স্কাইডাইভিং, ক্যাম্পিং, স্কুবায় দুবাই অ্যাডভেঞ্চারে মগ্ন বিশ্ব

বিশ্ব মানচিত্রে দুবাইয়ের আগের পরিচয় ছিল সুউচ্চ ভবন, বিলাসবহুল হোটেল আর শপিং মলে কাড়ি কাড়ি টাকা ফেলে আসার জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে দুবাই এগুলো থেকে ভালোভাবে বেরিয়ে এসে নিজের নামের সাথে অ্যাডভেঞ্চারের তকমা লাগিয়ে নিয়েছে। তাতেই মজেছে পুরো বিশ্ব। ট্রানজিটের জন্য আগে থেকেই বিখ্যাত দুবাইয়ে তাই পর্যটকরা বেছে নিচ্ছে নানা রকম অ্যাডভেঞ্চার। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে এপ্রিল যখন দুবাইয়ে গরম একটু কম থাকে, তখনই ভিড় লেগে থাকে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের। আসুন দেখে নেই কী সেগুলো।

স্কাই ডাইভিং:

দুবাইয়ের এ মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার হচ্ছে স্কাই ডাইভিং। এমনিতেই এ শহরটির সৌন্দর্য স্থলভাগ থেকেই উপভোগ করা যায়, তবে স্কাই ডাইভিং করতে পারলে যে দৃশ্যগুলো দেখতে পাবেন সেটার তুলনা নেই কোনো। দুবাইয়ে দুই জায়গায় স্কাই ডাইভিং করা যায়। যার একটি সেখানকার বিখ্যাত পাম দ্বীপের উপর থেকে, আর অন্যটি মরুভূমিতে।

ডাইভ দিতে পারেন মরুভূমির উপরও; ছবি- visitdubai.com

বিশ্ব মানচিত্রের আদলে তৈরী পাম দ্বীপের উপর থেকে স্কাই ডাইভিংটা বেশি জনপ্রিয়। দুবাই মেরিনা থেকে বিমানে উঠে একজন প্রশিক্ষিত ডাইভার তার সাথে বেঁধে নেন পর্যটককে। দুজনে প্রথমে কিছুক্ষণ সরাসরি নিচে নামতে থাকেন, এই অংশটাই ভয়াবহ। তারপর বেশ কিছুক্ষণ নামার পরে প্যারাসুট খুলে গেলে এবার নিশ্চিন্তে বাকি সাগরের মধ্যে গড়ে ওঠা এ দ্বীপের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে নির্ধারিত ল্যান্ডিং পয়েন্টের দিকে যেতে পারবেন।

স্কাই ডাইভিং করতে হলে সাহসের পাশাপাশি টাকাও থাকা লাগবে। ট্যান্ডেম ডাইভের জন্য খরচ পড়বে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০,০০০ টাকা। যোগাযোগের ঠিকানা: 
Skydive Dubai, off Al Sufouh Road, Dubai Marina; +971 50 153 3222;

মাউন্টেইন বাইকিং:

বর্তমানে সারা বিশ্বেই মাউন্টেইন বাইকিং বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পিছিয়ে নেই আমাদের দেশও। এখন আমাদের পার্বত্য এলাকাগুলোতে নিয়মিতই মাউন্টেইন বাইকিং করতে দেখা যায়। দুবাইয়ের মতো মরুভূমির শহরকে কেউ কোনো দিন মাউন্টেইন বাইকিংয়ের গন্তব্য হিসেবে চিন্তা করেনি। অথচ এখন তাই হচ্ছে। আসলে সুপরিকল্পিতভাবেই দুবাই সেটার আয়োজন করেছে।

পাথুরে পর্বতে করতে পারবেন মাউন্টেইন বাইকিং ছবি insyno.com

দুবাই ভিত্তিক মাউন্টেইন বাইকিং ক্লাব “হট কগ” শহরের পূর্বদিকে হাজারা পর্বতে ৭০ কি.মি. লম্বা অসাধারণ একটি বাইক ট্রেইল বের করেছে। পাথুরে পথ আর পর্বতের গায়ের সংকীর্ণ এ পথ ধরে সাইক্লিং করার সময় দেখা মিলবে গাধা, বন্য ছাগল, পর্বতের টিকটিকি বা বিষধর সাপের। সাইকেল সহ এ ধরনের ট্রিপের খরচ পড়বে মোটামুটি ৮,০০০ টাকার মতো। যোগাযোগের ঠিকানা:  Absolute Adventure, Absolute Adventure Center, Dibba; +971 4 345 9900

মরুভূমিতে ক্যাম্পিং:

বর্তমান সময়ে ক্যাম্পিং খুবই জনপ্রিয় একটি অ্যাডভেঞ্চার। সারা বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশের মানুষজনও এখন ক্যাম্পিং করছে বনে, জংগলে, সমুদ্র সৈকত, পাহাড় আর হাওরে। তবে মরুভূমিতে ক্যাম্পিং সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা এনে দেবে। ডিসকভারি আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে দেখা টিভি প্রোগ্রামের মতো মরুভূমিতে ক্যাম্পিং আপনিও করতে পারেন দুবাইতে।

মরুভূমিতে ক্যাম্পিংয়ে অনুভব করতে পারবেন বেদুইন জীবন-যাত্রা ছবি ছবি insyno.com

আর এজন্য আপনার নিজের কোনো ক্যাম্পিং গিয়ার থাকারও প্রয়োজন নেই। দুবাইয়ে অনেকগুলো ট্রাভেল এজেন্সী আছে যারা যাবতীয় সরঞ্জাম সহ ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করে থাকে। হাত্তার রাস্তায় যেতে মাত্র দু’ঘণ্টায় আপনি পৌঁছে যেতে পারবেন ক্যাম্প সাইটে। সেখানে বিকেলে মরুভূমির বুকে আয়োজন করা হবে বার-বি-কিউয়ের। ক্যাম্প সাইটে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বাথরুমও রয়েছে। রাতে মরভূমির বুকে তারা গুনে কাটিয়ে দিতে পারবেন সারা জীবন মনে রাখার মতো একটি রাত।

পরেরর দিন সকালে থাকে ফোরহুইল ড্রাইভ গাড়ীতে অ্যাডভেঞ্চার রাইড। চাইলে স্যান্ড বোর্ডও চালাতে পারেন মরুর বুকে। দুবাইয়ের একমাত্র বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে দেখতে পারবেন মরুভূমির প্রাণীও। দুই ধরনের হরিণ মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায় এ অভয়ারণ্যে। এগুলো হচ্ছে বিশাকৃতির ওরিক্স ও সাধারণ আকৃতির গ্যাজেলে। আরব্য রজণীর মতো রাত কাটাতে খরচ পড়বে জনপ্রতি ১৬,০০০ টাকার মতো। যোগাযোগের ঠিকানা:  Arabian Adventures, Emirates Holidays Building, Sheikh Zayed Road; +971 4 303 4888

ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখতে স্কুবা ডাইভিং:

মধ্যপ্রাচ্যের স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য লোহিত সাগরের নামই সব সময় শোনা যায়। তবে দুবাইও কিন্তু বেশ ভালো একটি ডাইভিংয়ের গন্তব্য। বিশেষ করে আপনার যদি ডুবে যাওয়া জাহাজে ডাইভিং করতে আগ্রহ থাকে তবে নিশ্চিন্তে বেরিয়ে পড়তে পারেন দুবাইয়ের বালির সমুদ্র সৈকত ধরে।

১৯৯৮ সালে ডুবে যাওয়া এংকর বার্জের উপর এখন গড়ে উঠেছে অনেকগুলো প্রবাল পাথর। এখানে ডাইভ দিয়ে ২৫ মিটার গভীরতায় দেখতে পাবেন বিখ্যাত রং পরিবর্তনকারী কাটল ফিশের। তার একটু দূরেই ২০০৬ সালে ডুবে যাওয়া মরিয়ম এক্সপ্রেসের দেখাও পাবেন। আর যদি আরও ভালো কিছু দেখতে চান যেতে পারেন ওমান উপসাগরের দিকে। অধিকাংশ হোটেল থেকেই আপনি চাইলে দেড় ঘণ্টায় গাড়িতে করে চলে যেতে পারবেন ওমান উপসাগরের দিকে।

স্কুবা ডাইভিং করতে পারবেন ওমান উপসাগরে ছবি insydo.com

তবে ওমানের জলসীমানায় অনেকগুলো দ্বীপ আর ডাইভিংয়ের জায়গা আছে যেখানে কয়েকদিনের জন্য যেতে পারেন। মূলত হাঙর দেখা যায় বলে এই জায়গাগুলো বেশি জনপ্রিয়। এছাড়া সামুদ্রিক কচ্ছপ, স্করপিয়ন ফিশ, ইল, প্যারোট ফিশেরও দেখা মেলে। দেখা মেলে তিমি হাঙরেরও। এখানে স্কুবা ডাইভিংয়ের একটা বড় সুবিধা হচ্ছে পানি উষ্ণ। ফলে ডাইভিংয়ের সময় পানির তাপমাত্রা কম হবার সমস্যাগুলোর মধ্যে পড়বেন না।

একদিনের ডাইভিংয়ের জন্য খরচ পড়বে মোটামুটি ৮,০০০ টাকার মতো। এর মধ্যে হোটেল থেকে পিক আপ-ড্রপ, দুপুরের খাবার, সব সরঞ্জামের ভাড়া আর দুটি ডাইভ অন্তর্ভূক্ত থাকবে। যোগাযোগের ঠিকানা:  Al Boom Diving, Al Wasl Road, Jumeirah; +971 4 342 2993

অ্যাডভেঞ্চারের সব আয়োজন কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। পরের পর্বে থাকবে দুবাইয়ের আরও কিছু জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার। এসব কারণেই সারা বিশ্বের পর্যটকরা অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বেছে নিচ্ছে দুবাইকে।

ফিচার ইমেজ: visitdubai.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সান্দাকফুর চূড়ায়!

থাইল্যান্ড ভ্রমণ: যে ৯টি কাজ অবশ্যই করবেন