ভারতীয় ট্রেন: ভ্রমণকারীদের জন্য কিছু টিপস

১৮০০ সালের দিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মাধ্যমে দেশটির যাতায়াত ব্যবস্থায় ট্রেন পরিবহন পরিচিতি পায়। ১৯৪৭ সালে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ফোকাস করা হয় আর বর্তমানে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে সে দেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ ব্যবস্থা।
আজকের এই লেখায় ট্রেনে অ্যাডভেঞ্চার জার্নির জন্য বিভিন্ন বিষয়  নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ায় ট্রেন জার্নি করার আগে যা আপনার বিশেষভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

১) অ্যাডভান্স বুকিং

অ্যাডভান্স বুকিং: source:indianvideos.wordpess.com

ট্রাভেল করার ৬০ দিন আগে বুকিং খোলা হয়। লম্বা পথের ট্রেনগুলো খুন জলদি বুকিং হয়ে যায়। তারমানে আপনি শুধু অল্প সময়ের জার্নির ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে একদিনেই বুকিং দিতে পারবেন। আপনি চাইলে হোটেলের রিসিপশন থেকেও বুক করতে পারবেন তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে ছোট্ট অংকের অ্যাডমিন ফি দিতে হবে। আপনি যদি নিজের ট্রিপ নিজেই আয়োজন করতে চান তাহলে দালালদের খপ্পর থেকে নিজেকে আগে রক্ষা করবেন এবং সোজা বুকিং স্টেশনে চলে যাবেন, নিজের সময়ের মূল্য দিন। তাড়াহুড়ার কিছু নেই।
ইন্টারনেটের এই যুগে আপনি চাইলে অনলাইনেও বুকিং দিয়ে নিতে পারেন তবে সেটা শুধু একটি ক্লিক আর টাকা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রথমে আপনাকে IRCTC (Indian Railway’s official website) এই ওয়েব সাইটে একটি এ্যাকাউন্ট খুলতে হবে যার কনফার্ম করার জন্য দরকার হবে একটি ইন্ডিয়ান নাম্বার।
তাছাড়া আপনি আপনার পাসপোর্টের ফটোকপি এই কোম্পানির কাছে ইমেইল করেও বুকিংয়ের কাজটি সেরে নিতে পারেন। একবার যদি আপনি এখানে লগইন করেন তবে আপনি তাদের ওয়েবসাইটটিতে একটু ঝামেলা পেতে পারেন। তাই বরং ‘ক্লিয়ারট্রিপ’ এর মতো কিছু ট্রাভেল বুকিং সাইটের মাধ্যমে টিকিট কিনে নিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রেও টাকা পরিশোধের সময় আপনাকে IRCTC লগইন এর জন্য বিস্তারিত দিতে হবে।

২) টিকেট “ওয়েটলিস্টেড” হলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

ভারতীয় লোকাল ট্রেন;source: blogsofindia.indiatimes.com

যদি বুকিংয়ের সময় টিকেট পর্যাপ্ত না থাকে তবে আপনাকে রিজার্ভ টিকেট না হয় “RAC ওয়েটলিস্ট” অথবা “ওয়েটলিস্ট” টিকেট দেওয়া হবে। RAC (reservation against cancellation) টিকেট পেলে আপনি হয়তো আপনার পছন্দ মতো সিট বা ক্লাস পাবেন না। আর এই টিকেট তখনি কনফার্ম হবে যখন অন্য কেউ তার টিকেট ক্যান্সেল করবে। কারণ অনেকেই অ্যাডভান্স টিকেট বুকিং করে থাকে।
আর ওয়েটলিস্ট অর্থ টিকেট কনফার্ম কিন্তু অপেক্ষা করতে হবে। আপনাকে একটা নাম্বার দেওয়া হবে ওয়েটলিস্ট টিকেটে আর যদি নাম্বারটি দশের কম হয় তাহলে আপনার সুযোগ বেশি থাকবে। আপনার সিট কোথায় পড়েছে তা চেক করতে আপনি নিজেই স্টেশন ঘুরে নিতে পারেন অথবা স্টেশনের নোটিশ বোর্ড থেকেও সিটিং চার্ট দেখে নিতে পারেন। তাছাড়া অনলাইন তো আছেই চেক করে দেখার জন্য।

৩) সাবধানে আপনার ক্লাসের টিকেট বুঝে নেবেন

ভারতীয় লোকাল ট্রেনঃblogsofindia.indiatimes.com

ইন্ডিয়ান ট্রেন সাধারণত আটটি ক্লাসে ভাগ করা হয়। যদিও সব ট্রেন নয়। এটি আসলে নির্ভর করে আপনি কোন লাইনে ট্রাভেল করছেন আর দূরত্ব কত। আপনার যদি টাইট বাজেট থাকে আর যদি ছোট জার্নি হয় তবে আপনার সেক্ষেত্রে সেকেন্ড ক্লাস টিকেট নেওয়াই ভালো হবে।

৪) কথোপকথন শুরু করতে পারেন

সময় কাটানোর জন্য আপনি আশেপাশের মানুষের সাথে গল্প করতে পারেন। আপনার জার্নির অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। এতে করে সময় কাটানোর পাশাপাশি আপনি সেখানকার মানুষদের সম্পর্কে জানতেও পারবেন।

৫)  সময় মতো ট্রেন আসবে এই আশা না করাই ভালো

ইন্ডিয়ান ট্রেন আস্তে ধীরে, দেরী করে আসবে এই হিসেবে এর নাম রয়েছে। যে কোনো কিছুর জন্য ট্রেন দেরী হতে পারে আর তা এক-দুই মিনিট থেকে শুরু করে কয়েক ঘণ্টাও হতে পারে। প্ল্যাটফর্মের ঘোষণার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কখন আপনার ট্রেন ছেড়ে যাবে।

৬) নিজের মালামাল সাবধানে রাখা

মালামাল সাবধানে রাখা;source:randomtravelblog.com

যদিও বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাসযোগ্য কিন্তু চোর সব সময় সক্রিয় থাকে চুরি করার জন্য। আর আপনি যদি ট্রেনের উপরের পাটাতনে সিট পান এবং কোনো কারণে ঘুমিয়ে পড়েন তাহলে আপনার মালামাল চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন না। লক্ষ্য করবেন, ট্রেনের প্রায় সবাই তাদের ব্যাগগুলো সিটের নিচে চেইন দিয়ে বেঁধে রাখে এবং এটি আপনারো মানা উচিত।

৭) ট্রেনের খাবারে নির্ভরশীল হবেন না

অনেক ট্রেনেই খাবার দিয়ে থাকে তবে সেই খাবারের বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মান নিয়ে কিন্তু সন্দেহ থেকেই যায়। দূর পাল্লার ট্রেনগুলো প্রতি স্টেশনে ২০ মিনিট করে যাত্রা বিরতি দিয়ে থাকে, সুতরাং আপনার হাতে বেশ অনেকক্ষণ সময় থাকবে ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন থেকে কিছু খাবার কিনে নেওয়ার।

৮) প্ল্যাটফর্ম থেকেই টেকএওয়ে অর্ডার করুন

প্ল্যাটফর্ম থেকেই টেকএওয়ে অর্ডার;source:www.indiatoday.in

ইন্ডিয়ান রেলস্টেশন থেকে এখন সহজেই টেকএওয়ে খাবার অর্ডার করা সম্ভব। সুতরাং আপনি ট্রেন ছাড়ার আগেই তা সংগ্রহ করতে পারেন অথবা আপনার গন্তব্যস্থান থেকেও নিতে পারবেন। এমন অনেক অললাইন নাম্বার রয়েছে যেখানে আপনি খাবার অর্ডার করতে পারবেন।
আপনার যদি কনফার্ম টিকেট থাকে তাহলে শুধুমাত্র টিকেট বুকিংয়ের নাম্বারটা দিয়ে আপনার গন্তব্যস্থানের কাছাকাছি কোথাও রেস্টুরেন্ট সিলেক্ট করেই খাবার অর্ডার করে নিতে পারবেন। আপনি চাইলে লোকাল জায়গায় ফোন করেও ডমিনোজের পিজ্জা অর্ডার করতে পারেন।

৯) পেছনের সিটে বসুন আর যাত্রা উপভোগ করুন

পেছনের সিট;source:www.pinterest.com

সত্যিকার অর্থে ইন্ডিয়া হলো সুবিশাল একটি দেশ এবং বেশিরভাগ ভ্রমণকারীরা এই দেশের সংস্কৃতির শুধুমাত্র অল্প কিছুই উপভোগ করতে পারে। ট্রেনের জানালার পাশের সিট থেকে আপনি সত্যিকার গ্রামীণ ভারতের মিষ্টি “জাইসাল্মীর” থেকে ধান-চালের “মহারাষ্ট্র” এবং কুয়াশার টুপি পরা হিল স্টেশনের কিছু ঝলক উপভোগ করতে পারেন।
ফিচার ইমেজ- thrillophilia.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রথম বিপ্লবী নারী শহীদ প্রীতিলতার আত্মাহুতিস্থল ও রেলওয়ে স্কুল

প্রথম সমুদ্র দর্শনের প্রথম পলক