মেক্সিকোর ক্যাবো সান লুকাসের যে ৭টি জায়গায় আপনার যাওয়া চাই

যখন আপনি শিক্ষাজীবনের ভ্রমণের কোনো এক বসন্তের ছুটিতে চলে আসবেন ক্যানকুনে (মেক্সিকোর একটি শহর) আর মনের ভেতর যদি পুষে রাখেন মেক্সিকো শহরের ইতিহাস ও স্পন্দন জানার অদম্য ইচ্ছা তাহলে আপনাকে অবশ্যই ছুটে যেতে হবে ক্যাবো সান লুকাসে।

যেখানে নানান ধরনের মানুষ, বন্ধুবান্ধব কিংবা যুগলেরা ভীড় জমায় নিজেদের ইন্সটাগ্রামে অন্তত কিছু দারুণ ছবি আপলোড দেওয়ার জন্য হলেও।

অঞ্চলটির প্রধান এই শহরটি লস ক্যাবস নামেও পরিচিত যার সাথে সান জোস ডেল ক্যাবোর রিসোর্ট এরিয়াটিও যুক্ত রয়েছে। এখানের সীমানা ঘেঁষেই ক্যালিফোর্নিয়া বাযা পেনিসোলা অবস্থিত যেটি মূলত বিস্তৃত কিছু সৈকতের সম্মিলন। অসংখ্য ফাইভ স্টার রিসোর্টের আধিক্য, সমুদ্রের টাটকা খাদ্যদ্রব্য, তিমি দেখার সুব্যবস্থা এবং নানা ধরনের এডভ্যাঞ্চারাল জায়গার জন্য এই অঞ্চলটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

১) সৈকতের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখুন সূর্যাস্ত

Sunset at Land’s end; source: pinterest.com

না, আমি সান ফ্রান্সিস্কোর সূর্যাস্তের কথা বলছি না যদিও ক্যাবো সান লুকাসের পাহাড়ের গঠনের সাথে এর মিল রয়েছে।

অন্যান্য জায়গার তুলনায় অখ্যাত হলেও ক্যাবোর দক্ষিণাংশে আপনি উত্তেজনাপূর্ণ একটা সূর্যাস্ত পাবেন। এখানে মূলত দুটি সৈকত এসে মিশেছে : প্লেয়া ডেল এমোর এবং প্লেয়া ডেল ডিভোর্সিও।

সূর্যস্নান বা সাঁতার কেটে বা উপকূলে বসে থেকে ভ্রমণপিয়াসী যারা সাধারণত একটি বালুময় ছুটি কাটিয়ে দিতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই জায়গাটা দারুণভাবে মানানসই। কপোত-কপোতীরা মূলত এখানে আসেন সূর্যাস্তের সাথে সেলফি নেবার জন্য কারণ পর্বত খণ্ড বা শিলাগুলোর মাঝখান দিয়ে সূর্যরশ্মি এসে যে অভিনব দৃশ্য সৃষ্টি করে তা সত্যিই মোহনীয়।

আপনি যদি খুব কাছ থেকে নিজের মতো করে এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে চান তাহলে জলযান বা নৌকা ভাড়া করেও ল্যান্ডস এন্ডের এই সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন সাগরে ভেসে।

২) ঘুরে আসুন সান জোসে ডেল ক্যাবো

A restaurant of sun jose del cabo; source: thingstodoin

আপনি যদি এর আগে ইউরোপিয়ান সিটিতে ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই জানেন বাড়ি ফেরার আগে সেখানের পুরনো শহরের খোঁজে বের হওয়া কতটা জরুরি।

যদিও সান জোসে ডেল ক্যাবো মেক্সিকান শহরের সংস্কৃতির পদপরিচায়ক কিছু নয় তবুও এখানে গেলে আবছা একটা আভাস পাওয়া যায় মেক্সিকোর সবকিছুর। মাত্র ২০ মিনিটের একটা ট্যাক্সি রাইডের মাধ্যমেই আপনি চুমুক দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবেন এক গ্লাস সংস্কৃতির জোয়ারে।

প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে এখানের রাস্তাঘাট ভরে ওঠে একদল বিক্রেতার পদচারণায় যারা মূলত বিভিন্ন ধরনের কারুশিল্প, উপহার সামগ্রী বিক্রি করে আর আপনাকে সুযোগ করে দেবে নিজের পরিবারের জন্য চমকপ্রদ কিছু নিয়ে বাড়ি ফিরতে।

উদ্ভট কিছু বসতি স্থাপনা আর অগুণতি রেস্টুরেন্টের জন্য জায়গাটি হয়ে উঠেছে আরো পর্যটক বহুল। সমুদ্রের তীর থেকে যাদের ক্ষান্তি দরকার আর মেক্সিকান সংস্কৃতি নিয়ে শিখতে চান, জানতে চান অনেক কিছু তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।

৩) খেলাধুলায় মেতে উঠুন প্লেয়া ডেল এমোর এবং প্লেয়া ডেল ডিভোর্সিওতে

Playa del amor beach; source: traveller.com

আপনি যদি কিঞ্চিৎ স্প্যানিশও জানেন তাহলে ধারণাই করতে পারছেন ক্যাবো সান লুকাসের অন্যতম জনপ্রিয় বিচটির নাম কী। ল্যান্ডস এন্ডের কাছে এবং নিমজ্জিত এলাকার দক্ষিণের এই উপকূলটিতে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম চোখে পড়ে। সম্পর্কের মধুময় সময়ে প্রিয়জনকে চমকে দিতে তাকে নিয়ে আসতে পারেন এই জায়গাটিতে।

জায়গাটির দুই পাশে দুই রকম পানি। একটি কর্টেজ সাগরের অন্যটি প্যাসিফিকের। আপনি দুটোই পরখ করে দেখতে পারেন। কর্টেজের পানি ধীর, স্থির যেন সম্পর্কের সবে শুরু আর প্যাসিফিকে দেখা যায় বিশাল বিশাল ভয়ংকর ঢেউ যেন ছেদ পড়ে গেছে সম্পর্কে।

ভাগ্য ভালো হলে প্লেয়া ডেল আমোরের শিলাখণ্ডের উপর দেখা পেয়ে যেতে পারেন সী লায়নের গোসলের দৃশ্য কিংবা স্বচ্ছ নীল জলরাশিতে খেলা করা নানা রঙের মাছ।

৪) সেইন্ট লুক্যের চার্চে ভ্রমণ

Church of saint luke; source: loscabosguide

ক্যাবোতে থাকাকালীন আপনার যদি মনে হয় ইতিহাসের ভূমি কিংবা দর্শনীয় স্থানাদি দেখার জন্য হৃদয় পুড়ছে তাহলে দেরি না করে চলে আসুন এই চার্চটি দেখতে। যদিও ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে জায়গাটি এখনো তেমন খ্যাতি লাভ করেনি কিন্তু চার্চটির যে গভীর এবং আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে তা আপনাকে নিয়ে যাবে সূদুর সপ্তদশ শতাব্দীতে। এর স্থাপত্যশিল্পে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। যদি চার্চের একতাবদ্ধ সারিতে আপনিও যোগ দিতে চান তাহলে আপনাকে আসতে হবে শনিবার সন্ধ্যায় কিংবা রবিবার বিকালে।

৫) তিমি দেখতে চলুন

Tail of whale; source: thisisinsider.com

অক্টোবর থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আপনি ক্যাবো সান লুকাসে আসেন তাহলে নিজের ঝুলিতে নিয়ে ফিরতে পারবেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বলছিলাম তিমি দেখবার সুযোগ নিয়ে। এই সময়টায় বাযা পেনিসুলা বিপুল পর্যটকের ভীড়ে নিমজ্জিত থাকে কারণ বছরের এই সময়ে তিমিরা পরিযান করে সাগরের অন্য জায়গায়। অসংখ্য দ্বীপের সমন্বয়ক হয়ে মানচিত্রে এক বিশেষ স্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই পেনিসুলা। তাই পর্যটকদেরও মূল আকর্ষণ এখানেই।

৬) একদিনের ট্রিপে টডস সান্তোসে

Todos santos city; source: thingstodoin

আপনি একজন শিল্প প্রেমিক হয়ে থাকলে টডস সান্তোসের চেয়ে ভালো জায়গাটি আর নেই। এই শহরটি হোটেল ক্যালিফোর্নিয়ার উৎপত্তিস্থল হিসেবে বেশি পরিচিত যার জন্য ঈগল গান লিখেছিলেন।

শিল্পকে দেখার জন্য যদি আপনার অন্তর্দৃষ্টি থাকে তাহলে আপনি সানন্দে এক-দুই রাত কাটিয়ে দিতে পারেন এই শহরে যেখানে আছে প্রফেসর নেস্টর আগুন্দেজ মার্টিনেজের সংস্কৃতি কেন্দ্র, রয়েছে অসংখ্য আর্ট গ্যালারি। টডস সান্তোসকে এখনো অনেক পর্যটক বলে থাকেন লুকানো জহর।

৭) সান্তা মারিয়া সৈকতে

Santa maria beach; source: cabosunlocus

আপনি যদি প্লেয়া ডেল এমোরের হট্টগোল পছন্দ না করেন তবে চলে আসুন এই জায়গাটিতে। খানিকটা দূরে হলেও আপনি যদি সমুদ্রতীরে ড্রাইভ করতে পছন্দ করেন তাহলে আর কথাই নেই। এখানে সংরক্ষিত সামুদ্রিক আশ্রয়স্থল থাকায় পুরো জায়গা নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরতে না পারলেও সুযোগ পেয়ে যাবেন নানা রংবেরঙের মাছের প্রজাতি দেখবার।

অনেক পর্যটকই বিকেলের দিকে এখানে এসে স্নরকেল নিয়েই নেমে যান সাগরে আর যোগ দেন সাগরের নিচের অফুরন্ত প্রাণের উৎসবে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিং: পাখির মতো সমুদ্রের উপর ভেসে বেড়ানো

সিলেট: জাফলংয়ের ঝর্ণা-পাহাড়, রাতারগুলের নিস্তব্ধতা আর বিছানাকান্দির মায়ার রাজ্য!