শীতকালীন ভ্রমণের জন্য একদম আদর্শ স্থান মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ

ভ্রমণের জন্য ইউরোপের দেশগুলো সারা বছরই কমবেশি আরামদায়ক জায়গা হলেও মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ ভ্রমণের উৎকৃষ্ট সময় হলো শীতকাল। বরফাচ্ছাদিত নদী, তুষারাবৃত পরিবেশ সত্যিই খুব মনোমুগ্ধকর।

বছরের এই সময়টাতে মধ্য ইউরোপের শহরগুলো খুব প্রাণবন্ত রূপ ধারণ করে, যা গ্রীষ্মকালে তেমন একটা দেখা যায় না। তাই এই লেখায় ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ইউরোপ ভ্রমণের জন্য দশটি জায়গার বর্ণনা দেয়া হলো, যেগুলো শীতকালীন ভ্রমণের জন্য একদম আদর্শ স্থান।

বোহিঞ্জ হ্রদ, স্লোভেনিয়া; সোর্সঃ thinkslovenia.com

১. বোহিঞ্জ হ্রদ, স্লোভেনিয়া (Lake Bohinj, Slovenia)

ধূসর ও ভঙ্গুর জুলিয়ান আল্পসে ঘেরা বহিন হ্রদ প্রকৃতির এক অদ্ভুত সুন্দর সৃষ্টি। প্রায় ৭৯০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত বহিন লেক দেশটির বৃহত্তর লেকগুলোর একটি। ৪.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও সর্বোচ্চ ১ কিলোমিটার প্রস্থের লেকটি আদতে একটি গ্লেসিয়ার লেক যা বরফ গলা পানি থেকে সৃষ্ট।

শীতকালে সম্পূর্ণ জমে যাওয়া এই লেকটি ইউরোপের সেরা প্রাকৃতিক স্কেটিং রিং হিসেবে পরিচিত। দৃষ্টিনন্দিত এই লেকটি আপনার ভ্রমণ জীবনের সেরা একটি অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। সাথে স্মৃতির পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেই থাকবে।

ড্যানজিগ, পোল্যান্ড; সোর্সঃ independent.co

২. ড্যানজিগ, পোল্যান্ড (Gdansk, Poland)

ড্যানজিগ পোল্যান্ডের সুন্দরতম শহরগুলোর একটি। এটি বালটিক সাগরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত। প্রায় সাড়ে চার লক্ষ জনসংখ্যার এই শহরটি পোল্যান্ডের পোমারানিয়া রিজিওনের সর্ববৃহৎ শহর। জার্মান ও প্রুশিয়ার মধ্যভাগে অবস্থিত এই শহরটিকে পোল্যান্ডের করিডোর বলা হয়।

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের অভূতপূর্ব নিদর্শন ছড়িয়ে আছে সারা শহর জুড়ে। পোল্যান্ডের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বেশ কয়েকটি স্থাপত্য নিদর্শন দাঁড়িয়ে রয়েছে সারা শহর জুড়ে।

দ্রুসকিনিনকে, লিথুয়ানিয়া; সোর্সঃ lithuania.travel

৩. দ্রুসকিনিনকে, লিথুয়ানিয়া (Druskininkai, Lithuania)

লিথুয়ানিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শহরটি বেলারুশ ও পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছেই অবস্থিত। মাত্র ২৩ হাজার জনসংখ্যার ছোট শহরটি ভ্রমণার্থীদের জন্য বেশ আকর্ষণীয় স্থান। সুউচ্চ পাহাড়, লেক, নদী, বনাঞ্চলসহ নানা নৈসর্গিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এই শহরটি।

নেমানাস নামের নদীটি শহরের প্রধান নদী। শহরের বাইরে অবস্থিত গ্রুটাস পার্কে কমিউনিস্ট যুগের নানা স্থাপনা রয়েছে। শীতকালীন ভ্রমণের জন্য এই শহরটি আপনার বাকেটলিস্টে অবশ্যই থাকা উচিত।

বেলগ্রেড, সার্বিয়া; সোর্সঃ lonelyplanet.com

৪. বেলগ্রেড, সার্বিয়া (Belgrade, Serbia)

সার্বিয়ার রাজধানী এবং বৃহত্তম নগরী বেলগ্রেড সাভা ও দানিয়ুব নদীর মোহনায় অবস্থিত। এটি দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বৃহত্তম নগরী। পূর্ব ইউরোপে ইস্তাম্বুল, এথেন্স এবং বুখারেস্টের পর এটি চতুর্থ বৃহত্তম শহর।

সুন্দর ছিমছাম এই শহর বছরের বেশিভাগ সময়ই থাকে বরফাচ্ছাদিত। কালেমেগদান পার্ক, বেলগ্রেড দুর্গ, চার্চ সেন্ট সাভা, নিকোলা টেসলা মিউজিয়াম শহরের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম।

কারকনসজি, চেক রিপাবলিক; সোর্সঃ wellnesshouses.eu

৫. কারকনসজি, চেক রিপাবলিক (Krkonose, Czech Republic)

কারকনসজি চেক প্রজাতন্ত্র ও পোল্যান্ডের মধ্যে অবস্থিত সুউচ্চ পর্বতমালা যার সর্বোচ্চ চূড়া প্রায় ১,৬০৩ মিটার দীর্ঘ। এই পাহাড়কে ঘিরেই গড়ে উঠেছে চেক প্রজাতন্ত্র ও পোল্যান্ডের বিশাল পর্যটন শিল্প।

এই পর্বতমালার দক্ষিণ অংশে রয়েছে কিছু ঝর্ণা, যা দর্শনার্থীদের মন জয় করে নিমেষেই। এটি একটি একটিভ উইন্টার জোন যেখানে স্পা কিংবা সুইমিংয়ের মতো সুবিধাগুলো পাবেন।

বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরী; সোর্সঃ edition.cnn.com

৬. বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরী (Budapest, Hungary)

বুদাপেস্ট হাঙ্গেরির রাজধানী ও প্রধান শহর যা দেশটির রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, সামাজিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থল। বুদাপেস্ট ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর। এই শহরের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে দানিয়ুব নদীর তীর, বুদা প্রাসাদ, আন্দ্রেসি এভিনিউ, হিরো’স স্কয়ার এবং মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ।

মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন পাতাল রেলপথ। বুদাপেস্টে অবস্থিত হাঙ্গেরীয় সংসদ ভবন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সংসদ ভবন। প্রতি বছর বুদাপেস্টে ৪.৩ মিলিয়ন পর্যটন আসে। ইউরোমনিটরের এক জরিপ অনুসারে পর্যটকদের কাছে বুদাপেস্ট বিশ্বের ২৫তম জনপ্রিয় শহর।

তালিন, এস্তনিয়া; সোর্সঃ lonelyplanet.com

৭. তালিন, এস্তনিয়া (Tallinn, Estonia)

তালিন এস্তনিয়ার রাজধানী ও সর্ববৃহৎ শহর। দেশের সর্বউত্তরে অবস্থিত শহরটি ভ্রমণ পিপাসীদের জন্য অনন্য এক স্থান। ওল্ড টাউন, কুমু, তালিন সং ফেস্টিভাল গ্রাউন্ড, ভিরু গেট, সিটি সেন্টার ইত্যাদি শহরটির উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।

ওল্ড টাউন ইউরোপের মধ্যযুগীয় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত। বেশ কয়েক বছর আগে একে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

অরিদ, মেসেডোনিয়া; সোর্সঃ yahoo.com

৮. অরিদ, মেসেডোনিয়া (Ohrid, Macedonia)

মেসেডোনিয়ার ৮ম বৃহৎ শহর অরিদ মূলত সাংস্কৃতিক দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। প্রায় ৫০ হাজার লোকের বাস এ শহরটিতে। ইউনেস্কো একে কালচারার ও ন্যাচারাল উভয় দিক থেকেই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা দেয়। নয়নাভিরাম অহরিদ লেক ইউরোপের অন্যতম লেকগুলোর মধ্যে একটি।

দুব্রভনিক, ক্রোয়েশিয়া; সোর্সঃ earthtrekkers.com

৯. দুব্রভনিক, ক্রোয়েশিয়া (Dubrovnik, Croatia)

ঐতিহাসিক ভাবে সমৃদ্ধ ক্রোয়েশিয়ার এই ছোট শহরটিকে ইউনেস্কো ১৯৭৯ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট বলে ঘোষণা দেয়।

ওল্ড সিটি অব দুব্রভনিক, স্পঞ্জা প্যালেস, রেক্টর’স প্যালেস, সিটি ওয়াল’স, স্ট্রাডান, মেইন স্ট্রিট এই শহরের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।

স্টারি স্মোকোহভেক, স্লোভাকিয়া; সোর্সঃ high-tatras.travel

১০. স্টারি স্মোকোহভেক, স্লোভাকিয়া (Stary Smokovec, Slovakia)

স্লোভাকিয়ার এ শহরটি স্কিয়িং এবং হাইকিং-এর জন্য বিশেষ পরিচিত। টাট্রা পর্বতমালায় ঘেরা এ শহরটি থেকে পর্বতের এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।

পর্বতের শীর্ষ চূড়া ২,৪৫২ মিটার উঁচু যা স্লোভাকিয়ার ৪র্থ সর্বোচ্চ স্থান। চূড়ায় আরোহণ করতে সাধারণত চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগে। শীতকালে সম্পূর্ণ বরফাচ্ছাদিত স্টারি স্মোকোহভেক ভ্রমণের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।

ফিচার ইমেজঃ onuvromon.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রিয় শীত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আর কালাই রুটি!

প্রকৃতির রহস্যময় সৃষ্টি 'আলুটিলা গুহা'