২০১৯ সালে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ এয়ারলাইন্সের তালিকা

বিমানপথ তূলনামূলকভাবে অনেক নিরাপদ। প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, বিনিয়োগ সব কিছু মিলে এয়ারলাইন্সগুলো নিরাপদ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়ে থাকে। তবু অনেক যাত্রীরই আকাশপথে ভ্রমণের ব্যপারে ভীতি কাজ করে। আপনি যদি আগে থেকেই জেনে থাকেন যাদের সাথে যাচ্ছেন তাদের সেফটি রেকর্ড খুব ভালো, তবে একটু নিশ্চিন্ত হতেই পারেন।

বিমান দুর্ঘটনার পরিমাণ খুব কম হলেও প্রতিটি দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। বিধ্বস্ত বিমানের কোনো যাত্রী বা ক্রুর বেঁচে থাকার ঘটনাও রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার। বিগত বছরগুলোতে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা কমলেও সর্বশেষ গত ১২ মাসে সেটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মার্চে বাংলাদেশি ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নেপালে বিধ্বস্ত হলে ৫২ জন নিহত হয়, সৌভাগ্যবশত ১৯ জন বেঁচে যান।

এয়ার নিউজিল্যান্ড; ছবি- সিএনএন

এছাড়াও গত বছর বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের ঘটনা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর উড্ডয়নের দশ মিনিট পরেই প্রায় নতুন এ বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়, মারা যান বিমানের ১৮৯ জন আরোহীর সবাই। এভাবে বিশ্বজুড়ে ১৫টি বড় বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান ৫৫৫ জন যাত্রী।

মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৮ তে বাড়লেও বিগত কয়েক বছরে বিমান দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে এসেছে। ২০০০ সালে ৬৪টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। গত ১০ বছর আগেও বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৫টিই ছিল। তবে ২০১৭ সালটি ছিল বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ বছর, সে বছর মোট ১০টি দুর্ঘটনায় ৪৪ জন মারা যায়।

নিরাপদ বিমান আলাস্কা এয়ারলাইন্স; ছবি- সিএনএন

আর যদি দুর্ঘটনাকে সম্ভাবনা হিসেবে নেয়া হয় সেটিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮ সালের ১৫টি দুর্ঘটনাকে হিসেবে আনলে প্রতি ৩০ লক্ষ ফ্লাইটের একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার দুর্ঘটনা ঘটানো ১২টি যাত্রীবাহী বিমানের তিনটি ইউরোপে কালো তালিকভুক্ত ছিল। বাকি তিনটি ছিল কার্গো বিমান।

সেভাবে হিসেব করলে বাংলাদেশে শুধুমাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর মারা যায় ৫,০০০ এরও বেশি মানুষ। অন্যান্য পরিবহন মাধ্যমের তুলনায় বিমান পথ এখনও অনেক নিরাপদ বলা চলে। তবে নিরাপত্তার দিক দিয়ে বিবেচনা করে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিশটি এয়ারলাইন্স নিয়ে আজকের আলোচনা। এ তালিকাটি প্রণয়ন করে থাকে এয়ারলাইন্স রেটিংস ডট কম বলে একটি ওয়েবসাইট।

মোটামুটি ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ বিমানও; ছবি- লেখক

তাদের তালিকায় এ বছরের সবচেয়ে নিরাপদ এয়ারলাইন্স অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস। এ তালিকার শীর্ষস্থানে থাকা এ বিমান সংস্থাটি অবশ্য শীর্ষস্থানে নতুন নয়। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একটানা শীর্ষস্থান দখলে ছিল কান্তাসের। ২০১৮ সালে এ তালিকায় শীর্ষস্থান ঘোষণা না করে বিশটি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্সের নাম একসাথে ঘোষণা করা হয়েছিল।

এ বছর শুধু কান্তাসকে শীর্ষস্থানে রেখে বাকিদের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মোট ৪০৫টি এয়ারলাইন্সকে জরিপ করে তৈরী করা হয় এ তালিকা। মোট ১২টি বৈশিষ্ট্যকে হিসেব করে মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংশিষ্ট শীর্ষ এসোসিয়েশনগুলো মূল্যায়ন, বিধ্বস্ত ও দুর্ঘটনার রেকর্ড, বিমানগুলোর বয়স, কেমন লাভ করছে এসবগুলো বিবেচনা করা হয়।

বিমান সংস্থাগুলো যোগ করছে আধুনিক বোয়িং; ছবি- সিএনএন

অন্য উনিশটি নিরাপদ এয়ারলাইন্স হচ্ছে: এয়ার নিউজিল্যান্ড, আলাস্কা এয়ারলাইন্স, অল নিপ্পন এয়ারলাইন্স, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্স, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ক্যাথি প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইভা এয়ার, ফিন এয়ার, হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্স, কেএলম, লুফথানাসা, কাতার এয়ারওয়েজ, স্ক্যান্ডেনেভিয়ান এয়ারলাইনস সিস্টেম, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, সুইস, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, ভার্জিন গ্রুপ অব এয়ারলাইন্স (আটলান্টিক ও অস্ট্রেলিয়া)।

এ তালিকায় লক্ষণীয় কিছু পরিবর্তনের একটি হচ্ছে আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফিরে আসা। ২০১৮ সালে অনুপস্থিত ছিল তারা এ তালিকায়। আবার জাপান এয়ারলাইন্স ও ইত্তিহাদের মতো তারকা এয়ারলাইন্স বাদ পড়েছে এ তালিকা থেকে। জাপান এয়ারলাইন্সের বাদ পড়ার কারণ ছিল তাদের একজন পাইলটকে মদ্যপ অবস্থায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পাওয়া যায়।

কাঠমুণ্ডু বিমাবন্দরে কাতার এয়ারওয়েজ; ছবি- লেখক

অপরদিকে ইত্তিহাদ ক্রমাগত লোকসান গোনায় এ তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স গতবছর তাদের বিমান বহরে অনেকগুলো নতুন বিমান যোগ করে তাদের বিমানের গড় বয়স ভালোভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে এক বছর অনুপস্থিত থাকার পর আবার তারা এ তালিকায় ফিরে এসেছে।

অন্যতম নিরাপদ বিমান অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্স; ছবি- সিএনএন

সব বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে মোট সাতটি তারকা দিয়ে এ তালিকা করা হয়। সবচেয়ে নিরাপদ এ বিশটি বিমানসংস্থা সাতটির মধ্যেই সাতটি তারকাই পেয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানও আছে। সাতটির মধ্যে ৫টি তারকা নিয়ে এর অবস্থা বেশ ভালো বলা যায়। এ বছর বিমানের বহরে নতুন বিমানগুলো যোগ হলে বিমান বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়।

এক বা দুটো তারকা পাওয়া বিমানসংস্থাগুলো সবচেয়ে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ বছর এ ধরনের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিমানের তালিকায় রয়েছে আরিয়ানা আফগান এয়ারলাইন্স, ব্লু উইং এয়ারলাইনস, কাম এয়ার এবং ত্রিগানা এয়ার লাইন সার্ভিস। জেনেশুনে আপনি নিশ্চয়ই এ ধরনের বিমানগুলোতে চড়তে চাইবেন না।

এছাড়া বিমান সংস্থাগুলোর রেটিং প্রদানকারি এ সংস্থাটি বিশ্বের নির্ভরযোগ্য ১০টি বাজেট এয়ারলাইন্সের নামও ঘোষণা করেছে। এগুলো হচ্ছে: ফ্লাইবি, ফ্রন্টিয়ার, এইচকে এক্সপ্রেস, জেট ব্লু, জেটস্টার অস্ট্রেলিয়া/এশিয়া, থমাস কুক, ভোলারিস, ভেইলিং, ওয়েস্ট জেট ও উইজ। মেক্সিকোর ভোলারিস ও হাঙ্গেরীর উইজ এ তালিকার নতুন সংযোজন আর আগের বছরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এয়ার লিঙ্গাস।

ফিচার ছবি- সিএনএন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফ্রি হ্যান্ড রক ক্লাইম্বিং শেখার গল্প

গোমুখ অভিযান: চিরবাসা থেকে ভুজবাসা