বৃত্তে থেকেই বৃত্তের বাইরের এক পরিব্রাজকের সাথে গল্পগুজব

গত কয়েক বছর ধরে ঘোরাঘুরি করলেও ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য নেওয়ার কথা ভাবিনি কখনো। সবসময়ই মনে হয়েছে, এরা বেশি টাকা নেবে, সীমিত জায়গা ঘুরিয়ে। বৃত্ত ট্র্যাভেল এন্ড ট্যুরিজমের নামটা শুনেছি ট্রিপজোনের মাধ্যমে। ট্রিপজোন টিমের পরিচালকবৃন্দ প্রায়ই বৃত্তের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। তারমধ্যে একদিন শামসুন্নাহার আপু বললেন, ‘বৃত্ত’র সাথে জল ও জঙ্গলের কাব্যে যাচ্ছি। আপনিও চলেন।’
সময় মিলিয়ে দেখলাম, সেদিন স্কুল বন্ধ। যাওয়াই তো যায়! আগুপিছু চিন্তা না করে ঠিক করলাম, যাবো।

অবাক হলাম চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে। জল ও জঙ্গলের কাব্যে প্রবেশ মূল্যই ১,৫০০ টাকা। অথচ বৃত্ত চাঁদা হিসেবে নিচ্ছে ১,৫৩০ টাকা। ১,৫০০ টাকা চাঁদা আর বাকি ৩০ টাকা বিকাশ খরচ। তাহলে যাওয়া আসার জন্য যে এসি বাস নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটার খরচ কই? পরে জানা গেল, যেহেতু এটা বৃত্তের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ট্যুর, তাই যাওয়া আসার খরচটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অভিভূত হলাম।

জল ও জঙ্গলের কাব্যে। সোর্স: বৃত্ত

আরোও অভিভূত হলাম বৃত্তের পরিচালক টীমের সাথে মিশে। বিশেষ করে জিয়ন ভাইকে খুবই ভালো লেগেছে আমার। দুপুরে সবার খাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করে তারা যখন আমাদের সাথেই ঘাসের গালিচায় খেতে বসলো, তখন কথায় কথায় অনেক আলাপ হলো। হুট করেই মনে হলো, জিয়ন ভাইয়ের একটা ইন্টার্ভিউ নিলে কেমন হয়? প্রস্তাবটা জানাতেই তিনি হেসে উড়িয়ে দিলেন। বললেন, ইন্টারভিউ নেওয়ার আবার কী হলো! এই তো বেশ আড্ডা দিচ্ছি!

বুঝলাম উনার অস্বস্তি হচ্ছে। আমিও ছাড়বার পাত্রী নই। বারবার ঝোলাঝুলি করে, আবদুল্লাহ ভাইয়াকে দিয়ে বলিয়ে সাক্ষাতকারটা নিয়েই ছাড়লাম। আমার ধারণা, এই ইন্টার্ভিউটি পড়লে দেশের ট্রাভেল এজেন্সি সম্পর্কে ধারণা বদলে যাবে।

বান্দরবানে কলা পাতায় খানাপিনা। সোর্স: বৃত্ত

১। দুই বছর পূর্তি হলো বৃত্তের। জার্নিটা কেমন ছিল?

ডাক্তার জিয়ন: আলহামদুলিল্লাহ, হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১২ই আগস্ট বৃত্ত ট্র্যাভেল এন্ড ট্যুরিজমের ২টি বছর পূর্ণ হলো। “বৃত্ত” নামটি পছন্দ করার পেছনে আমাদের বেশ কিছু লজিক কাজ করেছে। কোথাও না কোথাও ঘুরতে গিয়ে নিজেদের পরিচিত অনেকের সাথেই আমাদের দেখা হয়ে গিয়েছে – এমনটা হরহামেশাই ঘটেছে আমাদের প্রায় সবার ভ্রমণ জীবনে। তার মানে আমরা “ট্র্যাভেলিং ও ট্যুরিজম”কে কেন্দ্র করে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি যা এমনিতেই একটি বলয় তৈরী করছে আমাদের জীবনে।

দেখা গেল, হয়তো কোনো পাহাড়ি ট্রেইলে হাঁটছেন, হঠাৎ করে আপনার নাম ধরে কেউ একজন ডেকে উঠলো; কাছে এসে জড়িয়ে ধরলো বুকে। নৌকার সামনে গলুই এর উপরে বসে রাতারগুল/স্বরূপকাঠি কিংবা কোনো লঞ্চের ছাদে করে চাঁদপুর/ সুন্দরবন ঘুরছেন – দেখলেন যে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য কোনো নৌকা/ লঞ্চের থেকে আপনার পরিচিত কোনো মুখ আপনার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে, হাত নাড়ছে।

(এটার প্রমাণ আমি পেয়েছি ইতি আপু আর সাইমুন ভাইয়ের সাথে কক্সবাজার ট্যুরে গিয়ে। কিছুক্ষণ পর পরই এর তার সাথে দেখা হচ্ছিল ওদের, কুশল বিনিময় করছিল। জিজ্ঞেস করতেই জানতে পেরেছিলাম, এদের সাথে কোনো না কোনো ট্যুরে গিয়ে আলাপ হয়েছে।)

বৃত্তের লোগো। সোর্স: বৃত্ত

এগুলো সব কিছুই ভ্রমণের আনন্দ, ভ্রমণ পিপাসী মানুষগুলোর সুন্দর মনের পরিচায়ক! এইটুকু সময়ের মধ্যে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে বৃত্ত, আস্থা অর্জন করতে পেরেছে অগণিত ট্রাভেলার এবং ট্যুরিস্টের। কিছুটা সীমাবদ্ধতা বা বাধার সম্মুখিন তো অবশ্যই হতে হয়েছিল কিন্তু আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কারণে সেগুলো আর বাধা হয়ে থাকেনি।

তবে মজার মজার সব অভিজ্ঞতার সামনে এইসব বাধা-বিপত্তি খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। প্রোপার ম্যানেজমেন্টের স্বার্থে, আমাদের প্রতিটি ট্যুরকে সফল করতে আমরা committed & dedicated. যার ফলাফল বর্তমানে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মেম্বার প্রায় ৩৫,০০০ এবং পেজ ফলোয়ার প্রায় ৬০,০০০ এর কাছাকাছি।

২। প্রতি ট্রিপে এত সব অপরিচিত মানুষদেরকে নিয়ে, এদেরকে সামলানো কতটা চ্যালেঞ্জিং?

ডাক্তার জিয়ন: ট্রিপে অনেকেই থাকেন যারা অপরিচিত থাকেন, হয়তো অন্য কারো রেফারেন্সে এসেছেন আমাদের সাথে। কিন্তু আমরা যারা এডমিন ও মডারেটর আছি আমাদের প্রথম কাজটাই থাকে তাঁদের এই নতুন নতুন ভাবটা দূর করে অনেক দিনের পরিচিত আমরা এই মনোভাবটা গ্রুপের মধ্যে তৈরি করে দেওয়া।

ট্রিপের ব্যাপারে পর্যাপ্ত গাইডলাইন ও পরিচিতিমূলক পর্ব সেরা ফেলার মাধ্যমে ব্যাপারটা সহজ করে ফেলি আমরা। যখন সবাই বুঝে ফেলেন যে আগামী ২-৩টা দিন এই আমরাই একটা পরিবার তখন সবাই খুব হেল্পফুল হয়ে ওঠেন। তাই সামলানো ব্যাপারটা তেমন একটা চ্যালেঞ্জিং লাগে না তখন।

ক্রেওকারাডং জয়। সোর্স: বৃত্ত

৩। বেশিরভাগ ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রেই “ট্রিপে বেশি টাকা নির্ধারণ করে” এই টাইপ অভিযোগ শোনা যায়, বৃত্ত এই ক্ষেত্রে কেমন সমস্যা ফেস করে?

ডাক্তার জিয়ন: ট্র্যাভেল এজেন্সি এবং ট্র্যাভেল গ্রুপ – এই দুটোর মধ্যে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য আছে। কমার্শিয়াল ট্যুর এজেন্সি বা ট্যুর অপারেটররা গৎবাঁধা কিছু ট্যুর প্যাকেজ করে থাকেন, যেমন ধরুন কক্সবাজার-সুন্দরবন-কুয়াকাটা-সেন্টমার্টিন কিন্তু আমাদের ট্যুরগুলো হয় ভিন্ন ধাঁচের, ভিন্ন ধরনের। এখানে গৎবাঁধা কোনো প্যাকেজ নেই। ট্যুরে যাবো, যখন যা ভালো পাওয়া যায় তা খাওয়াবো। যখন যেখানে যেতে ইচ্ছে করবে সবার সাথে আলোচনা করে সেখানে যাবো।

তাই দেখা যায় আমাদের যে ট্যুরের বাজেট থাকে সেই বাজেটের পুরো ষোলো আনাই ট্যুরের বিভিন্ন এক্টিভিটিজের মাধ্যমে আমরা উসুল করে ফেলি সবাইকে সাথে নিয়ে। তাই আজ অবধি আমাদের কোনো ট্যুরেই এই জাতীয় অভিযোগ শুনতে হয়নি। আর একেকজনের ট্যুরে আয়োজন থাকে একেক ধরনের। কেউ হয়তো সুন্দরবন ট্যুর করে এসি ভেসেলে, খাওয়া-দাওয়ায় থাকবে চাইনিজ, ঘোরাঘুরি থাকবে রাজকীয় স্টাইলে কিন্তু আমাদের ট্যুর হয় সার্ভিস ভেসেলে, খাওয়া দাওয়া হয় পুরোপুরি বাঙ্গালিয়ানা আর ঘোরাঘুরি হয় বুনো স্টাইলে।

সোনাদিয়া দ্বীপে টিম বৃত্ত’র ক্যাম্পিং। সোর্স: বৃত্ত

৪। যদি এমন হয় যে, ট্রেকিংয়ের মাঝামাঝি সময়ে গিয়ে দলের ২-১ জন ট্রেক করতে পারছে না, সেক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়?

ডাক্তার জিয়ন: পাহাড়ে ট্রেকিং করতে গিয়ে যে এরকম সমস্যার মুখোমুখি কখনো হতে হয়নি তা কিন্তু নয়। মাঝেমধ্যে দেখা গিয়েছে কেউ হয়তো সাহস পাচ্ছেন না বা কেউ হয়তো হালকা আঘাত পেয়েছেন। তখন আমাদের পাহাড়ি গাইড এবং আমরা এডমিন যারা দায়িত্বে থাকি উনাকে সার্বক্ষণিকভাবে সাপোর্ট দিয়ে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে প্রাথমিক চিকিৎসা সবকিছুই দিয়ে থাকি।

কেউ যদি ধীরে ধীরে হাঁটে তাহলে পুরো টীম যাতে উনার জন্যে স্লো না হয়ে যায় সেক্ষেত্রে একজন গাইডকে দিয়ে টিমকে সামনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আর এডমিন ও বাকি গাইড উনাকে হেল্প করে আস্তে আস্তে বেইজ স্টেশন তথা পাহাড়ি গ্রামে নিয়ে আসি। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যে সকল ঔষধের লিস্ট আগেই জানিয়ে দেওয়া হয় সবাইকে যা নিতে হবে সাথে। এছাড়াও দায়িত্বরত এডমিনের কাছে ব্যাক-আপ তো থাকেই।

বৃত্তের ঘোরাঘুরি।  সোর্স: বৃত্ত

৫। ভ্রমণ আর ভ্রমণ করার মতো জায়গাগুলো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাভাবনা কেমন? যেহেতু মানুষজনের চরিত্র দেখার সুযোগ হয় এই ব্যাপারটা ভালো বলতে পারবেন।

ডাক্তার জিয়ন: আমি বলবো যে আমাদের দেশের মানুষজন এখনো ভ্রমণের ব্যাপারে শিক্ষিত হয়ে ওঠেনি পুরোপুরি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, প্লাস্টিক-সিগারেটের ফিল্টার, উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে গান শোনা এমনকি কোন ট্যুরিস্ট স্পটে কোন ড্রেস পরে যেতে হবে এটাই জানেন না অনেকে! আমি অনেক শাড়ি পরিহিতা বা পাঞ্জাবী পরিহিত মানুষজন দেখেছি যারা এইসব ড্রেস পরেই খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যাচ্ছে। হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে। এঁরা জানেনই না যে ট্রেকিং কী!

হাই হিল পরে বা ভালো ট্রেকিং স্যান্ডেল না পরে পাহাড়ে হাঁটতে গেলে বিপদ আপনারই হবে। কক্সবাজার আর বান্দরবানকে একত্রে মিলিয়ে ফেললে তো সমস্যা! তবে বর্তমানে আমাদের মতো ট্র্যাভেল গ্রুপগুলোর প্রোপার ইন্সট্রাকশনের কারণে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এই চিত্র কিছুটা হলেও পাল্টেছে।

মারিয়ানতং পাহাড় চূড়ায় বৃত্ত। সোর্স- বৃত্ত

৬। ভ্রমণে গিয়ে ময়লা না ফেলার ব্যাপারে বৃত্ত কি কোনো ভূমিকা পালন করে? করলে লোকে কতটুকু কথা শোনে?

ডাক্তার জিয়ন: যেকোনো ট্যুর প্ল্যান যখন আমরা ফেসবুকে ওপেন করি সেখানে এ ব্যাপারে ডিটেইলস বলা থাকে এবং ভ্রমণের শুরুতে যে ব্রিফিং হয় সেই ব্রিফিংয়ে এই ব্যাপারে আরো ভালো করে ইন্সট্রাকশন দিয়ে দিই আমরা। তারপরেও কেউ কেউ এটা শোনে না বা অভ্যাসের বশে ভুল করে ফেলে। আমাদের চোখে পড়া মাত্র তাৎক্ষণিক উনার ভুলটা ধরিয়ে দিই।

একটা সেলফি না হলে চলে? সোর্স: বৃত্ত

৭। বাংলাদেশের কোন জায়গাগুলোতে এখন লোকে বেশি যেতে চায়?

ডাক্তার জিয়ন: বর্তমানে বাংলাদেশের ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন স্পট যুক্ত হয়েছে যেগুলোতে প্রচণ্ড আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে ট্যুরিস্টদের। সাজেক, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর, সেন্ট-মার্টিন, সিলেট, নিঝুম দ্বীপ, পেয়ারা বাজার – বলা চলে এগুলো বেশ জনপ্রিয় ভ্রমণ স্পট। তবে বর্তমানে ভ্রমণের ধরনও কিন্তু কিছুটা পাল্টেছে। বর্তমান সময়ের অনেক তরুণ-তরুণী ক্যাম্পিং বা ব্যাকপ্যাকিং টাইপ ভ্রমণে উৎসাহিত হয়েছে। এক বান্দরবানে যে কতগুলো ট্রেকিং ট্রেইল আছে তা বলে শেষ করা যাবে না।

কখনো মেঘ ছুঁতে বান্দরবানের সুউচ্চ কোনো পাহাড়ে অথবা রাঙ্গামাটির মেঘের রাজ্য “সাজেকে”, কখনো বা গা এলিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকতে পাহাড়ের গহীন কোনো ঝিরিপথে। কখনো বৈঠা বাইতে সোয়াম্প ফরেস্ট “রাতারগুল”, কখনো পেয়ারা বাজার ঘুরে দেখতে “স্বরুপকাঠি”। “বাঘ” মামার সাথে দেখা করতে “সুন্দরবন”ও যাই, আবার শীতের অতিথি পাখি দেখতে আর পূর্নিমা উপভোগ করতে যাই “হাওরে”।

কখনো দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি দেখতে যাই “সেন্ট মার্টিন”, আবার কখনো শুধু মাত্র গোসল করবো বলে যাই কোনো ঝর্ণায়! মশালের আলোয় তাঁবু পেতে কোনো ঝর্ণার পাশে শুয়ে থেকে কাটিয়ে দেই পুরো একটি রাত, আবার সারা রাত জেগে থেকে অপেক্ষা করি পাহাড়ের ভোর হবার দেখার প্রতীক্ষায়!

সাজেকে বৃত্তের রিসোর্ট মেঘপুঞ্জি। সোর্স: বৃত্ত

৮। দেশের বাইরের ট্যুর পরিচালনায় ভ্রমণকারীদের কেমন সাপোর্ট পেয়েছেন? বাইরের দেশগুলোতে এরকম ভীনদেশী ট্রাভেল এজেন্সিকে কেমন সাপোর্ট দেয়? কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে এখন পর্যন্ত?

ডাক্তার জিয়ন: বাংলাদেশে গতানুগতিক ধারার ট্যুরিজমের বাইরে গিয়ে আমরা বৃত্ত থেকে চেষ্টা করেছি ভিন্নভাবে প্রকৃতিকে উপভোগ করার ট্যুর আয়োজন করতে। যেমন, নাফাখুম ঝর্ণার পাশে ক্যাম্পিং, সোনাদিয়া দ্বীপে ক্যাম্পিং, পাহাড় চূড়ার উপরে পূর্ণিমা রাতে ক্যাম্পিং, কক্সবাজার সমুদ্র পাড়ে মেরিন ড্রাইভে ক্যাম্পিং, পাহাড়ের গহীনে বিভিন্ন ঝর্ণা খোঁজার উদ্দেশ্যে ট্র্যাকিং – বিগত ২ বছরে এই ধরনের এডভেঞ্চারাস এবং ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি ট্যুর মিলিয়ে প্রায় ৭০টির মতো ট্যুর পরিচালনা করেছি দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে।

বিদেশের মাটিতে যেমন – ভুটান, মেঘালয়, নেপাল, দার্জিলিংয়ের মতো জনপ্রিয় স্পটে ট্যুর পরিচালনা করেছে বৃত্ত। দেশের মতো বিদেশেও ট্যুর পরিচালনা করতে আল্লাহর রহমতে আমাদের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি কারণ প্রয়োজনীয় যোগাযোগ এবং ভালো ম্যানেজমেন্টের কারণে। বিদেশের হোটেল ম্যানেজমেন্ট আমাদের দেশের ট্যুরিস্টদের বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেন।

মেঘপুঞ্জি। সোর্স: বৃত্ত

৯। বৃত্ত পরিচালনায় কে কে আছেন?

ডাক্তার জিয়ন: বর্তমানে ডাঃ জিয়ন, শাওন, জয়, ইতি, সাইমুন, রানা ও রবিন – এই ৭ জনের সমন্বয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ট্যুরগুলো পরিচালনা করছি। এছাড়াও অতনু, মাসুদ, বিপু, সাব্বির, ইমরান, রিদওয়ান, মাহমুদ, হারুন, রাসেল, সোহেল ভাই, মৌ, এমি, নাদিয়া, শাম্মি আপুদের মতোন অগণিত গুণগ্রাহী আছেন, যাঁদের কারণে আমরা আরো অনুপ্রেরণা পাই ভালো ট্যুর করার।

শুধু ট্যুরের মাঝেই বৃত্ত নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি, মানবিক কার্যক্রম যেমন – বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ ও ঔষধ বিতরণ, পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহয্য করা; এ সকল কাজে বৃত্ত নিজেদের সংযুক্ত করেছে শুরু থেকেই।

আমরা কোনো অলাভজনক গ্রুপ বা সংগঠন নই। আমাদের লাভ হলো সকলের সন্তষ্টি এবং মুখের হাসি। আমরা-আপনারা নিয়েই কিন্তু “বৃত্ত”…ঘুরবো আমরা বৃত্তে থেকেই কিন্তু সীমানা থাকবে বৃত্তেরও বাইরে!

হ্যাপি ট্র্যাভেলিং…
বি ট্র্যাভেলার উইথ বৃত্ত।

ফিচার ইমেজ: বৃত্ত

Loading...

One Comment

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চাঁদের আলোয় আমিয়াখুম অ্যাডভেঞ্চার

সবুজ ধানের মাঠ পেরিয়ে দিবর দীঘি ও অবাক স্তম্ভ