রেলস্টেশন রিটায়ারিং রুমের নানা সুবিধা

mde

রিটায়ারিং রুম। ভারতের বড় বড় রেল স্টেশনগুলোতে নানা রকম শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য নাম মাত্র সেবামূল্যে নানা ধরনের, মানের আর দামের সাময়িক আবাসের এক অনন্য ব্যবস্থা। কী রকম? এই ধরুন আপনি রাত তিনটায় কোনো স্টেশনে নামবেন। একদম অচেনা অজানা কোনো এক শহরে। হুট করে এত রাতে সেই শহরে আপনি নানা রকম বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন।

হয়তো রুম পাবেন না অত রাতে অথবা পেলেও অনেক দামে নিতে হতে পারে অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু আপনার হয়তো বাজেট নেই বা আপনার খুব বেশী সময়ের জন্য কোনো রুমের দরকারও নেই। তাহলে তখন কী করবেন? স্টেশনে বসে থাকা ছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই। কিন্তু এমন হতে পারে যে সেখানেও আপনি স্বচ্ছন্দ হতে পারছেন না ভীষণ শীতে বা খুব বেশী গরমে।

অথবা যদি এমন হয় যে আপনি দূরের কোনো এক গন্তব্য থেকে এসে অন্য আর একটা অনেক দূরের গন্তব্যে যাবেন ট্রেনে করে। মাঝের একটা বেশ লম্বা সময় আছে দুই ট্রেনের মাঝখানে। যে সময়টাও কোথাও যাওয়াও যাবে না আবার আপনি হোটেল নিতেও চাইছেন না বা তেমন দরকারও আপনার নেই। কিন্তু আপনার বিশ্রাম প্রয়োজন, প্রয়োজন একটু ফ্রেশ হয়ে ঘুম দেবার। অথচ হোটেল নেবার মতো সাধ্যও নেই।

দরকারি সাময়িক রিটায়ারিং রুম। ছবিঃ লেখক

এই রকম পরিস্থিতিতে আপনি যে স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠবেন, সেই স্টেশনেই যদি রিটায়ারিং রুমের ব্যবস্থা থাকে তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে আর বেশ অল্প খরচেই পেতে পারেন আপনার দরকারি খুব অল্প সময়ের জন্য নিরাপদ একটা সাময়িক বিশ্রাম স্থান। যেখানে আপনি শুয়ে বসে ফ্রেশ হয়ে আরাম করে সময় কাটিয়ে পরে চলে যেতে পারেন আপনার নির্ধারিত গন্তব্যে। যা দেবে আপনাকে সাধ্যের মধ্যেই আরাম করে সময় কাটানোর মতো বেশ স্বস্তিদায়ক একটা ব্যাপার। আর এই ব্যবস্থাটাই করে দেয় রিটায়ারিং রুম। এই রিটায়ারিং রুমের আছে নানা ধরন আর বিভিন্নভাবে ভাড়া নেবার ব্যবস্থা। আপনার প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে নানা রকম রিটায়ারিং রুমের ব্যবস্থা আছে স্টেশনগুলোতে।

যেমন আপনি যদি একা হন আর অতি অল্প খরচে চান বিশ্রামের জায়গা, তাহলে আপনার জন্য আছে ডরমেটরি। যেখানে একটি বিশাল রুমে অন্তত ৮-১০ জনের আলাদা আলাদা বেড থাকে। প্রতিটি বেডের সাথে থাকে লকারের ব্যবস্থা। যেখানে আপনি আপনার ব্যাগ বা অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে নিজের তালা দিয়ে বন্ধ করে বাইরে চলে যেতে পারবেন নিশ্চিন্তে। কেউ ধরবেও না ওসব। সেই সুযোগই নেই। কারণ সব সময়ের জন্য সেখানে রুম সার্ভিসের একজন লোক থাকেই যে সবকিছু দেখাশোনা করে থাকে। ডরমেটরিতে বেশ ভালো বাথরুম আর টয়লেটের ব্যবস্থাও থাকে।

ছবি- সংগৃহীত

অথবা ধরুন আপনি পরিবার নিয়েই কোথাও যাচ্ছেন। যে কোনো কারণেই হোক আপনি অল্প খরচে অল্প সময়ের জন্য রুম খুঁজছেন। যেটা বাইরের হোটেল মোটেলগুলোতে আপনার জন্য জোগাড় করা বেশ কঠিন। সেক্ষেত্রে আপনি স্টেশনের এই সুবিধা নিতেই পারেন।

নানা রকমের রুম থাকে ওদের। ডাবল বেডের এসি রুম, স্যুট ধরনের বেশ বিলাসবহুল রুম। যেখানে সোফা, টেবিল, ড্রেসিং রুম সহ নানা রকম সুযোগ সুবিধা থাকে সাধারণত। আছে নন এসি রুমের ব্যবস্থা একই রকমভাবে। ডাবল, সিঙ্গেল বা বড় কোনো পরিবারের জন্য।

সময় ও রুম ভেদে ভাড়ার তালিকা। ছবিঃ লেখক

এসব রুম বা রিটায়ারিং রুম সাধারণত আমি চারভাবে ওদেরকে দিতে দেখেছি স্লট ভেদে। ৮ ঘণ্টার জন্য, ১৬ ঘণ্টার জন্য, ২৪ আর ৪৮ ঘণ্টার জন্যও। আমি যতদূর জেনেছি ৪৮ ঘণ্টার বেশী সময়ের জন্য সাধারণত এগুলো দেয়া হয় না কাউকেই। আমি নিজেই দেরাদুনে একবার ৪৮ ঘণ্টার জন্য একটি ডরমেটরির রুম নিয়েছিলাম। সময়ের উপরে নির্ভর করে যত সময়ের জন্য নেবেন তার ভাড়াটা নির্ভর করে। স্লটগুলো অনেকটা এমন-

রিসেপশন রিটায়ারিং রুমের। ছবিঃ লেখক

রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা। আবার রাত থেকে সকাল বা একই সাথে ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার জন্য ভাড়ার তালিকা নির্ধারণ করাই আছে। যে সময়ের জন্য নেবেন তার চেয়ে ৩০ মিনিট বেশী থাকলেই আপনাকে পরের স্লটের ভাড়া দিতে হবে সাধারণত। তবে হ্যাঁ আপনি হুট করে গিয়েই কিন্তু এই সুবিধাগুলো পেয়ে যাবেন সেটা ভাবলে ভুল হবে। এই রুম পাবার কিছু পূর্ব শর্ত আর নির্ধারিত নিয়ম রয়েছে। যেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

আপনি যে স্টেশনে রুম নিতে চান, সেই স্টেশনে ট্রেনে যাচ্ছেন বা সেই স্টেশন থেকে কোন ট্রেনে উঠবেন সেই ট্রেনের টিকেট রিজার্ভেশন থাকতে হবে। যদি বিদেশী হন তাহলে মূল পাসপোর্ট দেখাতে হবে বা চাইলে ফটোকপি দিতে হতে পারে। আপনার টিকেটের পিএনআর নাম্বার (প্রতিটি টিকেট এর নির্ধারিত নাম্বার) পাসপোর্টের তথ্য এসব দিয়ে আপনি অনলাইনেই আপনার জন্য উল্লিখিত সুবিধার যেটি দরকার সেটি বুক করে রাখতে পারেন সিট, রুম ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে। অথবা নির্ধারিত স্টেশনের অনুসন্ধানে গিয়ে যোগাযোগ করে আপনার টিকেট আর পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র দিয়ে এই সুবিধা পেতে পারেন।

ঝকঝকে করিডোরে। ছবিঃ লেখক

তবে হ্যাঁ, এমন সুবিধা পাবেন সাধারণত একটু বড় স্টেশন বা জংশন ধরনের যে স্টেশন সেগুলোতে। গন্তব্যের শুরু অথবা শেষের যে স্টেশনগুলো সেগুলোতেও। যেমন হাওড়া, শিয়ালদহ, দিল্লি, আগ্রা, জয়পুর, গোয়া, কেরালা, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর সহ মোটামুটি বড় বড় স্টেশনগুলোতে এই ধরনের সুবিধা সকল যাত্রীর জন্যই রয়েছে। যা যাত্রীদের অল্প সময়ের বিশ্রাম, আরাম আর সময় কাটানোর জন্য দারুণ একটা ব্যবস্থা এবং অবশ্যই অতি অল্প খরচে।

Loading...

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তেশ্বরের মুগ্ধ পথে

স্টেশনের লকার রুম, খুচরো ভ্রমণের স্বস্তি