বালির স্বপ্নজাদুঘর, উবুদ ও কফিফার্মের গল্পসল্প

আনিকা তাবাসসুম বৃষ্টি আপুকে আমরা ডাকি মেঘবালিকা। নামের সাথে মিল রাখার জন্যই হয়তো আপু ঘুরে বেড়ান মেঘের রাজ্যে। কদিন আগেই মেঘবালিকা ঘুরে এলেন ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে। বালি ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপ এলাকা ও প্রদেশ। বালি ও তার আশেপাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপমালা নুসা পেনিদা, নুসা লেমবনগান ও নুসা সেনিনগান নিয়ে প্রদেশ গঠিত হয়েছে। এর রাজধানী দেনপাসার দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।
আপুর ফ্লাইট ছিল রাত এগারোটায়। ইমিগ্রেশনের বিশাল লাইনে এক ঘণ্টা গরমের মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে। তাই ওর ইমিগ্রেশন হলো ওকে ছাড়াই। সাড়ে বারোটায় ফ্লাইট টেক অফ করল। উইন্ডো সাইড সিট হলেও রাত বলে এক র‍্যাডিসন ব্লু ছাড়া উপর থেকে আর কিছুই দেখা যায়নি। ফ্লাইট শেষ হলো ভেজ বিরিয়ানি আর লিচি ড্রিংক খেয়ে। লিচি ড্রিংকটা হুবহু প্রাণ লিচি ড্রিংকয়ের মতো। ভেজ বিরিয়ানিটা খেতে খুব বাজে ছিল।

প্রচণ্ড বৃষ্টিতে উবুদ ভিলেজ। সোর্স: বৃষ্টি

আপুদের ফ্লাইট মালয়েশিয়ান টাইমে সাড়ে ছয়টায় মালয়েশিয়ান এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করলো। ওদের ট্রানজিট ছিল দুই ঘণ্টা, কিন্তু ফ্লাইট ডিলে হওয়ায় এক মিনিটও বসতে হয়নি। এই প্লেন থেকে নেমে চেক ইন করে বালির প্লেনে উঠে যেতে পেরেছে।
সাড়ে সাতটায় প্লেন টেক অফ করল। উদ্দেশ্য ডেনপাসার, বালি।
বালিতে নামার পর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে আর প্রচণ্ড হাড় কাঁপানো শীতের মুখোমুখি হলো ওরা। ওদের জানানো হয়েছিল, বালিতে গরম, তাই এক পাতলা শাল সম্বল করে চলে এসেছে। তাও শাল কেবল আপু একাই নিয়েছিল।
এয়ারপোর্টটা দেখে মোটেও এয়ারপোর্ট মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের বিশাল লবি। পুরো এয়ারপোর্ট কার্পেটিং করা। ইমিগ্রেশনে কোনো ঝামেলাই পোহাতে হয়নি। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের দুই গুণ বড় লাইন ছিল, কিন্তু দশ মিনিটে সব শেষ। কিছুই জিজ্ঞেস করেনি। পাসপোর্ট আর বোর্ডিং পাস দেখে পাসপোর্টে সিল মেরে দিয়ে দিল। আপুর মাকে শুধু জিজ্ঞেস করেছিল, ইন্দোনেশিয়ায় কী কাজে এসেছে। এটুকুই। বের হয়ে একটা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ফর্ম ফিল আপ করতে হয়।
ফর্ম ফিলাপ করে কিছু ডলার ভাঙিয়ে নেওয়া হলো। এয়ারপোর্টে ১ ডলার = ১৩,১০০ IDR, তবে বাইরে রেট ১ ডলার = ১৩,২৫০-১৩,৪০০ IDR.
এয়ারপোর্টে সবকিছুর দামই বেশি।
কফি ফার্মে পাহাড়ের ক্লিফের গায়ে কাঠের ডেকের মতো একটা ঘর দাঁড়িয়ে আছে। সোর্স: বৃষ্টি

ইন্দোনেশিয়াতেও উবার খুব সহজেই পাওয়া যায়। যেহেতু ওরা পাঁচজন, তাই উবার নিতে পারেনি। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল দূরত্ব বিশ মিনিটের। এই অল্প একটু রাস্তা যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি ভাড়া চাচ্ছিল ৫,০০,০০০ IDR. মানে বাংলাদেশি টাকায় ৩,০০০ টাকা। ওরা কিছু না বলে বের হয়ে গেল। বাইরে ট্যাক্সি চাইল ২,০০,০০০ IDR। দামাদামি করে ১,৪০,০০০ IDR এ হোটেল এলো।
হোটেল কানা কুটা। হোটেলটা খুব সুন্দর আর ছিমছাম! বৃষ্টির জন্য ঠাণ্ডা লাগছিল খুব। বারোটার মধ্যে হোটেলে চেক ইন করে রুমে গিয়ে ধবধবে সাদা আর নরম তুলতুলে বিছানায় ধপাস করে পড়লো সবাই।
কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে ওরা কেএফসির দিকে গেলো লাঞ্চ এর জন্য। তখন আবার ঝুপ করে প্রচণ্ড গরম পড়ে গেল। এখানকার কেএফসি খাবারের দাম তুলনামূলক কম। পরিমাণেও বেশি থাকে। ১০ পিস চিকেন আর ৩টা লার্জ ড্রিংক অর্ডারে বিল এলো ১,৩০০ টাকা। বাকেট খুলে দেখা গেল ৯ পিস বিশাল সাইজের চিকেন আর তিনটা উইংস দিয়েছে।
খেয়ে-দেয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো মহা ফ্যাসাদে। রাস্তা ক্রস করতে চাচ্ছে ওরা, কিন্তু যতদূর চোখ যায় ডানে বামে কেউ রাস্তা ক্রস করে না। কী আর করা? কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আর কোনো উপায় না পেয়ে বাঙালিদের মতো রাস্তা ক্রস করতে শুরু করল চলন্ত গাড়ির লাইনের মাঝখান দিয়েই। অবাক ব্যাপার হলো, সাথে সাথে দুই পাশের সব গাড়ি থেমে গেল। ওরা রাস্তা পার হবার পর ওগুলো চলতে শুরু করল।
কাঠের ঘরের পাশে খাদটা ভীষণ গভীর। সোর্স: বৃষ্টি

স্কুটি চালাতে জানলে ট্রান্সপোর্ট হিসেবে স্কুটি নেয়াই উচিৎ। নয়তো বেশি ভাড়া দিয়ে ট্যাক্সিই নিতে হবে। যেহেতু বেশ বড় পরিবার ওদের, তাই ট্যাক্সিই ভরসা।

ড্রিম মিউজিয়াম জোন

বালির এই ড্রিম মিউজিয়াম জোনের এন্ট্রি ফি পার পারসন ১,১০,০০০ IDR, মানে বাংলাদেশী টাকায় ৬৬০ এর মতো। এখানে গেলে কীভাবে যে চোখের পলকে দুই ঘণ্টা শেষ হয়ে যাবে, কেউ টেরও পাবে না। চোখে যেন বিভ্রম সৃষ্টি করে। অনেক কিছু না দেখেই বের হয়ে যেতে হয়েছে ঘুরতে ঘুরতে গলা শুকিয়ে গিয়েছিল আর পা ব্যথা করছিল বলে। তাছাড়া সময়ও ফুরিয়ে গিয়েছিল। ওখান থেকে বের হয়ে দেখে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।
রুমে ফিরে ক্লান্ত লাগছিল সবার কাছেই। তবুও ওরা বের হলো রাতের খাবার খাওয়ার জন্য। অনেক রেস্টুরেন্ট ঘুরে শেষ পর্যন্ত আবার কেএফসিতেই যেতে হলো। খেয়েদেয়ে আশেপাশের মার্ট আর সুপার শপগুলোতে ঘোরাঘুরি করে হোটেলে ফিরতে ফিরতে রাত দশটা। তখন আবার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শাওয়ার নিয়ে সাড়ে এগারোটার মধ্যে সবাই বিছানায় এবং ঘুম।

কোকো গাছ। সোর্স: বৃষ্টি

সকালে সবাই একসাথে হয়ে নামতে নামতে ৮টা বেজে গেল। কোল্ড মিল্ক-কোকো পপ্স, বিফ সসেজ, বেকড বিন, চকো প্যানকেক দিয়ে নাশতা শেষ হলো। কেউ কি কখনো রঙ-বেরঙের নুডুলস দেখেছে? বালিতে কমলা, সবুজ, কালো, নীলসহ কয়েক রংয়ের নুডুলস আছে। ফ্রুট জ্যুস একদম খাওয়ার অযোগ্য।
যেহেতু বৃষ্টি আপুরা বালির কিছুই চেনে না, তাই ঘুরে বেড়ানোর জন্য ‘চলো ঘুরি’ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে একটা ফুল ডে ট্যুর প্যাকেজ নিলো। সারাদিনের জন্য গাড়ি, ড্রাইভার কাম গাইড, পাঁচজনের ব্যুফে লাঞ্চ ছিল ৭৫ ডলার। সস্তাই বলতে হবে।

উবুদ কালচারাল ভিলেজ

এজেন্সির লোক এসে হাজির হলো সকাল ৯টায়। প্রথমের ওরা উবুদ কালচারাল ভিলেজ দেখতে গেল। যারা সাইক্লিং পছন্দ করেন তারা সাইক্লিং করে উবুদ ভিলেজ ট্যুর দিতে পারেন। সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায় অনায়াসেই। সাইক্লিং করতে ভালো লাগবে, কারণ ভিলেজের রাস্তা আমাদের শহরের মেইন রোড থেকেও মসৃণ, সুন্দর এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।
উবুদ বালির প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত। অজস্র ফুলের বাগান ও পার্ক তো আছেই, তার সাথে নির্মল প্রকৃতি, ভিন্ন মানুষের বর্ণিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, বিশ্ববিখ্যাত ও মনোমুগ্ধকর মন্দির, জাদুঘরসহ সব সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে উবুদ। উত্তাল সামুদ্রিক ঢেউয়ের ওপর সার্ফিং করা এই এলাকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ । ইয়োগা ও মেডিটেশনের মাধ্যমে রিল্যাক্সেশনের সুব্যবস্থাও রয়েছে। এসবের বাইরে উপভোগের জন্য রয়েছে নানা শিল্পকর্ম ও নাটকের প্রদর্শনী।

কফি ফার্ম। সোর্স: বৃষ্টি

ভিলেজের একটা হ্যান্ডিক্রাফট শপে নিয়ে গেলো গাইড। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ক্যান্ডেল, রঙ-বেরঙ এর কফি জারে বিভিন্ন ধরনের কফি, বিভিন্ন ধরনের চা, বালিনিজদের ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ড পেইন্ট ড্রেস, ব্যাগ, পার্স, স্পা ম্যাসাজ অয়েল, অর্গানিক কোকোনাট অয়েল, বিভিন্ন আর্ট প্রডাক্টস, কাঠের পাখা, পার্স, কাঠের চামচ, কাঁটাচামচ, খুন্তি, ট্রে ইত্যাদি ঘুরে ঘুরে দেখলো। নিষেধ ছিল বলে ছবি তোলা যায়নি। এখানে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তাও টুকটাক কেনাকাটা করা হলো। লম্বা ওড়নার মতো বাটিক টাইপ একটা ড্রেস কেনা হলো। ওটা নামেই ড্রেস, বালিনিজরা পেঁচিয়ে পরে। বাংলাদেশি পাঁচশ টাকায় কেনা বস্ত্রটি আসলে কেনা হয়েছে ওড়না হিসেবে। কিছু কালারফুল হ্যান্ডপেইন্ট কফি জার, কাঠের পাখা, আর কিছু টুকটাক জিনিসপাতি কিনে বের হয়ে গেলো উবুদ কালচারাল ভিলেজ থেকে।

তেগেনুজ্ঞান ঝর্ণা

বালিতে অনেক প্রাকৃতিক ঝর্ণা আছে। তেগেনুজ্ঞান, গিটগিট ঝর্ণা এর মধ্যে অন্যতম। গিটগিট ঝর্ণা বালি শহর থেকে একটু দূরেই। দূরে যাবার সময় না পেলে তেগেনুজ্ঞানটাই ঘুরে আসতে পারেন। অনেকেই ঝর্ণার পানিতে গোসল করেন, কিন্তু সাবধান, ঝর্ণার একপাশে ডেঞ্জার জোন আছে। ঐ জায়গাটা খেয়াল রাখবেন। কোনো সমস্যা হলে লাইফ গাইড আছে তাকে বলবেন।

তেগেনুজ্ঞান জলপ্রপাতের দিকে এগোতেই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। সোর্স: বৃষ্টি

তেগেনুজ্ঞান ওয়াটারফল উবুদ ভিলেজ থেকে ২০/২৫ মিনিট দূরত্বে অবস্থিত। জলপ্রপাতের দিকে এগোতেই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টি না বলে ভয়ংকর ঝড় বলাই শ্রেয়। এক হাত সামনের মানুষকে চিৎকার করে ডাকতে হচ্ছিল। ঝর্ণা দেখার ফি ১০,০০০ IDR, মানে প্রায় ৬০ টাকা। এক মিনিট হাঁটতেই ঝর্ণা দেখা গেল। ঝুম বৃষ্টিতে চুপচুপে ভিজে ঝর্ণা দেখা হলো। যেখান থেকে ঝর্ণা দেখা হয়, সেটা একটা প্লাটফর্মের মতো। ওখান থেকে নিচে নামার সিঁড়ি ছিল, পিচ্ছিল রাস্তা বলে সে পথ মাড়ানোর সাহস হলো না কারোর।
ঝর্ণা দেখে এসে গাড়িতে উঠে বসতেই বৃষ্টি থেমে গেল। সেলুকাস বালি! গত কয়েক ঘণ্টায় এর আবহাওয়া কত রঙ্গ যে দেখালো!

কফি ফার্ম

এবার উদ্দেশ্য একটা কফি ফার্ম ঘুরতে যাওয়া। সেখানে পাওয়া গেলো প্রচণ্ড রোদ। পুরা ফার্মটা ছবির মতো সুন্দর! কোকো ট্রি, বিভিন্ন স্পাইস ট্রি ঘুরে ঘুরে দেখা যায়। পাহাড়ের ক্লিফের গায়ে কাঠের ডেকের মতো একটা ঘর দাঁড়িয়ে আছে। কাঠের ঘরের পাশের খাদটা ভীষণ গভীর। সেখানে প্রায় বিশ রকমের চা, কফি দেয়া, সব ফ্রি! দু একটা এক চুমুক খেয়ে স্বাদটা চেখে দেখছে অনেকে। কোনোটাই ভালো লাগার মতো নয়। কফি ছাড়াও ফার্মের ডার্ক, অরেঞ্জ, চিলি ফ্লেভারের চকলেট ফ্রিতে খাওয়াচ্ছিল। চিলিটা বেশ মজাদার ছিল। চকলেট মুখে দিয়ে ভাঙলেই স্পাইসি স্বাদ। এখান থেকে ডার্ক চকলেট আর এলোভেরা হার্বাল লোশন কেনা হলো প্রায় ৬০০ টাকা খরচ করে। দেখা হলো সবচেয়ে দামী লুয়াক কফি।

কফিফার্মে প্রায় বিশ রকমের চা কফি দেয়া, সব ফ্রি! সোর্স: বৃষ্টি

কোপি লুয়াক বা গন্ধগোকুল কফি হলো এমন এক ধরনের কফি, যে কফির ফলের বীজ গন্ধগোকুল খেয়ে মলের মাধ্যমে বের করে দেয়। কফিশুটি থেকে তৈরি কফিকে বাজারজাত করতেও ব্যবহৃত হয় এটি।
গন্ধগোকুল নামক প্রাণীটি ভাল কফিশুটি ধারণকারী কফি ফল খেতে পছন্দ করে বলে বাছাইকরণ ভালো হয়। খাওয়া কফিশুটির গন্ধ ও স্বাদ পৌষ্টিক প্রক্রিয়ায় উন্নত হয়। গন্ধগোকুল কফিশুটির মাংসল মজ্জার জন্য এগুলোকে খায়, তারপর এর পরিপাক নালীর মধ্যে গাঁজন হয়। এর প্রটেজ নামক পাচক রস কফিশুটির মধ্যে প্রবেশ করে ক্ষুদ্রতর পেপটাইড এবং অন্যান্য মুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে। সবশেষে গন্ধগোকুলের পরিপাক নালির মাধ্যমে কফিশুটি মলের অন্যান্য অংশের সাথে বেরিয়ে আসে এবং সংগৃহীত হয়।
গন্ধগোকুল। আয়েশ করে ঘুমাচ্ছিল প্রাণিটা। সোর্স: বৃষ্টি

আজকাল বন্য গন্ধগোকুলের মল সংগ্রহ করার সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে অধিক ব্যবসার খাতিরে চাষের এক ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে ব্যাটারি খাঁচা সিস্টেমের মধ্যে গন্ধগোকুলকে জোর করে কফিশুটি খাওয়ানো হয়। তবে উৎপাদনের এই পদ্ধতিতে গন্ধগোকুলের
ভয়ঙ্কর দুরবস্থা যেমন- একাকীত্বকরণ, খারাপ খাদ্যাবস্থা, ছোট খাঁচা এবং উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে বর্তমানে এই চাষ পদ্ধতি নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। প্রথাগত চাষাবাদকারীরাও বাণিজ্যিক গন্ধগোকুল চাষ পদ্ধতির সমালোচনা করেন। কারণ তারা কী কফিশুটি খাবে তা ব্যবসায়ীরা নির্বাচন করে এবং যে ধরনের কফিশুটি ব্যবহার করা হয় তা বন্য কফিশুটি থেকে অনেক খারাপ মানের হয়। ট্রাফিক সংরক্ষণ প্রোগ্রামের একজন কর্মকর্তার মতানুসারে, কোপি লুয়াক তৈরিতে গন্ধগোকুলের বাণিজ্য, বন্য গন্ধগোকুল জনসংখ্যার উপর উল্লেখযোগ্য হুমকি হিসাবে দেখা দিতে পারে।
কফি ফার্মে বৃষ্টি আপুর বাবা মা। সোর্স: বৃষ্টি

যেহেতু কোপি লুয়াক কফির কোনো প্রজাতি না হয়ে বরং একটি প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি তাই খুচরা মূল্য হিসাবে একে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কফির মধ্যে একটি বলা হয়েছে যার মূল্য কিলোগ্রাম প্রতি €৫৫০/মার্কিন $৭০০তে পৌঁছেছে যা ফিলিপাইনের ব্লাক আইভরি কফির দামের কাছাকাছি। ইন্দোনেশিয়ার বৃহৎ সুপারমার্কেটে ফার্মজাত কোপি লুয়াকের দাম প্রতি কেজি মার্কিন $১০০ থেকে শুরু হয় যা উচ্চ মানের স্থানীয় অ্যারাবিকা কফি থেকে পাঁচ গুণ বেশি দাম। বন্য গন্ধগোকুলের আসল কোপি লুয়াক ইন্দোনেশিয়ায় ক্রয় করা খুব কঠিন। কারণ জাল কোপি লুয়াকের মধ্য থেকে আসল কোপি লুয়াক পৃথক করে চেনা খুব কঠিন।
কোপি লুয়াক প্রধানত ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপমালার সুমাত্রা, জাভা,বালি এবং সুলাবেসি দ্বীপগুলোতে উৎপাদিত হয়। কফির এই ফার্মে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি লুয়াক উৎপাদনকারী এই বিখ্যাত প্রাণিটিকেও দেখা যাবে।
ফিচার ইমেজ: আনিকা তাবাসসুম বৃষ্টি
তথ্যসূত্র: https://www.lifegate.com/people/news/chris-jordan-interview

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শঙ্কা সাধনার কাশ্মীরের শ্রীনগর ভ্রমণ

শান্তির খোঁজে ভারতের কিছু রিসোর্টে