অপরূপ ওমান!

ওমান। নিঃসন্দেহে অনিন্দ্য সুন্দর এক দেশ! দর্শনার্থীরা দুবাইকে মধ্যপ্রাচ্যের আকর্ষণীয় স্থানের তালিকার সবচেয়ে ওপরে রাখলেও, ওমানের আছে একটি আলাদা আবেদন। আরব রাজ্যগুলোর মাঝে সবার আগে স্বাধীন হয়েছিল এই ওমান। পাহাড়, পর্বত, মরুভূমি থেকে শুরু করে অসাধারণ সব সৈকত, কী নেই দেশটিতে? প্রাচীন সব অসাধারণ স্থাপত্যের দেখাও পাবেন ওমানে। এখানকার আবহাওয়াও বেশ আরামদায়ক। দেরি না করে চলুন আপনাদের জানিয়ে দেই, ওমানে গিয়ে কী কী দেখবেন!     

রয়েল অপেরা হাউজ মাস্কাট  

আপনি যদি সংগীতপ্রেমী হয়ে থাকেন, তবে রয়েল অপেরা হাউজ আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে! ২০০১ সালে সুলতান কাবুস বিন সাঈদের নির্দেশে তৈরি করা হয় এই চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ। রয়েল অপেরা হাউজকে তুলনামূলকভাবে নতুনই বলতে হবে। তবে প্রাচীন ওমানি স্থাপত্যরীতি মেনেই একে তৈরি করা হয়েছে। ওমানের সংগীতের ইতিহাস জানার পাশাপাশি সুমধুর আরবীয় সংগীত উপভোগেরও সুযোগ পাবেন এখানে। তাছাড়া নিয়মিত কনসার্টের আয়োজনও করা হয় এর বিশাল হল রুমটিতে।

ছবিঃ অপরূপ রয়েল অপেরা হাউজ মাস্কাট, সূত্রঃ Times of Oman

চাইলে হালকা কেনাকাটাও করে ফেলতে পারেন। অপেরা হাউজের ভেতরেই আছে একটি শপিং মল। সেই সাথে এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোতে খাওয়া দাওয়াও সেরে নিতে পারবেন।

ছবিঃ অপেরা হাউজের এই বিশাল হলটিতে নিয়মিত কনসার্টের আয়োজন করা হয়ে থাকে, সূত্রঃ Oman Tourism

বাইত আল জুবায়ের মিউজিয়াম

ওমানি ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সাথে আরও খানিকটা পরিচিত হতে, চলে যেতে পারেন বাইত আল জুবায়ের মিউজিয়ামে। ওল্ড মাস্কাটে অবস্থান করা এই মিউজিয়ামটি বিশাল। ছয়টি বিল্ডিং নিয়ে গড়ে ওঠা বাইত আল জুবায়ের একদিনে ঘুরে শেষ করতে পারবেন না কোনোভাবেই!

ছবিঃ বাইত আল জুবায়েরে ঢোকার প্রবেশমুখে সাজিয়ে রাখা হয়েছে একটি কামান, সূত্রঃ Oman Tourism

সুপ্রাচীন ওমানে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, পোশাক, তৈজসপত্র, বিভিন্ন আকারের অপূর্ব সব ঝাড়বাতি এবং অসংখ্য বই নিয়ে সাজানো আছে মিউজিয়ামটি। ওমান আর হাজার বছর ধরে বাস করা ওমানের মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবেন বাইত আল জুবায়ের ঘুরে। এই সুযোগটি নিতে ভুলবেন না অবশ্যই।

ছবিঃ মিউজিয়ামের ভেতরে ঢুকে এমনই সুসজ্জিত প্রাচীন তৈজসপত্রের খোঁজ পাওয়া যাবে, সূত্রঃ travel middle east blog

সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদগুলোর একটি এই সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মস্ক। সুবিশাল এই মসজিদে একসাথে দশ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারেন, ভাবতে পারছেন? ইসলামি স্থাপত্যরীতির এক অপরূপ নিদর্শন এই মসজিদ। কারুকাজ করা মোজাইক, সম্পূর্ণ হাতে তৈরি কার্পেট আর ক্রিস্টালের অপরূপ সব ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে মসজিদটি।    

ছবিঃ অসাধারণ সুন্দর সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মস্ক দেখে মুগ্ধ হতেই হবে আপনাকে, সূত্রঃ travel middle east blog

সুলতান কাবুস মসজিদের একটি বিশেষত্ব হলো, ইসলাম ধর্মাবলম্বী না হলেও এটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন আপনি। আর সেজন্য কোনো প্রবেশমূল্যও দিতে হবে না আপনাকে।

ছবিঃ মসজিদের ভেতরে ক্রিস্টালের তৈরি এমন অসংখ্য ঝাড়বাতি আপনার চোখে পড়বে, সূত্রঃ beautiful middle east travel blog

জেবেল আখদার

জেবেল আখদার থেকে আল হাজার পর্বতের খুব সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। সবুজের বিস্তৃত সমারোহ দেখতে পাবেন আল হাজার পর্বতের গায়ে। সেই সাথে মাথার ওপর থাকবে পরিষ্কার নীল আকাশ।

ছবিঃ জেবেল আখদার শব্দের অর্থ সবুজ ভূমি, এখান থেকেই দেখতে পাবেন আল হাজার পর্বতের অসাধারণ রূপ! সূত্রঃ beautiful middle east travel blog

জেবেল আখদার নিজেও সবুজে ভরা এক মনোরম পাহাড়ি এলাকা। প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকলে এখানে এসে একান্ত কিছু সময় আপনাকে কাটাতেই হবে।

বাহলা ফোর্ট

দ্বাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝে তৈরি হওয়া এই দুর্গটি পাথর আর হাতে বানানো ইটের তৈরি।


ছবিঃ বাহলা ফোর্টের সংস্কার কাজ চলার সময়কালীন একটি ছবি, সূত্রঃ beautiful middle east travel blog

পাহাড় ঘেরা ঘি রঙা এই দুর্গের ধ্বংসাবশেষ দেখে ফিরে যেতে পারেন সুদূর অতীতে! বানু নেবহান গোষ্ঠীর তৈরি কয়েক শতাব্দী পুরনো এই দুর্গটি ঘুরে দেখে মুগ্ধ হতে হবে আপনাকে।

নাখাল ফোর্ট

প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো এই দুর্গটি নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর! চারদিকে অসংখ্য খেজুর গাছ ঘেরা নাখাল ফোর্ট মহানবীর (স) জন্মেরও আগে তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

ছবিঃ পাহাড়ে ঘেরা সুপ্রাচীন নাখাল ফোর্ট বিমোহিত করবে আপনাকে, সূত্রঃ park inn by radisson travel blog

দুর্গে দাঁড়িয়ে দূরের পাহাড় আর আধুনিক ওমানের বাড়িঘরগুলো দেখতে বেশ ভালো লাগবে আপনার। নাখাল ফোর্টকে ঘিরে একটি মসজিদ আর মিউজিয়ামও তৈরি করা হয়েছে। চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন।

ছবিঃ নাখাল ফোর্টের সামনে দেখা যাচ্ছে খেজুর বাগান, দূরে পাথুরে পর্বত, সূত্রঃ park inn by radisson travel

দিমানিয়াত নেচার রিজার্ভ

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে দিমানিয়াত আইল্যান্ডের এই নেচার রিজার্ভটি। এখানে এলে দেখতে পাবেন বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ আর নানা রঙের অসংখ্য পাখি।

দিমানিয়াত আইল্যান্ডও চোখ ধাঁধানো একটি দ্বীপ! এখানাকার চকচকে সাদা বালির সৈকত অনেকটা মালদ্বীপের সৈকতগুলোর মতোই। সমুদ্রের পানিও কাঁচের মতো স্বচ্ছ। আর তাই নিমেষেই করে ফেলতে পারেন স্নোরকেলিং বা স্কুবা ডাইভিং।

ছবিঃ দিমানিয়াত আইল্যান্ডের স্বচ্ছ পানিতে স্কুবা ডাইভিংয়ের স্বাদ নিতেই হবে আপনাকে! সূত্রঃ audley travel

অসাধারণ পরিচ্ছন্ন এই দ্বীপটি পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখা, আপনার জন্য হতে পারে মনে রাখার মতো একটি প্রশান্তিময় অভিজ্ঞতা।      

ফিচার ইমেজ- Beautiful Oman Tourism

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্থল পথে কানাডা ভ্রমণের ৫টি শ্রেষ্ঠ রুট

মায়াদ্বীপ: মেঘনার বুকে সবুজে আচ্ছাদিত এক চরের গল্প