ফয়'স লেকের জানা ও অজানা গল্পকথা

চট্টগ্রামে প্রথম গিয়েছিলাম ২০১১ সালে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আর ভেটোরিনারিতে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। ভেটোরিনারিতে যাওয়ার সময়ই ফয়’স লেকের প্রবেশ পথ দেখতে পেয়েছিলাম। আকর্ষণীয় প্রবেশপথ দেখে যেতে ইচ্ছে করলো খুব। পরীক্ষা শেষ করে মামার সাথে গেলাম ফয়’স লেক ঘুরতে।
ফয়’স লেক চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলস্টেশনের অদূরে খুলশি এলাকায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম হ্রদ। জিরো পয়েন্ট থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হ্রদটি। চট্টগ্রামের পানি সমস্যার সমাধানে ১৯২৪ সালে প্রায় ৩৩৬ একর জায়গায় কৃত্রিম এ হ্রদ খনন করেছিল আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সে সময় পাহাড়তলী লেক হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে লেকটি ব্রিটিশ প্রকৌশলীর নামে নামকরণ করা হয় যিনি এটির নকশা তৈরিতে সহায়ক ছিলেন। লেকটি পাহাড়ের এক শীর্ষ থেকে আরেক শীর্ষের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় আড়াআড়িভাবে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট। আড়াআড়িভাবে নির্মিত বাঁধটি চট্টগ্রাম শহরের উত্তর দিকের পাহাড় শ্রেণির ওপর থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই লেকটিকে সৃষ্টি করেছে।

রিসোর্ট। সোর্স: foyslake.com

খুলশী এলাকার প্রধান সড়কের পাশে ফয়’স লেকের তোরণ। সেখান থেকে কিছুটা ভেতরে এর মূল প্রবেশ পথ। শুরুতেই ফয়’স লেকের অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড।
দীর্ঘ সময় অযত্নে পড়ে থাকায় একসময় জৌলুশ হারাতে বসে প্রাচীন এই লেক। ফয়’স লেকের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৫ সালে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্ট। ফয়’স লেকের পাশেই আছে চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় বাটালি হিল। লেকের আশেপাশের মনোরম পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি বহু পর্যটক ছুটে আসেন।
প্রবেশপথ। সোর্স: TripAdvisor

ছোট ছোট পাহাড় আর টিলার বাঁকে বাঁকে বিস্তৃত এই পর্যটন কেন্দ্র। এই লেকে দেখার মতো রয়েছে অনেক কিছু। শিশুদের জন্য যেমন নানা রকম রাইডের ব্যবস্থা আছে তেমনি বড়রাও খুঁজে পাবেন পাহাড়, লেক সব মিলে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। অঞ্চলের চারদিকে পাহাড় আর মাঝখানে রয়েছে অরুনাময়ী, গোধূলী, আকাশমনি, মন্দাকিনী, দক্ষিনী, অলকানন্দা নামের হৃদ। হৃদের পাড়ে যেতেই দেখা মিলবে সারি সারি নৌকা। নৌকায় যেতে মিনিট দশেক লাগবে। তারপরই দেখা মিলবে দুই দিকে সবুজ পাহাড়, মাঝে মধ্যে দু-একটি বক এবং নাম না জানা হরেক রকম পাখি। এর সাথে রয়েছে মনোরম পরিবেশে হরিণ বিচরণ স্থান। পর্যটক আকর্ষণ করার জন্য একটি ছোট চিড়িয়াখানা ফয়’স লেক প্রবেশদ্বারে স্থাপন করা হয়েছে। ফয়’স লেকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে লেকের সৌন্দর্য ও তার পার্শ্ববর্তী পাহাড়।
বিকেলের মোহময়তা। সোর্স: Offroad Bangladesh

একটি চিত্তবিনোদন পার্ক সম্প্রতি ফয়’স লেকে খোলা হয়েছে। লেকে নৌকায় ভ্রমণ, ল্যান্ডস্কেপিং, রেস্টুরেন্ট, ভাসমান ধাপ কনসার্ট, নাটুকে হাঁটার পথ এবং অন্যান্য অনেক মজার ও উপভোগের জিনিস রয়েছে। দর্শনার্থীরা হ্রদটির রোমহর্ষক দৃশ্য উপভোগের জন্য নৌকাভ্রমণে যেতে পারে। চিত্তবিনোদন পার্কে ২টি উচ্চ স্লাইড আছে আর সেগুলো হলো উচ্চ গতির রোলার কোস্টার ও বাম্পার বোট। এখানে একটি অবকাশযাপন কেন্দ্র আছে যেখানে বিভিন্ন বয়সি ও রুচির মানুষের জন্য কিছু না কিছু আছে। মানুষ ফয়’স লেকে মজা ও উত্তেজনার পাশাপাশি প্রশান্তি ও শান্তিতে থাকতে পারে। ‘সি ওয়ার্ল্ড’ হচ্ছে চট্টগ্রামের হৃদয়ে অবস্থিত ফয়’স লেকের একটি জল থিম পার্ক। স্প্লাশ পুল, ওয়াটার কোস্টার রাইডার এবং বিশ্বমানের থিম পার্ক হিসেবে যা যা আশা করা যায় তার সবই সি ওয়ার্ল্ডে আছে। শহরের সিটি গেট সংলগ্ন সড়ক দিয়ে গেলে সরাসরি প্রবেশ করা যাবে সি ওয়ার্ল্ডে। তবে মূল প্রবেশ পথে সি-ওয়ার্ল্ডে গেলে নৌকায় চড়ে পৌঁছুতে হয় সি ওয়ার্ল্ডে। আধুনিক ওয়াটাপার্কের বিভিন্ন রাইড আছে জায়গাটিতে।
ফয়’স লেকে ভ্রমণেরও ব্যবস্থা আছে। বিভিন্ন আকারের ইঞ্জিন চালিত নৌকা, স্পিড বোট আর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাম্পানও আছে লেকে।
লেকটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনও খুব স্পষ্ট। সোর্স: Tourist Places in Bangladesh

যদিও চট্টগ্রামের দিক থেকে ফয়’স লেক এন্টারটেইনমেন্ট ওয়ার্ল্ডের প্রবেশপথ সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন হয়েছে তবুও লেকটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনও খুব স্পষ্ট। তাই অনেক দর্শনার্থীরা চিত্তবিনোদন পার্কটি অতিমাত্রায় উপভোগ করে, আবার অনেকে ফয়’স লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশি উপভোগ করে।
বেশ কিছু আধুনিক রাইড আছে এখানে। সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, বাম্পার বোট, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, জায়ান্ট ফেরিস হুইল, ড্রাই স্লাইড, ফ্যামিলি ট্রেইন, প্যাডেল বোট, ফ্লোটিং ওয়াটার প্লে, পাইরেট শিপের মতো মজাদার সব রাইড।
এখান থেকে উপরে টিলায় আছে বনভোজন কেন্দ্র। সেখান থেকে আরেকটি টিলার উপরে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। চট্টগ্রাম শহরের বার্ডস আই ভিউ দেখা যায় জায়গাটি থেকে।
একসময় পাহাড়তলী লেক হিসেবে পরিচিত ছিল। সোর্স:Offroad Bangladesh

অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডের উত্তরে টিলার উপরে মূল ফয়’স লেক। লেকের দুইপাশে সবুজে ঘেরা উঁচু উঁচু পাহাড়। পাহাড়গুলোর নাম রাখা হয়েছে আসমানী, গগনদ্বীপ, জলটুঙ্গি ইত্যাদি। এসব পাহাড়ের আছে সংরক্ষিত বন, সে বনে খেলা করে চিত্রা হরিণ, খরগোশ আরো কিছু বন্যপ্রাণী।
প্রকৃতির মাঝে নির্জনতায় অবকাশ যাপনের জন্য ফয়’স লেকে আছে বেশ কিছু রিসোর্ট। সি-ওয়ার্ল্ডের পাশেই এর অবস্থান। রিসোর্টেও যেতে হয় নৌকায় চড়ে। নির্জনতায় সময় কাটানোর জন্য আদর্শ জায়গা এসব রিসোর্ট।
লেক ও পাহাড়মূখী দু ধরনের ঘরই আছে এখানে। বারান্দায় বসে লেক আর পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের ব্যবস্থা আছে এখানে। মধুচন্দ্রিমার জন্যও এখানকার রিসোর্ট আকর্ষণীয় জায়গা।
প্রকৃতির মাঝে নির্জনতায় অবকাশ যাপনের জন্য ফয়’স লেকে আছে বেশ কিছু রিসোর্ট। সোর্স: bdtimes365.com

এখানে যারা বেড়াতে আসে, তাদের বেশিরভাগই জানে না, একাত্তরে ফয়’স লেকের আশপাশের অনেক বাঙালি শহীদ হয়েছিলেন। নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয়ভাবে পাহাড়তলী ফয়’স লেক এলাকা জল্লাদখানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ধারণা করা হয়, এটি দেশের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি।
১৯৭১ সালের বিশতম রোজায় স্থানীয় পাঞ্জাবী লেইন (বর্তমানে শহীদ লেইন), ঝাউতলা, পাহাড়তলীসহ চট্টগ্রাম নাজিরহাট রুটে চলাচলকারী ট্রেন থেকে ধরে এনে কমপক্ষে ৫ হাজার বাঙালি মুক্তিকামী নাগরিককে নির্বিচারে গুলি ও জবাই করে হত্যা করেছিল পাকবাহিনী, স্থানীয় বিহারি-পাঞ্জাবি ও তাদের এদেশীয় রাজাকার আলবদররা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বধ্যভূমিটির শুধু একটি গর্ত থেকেই প্রায় এগারো শত মাথার খুলি উদ্ধার হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বধ্যভূমির বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে পাঁচ হাজারের অধিক লোককে গুলি ও জবাই করে হত্যা করেছিল। হত্যার পূর্বে ভয়ঙ্কর নির্যাতন করা হতো। লবণ-মরিচ লাগানো হতো শরীরের চামড়া কেটে। ক্যাপ্টেন সামদারানির নেতৃত্বে চলত এসব নির্যাতন। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বাঙালিদের নিয়ে এসে গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত চলতো সে হত্যাকাণ্ড। ইতিহাসের অন্যতম বর্বর এই হত্যাযজ্ঞে শহীদ হন রেলওয়ের তৎকালীন চাকরিজীবী আলী করিম, যিনি প্রজন্ম ’৭১ এর অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. গাজী সালেহ উদ্দীনের পিতা। তিনি হারিয়েছেন তার পরিবারের ৪ সদস্যকে।
১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু তা সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এরপর ২০১২ সালে এই বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দীনসহ ৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি আপিল দায়ের করেছিলেন। সে আপিল শুনানি শেষে আদালত চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের আদেশ দেন ২০১৪ সালে।
যেখানে এত বড় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলো সেই বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের জন্য এত বছর সংগ্রাম করতে হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, তিনি সংরক্ষণের জন্য টাকাও বরাদ্দ দিলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত শহীদদের পুণ্যভূমি পাহাড়তলী তথা ফয়’স লেক বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ করা হয়নি। আমরা এমন জাতি, বধ্যভূমির পাশে বিখ্যাত এক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুললেও চট্টগ্রাম তথা দেশের সর্ববৃহৎ বধ্যভূমি পাহাড়তলী বধ্যভূমি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে পারিনি।
অপরূপতা। সোর্স: mapio.net

খরচ

ফয়’স লেকের অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডের সাধারণ প্রবেশমূল্য ২৫০ টাকা। তিন ফুটের চেয়ে কম উচ্চতার শিশুদের প্রবেশ মূল্য লাগে না। এখানকার বিভিন্ন রাইডে চড়ার আলাদা আলাদা মূল্য রয়েছে। তবে প্রবেশ ও সব রাইডের বিশেষ প্যাকেজও আছে। বনভোজন দলের জন্য খাবারের আয়োজনসহ বিশেষ মূল্যও আছে ফয়’স লেকে। ফয়’স লেকের রিসোর্টের কক্ষ ভাড়া ৪,৯৩৫ থেকে ১০,৫০৮ টাকা। এছাড়া বাংলোর কক্ষ ভাড়া ৫,৫৬৩ থেকে ৯,৮৯০ টাকা। যোগাযোগ ০৩১-২৫৬৬০৮০।

খোলার সময়:

শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

কীভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে ফয়’স লেক যেতে হলে আগে আপনাকে চট্টগ্রাম যেতে হবে। কমলাপুর টার্মিনাল থেকে বিআরটিসি করে আর সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভৃতি বাস করে আপনি চট্টগ্রাম যেতে পারেন। গ্রিনলাইন (০২-৭১০০৩০১), সোহাগ (০২-৯৩৪৪৪৭), সৌদিয়া (০১১৯৭০১৫৬১০), টি আর (০২-৮০৩১১৮৯), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১) ইত্যাদি পরিবহনের এসি বাস চট্টগ্রাম যায়। ভাড়া ৮৫০-১১০০ টাকা। আর এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল প্রভৃতি পরিবহনের সাধারণ বাসে ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা।

সোর্স: Ilmu Semesta

সিলেট থেকে সড়ক ও রেলপথে চট্টগ্রাম আসা যায়। সড়কপথে গ্রিনলাইন পরিবহনের এসি, নন এসি বাস যায় চট্টগ্রাম। এছাড়া সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে সপ্তাহের শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, সপ্তাহের রবিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস এবং সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে মেইল ট্রেন জালালাবাদ এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে। ভাড়া ১৭৫ থেকে ১,২০০ টাকা।

ট্রেনে বা রেলপথে চট্টগ্রাম:

ট্রেনে ঢাকা-চট্টগ্রামের রুটে মহানগর প্রভাতী ঢাকা ছাড়ে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে, চট্টলা এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ২০ মিনিটে, মহানগর গোধূলি ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৩টায়, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে, তূর্ণা ঢাকা ছাড়ে রাত ১১টায়। ভাড়া ১৬০ থেকে ১১০০ টাকা।

বিমানে বা আকাশপথে চট্টগ্রাম:

ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান (০২-৯৫৬০১৫১-১০), জিএমজি এয়ারলাইনস (০২-৮৯২২২৪৮) ও ইউনাইটেড এয়ার (০২-৮৯৫৭৬৪০), রিজেন্ট এয়ারে (০২-৮৯৫৩০০৩) সরাসরি চট্টগ্রাম যাওয়া যায়।

ফয়’স লেকে ভ্রমণেরও ব্যবস্থা আছে। সোর্স: Dhaka Tribune

চট্টগ্রাম থেকে ফয়’স লেক:

চট্রগ্রাম শহরের জিইসি মোড় থেকে সিএনজিতে ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা নেবে। রিক্সায় নেবে ৪০ টাকা। এক বিকেলে ঘুরে শেষ করা যাবে না, তাই একদিনের প্ল্যান থাকলে সকাল বেলা চলে যাওয়াই ভালো।
বদ্ধভূমিতে একাত্তরের বীরদের সম্মান জানাতে চাইলে ফয়’স লেক নেমে সেখানে থেকে দুই মিনিট পূর্বদিকে হাটলেই দেখা পাবেন বধ্যভূমিটি। মূলত জিইসি যাওয়ার পথে এই বদ্ধভূমির পাশ দিয়েই গাড়ি যায়।

কোথায় থাকবেন

ফয়েজ লেকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আছে বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা। পাহাড়ের ধারে লেকের পাড়ে রয়েছে দারুণ সব কটেজ ও রিসোর্ট। নবদম্পতিদের জন্য রয়েছে হানিমুন কটেজ। অবশ্য ইচ্ছা করলে অন্য আবাসিক হোটেলে থেকেও আপনি ফয়’স লেক ঘুরে দেখতে পারেন। এন্ট্রি ফি ও রাইড খরচটা হাতের নাগালেই। থিম পার্ক ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামাউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডে প্রবেশসহ সব রাইড ২০০ টাকা, ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড কনকর্ড প্রবেশসহ সব রাইড ৩৫০ টাকা। রিসোর্ট ও কটেজ ভাড়া ফয়েজ লেক রিসোর্টে প্রতিদিন রাত যাপন দুই হাজার ৫০০ থেকে সাত হাজার টাকা এবং রিসোর্ট বাংলোয় প্রতিদিন রাত যাপন দুই হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকা।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাম্পানও আছে লেকে। সোর্স: Chittagong

এছাড়া চট্টগ্রামে নানান মানের হোটেল আছে। নীচে কয়েকটি বাজেট হোটেলে নাম ঠিকানা দেয়া হলো। এগুলোই সবই মান সম্পন্ন কিন্তু কম বাজেটের হোটেল।
১. হোটেল প‌্যারামাউন্ট, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম : নুতন ট্রেন স্টেশনের ঠিক বিপরীতে। আমাদের মতে বাজেটে সেরা হোটেল এটি। সুন্দর লোকেশন, প্রশস্ত করিডোর (এত বড় কড়িডোর ফাইভ স্টার হোটেলেও থাকেনা)। রুমগুলোও ভালো। ভাড়া নান এসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, ডাবল ১৩০০ টাকা, এসি ১৪০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা। বুকিং এর জন্য : ০৩১-২৮৫৬৭৭১, ০১৭১-৩২৪৮৭৫৪
২. হোটেল এশিয়ান এসআর, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম : এটাও অনেক সুন্দর হোটেল। ছিমছাম, পরিছন্ন্ হোটেল। ভাড়া : নন এসি : ১০০০ টাকা, নন এসি সিঙ্গেল। এসি : ১৭২৫ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭১১-৮৮৯৫৫৫
৩. হোটেল সাফিনা, এনায়েত বাজার, চট্টড়্রাম : একটি পারিবারিক পরিবেশের মাঝারি মানের হোটেল। ছাদের ওপর একটি সুন্দর রেস্টুরেন্ট আছে। রাতের বেলা সেখানে বসলে আসতে ইচ্ছে করবেনা। ভাড়া : ৭০০ টাকা থেকে শুরু। এসি ১৩০০ টাকা। বুকিং এর জন্য -০৩১-০৬১৪০০৪
৪. হোটেল নাবা ইন, রোড ৫, প্লট-৬০, ও,আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম। একটু বেশী ভাড়ার হোটেল। তবে যারা নাসিরাবাদ/ও আর নিজাম রোড এলাকায় থাকতে চান তাদের জন্য আদর্শ। ভাড়া : ২৫০০/৩০০০ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭৫৫ ৫৬৪৩৮২
৫. হোটেল ল্যান্ডমার্ক, ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম : আগ্রাবাদে থাকার জন্য ভালো হোটেল। ভাড়া-২৩০০/৩৪০০ টাকা। বুকিং এর জন্য: ০১৮২-০১৪১৯৯৫, ০১৭৩১-৮৮৬৯৯৭
তথ্যসূত্র:
১। http://www.bhorerkagoj.net/print-edition/2017/06/17/151896.php
২। http://www.chittagong.gov.bd/site/top_banner/174829d7-2147-11e7-8f57-286ed488c766/
ফিচার ইমেজ: আনোয়ার পারভেজ

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঐতিহ্যবাহী চেরাগী পাহাড়: যেখান থেকে আলোকিত হয় চট্টগ্রাম

বায়েজিদ বোস্তামির মাজারে একদিন