বৃষ্টি ভেজা বন্ধুর পথে চন্দ্রনাথ পাহাড় জয়ের কথকতা

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নাম শুনেছি অনেক আগেই। এটার চূড়ায় ওঠার ইচ্ছে ছিল তখন থেকেই। তাই নীলান্তি যখন বললো সীতাকুণ্ডে যেতে চায়, তখন লাফিয়ে উঠলাম। অবশ্য আমার অনেকগুলো বন্ধুবৃত্তের মধ্যে এই দলটার ডাক আমি কখনোই উপেক্ষা করতে পারি না। ভবিষ্যতেও পারবো বলে মনে হয় না।

যাই হোক, সীতাকুণ্ড যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে চাইলাম। কিন্তু একদিন আগে সকালে স্টেশনে গিয়েও পাওয়া গেল না। অগত্যা বাসেই যেতে হলো। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, ভোর সকালে সীতাকুণ্ডে পৌঁছে আগেই চন্দ্রনাথের দিকে রওনা দেব। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দেরি হয়ে গেল। চন্দ্রনাথের গোড়া থেকে আমরা পাহাড়ে ওঠার জন্য কঞ্চিবাঁশ কিনে নিয়ে যখন যাত্রা শুরু করলাম, তখন বাজে বেলা দশটা।

প্রবেশদ্বার। source: আফসানা মেহজাবিন

চন্দ্রনাথে ওঠার আগে এই সম্পর্কিত তেমন কোনো লেখা পড়িনি আমি। কেবল কিছু ছবি দেখেছিলাম আর ভাসা ভাসা শুনেছিলাম, চন্দ্রনাথে ওঠার জন্য সিঁড়ি আছে। তাই ভেবে নিয়েছিলাম, বগালেক ওঠার সময় যেরকম এডভেঞ্চার হয়েছিলো, সেরকম কিছু হবে না। ওরকম মনোভাব নিয়েই এসেছিলাম। বিপর্যয়ে পড়ার এটা একটা কারণ হতেই পারে।

প্রথম দিকে স্বাভাবিক গতিতেই উঠছিলাম। উঠতে উঠতেই মন্দির পাচ্ছিলাম পথে। তারমানে শুধু চূড়ার মন্দিরটাই চন্দ্রনাথের একমাত্র মন্দির নয়। একটা বেশ বড় মন্দিরে ওঠার সিঁড়ি আছে। আবার পাশ দিয়ে যাওয়ার জন্য ঢালু পাহাড়ি পথও আছে। আমরা ঢালু রাস্তা দিয়েই এগিয়ে গেলাম। পরে জানতে পেরেছি আরো অনেকগুলো মন্দির আছে পুরো পাহাড় জুড়ে।

অনেকগুলো মন্দির আছে পুরো পাহাড় জুড়ে। source: আফসানা মেহজাবিন

এরমধ্যে সিঁড়ি পাইনি কোথাওই। কেবল ওই মন্দিরের কাছে ছাড়া। কিছুদূর গিয়ে একটা টং মতোন দোকান পেলাম। ওখানে শুকনো খাবার, পানি, ডাব, স্যালাইন, কলা ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। টংয়ে ভারি ব্যাগ, অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থাও আছে। মানে, টাকার বিনিময়ে ব্যাগপত্র রাখার দায়িত্ব নেয় এরা। আমরা আমাদের ব্যাগপত্র সব হোটেলে রেখে এসেছি। আর আসার আগে সিএনজি মামা বলেছিলেন, আপনারা শুকনো খাবার আর পানি নিয়ে যান। পাহাড়ে খাবারের দাম অনেক বেশি। সেটাই করেছিলাম আমরা।

আমরা যখন পাহাড়ে সবে উঠছি, তখন অনেক দলকে ফিরতে দেখেছি। এরা খুব ভোরে উঠতে শুরু করেছিল। এদের দেখে মনে হলো খুব কষ্ট হচ্ছে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ ফেলতে। এমনকি আমরাই তখন রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছি। ছোট একটা ঝর্ণার কাছে এলাম। ঝর্ণার পাশে মোটা পাইপ দেখে শুরুতেই মনে হলো এটা কৃত্রিম ঝর্ণা। মুখ ফুটে বলেই ফেললাম, ‘এটা তো মনে হচ্ছে কৃত্রিম!’

পাশ দিয়ে একটা অপরিচিত ছেলে যাচ্ছিল, সেও বললো, ‘হ্যাঁ, কৃত্রিমই। এখানে প্রাকৃতিক কিছু নেই।’

পাহাড়ে এলেই যেন ডানা মেলার ইচ্ছে জাগে। source: আফসানা মেহজাবিন

ধাপে ধাপে উঠে যাচ্ছি। একটু পর পর দুটো করে পথ পাচ্ছি। একটা ডানদিকে, অন্যটা বামদিকে। পলাশ বললো, ‘আমার অফিসের কলিগরা বলেছে, ডানদিকের রাস্তা নিচে নামার আর বাঁয়েরটা উপরে ওঠার। উল্টাপাল্টা করলে বিপদে পড়তে হবে।’ তাই আমরা বাঁয়ের পথ ধরেই এগোচ্ছি।

কিছুদূর যাওয়ার পর একটু দূরের একটা পাহাড়ের গায়ে ফ্যাকাসে লাল রঙের শিলা দেখতে পেলাম। ওটা দেখে কেন যেন মনে হলো, আর বেশিদূর বাকি নেই। আপন মনে বলে উঠলাম, ‘আর হয়তো বেশিদূর নেই।’ তখন আমাদের পাশ দিয়ে একটা দল নেমে যাচ্ছিল। সে হেসে বললো, ‘মাত্র শুরু!’

আমি ভাবলাম মেয়েটা বাড়িয়ে বলছে। এতদূর আসার পর মাত্র শুরু? তাই কী হয়?

দূরে লালচে শিলার স্তর। source: আফসানা মেহজাবিন

এখন পর্যন্ত কোনো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়নি। যে এক জায়গায় একসারি সিঁড়ি পেয়েছিলাম, সেখানটায় ওঠার উপায় নেই। নিচের দিকে ভাঙা। পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ঘুরে ওই সিঁড়িগুলোর মাথায় গিয়ে দেখি, ওখানটায় গাছে প্রচুর বানর। এবং সেগুলো বান্দরের মতো বান্দরামি করছে।

এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে পড়ছে, গাছ বেয়ে সড়সড় করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এখানে একটু বিরতি নিয়েছিলাম ছবি তোলার জন্য। তবে বানরগুলোর ভয়ে বেশিক্ষণ থাকা গেল না। কোনোক্রমে নিচে এসে যদি হাত থেকে জিনিসপত্র কেড়ে নেয়?

শিলা। source: আফসানা মেহজাবিন

হেঁটেই চলেছি, হেঁটেই চলেছি। পথ আর শেষ হয় না। আমরা যেন পাহাড়টা ঘুরে ঘুরে উঠছি। ঘুরতে ঘুরতেই ওই পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা লালচে শিলার স্তরের কাছে এলাম। এখান পর্যন্ত উঠতে সবারই হাঁফ ধরে গেছে। এখানে কিছু স্লাভ আছে, যে যেভাবে পারলো, বসে পড়লো।

যা পানি এনেছি সাথে করে, তার অর্ধেকের চেয়ে একটু বেশি পানি আছে। সাথে করে আনা স্যালাইন গোলানো হলো। স্যালাইন-পানি পান করেও উঠতে ইচ্ছে করছে না। এরমধ্যেই বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। সকালে ছিল তীব্র রোদ। হুট করে বৃষ্টি নেমে যাবে, তা মনেই হয়নি। তবে আশার কথা এটাই যে, এমন একটা জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যেখানে আমাদের মাথার উপরে ছাদ আছে। প্রাকৃতিক ছাদ।

শিলার স্তরের ছাদ। source: আফসানা মেহজাবিন

ওই যে পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা লালচে শিলার স্তরের কথা বলেছিলাম না? ওই শিলার স্তর এমনভাবে ঝুলে আছে, যার নিচে দাঁড়ানোয় আমাদের বৃষ্টিজল ছুঁতে পারছে না। এখানে দাঁড়িয়ে চন্দ্রনাথের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটা দেখা হলো। পাহাড়ের গায়ে বর্ষা, ঠিক যেন বর্ণনা করার মতো কোনো ভাষা পাওয়া যাচ্ছে না। অভূতপূর্ব।

তবে বৃষ্টির একটা রূপ দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছিলাম। তখনো অন্য রূপটা দেখা হয়নি। এখানে এই শিলার ছাদের আশ্রয়ে আমাদের দলের সাথে দাঁড়িয়েছিল চূড়া থেকে ঘুরে আসা আরেকটা দল। ওরা কখন যেন নেমে গেছে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। আমরাও যদি এখান থেকেই ফিরে যেতাম, তাহলে মনে হয় ভালো হতো।

বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। source: আফসানা মেহজাবিন

বৃষ্টি থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি এখানে। তারপর বৃষ্টির বেগ যখন কমে যাওয়ার পর শিলার ছাউনি ছেড়ে উপরের দিকে পা বাড়ালাম। এবারে কিছু সিঁড়ি পাওয়া গেল। এই সময়ে আমাদের সাথে দেখা হলো অত্যন্ত বয়স্ক মহিলা, বাচ্চা কোলে নিয়ে মধ্যবয়সী পুরুষসহ আরোও কিছু নারীপুরুষ। এরা সবাই নামছে। এত কষ্ট করে এরা পাহাড়ের চূড়ায় সৌন্দর্য দেখতে যায়নি, স্রষ্টার আরাধনা করতে গিয়েছে।

নব্বই বছরের পুরনো এই সিঁড়িগুলো। এটা জানতে পেরেছি একটা ফলক পড়ে। এতগুলো বছরে ইট পাথরের উপরে জমেছে শ্যাওলা আর মাটির আস্তরণ। বৃষ্টিতে সেই আস্তরণ ভিজে পিচ্ছিল হয়ে গেছে। খুব সাবধানে টপকাতে হচ্ছে ধাপগুলো।

ওঠার পথের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা।  source: আফসানা মেহজাবিন

একটু পর গিয়ে আর কোনো সিঁড়ি পাওয়া গেল না। সিঁড়ি শেষ হবার পর, এমন অবস্থা হলো যে পিচ্ছিল পাহাড়ি ট্রেক, এক পা ফেললে অন্য পা ফেলার জায়গা নেই। আমাদের দলের ছয়জন ছাড়াও আরোও কয়েকজন এসে পড়লো এই দুর্গম অংশটা পাড়ি দেওয়ার সময়। বেশ লম্বা একটা লাইনের মতো হয়ে গেল। একজন পা হড়কালে সব গিয়ে পড়বে খাদে। উপর থেকে কেউ একজন চেঁচিয়ে বললো, ‘কিছুটা তফাৎ রেখে ওঠো এখানটায়।’

আমাদের দলের সবশেষে ছিলাম আমি আর সাকিব। সাকিব বললো, ‘যদি পড়ে টড়ে যাই, পিছন ফিরে তাকিও।’

ও মজা করে বললেও আমার হাসি পেল না। কারণ আমি তখন আমার ভেজা জামাকাপড় নিয়ে এই বাইতে গিয়ে রীতিমতো যুঝছি। আসলে হয়েছিল কী, এতো লম্বা জামা ওড়না পরে রাতে বের হয়েছি। প্ল্যান ছিল, পাহাড়ে ওঠার আগে টপ আর জিন্স পরে বেরুব। ব্যাগ খুলে দেখি, টপ ঠিকই নিয়েছিলাম, কিন্তু জিন্সটাই নিতে ভুলে গেছি। ফলাফল, লম্বা কামিজ, ওড়না, ঢোলা পালাজো সামলাতে গিয়ে অন্য সবার চেয়ে আমি বেশি বেকায়দায় পড়েছি।

আমলকি পাড়া হচ্ছে। source: আফসানা মেহজাবিন

বহু কষ্টে আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে এই জায়গাটুকু পার হলাম। স্যান্ডেল খুলে ফেলেছি। গ্রিপওয়ালা জুতা পরে আসিনি বলে নিজেকে আরোও একবার গাল দিলাম। এবারে মাটিতে পা রেখে চমকে উঠলাম। পিচ্ছিল মাটি হলেও মাটির এই একটা স্তর নিচে নিরেট শিলা। আরো আগেই কেন স্যান্ডেল খুললাম না, তা ভেবে আফসোস করছি।

এই ধাপটা পেরুনোর পর একটা সমতল মতোন জায়গা পাওয়া গেল। এখানে সবাই জিনিসপত্র রেখে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য দাঁড়ালো। কাছেই একটা আমলকি গাছে আমলকি ঝুলছে। পলাশ আমলকি পাড়তে লাঠি নিয়ে গুঁতোগুঁতি শুরু করলো। কিন্তু আমলকি গিয়ে পড়লো ঝোপে। সে একটা অভিনব পন্থা অবলম্বন করলো। আমলকি সংগ্রহ করলো ছাতা উলটো করে ফেলে রেখে। আমলকিগুলো বেশ মজার ছিল।

এরপর আবার এক ঘন্টার যাত্রা করতে হবে শুনে আমি মাথায় হাত দিয়েছিলাম। কিন্তু অত সময় আর লাগেনি। যদিও ওই পথটাও বিপদসংকুল ছিল।

প্যারানোমা। source: আফসানা মেহজাবিন

শেষ ধাপটা পেরুনোর আগে আমরা আরো কয়েকটা দোকান পেলাম। এই জায়গাটা প্রায় বাজারের মতো। এখান থেকে ৫০ টাকা দিয়ে এক লিটার পানি কিনে পান করেছিলাম। ছোট চাঁপা কলা ১০ টাকা করে। এখানে খেয়ে, একটু বিশ্রাম নিয়ে, কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করে বাকি পথটুকু পেরুলাম আমরা। অবশেষে দেখা গেল মন্দিরের চূড়া। আর আমাদের জয় করা হলো চন্দ্রনাথ পাহাড়!

কীভাবে যাবেন

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে চড়তে হলে আগে আপনাকে সীতাকুণ্ড যেতে হবে। সীতাকুণ্ড যেতে পারেন চট্টগ্রামগামী বাসে অথবা ট্রেনে। বাসে যেতে হলে সায়েদাবাদ বাস স্টেশন থেকে সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভৃতি বাস করে আপনি সীতাকুণ্ড যেতে পারেন। গ্রিনলাইন (০২-৭১০০৩০১), সোহাগ (০২-৯৩৪৪৪৭), সৌদিয়া (০১১৯৭০১৫৬১০), টি আর (০২-৮০৩১১৮৯), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১) ইত্যাদি পরিবহনের এসি বাস চট্টগ্রাম যায়। ভাড়া ৮৫০-১,১০০ টাকা।

আর এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল প্রভৃতি পরিবহনের সাধারণ বাসে ভাড়া ৪৮০ টাকা। এছাড়াও চট্টগ্রামগামী কিছু লোক্যাল বাসে চড়ে সীতাকুণ্ডে যাওয়া যায়। লোকাল বাসগুলোর ভাড়া ২৫০ টাকা। বাজেট ট্রিপে যেতে চাইলে এই বাসগুলোতে যাওয়া যায়। রাতের ভ্রমণে খুব বেশি স্টপেজে থামায় না এগুলো।

ট্রেনে যেতে হলে এয়ারপোর্ট কিংবা কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে টিকিট কেটে নিতে হবে আগে থেকেই। ঢাকা-চট্টগ্রামের রুটে অনেকগুলো ট্রেন থাকলেও সীতাকুণ্ডে একমাত্র মেইল ট্রেনই থামে। তাও খুবই অল্প সময়ের জন্য। ট্রেনের ভাড়া ৯০ টাকা করে। কিন্তু সিট পাওয়া খুবই দুষ্কর। আর এসি বার্থ ৩,০০০ টাকা করে। লোকসংখ্যা বেশি হলে এসি বার্থ ভালো অপশন হতে পারে। আর যদি টিকিট মাস্টারকে পটাতে পারেন, আরোও কমেই নিতে পারবেন। আমরা একবার গিয়েছিলাম ২,০০০ টাকা দিয়ে।

মন্দিরের চূড়া। source: আফসানা মেহজাবিন

সীতাকুণ্ড নেমে অটোরিকশা, সিএনজি কিংবা রিকশায় করে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের গোড়ায় যেতে পারেন। এরপর ট্রেকিং শুরু।

কোথায় থাকবেন

সীতাকুণ্ডে তিনটি হোটেল চোখে পড়েছে। হোটেল সাইমুন, হোটেল সোফিয়া, হোটেল মর্জিনা। তিনটিই কাছাকাছি জায়গায় আছে। হোটেলগুলোর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তবে থাকার জন্য সাইমুন বেছে নিতে পারেন। সাইমুন হোটেলের ফোন নাম্বার ০১৮৬৮০০০৪০০।

যদি পর্যটক বেশি থাকে, এদের চাহিদা আকাশ ছোঁয়। নয়তো হোটেলের ভাড়া ৭০০-২,০০০ এর বেশি না।

Feature Image: আফসানা মেহজাবিন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বচ্ছ জলের লেক মহামায়ায় কায়াকিং

ঝটিকা সফরে নড়াইলের পথে ঘাটে