ক্রোয়েশিয়ার সেরা কিছু দ্বীপ

আড্রিয়াটিক সাগরে অবস্থিত ক্রোয়েশিয়ান দ্বীপগুলোর নিখুঁত ও অকৃত্রিম বৈচিত্রতায় মুগ্ধ হতে বাধ্য হবে যে কোনো ধরনের ভ্রমণ পিপাসুই। হয়তো আপনি পার্টিপ্রেমি বা একা ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন বা ভ্রমণে গিয়েছেন পরিবারকে সাথে নিয়ে ক্রোয়েশিয়ান দ্বীপগুলো তারপরও আপনাকে মোহিত করবেই৷ নিচে এমনই কয়েকটি দ্বীপের ব্যাপারে আলোকপাত করা হলো।

সুসাক: ঘুড়ি উড়ানোর দ্বীপ

ভূমধ্যসাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি যেন সত্যিকারেরই এক শৈল্পিক নিদর্শন। বৃহদাকৃতির লজিনি দ্বীপের প্রতিবেশি এই দ্বীপটির পুরোটাই গড়ে উঠেছে বালিতে। এছাড়াও রয়েছে ফার্ন, মৌরি, বাঁশের মতো লম্বা লম্বা নলখাগড়ায় ছেয়ে থাকা খাঁজকাটা ও গেরুয়া বর্ণের খাদ। রয়েছে হেঁটে বেড়ানোর জন্য আড়াআড়িভাবে সংযুক্ত রাস্তাও। সেজন্যেই এই দ্বীপটিতে খুব সহজেই ঘুরে বেড়ানো যায়৷

এখানের সৈকতগুলোও মুগ্ধ করার মতো। তাছাড়া সুসাকে প্রতি বছরই পালিত হয় অ্যানুয়াল এয়ার অ্যান্ড কাইট ফেস্টিভাল। নিঃসন্দেহেই যারা ঘুড়ি উড়াতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য খুবই চমৎকার একটি গন্তব্য এই দ্বীপ। তাছাড়া উৎসবের পর পার্টিপ্রেমিদের জন্য আফটার পার্টি তো রয়েছেই।

ঘুড়ি উড়ানোর দ্বীপ সুসাক; image source : xbrchx

রাব: বালতি ও কোদালের দ্বীপ

এমন একটি দেশ যেখানে খুব একটা বেশি চিরপরিচিত বালিময় সৈকত নেই, সেখানে রাব দ্বীপটি নিঃসন্দেহেই ক্রোয়েশিয়ার অদ্ভুত দ্বীপগুলোর একটি। এই দ্বীপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে অগভীর ও চওড়া উপসাগর ভেলি মেল। বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত জায়গাটা জনারণ্যে পূর্ণ হয়ে থাকে। যদি কারো বেশি ভিড়ের মধ্যে সাঁতরাতে বা লম্ফ-ঝম্ফ করতে ইচ্ছা না করে, তাহলে তাদের জন্য রয়েছে রাব দ্বীপের আগ্রহ জাগানিয়া উত্তর উপকূলের বালিময় সৈকতগুলো।

উপকূলটা বেশ নির্জন এবং এখানে কর্মাশিয়ালিটির ছোঁয়াও লাগেনি এখনো। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত সৈকত হলো সাহারা বিচ। প্রকৃতপ্রেমী বা খালি গায়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এখানকার সবচেয়ে সেরা জায়গা এটি। এছাড়া উপকূলের উভয় পাশেই সমান সংখ্যক ছোট ছোট খাঁড়িও রয়েছে। দ্বীপ থেকে দাঁড়িয়ে পর্বতময় মেইনল্যান্ডও দেখতে পাওয়া যায়।

বালতি ও কোদালের দ্বীপ রাব; image source : pointbreak

সিবলা: আর্কেডিয়ানদের দ্বীপ

কোনো ট্রাফিক বা হোটেলহীন সমুদ্রঘেরা কোথাও যেতে চাইলে ক্ষুদ্রাকৃতির সিবলা দ্বীপই উপযুক্ত গন্তব্য। এই দ্বীপে শুধু গাড়িই নিষিদ্ধ নয়, মধ্য জুলাই থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত সাইকেল চালানোও নিষিদ্ধ থাকে। এই নিয়মটা করা হয়েছে পায়ে হেঁটে চলার আনন্দটা উপভোগ করার জন্য। দুই ধারে মাকুইস লতার মাঝে থাকা বালির রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাই এই দ্বীপের একমাত্র কর্মকাণ্ড। এই দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ৩০০র মতো। তবে গ্রীষ্মকালে এই সংখ্যাটা দশগুণ হয়ে যায়। আর্কেডিয়ান ভাইভ পাওয়ার জন্য পুরো দেশ থেকে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসে এখানে।

আর্কেডিয়ান ভাইবের দ্বীপ সিবলা, image source : roughguides/shutterstock

মার্টার: উৎসবের দ্বীপ

একটা সময় মার্টার ছিলোখুবই শান্ত ও নির্জন একটি দ্বীপ। তবে ২০১২ সালে গার্ডেন অর্গানাইজেশনের আগমনের পর থেকে দ্বীপের আবহ পুরোই পাল্টে গেছে। টিসনো শহরের কাছেই উপসাগরের তীরে ঘাঁটি স্থাপন করা গার্ডেনে শুধু জুলাইয়ের শুরুতে গার্ডেন ফেস্টিভালই হয় না, সেই সাথে আয়োজন করা হয় আরো নানাবিধ উৎসবের। সেজন্যেই আড্রিয়াটিকের এই অঞ্চলটি এখন পরিণত হয়েছে গ্রীষ্মের পার্টিজোনে।

এরচেয়েও বড় ব্যাপার হলো জনারণ্যে পরিণত হওয়ার পরও মার্টারের প্রাকৃতিক রূপ-বৈচিত্র‍্য এখনো অক্ষুন্নই রয়েছে। গার্ডেনের সাইটটা দ্বীপের অন্য পাশ থেকে অনেকটাই আলাদা। এছাড়াও রয়েছে দ্বীপের প্রাকৃতিক জলপাই বন, মোহনীয় বন্দর এবং বেশ কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খাঁড়ি।

মার্টার নামে আড্রিয়াটিকের এই অঞ্চলটি এখন পরিণত হয়েছে গ্রীষ্মের পার্টিজোনে।; image source : zvonac

ভিস: ভোজন প্রেমিকদের দ্বীপ

একাকী ঘুরে বেড়ানো পর্যটক এবং ভোজনরসিকদের জন্য ভিস আদর্শ একটি গন্তব্য। ক্রোয়েশিয়ার এই দ্বীপটি যেন অপরিসীম সৌন্দর্যের আধার। সৌন্দর্যের সৌরভের সাথে রয়েছে অসংখ্য ভালো ভালো রেস্টুরেন্ট এবং বেশ কিছু ইউনিক স্থানীয় খাবারের সমাহার। আড্রিয়াটিক সাগরের এই অঞ্চলটিতেই সবচেয়ে বেশি মাছ পাওয়া যায়। কোনো সন্দেহ নেই যে ভিসের রেস্টুরেন্টগুলোতে গেলে ভূমধ্যসাগরের সবচেয়ে তাজা লবস্টার পাওয়া যাবে।

এছাড়া পোজোদা, ভ্যাল এবং কান্তুনের মতো স্থাপনাগুলোর কারণে এখানে পাওয়া যায় এমন কিছু সুস্বাদু রোস্ট এবং স্ট্যুয়ের আইটেম, যা অন্য কোথাওই পাওয়া যায় না। এই দ্বীপের অতি নিজস্ব একটি ফাস্ট ফুড আইটেমও রয়েছে। ‘পোগাকা অদ স্রদেল’ নামের অ্যাঞ্চোভি পেস্টিটি একবার খেলে বারবারই ফিরে যেতে ইচ্ছা করবে ভিসের স্থানীয় বেকারিগুলোতে।

আড্রিয়াটিক সাগরের এই ভিসেই সবচেয়ে বেশি মাছ পাওয়া যায়; image source : xbrchx

প্রোয়েজড: সূর্যস্নানের দ্বীপ

সান-ব্যাথিং বা সূর্যস্নান করার জন্য পুরো ডালমেশিয়ার সবচেয়ে সেরা জায়গা এই দ্বীপ। কারো যদি সূর্যের উত্তাপে শুয়ে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির নির্যাদ নেওয়ার অভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে প্রোয়েজড দ্বীপের ঢালু পাথরের সৈকতগুলো তার জন্য উপযুক্ত গন্তব্য। যদিও প্রোয়েজডকে পূর্ণ দ্বীপ না বলে ক্ষুদ্র দ্বীপ বলাই শ্রেয়।

প্রোয়েজড দ্বীপের ঢালু পাথরের সৈকতগুলো সূর্যস্নানের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য; image source : roughguides/shutterstock

করকুলার ভেলা লুক বন্দর থেকে ট্যাক্সি বোটে করে সহজেই যাওয়া যায় এই দ্বীপে। এখানের সৈকতগুলো নিঃসন্দেহেই ব্যতিক্রমী। পাথুরে চাঁইয়ে ছাওয়া সৈকতগুলোতে প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়ছে গাঢ় নীলচে পানি। তবে দ্বীপটিকে সবচেয়ে সুন্দর দেখায় সন্ধ্যার সময়। সূর্য ডুবে যাওয়ার ঐ সময়টায় সৈকতের পাথরগুলোর রঙ ছাই থেকে সোনালী রঙ ধারণ করে।

feature image source : zvonac

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঈদ উল আযহা ও এক টুকরো মাংস…

মরক্কোর আকর্ষণীয় মার্কেটগুলো