কম খরচে ফিলিপাইন ঘুরে আসার অভিনব উপায়

কম খরচে ঘুরতে কার না ইচ্ছে করে? কোনো জায়গায় ঘুরতে গিয়ে একদল পর্যটক কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে আসে আবার সেই একই জায়গায় একদল পর্যটক ঘুরে আসে খুবই কম খরচে! কিন্তু এটা কী করে সম্ভব? নিশ্চয়ই পরের দলটি কম জায়গায় ঘুরে চলে এসেছে বা তাদের থাকা-খাওয়ায় বিশাল সমস্যা ছিল? না, আসলে এমন কিছুই না। দ্বিতীয় দলের পর্যটকদের বলা হয় বাজেট ট্রাভেলার। খুব কম খরচে ঘুরে আসতে এই দলের জুড়ি মেলা ভার।

কিন্তু কীভাবে? কম খরচে বাজেট ট্যুরে যাওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে খুব গোছানো একটা ট্যুর পরিকল্পনা থাকতে হবে, যেখানে যাচ্ছেন সেই জায়গা সম্পর্কে রাখতে হবে পরিষ্কার ধারণা। সেই সাথে কোথায় কম খরচে থাকা যায়, কম খরচে ভালো জিনিস খাওয়া যায় আর ঠিক কোন মাধ্যমে ঘুরলে সবচেয়ে কম টাকা খরচ হবে এইসব বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে ঘরে বসেই ঘুরতে বের হওয়ার আগের কয়েকটা দিনে। আজকে গল্প করবো বাজেট ট্রাভেলারদের স্বর্গ ফিলিপাইন নিয়ে।

ফিলিপাইনের সাদা বালির সমুদ্র সৈকত, মন-মাতানো সাগরতট, আজীবন মনে রাখার মতো সূর্যাস্ত আর সৌজন্যতায় ভরপুর স্থানীয় মানুষজন ফিলিপাইনকে পরিণত করেছে বিশ্বের অন্যতম বেশিবার ভ্রমণ করা ভ্রমণস্থানে। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক অভিনব কিছু উপায় যা ফিলিপাইনে আপনার ভ্রমণ খরচ কমাবে অনেকাংশেই।

১. কোথায় থাকবেন?

ছবিঃ myplace.ph

পর্যটকদের ভ্রমণকালে সবচেয়ে বেশি চিন্তা হয় থাকার জায়গা নিয়ে। ফিলিপাইনের সবচেয়ে দামী হোটেলগুলো রয়েছে ম্যানিলাতে। ম্যানিলার শেয়ারিংয়ে থাকার জায়গা যেমন ডর্ম, হোস্টেল এগুলোও বেশ খরচের। তাই কম খরচে থাকার জায়গা হিসেবে ম্যানিলা খুব উপযোগ্য একটি জায়গা নয়।

ম্যানিলা থেকে বাইরের জায়গাগুলো যেমন পালাওয়ানেই পেয়ে যাবেন কম খরচে থাকার হোস্টেল বা ডর্ম। পাঁচ ডলারেই মধ্যেই থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে পালাওয়ানের যেকোনো হোস্টেলে। স্থানীয় গেস্টহাউজ আর সৈকতের পাশের কটেজগুলোতে আরো কম দামে রুম পাবেন, খরচ করতে হবে মাত্র ২ ডলারের মতো।

২. কোথায় খাবেন?

ছবিঃ migrationology.com

ফিলিপাইনের খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে খরচ কম যায় এর স্ট্রিটফুডগুলোতে। ১ ডলারের মধ্যেই প্লেটভর্তি স্ট্রিটফুড পেয়ে যাবেন। এছাড়া আপনি যদি পর্যটকদের জন্য বানানো বিশেষ রেস্তোরাঁয় খেতে চান সেক্ষেত্রে খরচ করতে হবে ৫ থেকে ২০ ডলারের মতো। নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী এই টাকার মধ্যে খাবারের জন্য অনেক কিছুই পেয়ে যাবেন রেস্তোরাঁগুলোতে।

ফিলিপাইনের সবচেয়ে দামী এলাকা ম্যানিলা, তাই এখানে খাওয়া-দাওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হবে শুরু থেকেই। ম্যানিলায় সাধারণ পর্যটকরা খাওয়া-দাওয়া আর পানীয় কেনার ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা খরচ করে থাকেন। তাই ম্যানিলায় ঘুরতে যাবার আগে দরকার হলে খেয়ে নিন আগেভাগেই, এতে খাবার খরচ কমে যাবে অনেকাংশেই।

৩. ভ্রমণ-উপায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা

ছবিঃ gmanews.tv

আন্তঃদেশীয় প্রচুর ফ্লাইট আছে ফিলিপাইনে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না ফ্লাইটের ভাড়া যেকোনো যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে বেশি। ফিলিপাইনে ঘুরে বেড়ানোর জন্য কম খরচে সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো বাস আর ফেরী। সব জায়গায় এই দুই মাধ্যমের সমন্বয়ে যাতায়াত করলে খরচ হবে নামমাত্র। সময় একটু বেশি লাগলেও ঘুরে দেখা হবে দেশটির অনেকটুকু জায়গা। ফিলিপাইনের বড় বড় দ্বীপে বেশ ভালো কিছু বাস চলে, যেমন “লুজন” বাস। লুজনের বাসগুলো ফিলিপাইনের প্রায় সব বড় দ্বীপেই যায় ফেরীর আগ পর্যন্ত।

ফিলিপাইনে উড়োজাহাজে না ভ্রমণ করলে প্রতিটি বাস ভ্রমণের পর আপনাকে ফেরীতে উঠতেই হবে কারণ ফেরীগুলোই একমাত্র উপায় প্রতিটা দ্বীপে ঢোকার। ফেরীতে প্রতি ভ্রমণে খরচ হবে ৪ থেকে ৬ ডলার আর দূরপাল্লার বাস ভ্রমণে খরচ হবে ৮ থেকে ১০ ডলারের মতো যেখানে আন্তঃদেশীয় ফ্লাইটগুলোতে খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৭০ ডলারের মতো।

৪. ফিলিপাইনের বিভিন্ন ভ্রমণ-কার্যক্রম

পুরো পৃথিবীতে সম্ভবত ফিলিপাইনই একমাত্র দেশ যেখানে ডাইভিং শিখতে সবচেয়ে কম টাকা খরচ করতে হয়। ফিলিপাইনের কিছু কিছু জায়গায় ২৫ ডলারের মধ্যে শিখে নেয়া যাবে রোমাঞ্চকর ডাইভিং। স্নোরকেলিং সেখানে আরো বেশি সস্তা। মাত্র ৩ থেকে ৫ ডলারেই ভাড়া করা যাবে স্নোরকেলিংয়ে ব্যবহৃত দারুণ সব সরঞ্জামাদি আর ইচ্ছেমতো নেয়া যাবে স্নোরকেলিংয়ের মজা।

 ছবিঃ scubadiving.com

ফিলিপাইনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কেমন খরচ যাবে এটা সম্পূর্ণই নির্ভর করে আপনার ঘোরাঘুরির ধরন আর অভ্যাসের উপর। বিশেষভাবে ফিলিপাইনের ম্যানিলা আর বোরোক্যা এই দুটি জায়গায় খরচের পরিমাণ অত্যধিক বেশি।

ম্যানিলা ফিলিপাইনের অন্যতম পর্যটন স্থান। ম্যানিলা থেকে বের হয়ে আসলে প্রতি দিন ফিলিপাইন ঘুরতে, থাকতে আর খাবারে খরচ হবে মাত্র ৩৫ ডলারের মতো।

ছবিঃ picdn.net

প্রতিদিন ৩৫ ডলার আপনাকে দেবে একটি মধ্যমানের কিন্তু ভালো থাকার জায়গা যা হতে পারে শেয়ার করা কোনো হোস্টেলের রুম অথবা একা থাকার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুন্দর কোনো ডর্ম।

ভালো একটা জায়গায় রাত কাটিয়েও হাতে রয়ে যাবে ৩৫ ডলারের অধিকাংশ যা দিয়ে তিনবেলার খাবার খাওয়া হয়ে যাবে অনায়াসেই। কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষেত্রে সবসময় “উবার” ব্যবহার করা উচিত, এতে যেমন সময় বাঁচে তেমনি বেঁচে যাবে পকেটের টাকাও।

ছবিঃ tommyschultz.com

আপনি যদি ফিলিপাইনে একা ভ্রমণ করবেন বলে ঠিক করেছেন তবে সেখানে গিয়েই খুঁজে বের করুন কোনো এক ভ্রমণদলকে যাদের সাথে আপনার পর্যটনের পরিকল্পনা মিলে যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন, খাওয়া-দাওয়া করুন একসাথে। এতে করে যেমন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হবে, অন্যরকম বিশ্বমানের এক অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে, তেমনি খরচও কমে যাবে কয়েকগুণ। আপনি যদি সত্যিই খরচ কমাতে চান তবে বলবো সাথে করে একটা তাবু নিয়ে নিন, ফিলিপাইনে এমন অনেক দুর্দান্ত জায়গা আছে ক্যাম্প করার মতো। কেউ কিচ্ছু মনে করবে না।

ফিলিপাইনের সৈকতগুলোতে একদম ফ্রিতে ক্যাম্প করার সুবিধে আছে। আর হোস্টেলগুলোর বাগানেও ক্যাম্প করা যাবে যদি আপনি তাদের বার থেকে পানীয় কিনে খান তবে। পড়তে একটু অন্যরকম মনে হলেও বাজেট ট্রাভেলারদের কাছে এগুলো এক একটা রোমাঞ্চকর কাজ-কারবার। ফিলিপাইন ভ্রমণ হোক সুন্দর, সাশ্রয়ী আর নিরাপদ।

ফিচার ইমেজ- intentionaltravelers.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্লিপিং ব্যাগের আদ্যোপান্ত

নবাবগঞ্জের বনেদিয়ানায় উত্তপ্ত দুপুরে ভ্রমসি