ফিরে দেখা ময়মনসিংহ শহর

Exif_JPEG_420

ট্রেন থেকে নামার পর মনে হলো আজকে কপালে শনির দশা আছে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মুষলধারাতে পরিণত হচ্ছে। স্টেশন মাস্টারের সাথে কথা বলার সাথে সাথেই দেখিয়ে দিল টিকেট কাউন্টার। আমাদের প্ল্যান ছিল ট্রেন থেকে নামার সাথে সাথেই ঢাকার ফিরতি টিকেট কেটে ফেলবো। কিন্তু বিধিবাম। রেলওয়ের টিকেট যে সোনার হরিণ এই প্রবাদখানা আবার প্রমাণিত হলো।

কী আর করার, ছোট ভাই মেহেদীকে নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বের হলাম। ময়মনসিংহ শহরের কোন দর্শনীয় স্থানটি আগে দেখা যায় সেইটা নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম। এরই মধ্যে মেহেদী গাই গুই করতে লাগলো ভাই বাসের টিকেটটা কেটে ফেলি না হলে পরে কিন্তু ঢাকায় ফিরতে পারুম না। সদা চঞ্চল মেহেদীকে বুঝাতে সক্ষম হইলাম বাসের টিকেট যে কোনো সময়ই পাওয়া যাবে। নো টেনশন ম্যান। অল রেডি হুমকি দিয়ে রাখলো টিকেট না পেলে আমার খবর আছে। স্টেশন থেকে টাউন হলের অটো বাইকে উঠলাম। টাউন হলের আগেই যে শশীলজ পড়ে যাবে সেটা ধারণা ছিল না। সময় নষ্ট না করে ঢুকে পড়লাম ভেতরে।

ছবি- offroadbangladesh.com

এককালের রাজবাড়ী এখন মহিলা টির্চাস ট্রেনিং কলেজ। সবচেয়ে অবাক লাগলো শশীলজের ইতিহাস নিয়ে ভেতরে কোনো সাইন বোর্ড নেই। সংস্কারের কাজ চলছে দেখে ভেতরে ঢুকতে পারলাম না। বাড়ীর গঠন শৈলীতে রেনেসাঁ যুগের স্থাপনার বেশ মিল পাওয়া যায়। বাড়ীর মূল ফটকে ১৬টি গম্বুজ দেখা যায়। শশীলজের মূল ভবনের সামনে রয়েছে বাগান। সেই বাগানের মাঝখানে আছে শ্বেতপাথরের ফোয়ারা, যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে গ্রিক দেবী ভেনাসের স্বল্পবসনা স্নানরত মর্মর মূর্তি।

বাগানের ঠিক পেছনেই লালচে ইট আর হলুদ দেয়ালে নির্মিত শশী লজ। এর পাশেই রয়েছে পদ্মবাগান। এখানে রয়েছে দুর্লভ প্রজাতির নাগলিঙ্গম গাছ, যা হাতির খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হতো। তবে গাছ নিয়ে আমাদের ধারণা কম থাকায় খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হলো। তবে মন থেকে নিশ্চিত হতে পারলাম না এটাই সেটা নাকি। যাক, সেখান থেকে বের হয়ে আমরা ঠিক করলাম হাসান মঞ্জিল দেখবো।

হাসান মঞ্জিল ডায়াবেটিক সমিতি নামেই এখন বেশি পরিচিত। আমাদের জানার ভুলের কারণে চতুর্দিকে ঘুরপাক খেয়ে চলে গেলাম ডায়াবেটিকস ক্লিনিকে। সে এক বিশাল কাহিনী। শেষ পর্যন্ত হাসান মঞ্জিল খুঁজে পেলাম এবং তাকে পেয়েছি বলে কিছুক্ষণ মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলাম। এটি ময়মনসিংহ শহরের প্রথম মুসলিম স্থাপনা। মধুপুরের নবাবরা নিজেদের অবকাশ যাপনের জন্য এই হাসান মঞ্জিল নির্মাণ করেন। মানব সভ্যতা কতটা অপূর্ব। প্রতিটি পুরনো বাড়ী আপনার সাথে কথা বলবে, যদি তার ভাষা আপনি বোঝেন। দেখা শেষ করে যখন বের হলাম, এর খানিকটা কাছে অবস্থিত মদন বাবুর বাড়ী দেখতে আসলাম।

হাসান মঞ্জিল, ছবি – আশিক সারওয়ার

জমিদার মদন বাবুর বাগান বাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত করা হয় ময়মনসিংহ বা মোমেনশাহী জাদুঘর। অমৃত বাবু রোডের ১৭নং বাড়ীটি এখন এই অঞ্চলের ঐতিহ্য, লোকজতা, সংস্কৃতিকে বহন করছে। ১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহ জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়। শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত, নাট্যকলা বিকাশে ময়মনসিংহ অঞ্চলে জমিদারদের যে ভূমিকা ছিল, জাদুঘরে সংগ্রহিত শিল্প সামগ্রী তারই নজির। মু‌ক্তাগাছা, গৌরপুর, আঠারবাড়ি জমিদারদের আসবাবপত্র, অন্যান্য সামগ্রী ও নির্দশন এই জাদুঘরে গেলে দেখতে পাবেন।

বর্তমানে জাদুঘরটি জেলার অন্যতম পর্যটক আর্কষণ। রবিবার জাদুঘরটির সাপ্তাহিক বন্ধ। তবে মোমেনশাহী জাদুঘর যেন দৈনদশার অসহায় চিত্র। বাংলাদেশের অবহেলিত বা বিলুপ্ত প্রায় মিউজিয়ামের লিস্ট যদি করা হয় এই জাদুঘর ১ নাম্বারে থাকবে। যে জিনিসটা সবচেয়ে খারাপ লেগেছে জাদুঘরের ভেতরে এক কোনায় পর্দা দিয়ে অফিস রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাদুঘরের স্টাফরা দর্শনার্থী দেখে অবাক।

এখানে সচারচর কাক পক্ষীও ঢুঁ মারে না ছুটির দিন ছাড়া। তারা অভিযোগ করার জন্য ইনফ্লুয়েন্স করলো। কিন্তু যার কাছে করবো সে অফিসে আসেনি। সময়ের অভাবের কারণে আমরাও তার জন্য দাঁড়াবার আগ্রহ বোধ করলাম না। এখান থেকে বের হবার পর আমাদের পরবর্তী ডেস্টিনেশন ছিল ব্রহ্মপুত্রের পাড়।

ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত বিপিন পার্ক, ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে অবস্থিত সার্কিট হাউজ পার্কের বেশ নাম ডাক শুনেছি। সময়ের অভাবের কারণে আমরা সার্কিট হাউজ পার্কে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কারণ এই পার্কের শেষ মাথায় আছে জয়নুল আবেদীন স্মৃতি জাদুঘর ও সংগ্রহশালা। ঘড়ির কাটায় বাজে তখন দুপুর ১২টা। আমরা আবার টাউন হলের মোড়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। এখানে এসে ট্র্যাফিক পুলিশকে জিজ্ঞেস করা মাত্রই দেখিয়ে দিল পার্কের অবস্থান। চমৎকার আবহাওয়া যেন হাঁটার বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

দুপুরের তপ্ত রোদ ব্রহ্মপুত্রের হাওয়ায় যেন কোথায় উড়িয়ে নিয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে প্রথম দর্শনে চোখ পড়লো লাল একটা বিল্ডিং। মেহেদী আর আমি একটু কনফিউজড হয়ে গেলাম এটা কি স্কুল না কি অন্য কিছু। কারণ আশেপাশে স্কুলের ছাত্ররা প্যারেড করছিল। পরে এক ভদ্রলোকের কাছে জানতে পারলাম ইহা জেলার সার্কিট হাউজ। পার্কের ভেতরের পরিবেশ বেশ মনোরম। উঠতি বয়সী ছেলে-পেলে থেকে শুরু করে বুড়া জোয়ান সবাই এই পার্কে ঘুরতে আসে। আমরা যখন গিয়েছি, স্কুল ছুটির সময়। ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত সার্কিট হাউজ পার্ক শহরবাসীর প্রাণের মূল উৎস। বুক ভরা শ্বাস নেবার জন্য চমৎকার একটি জায়গা। পার্ক ঘেঁষে ব্রহ্মপুত্র নদে আছে বেশ কয়েকটা ঘাট। ঘাটগুলোতে সব সময় নৌকা বাধা থাকে। ইচ্ছে করলে নৌকায় করে ঘুরতে পারেন ব্রহ্মপুত্র নদ।

নদ না বলে এখন এটাকে খাল বলা যায়। মানব নামক দানবের স্পর্শে আর কিছুদিন পর মৃতপ্রায় নদীর লিস্টে ঢুকে যেতে পারে ব্রহ্মপুত্রের নাম। কিছু দূর হাঁটার পর খেয়াল করলাম পার্কের এক কোনায় মিনি চিড়িয়াখানা আর শিশুপার্কও আছে। আলাদাভাবে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। চিড়িয়াখানায় ঢুকলে এক দুঃখী ভাল্লুক দেখতে পাবেন। এটাকে চিড়িয়াখানা না বলে এনিমেল টর্চার সেলও বলা যেতে পারে। হাঁটতে হাঁটতে চলে আসলাম একবারে শেষ প্রান্তে।

দুঃখী ভাল্লুক, ছবি – আশিক সারওয়ার

এখানে এসে জয়নুল আবেদীন স্মৃতি জাদুঘর ও সংগ্রহশালার সাইনবোর্ড দেখতে পেলাম। দেরি না করে ঢুকে পড়লাম। মেইন গেটের আগেই আছে শিল্পাচার্যের মূর্তি। তার সাথে সেলফি তোলা ফরজ হয়ে গেল। দেরি না করে মেহেদী আর আমি দু তিনটা সেলফি নিলাম। এই সংগ্রহশালাটি প্রতিদিন শনি থেকে বুধবার সকাল ৯.৩০ থেকে ৪.৩০ পর্যন্ত এবং শুক্রবার দুপুর ২.৩০ থেকে সন্ধ্যা ৭.৩০ পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বন্ধ।

দেরি না করে ভেতরে ঢুকে পড়লাম আর হারিয়ে গেলাম অন্য জগতে। এত অসাধারণ একটা মানুষ অথচ তাকে নিয়ে নেই কোনো প্রচার প্রচারণা। সিম্পল একটা জিনিসকেও তুলির ছোঁয়ায় করে তুলেছেন অতুলনীয়। সেজন্যই হয়তো তার নাম শিল্পাচার্য। তার কর্ম নিয়ে কোনো প্রচার প্রচারণা নেই এই জিনিসটা সবচেয়ে খারাপ লাগলো। এই জাদুঘরে আসলে শিল্পীর সংগ্রহের পাশাপাশি দেখতে পাবেন তার বর্ণাঢ্য জীবনের বেশ কিছু ছবি।

ঘোরের জগৎ থেকে যখন জাগলাম তখন ঘড়ির কাটায় পাক্কা ২টা বাজে। পেটটাও বেশ চো চো করছে। আবার টাউন হলে ফেরত আসলাম। আসার আগে শুনেছিলাম, ময়মনসিংহ শহরে খন্দকার হোটেলের খাবারের মান বেশ ভাল। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার আশেপাশের লোকজন কেউ ঠিক মতো বলতে পারলো না হোটেলের অবস্থান। খুঁজতে খুঁজতে এসে পড়লাম দূর্গাবাড়ী রোডে।

ধৈর্য্যের বাধ ভেঙে গেলে আশেপাশে ভালোমতো চোখ বুলানোর পর দেখতে পেলাম একটা বিল্ডিংয়ের দোতলায় রান্নাঘর নামক একটি সাইন বোর্ড টানানো। দেরি না করে উঠে পড়লাম। এই হোটেলটা ময়মনসিংহে নতুন খুলেছে। মালিক বেশ অমায়িক। ভাতের সাথে তিন চার পদের ভর্তা আর ডাল। ভ্রমণের ক্লান্তি মিটিয়ে দিল। হোটেল থেকে বের হয়ে দেখলাম হাতে বেশি সময় নেই।

মুক্তাগাছা রাজবাড়ী, ছবি – আশিক সারওয়ার

আবার টাউন হলে আসলাম মুক্তাগাছা যাবার উদ্দেশ্যে। টাউন হল থেকে মুক্তাগাছা যাবার সি এন জি ছাড়ে। ময়মনসিংহ ঘুরতে এসে মুক্তাগাছা না আসলে ভ্রমণে অপূ্র্ণতা থেকে যায়। রাজবাড়ীর জন্য হক বা মন্ডার লোভে আসতে হবে আপনাকে মুক্তাগাছা। মুক্তাগাছা ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি দূরে অবস্থিত। মুক্তাগাছার মন্ডার সাথে সাথে বিখ্যাত তার রাজবাড়ী। বলা যেতে পারে, এটা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজবাড়ী। আমাদের যাত্রাপথে বৃষ্টি আরেকবার হানা দিল। এ যেন পুরো লন্ডনের অবহাওয়া। কখন যে বৃষ্টি আসছে আর যাচ্ছে কিছু আন্দাজ করা যায় না।

আমাদের সি এন জি রাজবাড়ীর একটু আগে নামিয়ে দিল। এরপর রিক্সা করে হাওয়া খেতে খেতে এসে পড়লাম রাজবাড়ীর গেটের সামনে। প্রথম নজরে সদর দরজা দেখে আমি আর মেহেদী মুগ্ধ। এ যেন না জানা ইতিহাস আমাদের হাত নেড়ে ডাকছে। দেরি না করে ভেতরে ঢুকে পড়লাম। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে উপর দিয়া ফিটফাট ভিতর দিয়া সদরঘাট। হতাশা ব্যাপকভাবে জাকিয়ে বসলো। এত সুন্দর রাজবাড়ী সংরক্ষণের কোনো নাম গন্ধ নেই। হতাশা নিয়েই মুক্তাগাছার রাজবাড়ীর ইতিহাস নিয়ে একটু বয়ান করা যাক।

“প্রায় ১০০ একর জায়গার উপর স্থাপিত এই রাজবাড়ীটি গোড়াপত্তন করেন জমিদার শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী। ১৭২৫ সালের আগে মুক্তাগাছা রাজবাড়ীর আগের নাম ছিল বিনোদবাড়ী। আলীবর্দী খাঁ নবাবী লাভের পরে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী নিজ ক্ষমতায় তার নামে দিল্লী দরবার থেকে শাহী ফরমান এনে দিলে পুরষ্কার স্বরূপ নবাব তাকে এই বিনোদ বাড়ী জমিদারি দান করেন। জমিদারের পূর্ব পুরুষরা ছিলেন বগুড়ার অধিবাসী। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য প্রথম বগুড়া থেকে নৌকাযোগে ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে ময়মনসিংহে আসেন।

তারা আসার আগে এই জায়গা বসবাসের উপযুক্ত ছিল না। জমিদার এবং তার ৪ ছেলে এই জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বসবাসের উপযোগী করে তোলেন। পরবর্তীতে এখানেই গোড়াপত্তন হয় মুক্তাগাছা জমিদারির। এই বংশে প্রথম রাজা উপাধি লাভ করে সূর্য্যকান্ত। এরপর থেকেই এই বাড়ীটি মুক্তাগাছার রাজবাড়ী হিসেবে বেশি পরিচিত।”

মুক্তাগাছার মন্ডা, ছবি – আশিক সারওয়ার

প্রায় ৩০০ বছর বয়সী রাজবাড়ীটি টিকে থাকলেও নেই সেই আগের রূপ। এই বাড়ীর দরজা জানালা থেকে শুরু করে দামি আসবাবপত্র আগেই চুরি হয়ে গেছে। তবুও কালের সাক্ষী হয়ে যেন দাঁড়িয়ে আছে এই রাজবাড়ীটি। ইতিহাস আর এক বুক নিঃশ্বাস। সংরক্ষণের অভাবে এভাবেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য। ইতিহাস পাতিহাসের শিক্ষা নিতে নিতে আবার মনে পড়ে গেল মন্ডা খাবার কথা। হতাশা বাতাসা মন্ডা খেয়ে যদি কিছুটা কমে।

লোকাল মানুষদের জিজ্ঞেস করতে করতে পৌঁছে গেলাম মন্ডার দোকানে। মন্ডার দোকান চালাচ্ছে এখন গোপাল পালের বংশধর। এই সেই বিখ্যাত গোপাল পাল যিনি রাজ পরিবারের পূজোর ভোগ তৈরি করতেন। কথা না বাড়িয়ে খাওয়া যাক মুক্তাগাছার বিখ্যাত মন্ডা। এখন মন্ডার দাম ২২ টাকা। এখানেই আমার ভ্রমণ ফিরিস্তি শেষ করতে চাই। অনেক স্মৃতি নিয়ে যাচ্ছি এই শহর থেকে। আবার দেখা হবে নতুন কোনো শহরে।

Loading...

One Comment

Leave a Reply
  1. ভালো লাগলো। অনেক কিছুই জানতে পারলাম। এ ভ্রমণ অব্যাহত থাকুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝলমলে জয়পুরে

নো ম্যান্স ল্যান্ডে অরণ্য-অধরা