প্রেয়সীর কাছে অনুযোগের চিঠি

আচ্ছা, সত্যি সত্যি কি সিনেমা ছাড়াও প্রথম দেখাতেই কাউকে ভালো লেগে যায়? বা প্রেমে পড়া যায় কারো একদম প্রথম দেখাতেই? সত্যি কি যায়? ভেবেছিলাম যায় না, ওটা সিনেমায় পর্দার রসায়ন, দর্শকের মনে একটা ঘোর লাগাতে করা হয়। একটা আকর্ষণ তৈরি করে দর্শকের মনে রঙ লাগাতে ওটা করা হয়।

কিন্তু না, এটা সত্যি সত্যিও হয়, হয়েছে আর হয়ে থাকে বলেই, সিনেমায় ওভাবে দেখাতে পারে। কারণ সিনেমা তো জীবনেরই কোনো না কোনো একটা অংশ। কারো না কারো জীবনের কোনো না কোনো গল্প থেকেই সিনেমার শুরু হয়ে থাকে। যদিও শেষটা বেশ ক্লাইম্যাক্সে ভরপুর থাকে। আর সেজন্যই সেটা সিনেমা শেষ পর্যন্ত।

বর্ণীল প্রেয়সী! লামাহাটটা। ছবিঃ লেখক

আমার ঠিক সিনেমার মতো হয়েছে অনেকটা, যেদিন প্রথম তোমাকে দেখি। প্রথম দেখাতেই এত এত ভালো লেগেছিল যে প্রেমেই পড়ে গেলাম তোমার। হ্যাঁ, একদম প্রথম দেখাতেই প্রেম যাকে বলে, ঠিক তাই হয়েছিল আমার! সত্যি বলছি। তোমার সেই নীল শাড়িতে সেজে থাকা, কপালে মেঘ কালো ছোট্ট টিপ, গালে টোল পড়া হাসি, কখনো অভিমানী চাহুনি, জলে ভেজা কপোল, ক্ষণে ক্ষণে তোমার মন আর রূপের অদল-বদল দেখে সেই যে তোমাতে মশগুল হলাম, আজও তা তেমনই অমলিন।

এরপর প্রতি বছর যেভাবেই হোক তোমার কাছে ছুটে বা পালিয়ে যাই একবার না একবার। উপেক্ষা করে হাজারো বাঁধা, পরিবার, সমাজ আর সাধ্যকেও। তুমি অপেক্ষা কর আমার জন্য সেজে নানা রঙে আর ঢঙে। কখনো নীলে, কখনো লালে, কখনো সবুজে বা সোনালী রঙে, কখনো অফ হোয়াইট, কখনো ধূসর আবার কখনো হলুদ বা জমকালো কোনো সাজে। কখনো অপেক্ষা করেছ গাল ভরা অভিমান নিয়ে, কখনো বিদায় দিয়েছ অশ্রু ভরা ছলছল চোখে, কখনো মেঘের সাথে মিতালী করে বজ্র বিদ্যুতের মতো চিৎকার করে কেঁদেছ!

শুভ্র  সাঁজে সে! ছবিঃ লেখক

কিন্তু তোমার কাছে আমার এই বারেবারে ছুটে যাওয়া কেউ কখনো ভালো চোখে দেখেনি, না পরিবার না সমাজ। দেখবে না সেটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তবুও তোমার টান, আকর্ষণ আর মাদকতার নেশা আমাকে বারবার তোমার কাছে টেনে নিয়ে গেছে চুম্বকের মতো! গিয়েছি আর হারিয়েছি তোমার মাঝে, জড়িয়েছি তোমাতে আরও বেশী করে, একাত্ম হয়ে গেছি তোমাতে, নিমজ্জিত হয়ে সুখের অবগাহন করেছি তোমার রূপের গভীর জলাশয়ে। আর বারবার ফিরেও এসেছি হাজারো অনিচ্ছায়।

তবে তোমাকে কথা দিয়েছি মনে মনে, প্রতি বছর অন্তত একবার তোমার কাছে যাবো, তোমার বর্ণীল আঁচলে মুখ লুকাবো, তোমার সবুজে নিজেকে সঁপে দেব, তোমার সজল চোখে অনন্ত সময়ের জন্য তাকিয়ে থাকবো, তোমার অভিমানী ধূসর গালে গাল ছোঁয়াবো! তোমার নীলে হারাবো, সাদা মেঘে ভেসে বেড়াবো, ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজবো, তোমার আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় শিহরিত হব, তোমার হলুদ সাজে উন্মাদ হব, গোলাপি স্যাডোতে বিস্মিত হব, আরও যে কত কী, তুমি জানো না।

মোহনীয় সাজে সে!

কিন্তু সেদিন যখন শত মানসিক প্রস্তুতি নিয়েও, তোমার কাছে যেতে পারলাম না সামাজিক আর পারিবারিক বাঁধায়, কিন্তু অন্য সবাই গেল, তুমি জানো না কতটা রক্তক্ষরণ হয়েছে আমার ভিতরে, কতটা পুড়েছি আমি আমার ভিতরে, কতটা পাথর বেঁধেছি মনের মাঝে, কতটা কঠোর হয়েছি নিজের কাছে। অথচ আমার ছিল সাধ, সাধ্য আর সময়ও! তবুও পারিনি যেতে ভাবা যায়? এত কিছুর পরেও চুপ করে থেকেছি, এবার তোমার কাছে আর একটু সময় নিয়ে যাবো বলে, একটু বেশী সময় তোমার কাছে, পাশে আর তোমাকে ছুঁয়ে থাকবো বলে, তোমার আলতো আর মিহি আদরে ভেসে যাবো বলে! তোমার কাছে নিজেকে অনন্ত সময়ের জন্য হারাবো বলে।

তুমি বেশী অভিমান করো না, দেখ আমি ঠিক আসবো তোমার কাছে, হয়তো এই শরতে নয়, নয় আসছে বসন্তে বা তার পরের বর্ষায়। হয়তো আসছে হেমন্তের কোনো এক শেষ বিকেলে তোমার ঘুম ভাঙাতে, আমার আলতো স্পর্শে, বা শীতের শুরুতে মিহি রোদের মিষ্টি ছোঁয়া দিয়ে আর নয়তো কোনো এক বরফ ঝড়ে ঝড়ে চারদিকে সাদা হয়ে যাওয়া কনকনে এক শীতের সকালে। তোমার অভিমান ভেঙে তোমাকে হাসাতে। তুমি দেখে নিও।

সোনালী সাঁজে! ছবিঃ লেখক

তুমি অপেক্ষায় থেকো, আমার… আমার আগমনের, আমার স্পর্শের আর আমার উজাড় করা প্রেমের ছোঁয়া নিয়ে পূর্ণ হতে। আমি আসবই দেখে নিও।

আমিও অপেক্ষায় আছি কোনো এক হেমন্তের মিষ্টি সন্ধ্যার বা শীত শুরুর আদুরে আর আহ্লাদী এক নরম বিকেলের…

প্রেয়সী দার্জিলিং…..

আমার এই প্রেয়সীকে যারা দেখতে চান তাদেরকে খুব বেশী সময় বা অর্থ খরচ করতে হবে না। ঢাকা থেকে যে কোনো উপায়ে শিলিগুড়ি, তবে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা, ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী আর কম সময়ের। শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার জীপে দার্জিলিংয়ের যে কোনো জায়গায়।

গ্রুপ করে গেলে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার হোটেলে তিনজন থাকতে পারবেন অনায়াসে আর খাবার খেতে পারেন নিজের ইচ্ছা, স্বাদ আর বাজেট অনুযায়ী প্রতি বেলায় ৫০ থেকে ৫০০। তবে জামে মসজিদের পাশে ইসলামিয়া হোটেল খাবারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। দাম, মান, স্বাদ আর পরিমাণে।

কালিম্পং। ছবিঃ লেখক

যাওয়া আসাসহ, ৫-৭ দিনের একটি ট্যুর প্ল্যানে খুব বেশী হলে খরচ হবে ৬-৮ হাজার টাকা জনপ্রতি। তবে এটা সাধারণ মানের ট্যুরের ক্ষেত্রে। এই একই রকম ট্যুর যে কেউ চাইলেই ১৫-২০ হাজারেও করতে পারে। থাকা খাওয়া আর যাওয়া আসার বিলাসিতার উপরে যেটা নির্ভর করবে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হাদার বিবাহ বার্ষিকী ভ্রমণ!

একটি শুকনা মরিচ ১০ টাকা! একটি পেঁয়াজ ২০ টাকা!