বিশ্বের সেরা কিছু সস্তা খাবার

ভ্রমণের জন্য বিশ্বের যেখানে আপনি যান না কেন হয়তো আপনি সব সময় অপেক্ষা করে থাকেন ভালো কিছু খাবার খাওয়ার জন্য। কারণ ভালো খাবারই আপনাকে পথ চলতে সাহায্য করে। অনেকে শুধুমাত্র প্রকৃতির সাথে অ্যাডভেঞ্চারে মেতে ওঠেন না, তাদের কাছে খাবারের অ্যাডভেঞ্চারই প্রিয়। যেখানে আপনি স্থানীয় পরিবেশে যে ধরনের খাবার সহজে পাবেন না, হয়তো কোথাও ভ্রমণে গিয়ে সেই খাবারটা পেয়ে যেতে পারেন।

Source: SXSW

রোমের রেস্তোরাঁর বুদবুদে সুস্বাদু পিজ্জা থেকে শুরু করে ব্যাংকের রাস্তার নুডুলস পর্যন্ত সব কিছুই হয়তো আপনার প্রিয় তালিকায় থাকতে পারে। আবার বাজেট ট্রাভেলারদের পকেটের দিকের চিন্তাটাও বেশি থাকে। তাই নিচে কম খরচে বেশ কিছু মাস্ট ট্রাই খাবার সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

কইতেন-সুশি, জাপান

ব্যয়বহুল ভ্রমণের জন্য জাপান খুবই সুপরিচিত এলাকা। যে এলাকায় প্রতিটি পদক্ষেপে হয়তো আপনাকে অজস্র অর্থ ঢালতে হতে পারে। কিন্তু আপনার পকেটে বিশাল একটা শূন্যস্থান তৈরি করা ছাড়াও এখানে কিছু ভালো খাবার পাওয়া যায়, সে ব্যাপারে অনেকেই জানেন না। জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় খাবারগুলোর ভেতর মাত্র ১০০ জাপানি টাকার ভেতর জুটে যেতে পারে কইতেন-সুশি। এর অর্থ হচ্ছে ঘূর্ণায়মান সুশি। এটি জাপানের কম মূল্যের খাদ্য তালিকার ভেতর বেশ ভাল খ্যাতি ছড়িয়েছে।

Source: Hub Japan

নাসি গোরেং, ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় একটি খাবার যেটি ভাত ভাজা এবং সাথে বেশ কিছু সবজি দিয়ে বানানো হয়। যে খাবে তার সামনে রান্না করে দেয়া হয় এই অনন্য খাবার। অন্যান্য খাবারের তুলনায় সকল রেস্টুরেন্টে প্রায় এই খাবারটি কম দামে পাওয়া যায়। ভাত ভাজা, মাংস, সবজি, ভাজা ডিম এবং সরষে মিশিয়ে এই খাবারটি তৈরি করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই খাবারটি হজম হয় খুব সহজে আর বাজেট ট্রাভেলসের জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে প্রতিবার প্রতি বেলার মেন্যু।

Source: Refresh Recipes

বনি চাও, দক্ষিণ আফ্রিকা

এটি একটি শর্করা জাতীয় খাবার। যেটি দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীদের কাছে বেশ সুপরিচিত। চাও শব্দটি চায়না থেকে আসলেও এখানে এর প্রচলন বেশ ভালোই। মূলত শর্করা জাতীয় শিম এবং রুটির সমন্বয়ে এই খাবারটি প্রস্তুত করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় সব জায়গায় সব থেকে কম দামি খাবার হিসেবে এটি পাওয়া যায়।

Source: One Green Planet

এই খাবারটি মূলত দীর্ঘতর একটি ইতিহাস বহন করে আসছে। খাবারের দাম অত্যধিক হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ কর্মীদের জন্য কম দামের এই খাবারটি তখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো। খুব কম অর্থ ব্যয় করে এই খাবারটি প্রস্তুত করা যায় বলেই এই খাবারটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দক্ষিণ আফ্রিকায় গেলে বনি চাও অবশ্যই খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

ফিশ এন্ড চিপস, ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের কাছে চিপস এন্ড ফিশ একটি অতি মূল্যবান খাবার বলেই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। স্থানীয় টিপ্পির মাছ থাকে থাকে কেটে সেটা দিয়ে খানিকটা চিপসের মতো বানানো হয়। তার মাঝে লবণ দিয়ে এই খাবারটি দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এর মাঝে ভিনেগারও দেয়া হয় বলে এর স্বাদ অটুট থাকে। যদি ফিশ এন্ড চিপস খাবার চেষ্টা করেন তবে অবশ্যই সাথে মুঁশি মোটর খেতে ভুলবেন না।

থালি, ইন্ডিয়া

ভারতে গেলে সব থেকে কম দামে যে খাবারটি আপনি পেতে পারেন সেটি হচ্ছে থালি। থালির মাঝখানে রুটি, ভাত, সবজি এবং বিভিন্ন ধরনের সালাদ, চাটনি সহকারে খাবার পরিবেশন করা হয়। কোথাও কোথাও মাত্র ৫০ থেকে ১০০ রুপি খরচ করেই এই খাবারটি খাওয়া যায়। এছাড়া খাবারের পর দই-মিষ্টির ব্যবস্থাও থাকতে পারে থালির মধ্যে। তাই ভারতে গেলে অবশ্যই থালি খাবার চেষ্টা করবেন।

Source: Jodi Logik

ফো, ভিয়েতনাম

অতিরিক্ত পুষ্টি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যেই খাবারটি প্রথমে তৈরি করা হতো, দুই বেলার খাবার এক বেলায় খাওয়ার জন্য। ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময় যখন প্রচণ্ড খাবার সংকট ছিল তখন থেকে এই খাবারটির প্রচলন শুরু হয়। খুব কম দামে বিভিন্ন ধরনের সবজি, ভাত, রুটির সমন্বয়ে এই খাবারটি খুব কম খরচের মধ্যে খাওয়া যায়। এই খাবারটির ভিয়েতনামীদের কাছে একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা দখল করে আছে।

আইসক্রিম, কিউবা

কিছু বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতা এবং খাদ্য সরবরাহের সমস্যার কারণে কিউবার নিজস্ব উপকরণে যে রেসিপিগুলো প্রস্তুত করা হয় তা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। বেশিরভাগ পর্যটক এই অঞ্চলে খাওয়া-দাওয়া করার সময় সস্তা খাবারের সাথে এখানকার আইসক্রিম খেয়ে থাকেন। কিউবাতে বিনের চাষ খুব ভালো হয় বলে বিশুদ্ধ চকলেট এবং ক্রিম উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এর ফলে এখানকার আইসক্রিমগুলো অত্যন্ত চমৎকার স্বাদের হয়। তাই কিউবাতে গেলে অবশ্যই এখানকার আইসক্রিমগুলো ট্রাই করবেন।

Source: CHIPS!

তাজাইন, মরক্কো

মরক্কোতে শুকনো ফল, সবজি, বাদাম, লেবু, জলপাইয়ের সাথে মুরগির মাংস একত্রিত করে মাত্র ৩০ মরক্কো টাকা খরচ করলেই এই বিশেষ এবং সুস্বাদু খাবারটি খেতে পারবেন। তাজাইন মূলত একটি জাহাজের নাম থেকে এসেছে। কিছু কিছু জায়গায় কথিত আছে জাহাজের কর্মীদের যথেষ্ট শক্তি এবং ক্যালোরি সরবরাহ করার জন্য সকল খাদ্যকে একত্রিত করে খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়। তারপর থেকেই এই খাবারটির নাম তাজাইন, যা যুগে যুগে বেশ খ্যাতি ছড়িয়ে আসছে এই অঞ্চলে।

Source: G Adventures

লাঞ্চ প্যাকেট শ্রীলঙ্কা

আপনি যদি শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খুব গরম গরম খাবারের পথ চেয়ে থাকেন তবে, প্রতিদিন দুপুরের খাবার হিসেবে শ্রীলঙ্কা লাঞ্চ প্যাকেটটি খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রায় সব ধরনের ক্যাফেতে শ্রীলঙ্কায় এই লাঞ্চ প্যাকেটগুলো পাওয়া যায়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই লাঞ্চ প্যাকেটগুলো ফয়েল পেপার দিয়ে মুড়িয়ে বিক্রি করা হয়। এর ভেতরে থাকে মাংস, ভাত, শাকসবজি। খাবারের উপর নারকেলের কোরা দেয়া হয়ে থাকে। অত্যন্ত সুস্বাদু এই খাবারটি খুব অল্প খরচের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় প্রায় সব খাবার দোকানেই পাওয়া যায়।

Source: Newsfirst

পিজ্জা, ইতালি

একটি রিসার্চ অনুযায়ী জানা গিয়েছে, পৃথিবীতে প্রায় অর্ধেক মানুষই পিজ্জা পছন্দ করেন। আর পৃথিবীর সবথেকে স্বাদযুক্ত পিজ্জা তৈরিকারক হিসেবে ইতালিই থাকবে সবার প্রথমে। সব থেকে কম খরচে এবং সব থেকে ভালো স্বাদ যুক্ত ইতালির পিজ্জা সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। ঘুরে ঘুরে সামান্য কয়েকটি ইউরো দিয়ে আপনি পৃথিবীর সব থেকে ভালো পিজ্জার স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন এখানে। তাই ইতালিতে আসলে অবশ্যই এখানকার পিজ্জাগুলোর স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এস্তোনিয়ার গহীনে ভ্রমণ

লাল-সবুজের অপেক্ষা!