলিতে মুখরিত হয়নি এই কাচারী বাড়ির প্রাঙ্গণ।

পুরনো জড়াহীন অংশ। ছবিঃ লেখক।

শাহজাদপুরের এই কাছারি বাড়িতে বসে কবি লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কিছু ছোট গল্প। পোস্ট মাস্টার, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ব্যবধান, তারাপ্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও এখানে বসেই তিনি লিখেছেন পত্রাবলীর ৩৮টি পত্র। এ ছাড়াও এখানে বসে তিনি রচিত করেছে বেশ কয়েকটি রচনা। কাব্যের দুই পাখি, আকাশের চাঁদ, লজ্জা, হৃদয় যমুনা, বৈষ্ণব কবিতা, ব্যর্থ যৌবন, ভরা ভাদরে, প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি, চিত্রা কাব্যের চিত্রা, শীতে ও নগর সঙ্গীত এই তালিকার ভিতর অন্যতম।

আগে এই বাড়ি রাণী ভবানীর জমিদারির অংশ ছিল। এখন পরিণত হয়েছে জাদুঘরে। রবীন্দ্রময় ভুবনে পা বাড়ালাম আমি আর ঈসমাইল ভাই। কাছারি বাড়ির নিচতলায় তিনটি এবং উপরের তলায় যথাক্রমে চারটি ঘর। নিচের সবগুলো ঘরই কবি গুরুর বর্ণাঢ্য জীবনির আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রথম ঘরে ঢুকেই পেলাম সেলফি লাভার বাঙালি, কবি গুরুর সাথে ছবি তুলতে না পারলে তো ব্যাপারটা কুল হবে না। দশ টাকা উসুল করতে হবে না? বাঙালি সব আইন ভাঙার কাজি। ছবি তোলা নিষেধকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে দায়িত্বে থাকা মানুষদের সামনেই তুলছে সেলফি, ফটো। তারা হাই তুলে দেখে, মশা মারে আবার দেখে। তাদের এই নির্লিপ্ততা আমায় পীড়া দেয়।

অডিটোরিয়ামের অংশ। ছবিঃ লেখক।

ঘরগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম কবি গুরুর নিজের এবং তার পরিবারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে তার সাক্ষাতের ছবি। তার ব্যবহৃত সেই পদ্ম বোট, গান্ধীজীর সাথে তার ছবি, আমার শেষ বেলার ঘরখানি, পদ্মাসনে বসা গুরু দেব, শিশু, তরুণ, কচিকাচা থেকে বার্ধক্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবিরাম যাত্রার ছবি আমায় এক রহস্যময় রবীন্দ্র ভুবনের নিয়ে যায়। গুরুদেবের নিজের হাতে আকা ছবি দেখে বার বার আমি বিস্মৃত হই, অভিভূত হয়ে অবাক হবার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলছি।

ফুলের গন্ধে মৌমাছি আসে। ছবিঃ লেখক।

অবাক রবীন্দ্র ভুবনে সাঁতার কাটছি আমরা দু’জন ভুবন মাঝি। নিচের ঘর দেখে দুইতলার উদ্দেশ্যে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলাম। প্রথমে নজরে এল বেশ বড়সড় বারান্দা। বারান্দার পাশেই গ্যালারিতে ঢোকার দরজা। ঘুরে ঘুরে দেখছি দোতলার গ্যালারি। প্রথমে চোখে পড়বে কবি গুরু ব্যবহৃত পালকি, চিঠি লেখার ডেস্ক থেকে শুরু করে কাঠের আলনা, পড়ার টেবিল। দেয়াল খেয়ালে যেন ঝুলে আছে কবির বিভিন্ন সময়ের তোলা আলোকচিত্র ও পাণ্ডুলিপি।

জ্যামিতিক নকশা দেখার ফাঁকে চোখ যে চলে যাবে ঠাকুর বাড়ির আসবাব পত্রে। কী নেই লিস্টে? ড্রেসিং টেবিল থেকে শুরু করে শ্বেত পাথরের গোল টেবিল, টেবিল বেসিন, কাঠের আলনা, দেবতার আসন, হাতল যুক্ত কাঠের চেয়ার, কবি গুরুর ব্যবহৃত কাঠের বড় টেবিল, সোফা, কাঠের গোল টেবিল, বিছানা। এছাড়াও এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তৈজসপত্রের লিস্ট বা বাদ যাবে কেন? কেরোসিনের বাতি থেকে শুরু করে মোমদানী, অর্গ্যান, চিনামাটির বাসনকোসন, দেয়াল ঘড়ি, ব্রোঞ্জের তৈরি বালতি, রান্নার পাতিল, ঘটি ইত্যাদি।

জাদুঘরের সময়সূচি। ছবিঃ লেখক।

নোবেল পুরষ্কার হাতে কবি গুরুর ছবির পাশাপাশি আরও রয়েছে তার নিজের হাতে আঁকা ছবি। তার ব্যবহৃত সোফা, আলনা, আরাম কেদারা, খড়ম, হুঁকো সেভাবেই পড়ে আছে, মনে হচ্ছে যেন কবি শিলাইদহ কুঠিবাড়ি থেকে গড়াই, পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে তার প্রিয় বোটে করে আসছেন ফিরে আবার শাহাজাদপুরের বুকে।

এক সাহিত্য রসময় রবীন্দ্র ভুবনের যাত্রা শেষে বের হলাম কাছারি বাড়ি থেকে। এক রবীন্দ্র অনুরাগী আমরা ঢাকা থেকে পহেলা বৈশাখে এলাম বলে আফসোস করলেন। যদি ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকীতে আসতাম তাহলে দেখতে পারতাম রবীন্দ্র মেলা। সে দিন নাকি নাচে গানে ও নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয় বাঙালির প্রিয় কবিকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে রবীন্দ্র অনুরাগী ও শিল্পী, জমে ওঠে রবীন্দ্র মেলা।

দুপুরের কাঠফাটা রোদ জানাচ্ছে বৈশাখের আগমনী বার্তা। আমাদেরও বের হতে হবে পরের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। তাই রবীন্দ্র ভুবনকে বিদায় জানিয়ে আমি আর ঈসমাইল ভাই কাছারি বাড়ির বাইরে আসলাম।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পদব্রজে ঐতিহ্যের পুরান ঢাকা: টাকা কথা বলে

সিলেটের বাতিঘরে বইপড়ুয়াদের বই আড্ডা