বাংলাদেশের অন্যতম বই বিপণি কেন্দ্র পাঠক সমাবেশ

পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বই বিপণিগুলোর মধ্যে একটি। রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের বিপরীতে পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের অবস্থান। পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র অসংখ্য বইয়ের সংগ্রহশালা। শৈল্পিকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এই বই বিপণন কেন্দ্রটি। পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রকে শুধু বই বিপণি বললে ভুল হবে। এটি একদিকে যেমন বইয়ের সংগ্রহশালা, অন্যদিকে আড্ডা দেয়ার স্থানও। বলা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়া যায় এখানে বসে। দেশ বিদেশের সকল বিখ্যাত ও ভালো বইগুলো পাওয়া যায় পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে। বই বিমুখদের বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে পাঠক সমাবেশের জুড়ি নেই।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

আজিজ সুপার মার্কেটে সবচেয়ে বড় পরিসরে বই বিপণন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে পাঠক সমাবেশ। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এত সুন্দর ও গোছালোভাবে বইয়ের ব্যবসা শুরু করেছেন পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের মালিক শহীদুল ইসলাম বিজু ভাই। এখানে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার অসংখ্য বই পাওয়া যায়। পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে রয়েছে বেশ প্রশস্ত জায়গা ও ছিমছাম পরিবেশ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়া যায় এখানে বসে। রয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। পাঠক সমাবেশ শুধু বড়দের বই পড়ার স্থান নয়, এখানে ছোটরাও আসতে পারে। শিশুদের জন্য রয়েছে শিশু কর্ণার। এছাড়াও রয়েছে রিডার্স ক্লাব, লাউন্স এবং কোণায় কোণায় বসে বই পড়ার সুবিধা।
ছবিসূত্রঃ পাঠক সমাবেশ।

পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রটি জাতীয় জাদুঘরের চার নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। এটি আজিজ সুপার মার্কেটের বিপরীতে অবস্থিত। বাইরে থেকে বেশ গোছালো ও শান্ত মনে হয় এই কেন্দ্রটি।
ছবিসূত্রঃ পাঠক সমাবেশ।

শৈল্পিকতার ছোঁয়া অনুমান করা যায় বাইরে থেকে। কারণ আলোকসজ্জা ও বাইরের পরিবেশ জানান দেয় ভেতরের সৌন্দর্যের কথা। পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে প্রথমে সামনে আসে একটি চমৎকার শিল্পকর্ম। বেশ নান্দনিক ও সুন্দর। তারপর সিঁড়ি দিয়ে ওঠার আগে কেয়ারটেকারের কাছে নাম দস্তখত করতে হয়। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং চোখে পড়ে।
ছবিসূত্রঃ লেখক।

মনে হয় কেন্দ্রটি অনেক আধুনিক ও রুচিসম্মত। দেশ বিদেশের লেখক ও পাঠকরা ভিড় জমায় পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে কারণ এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বই পাওয়া যায়। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার বইগুলোর জন্য মানুষ এখানে ছুটে আসে।
ছবিসূত্রঃ পাঠক সমাবেশ।

পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রটি দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। ভেতরে ঢোকার আগে লকারে ব্যাগ ও অন্যান্য কিছু রেখে যেতে হয়। তবে মোবাইল, টাকা নিয়ে ভেতরে ঢোকা যায়। পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য অনেক কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। বই বিক্রয় করা ও অনলাইনের যাবতীয় কিছু দেখাশোনা করার জন্য নিয়োজিত রয়েছে অনেক কর্মী। কেউ বিক্রয়কর্মী হিসেবে, কেউ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী হিসেবে কেউবা মার্কেটিং সেক্টরে নিয়োজিত রয়েছে।
ছবিসূত্রঃ লেখক।

পাঠক সমাবেশের ভেতরের আলোকসজ্জা, নান্দনিকতা, অভ্যন্তরীণ সজ্জা বেশ চমৎকার। চারপাশে শুধু বই আর বই চোখে পড়ে। অসংখ্য বই তাকে তাকে সাজানো রয়েছে। বিশেষ করে দেশের ও বিদেশের নানা লেখকের বই রয়েছে। বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক থেকে শুরু করে রয়েছে তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের বইও।
ছবিসূত্রঃ লেখক।

পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রটি এমন একটি গ্রন্থাকার যেখানকার পরিবেশ বেশ সুন্দর। অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, আসন ব্যবস্থা এত সুন্দর যে যেকোনো ব্যক্তির এখানে বসে বই পড়তে ইচ্ছে করবে। বইয়ের তাক শুধু নয় ভেতরে রয়েছে গাছের বাহারও। ফুলের টবে ছোট ছোট গাছ লাগানো রয়েছে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। আলো বাতাসের পর্যাপ্ত চলাচল রয়েছে এখানে। ভেতরে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। পুরো ভবনটি সিসি ক্যামেরা দ্বারা পরিচালিত। জ্যাম, ঘাম, রোদ কিছুই স্পর্শ করতে পারে না এখানে বসে বই পড়ুয়াদের। বই পড়ুয়াগণ এখান থেকে যত খুশি বই কিনতে পারে এবং যতক্ষণ খুশি এখানে বসে বই পড়তে পারে।
ছবিসূত্রঃ লেখক।

কোনো বই খুঁজে না পেলে এখানকার কর্মরত ব্যক্তিরা সাহায্য করে। এখানে একদিকে রয়েছে বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রপত্রিকার তাক, একদিকে রয়েছে কবিতার বইয়ের সারি, রয়েছে গল্প ও উপন্যাসের সারি, অনুবাদ গ্রন্থ, রাজনীতির বইসমূহ, রয়েছে বিদেশী বইও। অন্যদিকে রয়েছে ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন বই, উপন্যাস, কবিতার বই, শিশুতোষ বই। এখানে সিডি, আবৃত্তি অ্যালবামও পাওয়া যায়। পাঠক সমাবেশের অভ্যন্তরে টেলিভিশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ছবিসূত্রঃ পাঠক সমাবেশ।

পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র কেবল গ্রন্থাগার কিংবা বই বিপণি নয়। এখানে বসে আড্ডা দেওয়া যায়। দেশের প্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত লেখক সাহিত্যিকগণ পাঠক সমাবেশে আড্ডা দিতে আসেন। মাঝে মাঝে সাহিত্য আড্ডা চলে এখানে। গুণীজনদের যেকোনো আলোচনা বেশ সমৃদ্ধ। পাঠক সমাবেশে স্বল্প পরিসরে প্রকাশনা উৎসবের ব্যবস্থাও করা হয়। আড্ডা দেয়া ও সময় কাটানোর জন্য রয়েছে আসন ব্যবস্থা। আমি যতবার পাঠক সমাবেশে গিয়েছি ততবার মুগ্ধ হয়েছি। যেকোনো বই কেনার প্রয়োজন হলে প্রথমেই আমি পাঠক সমাবেশের কথা ভাবি। কারণ এখানে সকল বই পাওয়া যায়। অনেক দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহশালা এটি। আর তড়িঘড়ি করে চলে যাই পাঠক সমাবেশে।
ছবিসূত্রঃ পাঠক সমাবেশ।

পাঠক সমাবেশ নামে তাদের একটি প্রকাশনী রয়েছে। পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে তাদের নিজস্ব প্রকাশনীর বই ছাড়াও বহু বই পাওয়া যায়। অন্যান্য প্রকাশনীর বই রাখা হয় এখানে। একটি নির্দিষ্ট ডিসকাউন্টে বই বিক্রি করা হয়।
ছবিসূত্রঃ পাঠক সমাবেশ।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে ব্যবসা করে চলছে পাঠক সমাবেশ। বিশ্বের স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউজের সাথে যৌথ উদ্যোগে বছরে দুইবার মেলার আয়োজন করে। প্রথম মেলা এপ্রিল মাসে আয়োজন করে সকল শ্রেণির পাঠকদের জন্য। দ্বিতীয় মেলার আয়োজন করে নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র ছোটদের বইয়ের জন্য। পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে সারাক্ষণ। যে কেউ এখান থেকে বই কিনতে পারে। পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউজের বই ২০% থেকে ৩০% ছাড়ে কেনা যায় তাদের দেয়া বিভিন্ন অফারের সময়ে।
আপনিও যেকোনো সময়ে পাঠক সমাবেশে যেতে পারেন। আপনার নিজের জন্য ও সোনামনির জন্য বই কিনতে পারেন। প্রিয়জনকে বই উপহার দিতে পারেন।
ফিচার ইমেজ সোর্সঃ পাঠক সমাবেশ।

Loading...

One Comment

Leave a Reply
  1. আমার খুব পছন্দের জায়গা এটি,মনের খোরাক মেটাতে মাঝে মাঝে যাই।তবে বসে বই পড়ার ব্যাপারে ওখানকার লোকজন আপত্তি করেন , বলেন এখানে শুধুই লেখক রাই বসতে পারেন।এই ব্যাপারটা ভালো লাগেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানে ঝড়-বৃষ্টিতে ক্যাম্পিং ও ট্রেকিং করে হাজারিখিল

এগার শিব মন্দির: যেখানে লুকিয়ে আছে এক রাজকন্যার অশ্রু