ড্রোন ব্যবহারে কিছু সতর্কতা

ঘোরাঘুরি পছন্দ করেন এমন সবাই ড্রোন ক্যামেরার কথা শুনেছেন। ট্রাভেল ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফিতে ড্রোন প্রযুক্তি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন ঘুরতে গেলে দামী ডিএসএলআর, গো প্রো ক্যামেরার ব্যবহার খুবই সাধারণ বিষয়। এসবের পাশাপাশি নিজেদের ক্যামেরার সংগ্রহে ড্রোনকেও সংযুক্ত করছেন অনেকে। এই উড়ন্ত ক্যামেরাগুলো অনেকের কাছে শখের আবার অনেকের জন্য রুটি রুজির উৎস। তাই ড্রোন কেনা, বহন ও ব্যবহারের জন্য কিছু বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরী।

১। ভ্রমণের আগে স্থানীয় ড্রোন প্রবিধান সম্পর্কে জানুন

প্রত্যেকটি দেশেই ড্রোন ব্যবহারের নিজস্ব আইন রয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে আপনি ড্রোন ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ মিটারের বেশি উঁচুতে ওড়াতে পারবেন না। এছাড়া মানুষের উপর দিয়ে কিংবা দেশটির যে কোনো বিমান বন্দরের  ৫ মাইল এলাকার মধ্যে ড্রোন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

অনেক দেশই ফেডারেল এভিয়েসন এডমিনিস্ট্রেশনের আইন অনুসরণ করে। তাই বলে যে পুরোপুরি অনুসরণ করে তা নয়। আবার আপনার দেশেও কিন্তু এই বিষয়ে নিজস্ব আইন ও নীতিমালা থাকতে পারে।

এছাড়া আপনি কী উদ্দেশ্যে ড্রোন ব্যবহার করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক হলে নতুন চ্যালেঞ্জ সংযুক্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আপনার পেপার ওয়ার্কও বেড়ে যাবে। তাই ভ্রমণের আগেই এই সম্পর্কিত আইন ও নীতিমালা দেখে নিন।

ড্রোন বিষয়ক কোনো কেন্দ্রীয় নীতিমালা ও আইন নেই। আর এই আইনগুলো প্রায়ই পরিবর্তন হচ্ছে। তাই ভ্রমণের আগে সরাসরি গন্তব্যের স্থানীয় পরিবহন কার্যালয়, এয়ারস্পেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

ছবিঃ theexpeditioner

২। ড্রোনের বহনযোগ্যতা নিশ্চিত করুন

একটা জিনিস মনে রাখবেন, ভ্রমণ করার সময় ড্রোন নিয়ে গেলে আপনাকেই সব সময়ই ড্রোন বহন করতে হবে। তাই কতটুকু লাগেজ নিয়ে যাচ্ছেন তার সঙ্গে ড্রোন যুক্ত হবার পর তা নিজে বহন করতে পারবেন কি না তা মাথায় রাখবেন।

সৌভাগ্যবশত এখনকার ড্রোনগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। আর আকারেও অন্য যে কোনো সময়ের থেকে ছোট হয়ে এসেছে। এখন ডিজেআই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে। গত বছরই ম্যাভিক প্রো এর ছোট একটি ভার্সন বাজারে এনেছে। এগুলো দিয়ে ফোর কে ভিডিও এবং উচ্চ মানের চিত্র ধারণ করা যায়।

এখন কন্ট্রোলার সহ ম্যাভিক প্রো ও ম্যাভিক এয়ার উভয় ড্রোনই ব্যাক প্যাকে বহন করা যায়। এগুলোর ওজন দুই পাউন্ডেরও কম। তবে ইউনিক ব্রিজের দাম তুলনামূলক কম। কিন্তু এর জন্য ক্যামেরা কোয়ালিটিতেও ছাড় দিতে হয়।

মনে রাখবেন ড্রোনে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। তাই নিরাপত্তার খাতিরে বিমান বন্দরে ড্রোন নিয়ে ভ্রমণের সময় আপনাকে আটকে দিতে পারে। তবে এখন ড্রোন এতটাই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে যে এটা নিয়ে বিমানে ভ্রমণের সময় বিমান কর্তৃপক্ষ সাধারণত বাধা দেয় না।

ছবিঃ theexpeditioner

৩। ভ্রমণের আগে অনুশীলন করুন

নতুন ড্রোন নিয়ে ভ্রমণের সময় সবাই খুব উৎসাহিত থাকে। তবে এটার যথার্থ ব্যবহার করতে পারাও জরুরী। এখন যে কোনো সময়ের থেকে ড্রোন ওড়ানো নিরাপদ। আর ড্রোনের নিয়ন্ত্রণও এর পাইলটদের কাছে অনেক বেশি দেয়া হয়েছে। তার মানে এই না যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না। ইন্টারনেট ঘাঁটলে ড্রোন ক্র্যাশ করার শত শত ভিডিও এখনো পাওয়া যায়।

তাই ড্রোন পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকলে এর ম্যানুয়াল পড়ুন, ইন্টারনেটে টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখুন। আপনার প্রথম ফ্লাইটটি মুক্ত আকাশে পরিচালনা করুন। সেখানে যেন কোনো বাধা না থাকে। এভাবে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন।

ড্রোনে অনেক ফিচারই ধীরে ধীরে আপনার কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে। আপনি বুঝতে পারবেন সবকিছু কীভাবে কাজ করছে।

ছবিঃ theexpeditioner

৪। লোকেশন রেকি করুন

আপনি হয়তো দূরে কোথাও ড্রোন নিয়ে যাচ্ছেন। অপ্রয়োজনে নিশ্চয়ই ড্রোন ওড়াতে চাইবেন না। তাই আগে লোকেশন সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ খবর নিন। অনেকে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে লোকেশন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে থাকেন। গুগলের স্যাটেলাইট ইমেজ এই কাজে আপনাকে সহায়তা দেবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো ও চমকপ্রদ দৃশ্য ধারণে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকর।

লোকেশন রেকি করলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন এলাকা ড্রোন ওড়ানোর জন্য সহায়ক। অনেক রিসোর্টেও কিন্তু ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয় না। আগে থেকেই এই সকল তথ্য জানা সহজ নয়। তবে যে সকল স্থানে ড্রোন ওড়াতে চান সেই সব স্থান নিয়ে সর্বোচ্চ রিসার্চ করুন। খেয়াল রাখবেন অন্যান্য পর্যটকদের যেন কোনো সমস্যার উদ্রেক না হয়। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না সৈকতে বিশ্রামরতদের মাথার উপরে আপনার ড্রোনটি ভন ভন করছে।

ছবিঃ theexpeditioner

৫। উৎসাহিত হোন

এখন ইউটিউব, এয়ারভাজ এরকম অনেক ওয়েবসাইটেই ড্রোনে ধারণকৃত চমৎকার সব ভিডিও দেখা যায়। বেশ কয়েক বছর ধরেই ড্রোন মূল ধারায় চলে এসেছে। তাই হাজার হাজার মানুষ এখন ড্রোন ব্যবহার করছে। তার মানে তারাও অনেক ভিডিও তৈরি করছে। আপনি নিশ্চয়ই টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র ও আরো অনেক স্থানেই ড্রোন ক্যামেরার ব্যবহার দেখেছেন। তবে বিশ্লেষণী চোখে এই ভিডিওগুলো দেখেছেন কি? যদি না দেখে থাকেন তবে ভ্রমণের সময় আপনার প্রথম ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আপনি প্রস্তুত নন।

আপনি ভিডিও তৈরিতে নতুন হলে রেফারেন্স হিসেবে প্রফেশনালদের ভিডিও দেখুন। প্রত্যেকেরই নিজস্ব স্টাইল রয়েছে। তাই কারো এডিটিং টেকনিক কিংবা ড্রোন ওড়ানোর ধরণ সরাসরি অনুসরণ করার দরকার নেই। একটা সময় আপনারও একটা স্টাইল দাঁড়িয়ে যাবে। প্রফেশনালদের ভিডিও দেখলে আপনি নতুন আইডিয়া পাবেন। আর নতুন কিছু করতে পারলে অনেক বেশি উৎসাহিত হবেন।

সব শেষ কথা হলো আনন্দের সঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করুন এবং সকল আইন ও নীতিমালা মেনে চলুন। এখনকার ড্রোনগুলো পৃথিবী দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। একসময় হয়তো আপনার দৃষ্টিও বদলে দেবে আধুনিক অত্যাধুনিক ড্রোনগুলো।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অবশেষে তাজিংডংয়ের স্বপ্ন চূড়ায়

পাহাড়িকন্যা বান্দরবানের বুকে পাঁচদিনের বাজেট ট্যুর