অপরূপ চিলি!

বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক উষ্ণ-মরুভূমি থেকে শুরু করে হিম শীতল গ্লেসিয়ার, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি এমনই সব বৈচিত্র্যে ভরপুর। শুধুমাত্র আন্দিজ পর্বতমালার অসাধারণ সব ভিউ দেখতেই ছুটে যেতে পারেন চিলিতে। দেশটির আরো কিছু চোখ ধাঁধানো জায়গার খোঁজ নিয়ে নিন এখনই।

১. ভ্যালে দে লা লুনা

সান পেদ্রো দে আতামাকা নামের শহরটিতে অবস্থান করছে ভ্যালে দে লা লুনা। স্প্যানিশ এই নামটির বাংলা অর্থ “চন্দ্র উপত্যকা”! ভাবছেন কেন জায়গাটির এমন নাম? সেটা বুঝতে হলে আপনাকে ভ্যালে দে লা লুনায় আসতে হবে!

এখানে এসে পা রাখলেই মনে হবে, পৃথিবীতে আর নেই আপনি, এসে পড়েছেন চাঁদে!

ছবিঃ ভ্যালে দে লা লুনায় আসলে মনে হবে আপনি এসে পড়েছেন চাঁদে! সূত্রঃ wanderlust chloe

এখানকার মাটি বলুন, পাথুরে জায়গা বা বালি বলুন কিংবা পাহাড়গুলোই বলুন, সবকিছুর সাথেই চাঁদের মাটি, বালি আর পাহাড়ের বেশ ভালো সাদৃশ্য আছে! বিশেষ করে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময় এলে, লা লুনাকে আমাদের পৃথিবীর অংশ বলে মনেই হবে না আপনার!

ধারণা করা হয়, অনেক অনেক আগে এই পুরো জায়গাটি জুড়ে ছিল এক বিশাল লেক। আমরা এখন হারিয়ে যাওয়া এই লেকের তলদেশটিই দেখি। এটাই মূলত ভ্যালে দে লা লুনাকে দিয়েছে এমন ভিন্নতা।

চিলিতে এলে, এই বিস্ময়কর জায়গাটি না ঘুরে যাওয়ার মতো ভুল কখনই করবেন না!       

২. লাগুনা ভার্দে লেক

চিলিতেই আছে বিশ্বের সর্বোচ্চ জীবিত আগ্নেয়গিরি, জানতেন নাকি? যাই হোক, এই আগ্নেয়গিরিটির নাম “ভলকান ওজোস দেল সালাদো”। আর এই আগ্নেয়গিরির পাদদেশেই অবস্থান করছে অনিন্দ্য সুন্দর লাগুনা ভার্দে লেক!

ছবিঃ নীল পানির অপূর্ব লাগুনা ভার্দে লেক, অদূরেই বিশাল আগ্নেয়গিরি! সূত্রঃ visit chile

স্বচ্ছ সবুজাভ নীল পানির এই লেকটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় পনেরো হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থান করছে, রীতিমতো অভাবনীয় ব্যাপার! এমন অসাধারণ একটি লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে, সুবিশাল এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরির দিকে তাকিয়ে থাকার মুহূর্তটিকে “জাদুকরী মুহূর্ত” বলাটা নিশ্চয়ই দোষের কিছু নয়!

চিলিতে এলে এই জাদুকরী মুহূর্তের স্বাদ আপনাকে নিতেই হবে!

৩. চেপু ভ্যালি

চিলির দক্ষিণে অবস্থান করা চেপু ভ্যালি মূলত বন্যপ্রাণীর এক বিশাল অভয়ারণ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয় এই চিলিতেই, ১৯৬০ সালে। এই ভূমিকম্পের ফলে সুনামিও বয়ে গিয়েছিল দেশটির এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে।

ছবিঃ চেপু ভ্যালির স্বচ্ছ পানির লেকে অপরূপ প্রতিচ্ছবি, সূত্রঃ wonderful chile

এই ভয়ংকর দুর্যোগের পরপরই সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় এই চেপু ভ্যালি।

প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু ভালো সময় কাটাতে, চলে আসতে পারেন চেপু ভ্যালিতে। এখানকার লেকে কায়াকিং আর মাছ ধরার ব্যবস্থাও আছে।

দূরবীন নিয়ে নানা প্রজাতি আর নানা বর্ণের পাখি দেখারও সুযোগ পাবেন এখানে। প্রায় একশোটি প্রজাতির পাখির বাস এই চেপু ভ্যালিতে।

৪. সান রাফায়েল গ্লেসিয়ার

প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সান রাফায়েল গ্লেসিয়ার। সান রাফায়েল লেকের বুকে নৌকায় ভেসে আসতে হয় এই শ্বেতশুভ্র গ্লেসিয়ারের দেখা পেতে। লেকটিও অসাধারণ সুন্দর! পাহাড়ের গায়ে জন্মানো ছোট ছোট সবুজ গাছের সমারোহ দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন বরফের এই পুরু চাদরের কাছাকাছি।

ছবিঃ সান রাফায়েল গ্লেসিয়ারে এলে দেখতে পাবেন এমনই শ্বাস রুদ্ধকর সব দৃশ্য! সূত্রঃ drink tea and travel

তবে নৌকা থেকে একে দেখেই খুশি থাকতে হবে আপনাকে। সান রাফায়েল থেকে বরফের চাঁই প্রতিনিয়তই ধ্বসে পড়ে লেকের পানিতে। তৈরি করে বিরাট সব ঢেউ। এই ঢেউয়ের তোড়ে উল্টে যেতে পারে আপনার নৌকা!

কাজেই জায়গাটি নির্দ্বিধায় বেশ রোমাঞ্চকর! সেই সাথে এখানকার পাথুরে পরিবেশের সাথে বরফের সমন্বয়টি দারুণ উপভোগ করবেন আপনি!

৫. সেরো মামালুকা অবজারভেটরি

বিজ্ঞান ভালোবাসেন? বিশেষ করে জ্যোতির্বিদ্যা? তাহলে তো কোনো কথাই নেই! চিলির সেরো মামালুকা অবজারভেটরি অপেক্ষা করছে আপনার জন্যই!

দক্ষিণ গোলার্ধের সবচেয়ে চকচকে আকাশ দেখা যায় চিলি থেকেই। আর এজন্যই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দেশটিতে স্থাপন করেছে বেশ কিছু অবজারভেটরি।

ছবিঃ বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে থাকলে সেরো মামালুকায় আসতেই হবে আপনাকে! সূত্রঃ drink tea and travel

অধিকাংশ অবজারভেটরিতেই জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। ব্যতিক্রম এই সেরো মামালুকা অবজারভেটরি। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে শক্তিশালী টেলিস্কোপে চোখ রেখে গ্রহ, নক্ষত্র আর ছায়াপথ দেখার অপূর্ব সুযোগ! পরিষ্কার আকাশে আপনি পেয়ে যাতে পারেন বৃহস্পতির চাঁদ, শনির বলয় আর এন্ড্রোমিডা ছায়াপথের দেখা!

শুধুই সেরো মামালুকার জন্য হলেও চলে আসা যায় এই দেশটিতে! কী বলেন?

৬. ইস্টার আইল্যান্ড

লম্বা মুখের বামন আকৃতির পাথুরে মূর্তিগুলো নিশ্চয়ই দেখেছেন রূপালি পর্দায়? এদের ডাকা হয় “মাওই” নামে! উচ্চতায় ৭ ফুট থেকে ৬০ ফুটও হয়ে থাকে এই মাওই মূর্তিগুলো। আর এই মূর্তিগুলোর জন্যই বিখ্যাত চিলির ইস্টার দ্বীপ!

পুরো ইস্টার দ্বীপে প্রায় ডজন খানেক মাওই এর দেখা পাবেন আপনি। দ্বীপের অধিবাসীরা এগুলো তৈরি করেছিল প্রায় ৬০০ বছর আগে!

ছবিঃ এগুলোই সেই বিখ্যাত মাওই মূর্তি! সূত্রঃ wonderlust chloe

মাওই এর পাশাপাশি ইস্টার দ্বীপের পুরোটা ঘুরেও পাবেন প্রশান্তি। সবুজ প্রকৃতি, সুবিশাল পাহাড় আর নীল সমুদ্র দিয়ে ঘেরা দ্বীপটি সত্যিই অতুলনীয়।

দেরি না করে এখনই ভিসার জন্য আবেদন করে ফেলুন! আর ঘুরে আসুন বৈচিত্র্যময় চিলি!         

ফিচার ইমেজ- wonderlust chloe      

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একদিনে সীতাকুণ্ডের ৩ স্থান ভ্রমণের ইতিবৃত্ত

গোমুখ অভিযান: মুশৌরি থেকে উত্তরকাশী