কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতসমূহ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখণ্ডিত সমুদ্র সৈকত। ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এ সমুদ্র সৈকতের বৈশিষ্ট্য হলো, পুরো সমুদ্র সৈকতটি বালুকাময়। এখানে কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বালিয়াড়ি সৈকত সংলগ্ন শামুক ঝিনুক নানা প্রজাতির প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান, অত্যাধুনিক হোটেল মোটেল কটেজ, নিত্য নবসাজে সজ্জিত বার্মিজ মার্কেট সমূহে পর্যটকদের বিচরণে কক্সবাজার শহর পর্যটন মৌসুমে প্রাণচঞ্চল থাকে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও স্থানীয় সী-বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রম দৃশ্যমান। পুরনো ঝিনুক মার্কেট ভেঙে আটটি রঙ্গের ছাতার আদলে নতুনভাবে নির্মিত আধুনিক ঝিনুক মার্কেট ‘বীচ পার্ক মার্কেট’ সত্যি দেখার মতো। প্রতিটি মার্কেটে আটটি করে দোকান নির্মাণের স্পেস থাকলেও দোকানীরা নিজেদের সমঝোতার মাধ্যমে আটটি দোকানকে ষোলটি, ক্ষেত্রবিশেষে বিশটি দোকান ঘর তৈরি করেছে।

পাশে অনুরূপ আরো তিনটি ছাতা মার্কেট নির্মাণাধীন রয়েছে। শামুক-ঝিনুক ও প্রবালের দোকানের পাশাপাশি বার্মিজ পণ্যসামগ্রী, ফাস্টফুড, কুলিং কর্ণার, শুঁটকি, স্টুডিও, মোবাইল শপসহ নানা দোকানের সমাহার রয়েছে এসব মাকের্টে।

ঝাউতলী। সোর্স : লেখিকা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে। শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীষ্ম এমন কোনো ঋতু নেই সমুদ্র সৈকতের চেহারা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। প্রত্যুষে এক রকম তো মধ্যাহ্নে এর রূপ অন্য রকম। গোধূলি বেলার বীচের হাওয়া-অবস্থা আর রাতের বেলার আবহাওয়া-অবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই তো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ক্যাপ্টেন কক্সের সমুদ্র সৈকত এত কদরের, এত পছন্দের।

ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি, লোকে নিজের জেলা ছাপিয়ে অন্য কোনো জেলায় ঘুরতে যাওয়া মানেই কক্সবাজারকে বোঝে। সমুদ্র মানুষকে কী এক অমোঘ টানে ডাকে, এতগুলো বছরে জানা হয়নি আমার। আমি যখন কক্সবাজার দেখতে এলাম, তখন আমার পঁচিশটা জেলা ঘোরা হয়ে গেছে। এর মধ্যে দেখে ফেলেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার নৈসর্গিক অপার্থিব রূপ। তাই প্রথম দর্শনে কক্সবাজার আমার কাছে খুব বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়নি।

হিমছড়ি। সোর্স : লেখিকা

আমরা কক্সবাজারে এসে উঠেছিলাম সুগন্ধা পয়েন্টের নীলিমা রিসোর্টে। এখান থেকেই এই দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে বেড়িয়েছি। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বীচের কোনো স্টার্টিং পয়েন্ট নেই। আমি যদি ঝাউতলী থেকে শুরু করি, তাহলে শেষ হবে ইনানী বীচ হয়ে কাঁকড়া বীচ পর্যন্ত। রিসোর্টের খুব কাছে হওয়ায় কক্সবাজারের প্রথম সকালেই গিয়েছিলাম সুগন্ধা পয়েন্টে।

সুগন্ধা পয়েন্ট

রিসোর্টের পাশে বিস্তীর্ণ ঝাউ গাছের সারি। তার পরই বেলাভূমি পেরিয়ে আছড়ে পড়ছে উত্তাল সমুদ্রের ঘোলাটে ঢেউ। বর্ষাকাল হওয়ায় পানিতে নীলাভ্রতা নেই। বীচে ঘুরে বেড়াচ্ছে জো বাইকাররা। আর পানিতে জেট। প্রথম সমুদ্র দেখার অনুভূতি বলতে যেটা মাথায় আসে, তা হলো বিশালাকার ঢেউ। পানিতে পা ভিজিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম কেবল। ঢেউগুলো যখন পায়ের উপর আছড়ে পড়ে তখন দারুণ মজা লাগে।

আছড়ে পড়া ঢেউ সামলে নেওয়া গেলেও ঢেউটা যখন ভাটার টানে নিচের দিকে নামতে শুরু করে, তখন নিজের টাল সামলে নেওয়া বেশ কঠিন। কারণ, এসময়টায় পায়ের নিচ থেকে বালি সরে যেতে শুরু করে স্রোতের টানে। তাই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সমুদ্রে নামলে এই ব্যাপারটা মাথায় রাখা উচিৎ খুব ভালো করে। আমার ধারণা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমুদ্রে ডুবে মারা যাওয়ার দুর্ঘটনা ঘটে ভাটার সময় তাল সামলাতে না পারার কারণে।

সুগন্ধা। সোর্স : লেখিকা

নোনাজলে নেমে দাপাদাপি করার আগে বীচে কিছুক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করলাম। বৃষ্টিতে সেই হুড়োহুড়িকে মোটেও সাধারণ কিছু মনে হচ্ছিল না। তারপর জেট স্কিইং করার জন্য চড়ে বসলাম। সাধারণত খুব বেশি উত্তাল সমুদ্রে জেট স্কিইং করায় না। কিন্তু মোটামুটি সহনীয় ঢেউ থাকায় উত্তালতা উপেক্ষা করা গেল। এই ঢেউয়ের চূড়ায় চড়ে সমুদ্রে তুমুল গতিতে ঘুরে বেড়াতে দারুণ লাগলো আমার। ৪-৫ মিনিটের জেট স্কিইংয়ে খরচ পড়লো প্রতিজনে ১,০০০ টাকা।

লাবণী পয়েন্ট

কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী পয়েন্ট কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় আছে ছোট বড় অনেক দোকান যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। বাংলাদেশে সার্ফিংকে জনপ্রিয় খেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সী-বীচের লাবণী পয়েন্টে সার্ফিং ক্লাবের জন্য অস্থায়ী সার্ফিং কুটির স্থাপনের জন্য সাময়িক অনুমতি প্রদান করেছে।

বৃষ্টিভেজা ভোর সকালে আমি আর ইতি আপু বেরিয়ে পড়েছিলাম লাবণী পয়েন্টের দিকে। বৃষ্টির জন্য মানুষজন কম ছিল হয়তো। খুব উপভোগ করেছি। যদিও বৃষ্টির তীব্রতার কারণেই খুব বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারিনি।

লাবনী পয়েন্ট। সোর্স : লেখিকা

হিমছড়ি

হিমছড়ি কক্সবাজারের ১৮ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। ভঙ্গুর পাহাড় আর ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে বামদিকে সবুজঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। বর্ষার সময়ে হিমছড়ির ঝর্ণাকে অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত বলে মনে হয়। হিমছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় একটি রিসোর্ট আছে যেখান থেকে সাগরের দৃশ্য অপার্থিব মনে হয়। কারণ পাহাড়ের উপর থেকে সম্পূর্ণ সমুদ্র এক নজরে দেখা যায়।

হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ এখানকার ক্রিসমাস ট্রি। সম্প্রতি হিমছড়িতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট। এছাড়া এখন হিমছড়ি প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য খুব বিখ্যাত। পাখির মতো আকাশে ভেসে ভেসে পাহাড় আর সমুদ্র একই সাথে দেখতে হলে আসতে হবে কক্সবাজারের হিমছড়িতে।

হিমছড়ি। সোর্স : লেখিকা

ঝাউতলী সমুদ্র সৈকত

সারা সকাল সুগন্ধায় দাপাদাপি করে দুপুরে খেতে এসেছিলাম পৌউষী রেস্তোরাঁয়। জানতে পারলাম, এখান থেকে ঝাউতলী সৈকত খুব কাছেই। তাই অটোয় চেপে ঝাউতলীতে গেলাম। এই সৈকতে জলের খুব কাছেই ঝাউ বনের সারি। সেজন্যই হয়তো এর নাম ঝাউতলী।

বেলাভূমিতে প্রচুর পাথর পড়ে আছে। প্রতিবার ঢেউয়ের টানে পানি যখন নিচে নামতে থাকে, তখন বেলাভূমির পাথরগুলো অদ্ভুত সুন্দর বৈচিত্র্য তৈরি করে। সৈকতের ধারে মাছধরা বড় ট্রলার রয়েছে। কাঠের এই ট্রলারগুলো যেন সৈকতের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

ইনানী সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার জেলার পর্যটন সেক্টরে ইমাজিং টাইগার হচ্ছে ইনানী। বাংলাদেশের কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ইনানী প্রবালগঠিত সমুদ্র সৈকত। পশ্চিমে সমুদ্র আর পূর্বে পাহাড়ের এক অপূর্ব জায়গাটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন আকর্ষণ। মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কক্সবাজার থেকে ইনানী যেতে হয়। পাশে পাহাড় থেকে বেয়ে পড়ছে ঝর্ণাধারা, মাঝে রাস্তা, তারপর সমুদ্র। কী অপূর্ব ইনানীর কোরাল পাথর ঘেরা সৈকত বা রকি বীচ!

সমুদ্রের নীল জলরাশি সারি সারি পাথরের মেলা। পাথরগুলো একবার সমুদ্র জলে ডুব দেয় আবার যেন ভেসে ওঠে। পাথরের ফাঁকে ফাঁকে জমানো সমুদ্রের জলে ছোট ছোট লাল কাঁকড়া, মাছ, শামুক, ঝিনুক আরো কত কী! ইনানীতে সৈকত জোয়ারের সময় স্নান সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত, কারণ ইনানী বীচ খুবই প্রশস্ত ও পাথরে ঘেরা। বিকেলে সূর্যাস্তের প্রাক্কালে ইনানী বীচে লাল কাঁকড়ার মিছিল গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে। তখন অস্তগামী সূর্য ও লাল কাঁকড়ার মিছিলে ছেয়ে থাকা বীচের রং মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়।

হিমছড়ি। সোর্স : শাওন

হিমছড়ি থেকে আরো ৫ কিলোমিটার গেলেই ইনানী বীচ বা ইনানী সমুদ্র সৈকত। ইনানী বীচে প্রবাল পাথরের ছড়াছড়ি। অনেকটা সেন্টমার্টিনের মতোই। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো এখানে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে না সৈকতের বেলাভূমিতে। অনেকটাই শান্ত প্রকৃতির সৈকত এই ইনানী। জোয়ারের সময় এলে প্রবাল পাথরের দেখা পাওয়া যাবে না। ভাটার সময়েই কেবল মাত্র বিশাল এলাকা জুড়ে ভেসে ওঠে এই পাথর। প্রবাল পাথরে লেগে থাকে ধারালো শামুক ঝিনুক। তাই এখানে বেশী লাফালাফি করা বিপদজনক।

পড়ন্ত বিকেলের শান্ত সাগর দেখতে আর সূর্যাস্তটাও উপভোগ করতে গিয়েছিলাম ইনানীতে। বিকেলে জোয়ার থাকে বলে সাধারণত অন্য সময়ের তুলনায় সে সময়ে মানুষের উপচে পড়া ভিড় কিছুটা কম থাকে। আমাদের যাবার সময়ে ঝুম বৃষ্টি নেমেছিল বলে সূর্যাস্ত দেখতে পাইনি।

তবে সন্ধ্যের মায়ায় অঝোর বৃষ্টিতে ইনানীর জলে দাপাদাপি করার অনুভূতি খুব চমৎকার। আমার আক্ষেপ, সুন্দর একটা বীচকে কীভাবে ডাস্টবিনে পরিণত করতে হয়, তা আমরা খুব ভালো জানি। বীচে নামার রাস্তার দুই ধারে নারকেলের মালার স্তুপ যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় অনেকাংশেই।

বালিয়াড়ি।  সোর্স : শাওন

কলাতলী সমুদ্র সৈকত

নতুন সাজে সাজছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। প্রাকৃতিক ও নান্দনিক সৌন্দর্যের অপার আধার এ পর্যটন নগরীকে সাজাতে সরকার বেশ কয়েকটি বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তন্মধ্যে কলাতলী বিচকে বানানো হচ্ছে পর্যটকদের গেটওয়ে। এ লক্ষ্যে কলাতলী বিচে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকৃতির দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার। বর্তমানে কলাতলীর ডলফিন চত্বর থেকে সরাসরি বিচে নেমে যাওয়া সড়কটির দুই দিকের স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশস্ত করা হয়েছে। এ সড়কের দক্ষিণ পাশে তৈরি হচ্ছে বিশাল উদ্যান। উভয়পাশে থাকছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ওয়াকওয়ে ও গাছের সারি।

রাস্তাটি টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সমুদ্রসৈকতে। সেখানে থাকবে আরো একটি নতুন আন্তর্জাতিক মানের ফোয়ারা। এ ফোয়ারা থেকে দক্ষিণ দিকে নিরিবিলি হ্যাচারি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উড়াল সড়ক তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে ২০১৭ সাল থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে।

উত্তর দিকে আরো একটি সড়ক গিয়ে মিলিত হবে সি-ইন পয়েন্টে, যা বাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ রোড হিসেবেও কাজ করবে। এই অংশটি বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ডলফিন চত্বর থেকে পশ্চিমে বিচ পর্যন্ত রাস্তা ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করছে জেলা পরিষদ। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে ‘কলাতলীর প্রাকৃতিক দৃশ্য ও সৌন্দর্যবর্ধন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

কলাতলীর সড়কটিকে দুই লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানের মাধ্যমে প্রশস্ত ফুটপথ ও ড্রেনেজের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া চারপাশে সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগানো হবে। ডলফিন চত্বর হয়ে সৈকতের দিকে এগোতেই হাতের বামপাশে দৃষ্টিনন্দন সবুজঘেরা পার্কের আবহ পাবেন পর্যটকেরা। সেখানে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রামের জন্য চেয়ার ও ছাউনির ব্যবস্থা থাকছে।

মাছ ধরা নৌকা সোর্স : সাঈম

এ ছাড়াও কলাতলীর সি-পয়েন্ট থেকে নিরিবিলি হ্যাচারি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে মিলিত হবে। সেই সাথে যুক্ত হবে সুগন্ধা ও কলাতলী সি-ইন পয়েন্ট। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত রাস্তাঘাট হবে যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। প্রথমে বাস্তবায়ন হবে কলাতলীর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প। সে জন্য কক্সবাজার জেলা পরিষদ থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে কলাতলীই হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিচ ও পর্যটন কেন্দ্র।

শামলাপুর সমুদ্র সৈকত

টেকনাফের কাছে বাহারছড়া ইউনিয়নের পাশের শামলাপুর সমুদ্র সৈকত। মাছ ধরার নৌকা আর জেলেরা ছাড়া সেভাবে কোনো মানুষজন চোখে পড়বে না, ঝাউবনে পাওয়া যাবে সবুজ ছোঁয়া। কেউ কেউ একে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত নামেও ডেকে থাকে।

এখানকার দৃষ্টি নন্দন ঝাউবনে ঘেরা অপরূপে শোভিত নির্জন সৈকতে এসে ভালো লাগার ১৬ আনাই পাওয়া যাবে। এখানে নির্জনতাও একটা বড় ব্যাপার। কক্সবাজার, হিমছড়ি বা ইনানীতে কত মানুষের ভিড় আর হৈহুল্লোড়। এখানে তার কিছুই নেই।

সূর্যাস্ত।  সোর্স : শাওন

পড়ন্ত বেলায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো টেনে তীরে তোলার দৃশ্য, জেলেদের জাল দিয়ে মাছ ধরা, স্থানীয় শিশুদের চিৎকার আর দৌড়ঝাঁপের মধ্যে চোখে পড়বে শুধুই সমুদ্র আর তার নীল জলরাশির শোঁ শোঁ গর্জন।

কীভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সৌদিয়া, এস আলম এর মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন, শাহ্ বাহাদুর, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন বাসে সব সময় কক্সবাজার যাওয়া যায়। এসি, নন এসি বাস রয়েছে। ভাড়া পড়বে ৯০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে।

যদি ট্রেনে যেতে চান, তাহলে কমলাপুর থেকে উঠতে হবে, নামতে হবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম থেকে তারপরে আপনাকে কক্সবাজার যেতে হবে।

বিমানেও মাত্র ৪৫ মিনিটে কক্সবাজারে যাওয়া যায়। নিয়মিত কক্সবাজারে নভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজসহ অন্যান্য বিমান আসা যাওয়া করে। এক্ষেত্রে ভাড়া হবে ৬,৫০০-৮,০০০ টাকা।

উত্তাল ঢেউ। সোর্স : লেখিকা

রিজার্ভ জীপ নিলে লাগবে ১,৮০০-২,৫০০ টাকা। একটি জীপে ১০-১৫ জন অনায়াসেই ঘুরে আসা যায়। দু-তিন জন হলে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়েও যেতে পারেন। সারাদিনের জন্য সে ক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১,০০০-১,২০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন:

আপনাকে থাকতে হবে কক্সবাজারের কোনো একটি হোটেলে। কক্সবাজারে রয়েছে পর্যটকের জন্য সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ। ঢাকা থেকেই ফোন দিয়েই বুকিং দিতে পারেন।

সন্ধ্যের সৈকত। সোর্স: শাওন

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক পরিচালিত মোটেল শৈবাল (ফোন -০৩৪১-৬৩২৭৪)
তারকা মানের সিগাল হোটেল (ফোন নং-০৩৪১-৬২৪৮০-৯১)
হোটেল সি-প্যালেস (ফোন নং-০৩৪১-৬৩৬৯২, ৬৩৭৯২, ৬৩৭৯৪, ৬৩৮২৬)
হোটেল সি-ক্রাউন (০৩৪১-৬৪৭৯৫, ০৩৪১-৬৪৪৭৪, ০১৮১৭ ০৮৯৪২০)
হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০৩৪১-৬২৮৮১-৮৫ ৬২৮৮১-৮৫)
হোটেল ওসান প্যরাডাইস লি. (০১৯৩৮৮৪৬৭৫৩)
নীলিমা রিসোর্টে (01831878833) উল্লেখ্যযোগ্য।

এখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ। যারা থাকার জন্য এত খরচ করতে চাচ্ছেন না, তাদের জন্য কম মূল্যে থাকার হোটেলও রয়েছে। হোটেল সীগালের পেছনের রোডে অর্থাৎ কলাতলি রোডের হোটেলগুলোতে মাত্র ৫০০ টাকাতেও থাকা যায়।

ফিচার ইমেজ: মাদিহা মৌ

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চট্টগ্রামের এক পাহাড়ে বায়েজিদ বোস্তামীর (রহ.) মাজার

গাজীপুরের ভাওয়ালে রাজশ্মশানেশ্বরীর নকশাকাটা আলপনা