নাজিমগড়: পাহাড়ের পাদদেশে নান্দনিক এক রিসোর্ট

Source- Isshh.com

যান্ত্রিক শহুরে জীবন থেকে বেরিয়ে মাঝেমধ্যে খোলা আকাশ কিংবা প্রকৃতির কোলে বসে একটু জিরিয়ে নিতে আমাদের মন হাঁপিয়ে ওঠে। একলা একা, হতে পারে কাছের মানুষটি অথবা পরিবারের সাথে একটু মুক্ত পরিবেশে আনন্দময় অবকাশ যাপন এই যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ নিমেষেই উড়িয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ঝুটঝামেলা বিহীন ছুটি কাটানোর জন্য রিসোর্টের জুড়ি নেই। আর তা যদি হয় প্রকৃতিঘেরা অনিন্দ্য সুন্দর কোনো জায়গায়, তবে তো কথাই নেই। এমনই নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের এক প্রতীক নাজিমগড় রিসোর্ট।

সিলেটের জৈন্তাপুরের অপরূপ পরিবেশে লালাখালের পাশে অবস্থিত এই রিসোর্টের সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে যে কাউকে। সিলেট মূল শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্বে খাদিমনগরে অবস্থিত এই রিসোর্টটিকে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত একটি ছবির মতো সুন্দর দ্বীপের ন্যায় মনে হয়। সিলেট-জাফলং মহাসড়কের পাশেই প্রায় ৬ একর জায়গার উপর নির্মিত মনোমুগ্ধকর এই নাজিমগড় রিসোর্টটি।

সোর্স: নাজিমগড় রিসোর্ট।

দূর সীমান্তের দিকে তাকালে দেখা যায় ঘন সবুজ চাদরে মোড়া পাহাড়ের সারি আর কুয়াশার ভেলা। যেন সাদা পালক সমৃদ্ধ মেঘের মুকুট পরে আছে পাহাড়ের মাথাগুলো। নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে স্রোতস্বিনী সারি নদীর অদ্ভুত সবুজ জলরাশি। দেখলেই সে জল ছোঁয়ার জন্য মন আঁকুপাঁকু করে ওঠে। শিল্পীর রং-তুলিতে আঁকা একখানি ক্যানভাসের মাঝে ছবির মতোই দাঁড়িয়ে আছে অপূর্ব নির্মাণশৈলীতে গড়া এই রিসোর্টটি।

প্রথম দেখাতেই বিমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয় এর নান্দনিক সৌন্দর্যের দিকে। অতিথিগণ রিসোর্টে বসেই দেখতে পাবেন সবুজ পাহড়ের ঢেউ, পাহাড়ের গা বেয়ে ছুটে চলা মেঘ আর ঝর্ণার জলরাশি। এখানে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে একাধিক জায়গা।  হাতে সময় থাকলে ঘুরে দেখা যাবে আশেপাশের চা বাগান ও খাসিয়া পল্লী, পানের বরজ।

সুইমিংপুল।  সোর্স: নাজিমগড় রিসোর্ট।

অনন্য সুন্দর এই রিসোর্টটিতে একরাতে প্রায় দুই শতাধিক অতিথি খাওয়া-দাওয়াসহ রাত যাপন করতে পারবেন। এখানে ছোট-বড় মোট ১৫টি কটেজ রয়েছে। রয়েছে সুপরিকল্পিত বাগান, সুইমিং পুল, পিকনিক ও ক্যাম্পিং স্পট। আছে নদীতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নিজস্ব স্পিড-বোট। স্পিড-বোটে চড়ে সারি নদী হয়ে লালাখাল ভ্রমণ যে কোনো পর্যটকের জন্যই আকর্ষণীয় ব্যাপার। তাতে করে আপনার রথ দেখা এবং কলা বেচার কর্ম এক সাথেই সম্পন্ন হয়ে যেতে পারে।

সেখানে (লালাখালে) নাজিমগড়ের আকর্ষণীয় রেস্টুরেন্ট, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত আর ওপারের মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পাহাড়ের উপর রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। রয়েছে বারবিকিউ পার্টি করার জন্য টেন্ট সাইট। এছাড়াও অতিথিরা চাইলে সারি নদীতে কায়াকিং করতে পারবেন। জাফলংয়েও নাজিমগড়ের রয়েছে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট। নদীর ওপারে ঝুলন্ত সেতু আর এপারে নাজিমগড়ের রেস্টুরেন্ট। একটু দূরে নদীতে চলছে পাথর উত্তোলন। এই সৌন্দর্য থেকে নিজেকে কে আর বঞ্চিত করতে চায়!

বেডরুম।  সোর্স: নাজিমগড় রিসোর্ট।

নাজিমগড় রিসোর্টে রাত্রি যাপনের জন্য আছে তিন ধরনের ব্যবস্থা। আছে বিশাল টেরেস, ছোট ছোট বাংলো ও বড় ভিলা। এদের মধ্যে ভাড়া রকমফের আছে, তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় এটি পাঁচ তারকা হোটেলের সমান।

টেরেস

এটি নাজিমগড় রিসোর্টের সব চাইতে আকর্ষণীয় ও সুন্দর কটেজ। এখানে প্রায় ৩৫টি ডিলাক্স রুম রয়েছে, যার প্রতিটিতেই আলাদা বারান্দা রয়েছে। যেখান দাঁড়ালে সামনের সবুজ মাঠ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খুব কাছাকাছি মনে হবে নিজেকে। এখানে রয়েছে চার হাজার বর্গফুটের নান্দনিক ডিজাইনের খোলা লবি।

প্রতিটি রুমেই রয়েছে বিচিত্র সব ডিজাইনের নান্দনিক ও আরামদায়ক ফার্নিচার, বাথরুম ফিটিংস। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব টেরেসে আছে গরম ও ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা। রয়েছে রঙিন টেলিভিশন ও ডিস সংযোগ, ফ্রিজ, টেলিফোন, সব সময়ের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ইন্টারনেট সুবিধা।

বারান্দা থেকে। সোর্স: নাজিমগড় রিসোর্ট।

ভিলা

এটিও একটি দারুণ সুন্দর কটেজ। এর মধ্যে রয়েছে ২টি প্রিমিয়ার স্যুট, ৫টি ডিলাক্স রুম ও ১টি এক্সিকিউটিভ স্যুট। প্রতিটি রুমই বিশেষ কায়দায় সাজানো গোছানো ও পরিপাটি। রয়েছে আলাদা ব্যালকনি।

এই ভিলার নিজস্ব ড্রয়িং কাম ডাইনিং রুম রয়েছে। আছে টিভি লজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, গরম ও ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা, ফ্রিজ, টেলিফোন, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ইন্টারনেট সুবিধা।

বাংলো

কলোনীর মতো দেখতে এটি একটি আলাদা বিল্ডিং। এর আছে ৬টি প্রিমিয়ার রুম। প্রতিটি রুমই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। অতিথিদের সুবিধার্থে আছে গরম ও ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা। আছে ফ্রিজ, টেলিফোন ও ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা।

ছাদ। সোর্স: নাজিমগড় রিসোর্ট।

এক কক্ষে থাকতে পারবেন সর্বোচ্চ ৩জন (ডাবল ওকাপেন্সির রুম হলে অতিরিক্ত একজনের জন্য নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাড়া দিতে হবে), তবে ৮ বছরের নিচের শিশুর জন্য ভাড়া লাগবে না। এছাড়াও এদের সুযোগ-সুবিধার তালিকায় যুক্ত আছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ স্পা ও পুল, যেখানে অতিথিরা তাদের অবসাদ দূর করতে পারবেন।

এখানকার প্রতিটি স্থাপনাই গাছপালা-লতাগুল্মে সম্বলিত টিলার ধারে। ভিলা, টেরেস বা বাংলোর বারান্দায় বসে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় গাছগাছালির পরশ। প্রকৃতির অপার সান্নিধ্যে কাটানো সময়টুকু হয়ে উঠতে পারে জীবনের  কিছু সেরা মুহূর্তের মধ্যে একটি। (https://www.oursylhet.com/2016/06/blog-post_6.html)

রুম ভাড়া

প্রিমিয়ার রুম: ৫,৯০০ টাকা

ডিলাক্স রুম: ৬,৯০০ টাকা

এক্সিকিউটিভ রুম: ৭,৯০০ টাকা

লাক্সারী স্যুট: ১১,৯০০ টাকা

প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট: ১৪,৯০০ টাকা

আউটডোর।  সোর্স: নাজিমগড় রিসোর্ট।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ, গাবতলি ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে নিয়মিত বাস ছেড়ে যায়। এ পথে গ্রিন লাইন পরিবহন, এনা পরিবহন, সৌদিয়া এস আলম পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিসের এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া পড়বে ৪০০ থেকে ১,১০০ টাকা।

এছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেসে করে যাওয়া যাবে সিলেটে।

এরপর সিলেট শহর থেকে সিএনজি, অটোরিকশা, বাস অথবা প্রাইভেট কারে সহজেই  নাজিমগড় রিসোর্টে যাওয়া যায়।

যোগাযোগ

ওয়েবসাইট: http://www.nazimgarh.com/garden-resort/

ইমেইল: [email protected]

ফিচার ইমেজ: নাজিমগড় রিসোর্ট

Loading...

One Comment

Leave a Reply
  1. মাছ শিকারের কোন ব্যবস্থা আছে কি? এখান থেকে জাফলং কতদুর এবং আপনাদের কোন প্যাকেজ আছে কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চন্দ্রনাথ,পাতালকালি মন্দির, সুপ্তধারা সহস্রধারা,গুলিয়াখালি ভ্রমণ

এক বিকেলে ইতিহাস ভ্রমণ: আর্মেনিয় গির্জা