নরওয়ের সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় জায়গাসমূহ

নরওয়েতে দেখার মতো অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে। একদম উত্তরের ট্রমস থেকে শুরু করে পশ্চিম উপকূলের অ্যালেসান্ড এবং পর্বতমালায় ঘিরে থাকা ফ্লাম সহ অনেক মোহনীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যের দেখা মেলে নরওয়েতে। এগুলোর সাথে মনোমুগ্ধকর সমুদ্রের খাঁড়িগুলোতে রয়েছেই। সব মিলিয়ে বলতে গেলে নরওয়ের পুরো দেশটাই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য স্বর্ণের খনির মতো গন্তব্য।
শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্যই নরওয়ের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি, জীবনযাপনের ধরনও ভ্রমণকারীদের ভ্রমণকে আরো উজ্জ্বল করে তোলে। উত্তরের সামি উপজাতির ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে শুরু করে অসলোর নাগরিক জীবনযাপন – সবকিছুই ভ্রমণকারীদের মন কেড়ে নেওয়ার মতো উপভোগ্য।
যাই হোক, ভূমিকা বেশি বড় না করে এখন নরওয়ের কিছু সৌন্দর্য্যমণ্ডিত আলোকপাত করা যাক –

দ্য আটলান্টিক রোড

দ্য আটলান্টিক রোড; সোর্স – handluggageonly.co.uk

আটলান্টারহাভসভেইন অথবা সহজ ভাষায় ইংলিশ চ্যানেলের ওপর দিয়ে যাওয়া দ্য আটলান্টিক রোড নরওয়ের সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি। এই রোডের ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর স্বাদটা অন্য কিছু দিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়।
রাস্তাটি নরওয়ের মূল ভূমিকে সংযুক্ত করে রেখেছে অ্যাভেরয়ার দ্বীপের সাথে। দ্বীপটিও ভ্রমণের জন্য খুবই ভালো একটি গন্তব্য। রোডটিতে দিনে ড্রাইভ করাই বেশি উত্তম। এখানে গেলে অবশ্যই কেভার্ন্স স্টেভ চার্চেও একবার যাওয়া উচিৎ। চার্চটা প্রায় ৬০০ বছর পুরনো এবং এই অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো স্থাপনাগুলোরও একটি।

হ্যামনয়

দিনের আলোয় জেলে গ্রাম;সোর্স – handluggageonly.co.uk

লোফোটেনের হ্যামনয় বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত এর মোহনীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং দূষণমুক্ত আবহের জন্য। এবং এই পরিবেশটা দেখাও খুব সহজ। নিঃসন্দেহেই এটা নরওয়ের সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি। নরওয়েতে ভ্রমণে গেলে এখানে যেতে কোনো দ্বিধা করাই উচিৎ হবে না।
রাতের প্রকৃতিতে হ্যামনয়ের ক্ষুদে জেলে গ্রাম;সোর্স – handluggageonly.co.uk

এখানে আসলে অবশ্যই হ্যামনয়ের জেলেদের ক্ষুদ্র গ্রামেও একবার পা ফেলা উচিৎ। সমুদ্রের খাঁড়ির ধারে গড়ে ওঠা এই গ্রামটি লোফোটেনের সবচেয়ে পুরনো জনবসতি। এছাড়াও এই অঞ্চলটিকে দিনের আলোয় দেখতে যতটা সুন্দর দেখায়, ঠিক ততটাই সুন্দর দেখায় রাতেও। তবে শহরটিকে সবচেয়ে সুন্দর দেখা যায় অরোরা বা ঊষার আলোতে।
অরোরার আলোয় হ্যামনয়ের জেলে গ্রাম;সোর্স – handluggageonly.co.uk

ক্ষুদে গ্রাম রেইন

রেইন গ্রাম; সোর্স – handluggageonly.co.uk

রেইনের ব্যাপারে এক বাক্যে বলা যায় জায়গাটা ‘ছবির মতো সুন্দর’। মোস্কেনসয়া দ্বীপে গড়ে ওঠা এই ক্ষুদে গ্রামটি আসলে লোফেটেন দ্বীপপুঞ্জের একটি অংশ। এ কারণেই এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য বেশি সুন্দর।
চোখ ধাঁধাঁনোর মতো দৃশ্য দেখার ইচ্ছা থাকলে উষ্ণ পোশাক পরে রওনা দিন বানস বীচে। বীচে ভালো একটা জায়গা বের করুন, তারপর বালিময় সৈকতে শুয়ে উপভোগ করুন অরোরার আলোর খেলা।

রুন্ডে দ্বীপ

রুন্ডে দ্বীপ;সোর্স – handluggageonly.co.uk

রুন্ডে দ্বীপ নরওয়ের অন্যতম সুন্দর এবং আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। দ্বীপটি আকৃতিতে খুবই ক্ষুদ্র। অ্যালেসান্ড শহর থেকে রিব বোটে করে সরাসরি যাওয়া যায় এই দ্বীপে। হাতে সময়ের কমতি থাকলে বোটে করে যাওয়াই উত্তম।
যদি পানিপথে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকে তাহলে দ্বীপে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি সেতুও আছে। তবে পাফিনদের নিড়ে ফেরার সময় দ্বীপে যাওয়া শ্রেয়। যদি কপাল ভালো থাকে তাহলে পুরো এলাকা জুড়ে হাজার হাজার পাফিনের ঘুরে বেড়ানো চোখে পড়তে পারে।
পানিতে পাফিনের ঝাঁপাঝাঁপি;সোর্স – handluggageonly.co.uk

অ্যালেসান্ড

অ্যালেসান্ড; সোর্স – handluggageonly.co.uk

অ্যালেসান্ড হচ্ছে নরওয়ের পশ্চিম উপকূলের বড় শহরগুলোর একটি (অবশ্য আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী শহরটি খুব একটা বেশি বড় না)। এখানে দেখার মতো নিদর্শনের মধ্যে এখানে রয়েছে আকস্লা পর্বত। ফেলস্তুয়া ভিউপয়েন্টের চূড়া পর্যন্ত হাইকিং’র সুযোগও রয়েছে এখানে। এছাড়া সোবুয়াতে গেলে স্বাদ পাওয়া যাবে মুখরোচক স্থানীয় খাবারের। এছাড়া এখানে গেলে অবশ্যই মোলা লাইটহাউজটাও দেখা উচিৎ।
সোর্স – handluggageonly.co.uk

মোলা লাইটহাউজ; সোর্স – visitnorway.com

গেইরেঞ্জারফোর্ড

গেইরেঞ্জারফোর্ড; সোর্স – handluggageonly.co.uk

নরওয়েতে সমুদ্রের খাঁড়ির কোনো অভাব নেই। তবে অধিকের মধ্যেও একটা থাকে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিনন্দন। গেইরেঞ্জারফোর্ডই হলো সেই দৃষ্টিনন্দন খাঁড়ি।
দালস্নিবার সর্বোচ্চ চূড়ায় গেলে এই খাঁড়ির পুরো দৃশ্য দেখা যায়। গাড়িতে করে চূড়ায় যেতে ৪০ মিনিটের মতো সময় লাগে বটে, তবে একবার চূড়ায় গেলে এই সময় খরচের কথাটা আর মনে থাকবে না। যাওয়ার সময় কিছু মোটা উষ্ণ পোশাক সাথে করে নিয়ে যাওয়া ভালো। ঐ উচ্চতায় তাপমাত্রা অনেক শীতল।
নিচের পানিতে বোটে করে ঘুরে বেড়ালে চোখে পড়বে সেভেন সিস্টার্স জলপ্রপাত এবং ফ্রায়ারেন জলপ্রপাত দুটো। এছাড়া হাইকিং করে যাওয়া যাবেস্টর্সেটারফোসেন
সেভেন সিস্টার্স জলপ্রপাত; সোর্স – fjordnorway.com

ট্রলস্টিগেন ড্রাইভওয়ে

ট্রলস্টিগেন ড্রাইভওয়ে; সোর্স – trover.com

আনাদসনেস এবং ভালদাল গ্রাম দুটোর মধ্যে রয়েছে এই চমৎকার দৃষ্টি নন্দন ডাইভওয়েটি। সম্ভবত এটাই নরওয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত রাস্তা। ড্রাইভ করার জন্য রাস্তাটা আসলেই অন্যরকম এক জায়গা। এছাড়া ড্রাইভ থামিয়ে ট্রলস্টিগেন প্লাটফর্ম থেকে তাকালে চোখে পড়বে উপত্যকাসমূহের দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্য।

স্টেটিন্ড পর্বত

নরওয়ের জাতীয় পর্বত স্টেটিন্ড; সোর্স – handluggageonly.co.uk

জপ্সভিক থেকে ১৫ মাইল দূরে গেলেই দেখা মেলবে নরওয়ের জাতীয় পর্বত স্টেটিন্ড পর্বতের। এই অঞ্চলের অন্যান্য পর্বত থেকে এই পর্বতটি দেখতে অনেকটা আলাদা, তাই এটা চোখে না পড়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। হাতে সময় থাকলে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা চাইলে পর্বতের চূড়ায় ওঠার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। অবশ্যই সাথে প্রফেশনাল গাইড রাখতে হবে।
ওদিককার অঞ্চলে নার্ভিক গাইডরাই সবচেয়ে ভালো। ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন অফ মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক স্বীকৃতি রয়েছে তাদের।

ট্রলটুঙ্গায় হাইকিং

ট্রলটুঙ্গা;সোর্স – handluggageonly.co.uk

নান্দনিক প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য নরওয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত জায়গাগুলোর একটি হচ্ছে ট্রলটুঙ্গা। ট্রলটুঙ্গার চূড়া থেকে পুরো অঞ্চলের দৃশ্যটা দেখতে পাওয়া এক কথায় বলতে গেলে চমৎকার।
তবে এখানে হাইকিংটা বেশ চ্যালেঞ্জের কাজ। দুর্বল হৃদয়ের কারো এখানে হাইকিং করতে চাওয়া ঠিক হবে না। একমাত্র শারীরিকভাবে শক্ত-সামর্থরাই হাইকিংয়ের ধকলটা নিতে পারে। এখানে হাইকিংটা বেশ সময়সাপেক্ষ একটা ব্যাপারও বটে। ট্রেইল ধরে হাইকিংয়ে বেরুলে প্রায় সারাদিন লেগে যায়। পায়ের গতি কম থাকলে সময়টা আরো বেশি লাগতে পারে। তো এখানে হাইকিং করতে গেলে অবশ্যই সাথে করে পর্যাপ্ত খাবার-পোশাক এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বের হওয়া উচিৎ।
ফিচার ইমেজ – handluggageonly.co.uk

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গলাকাটা দীঘি ঢিবি মসজিদ: বারোবাজারে সুলতানী আমলের আশ্চর্য নিদর্শন

কলকাতা থেকে দার্জিলিংয়ে শেষ হওয়া এক রিইউনিয়নের গল্প