অভিমানির মান ভাঙাতে…

অনেক বেশি কি অভিমান করে আছো? হোক, তা একটু না হয় করই অভিমান, থাকো মুখ গোমড়া করে, গাল ফুলিয়ে, না হয় রাখো নিজেকে কুয়াশার আড়ালে মুখ লুকিয়ে। আমি তো বলেছিলাম বছরে একবার অন্তত তোমার কাছে যাবো, মনে আছে তোমার? সেই অপেক্ষার অবসান বুঝি হতে চলল।

আজ আমি অনেক অনেক আর অনেক খুশি জানো তো। কারণ আজ আমি নিশ্চিত হলাম যে তোমার কাছে যাচ্ছি, তোমার কাছে আসছি, তোমাকে দেখার তৃষ্ণা মেটাতে তোমার কাছে ফিরছি। তোমার অভিমান ভাঙাতে পারবো বলে। আমারই বা কী করার আছে? আমিও যে নিরুপায়, সমাজ, সংসার সাধ্যের কাছে বাঁধা পড়েছি যখনই তোমার কাছে যেতে চেয়েছি।  

সবুজ সাজে প্রেয়সী। ছবি: লেখক 

তোমার মনে আছে বেশ কিছুদিন আগে একবার তোমার কাছে যেতে চেয়েও যেতে পারিনি, তুমি খুব মন খারাপ করেছিলে জানি। আর আমার হয়েছিল আক্ষেপ, তোমার কাছে যেতে না পারার। তবে নিশ্চয়ই মনে আছে তোমার, তোমাকে সেদিন কথা দিয়েছিলাম, দেখ খুব তাড়াতাড়ি, হুট করে একদিন চলে আসবো তোমার কাছে, তোমার অভিমান ভাঙাতে। দিন প্রায় চলেই এলো বলতে পারো। আর মাত্র কয়েকটা দিন মাত্র, তারপর রোদ হেলে পড়া এক বিকেলে আমাকে দেখে তুমি চমকে যাবে দেখ, আমি তোমাকে চমকে দেব।

আমি জানি, তুমি হয়তো আমার আগমনের খবর পেয়ে আরও অনেক বেশি অভিমানে গাল ফোলাবে, হয়তো ভীষণ কষ্টে আমাকে দেখা দিতে চাইবে না, হয়তো ছলছল চোখ নিয়ে ঘোমটার আড়ালে মুখ লুকাবে, হয়তো নিজেকে ঢেকে রাখবে কুয়াশার চাদরে, নীল-সবুজ আর বর্ণিল তুমি সেজে থাকবে মন খারাপ করা ধূসর কোনো রঙে।

কোনো সমস্যা নেই। তুমি তাই থেকো, ধূসর রঙে সেজে, নীল শাড়ি রাখবে শিশিরে ভিজিয়ে, কুয়াশার চাদরে ঢেকে রাখবে নিজেকে। হোক তাই হোক, আমি জানি আমি তোমার কাছাকাছি গেলেই তুমি হেসে উঠবে। রঙধনু রঙ ছড়াবে তোমার মুখ জুড়ে, কুয়াশার চাদর সরে গিয়ে ঝলমলে হাসিতে উচ্ছ্বসিত হবে, শীতের সূর্যের মতো করে দেবে উষ্ণ আদরের কোমল পরশ। তোমার ঘোমটা খুলে যখন চোখে রাখবো চোখ, সুখের দু-ফোঁটা জল ঝরে পড়বে টপটপ করে আমার হাতের তালুতে। আমি এসেছি জেনে ঠিক ঠিক কপালের মাঝখানে পরে থাকবে ছোট্ট কালো টিপ, গালে রঙ ছোঁয়াবে খুশির আলতো ছোঁয়ায়, হাসিতে টোল পড়বে, কালো তিলের দুই কপোলে আর আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকবো তোমার দিকে।

ধূসর অভিমান। ছবিঃ সংগ্রহ 

কখন যেন গলে পড়তে শুরু করবে অভিমানের কঠিন প্রতিজ্ঞা মোমের মতো করে আমার স্পর্শে, তুমি নিজেই জানবে না তা। হাঁটবো দুজনে শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে, বয়ে যাওয়া পাহাড়ি নদীর পাড়ে, অরণ্যের গভীরে বুক চিরে, মাথার সিঁথির মতো পাহাড়ি বাঁকে বাঁকে, গায়ে মেখে সূর্যের আলতো পরশ, দূরে সরিয়ে শীতের কুয়াশা, একে অন্যের হাতে হাত আর কাঁধে মাথা রেখে তাকিয়ে থাকবো দূরের ঝকঝকে আর স্বচ্ছ নীল আকাশের পানে জেগে থাকা, হেসে থাকা, খুশিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ঝলমল করতে থাকা শত রঙের, কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে অপলক।

আকাশ আর পাহাড়ের অমন রূপ দেখে ভুলে যাবে সকল অভিমান, গভীর আলিঙ্গনে বেঁধে ফেলবে আমাকে, কনকনে শীতের মাঝে পেতে উষ্ণ আর অনেক কাঙ্ক্ষিত আদর! আর আমিও তোমাকে বাঁধব তোমাকে প্রেমের আলিঙ্গনে। ততক্ষণে শিশিরে ভিজে থাকা তোমার নীল শাড়িটা শুকিয়ে যাবে, তুমি আবার সাজবে আমার প্রিয় নীল শাড়িতে, কপালে পরবে হলুদ রঙের টিপ, গালে বোলাবে ব্লাশারের বর্ণিল ছোঁয়া, মাস্কারা, শ্যাডো, গ্লস আর গোলাপি লিপস্টিকের সাজে আমাকে মাতিয়ে তুলবে তোমার সবটুকু রঙ মেখে।

বর্ণীল সাজে। ছবিঃ সংগ্রহ 

আর কপোট অভিমান ভরে জিজ্ঞাসা করবে কেন এতদিন পরে এলে, তোমার কি মনে পড়েনি আমাকে একবারও?

তখনই তোমাকে মনে করিয়ে দেব সেদিনের কথা, যেদিন তোমাকে লিখেছিলাম অনুযোগের চিঠি, মনে আছে তোমার? সে চিঠিতে লিখেছিলাম, তোমাকে কথা দিয়েছিলাম, শরৎ বা হেমন্তে আসতে যদি নাও পারি, কোনো একদিন শীতের মাঝে এসে তোমাকে চমকে দেব দেখ। কোনো এক শীতের অলস দুপুরে বা মন কেমন করা বিকেলে চলে আসবো তোমার কাছে, হাঁটবো দুজন মিলে, হাতে রেখে হাত, সরিয়ে কুয়াশা, দূরে রেখে মেঘ, মাড়িয়ে ঝরে যাওয়া শুকনো পাতা, বসবো কোনো এক পাহাড়ি ঝর্ণার পাশে বা কোনো নদীর তীরে অথবা শেষ বিকেলের সোনা ছড়ানো কোনো চা বাগানে।

হেসে ফেলবে তুমি পুরনো অনুযোগের চিঠির সাথে হুবহু মিল পেয়ে, আলতো করে বেঁধে ফেলবে আমাকে তোমার চোখের অশ্রু ভেজা আলিঙ্গনে। বলেছিলাম না বছরে একবার হলেও আসবো আমি তোমার কাছে, হোক সেটা গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত বা বসন্ত? আমি আসবোই একবার হলেও প্রতি বছর। নইলে যে আমার দিন কাটে না, জীবনের আনন্দগুলো পূর্ণতা পায় না, আমি সত্যিকারের সুখ পাই না, নিজের কাছে নিজের তৃপ্তি মেটে না।

বর্ণীল সাজে সে। ছবিঃ লেখক 

এই তো আসছি বলে, তোমার রূপের আগুনে জ্বলতে, সুখের সুধা পান করতে, নিজেকে নিজের কাছে সত্যিকারের খুঁজে পেতে, তোমার মাঝে হারাতে আর তোমাকে দেয়া আমার কাছে আমার কথা রাখতে। টিকেট কাটা হয়ে গেছে! আর টিকেট কাটা হয়ে গেলেই আমি নিশ্চিন্ত জানি আমি আসছি, অভিমানির মান ভাঙাতে। আর তো মাত্র কয়েকটা দিন আর কয়েকটা রাত। তারপরেই…

আমি তোমার আর তুমি আমার, ভেঙেচুরে সব মান-অভিমান।

প্রেয়সী দার্জিলিং!

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দার্জিলিংয়ের লালমোহন, সাদাটা!

স্থল পথে কানাডা ভ্রমণের ৫টি শ্রেষ্ঠ রুট