ঈদের ছুটিতে বগালেক, কেওক্রাডং এবং বরবগ ঝর্না

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত বগালেক একটি অপূর্ব প্রাকৃতিক বিস্ময়। ধারণা করা হয়, একটি মৃত আগ্নেয়গিরি মুখ কালক্রমে লেক এ রূপান্তরিত হয়েছে যদিও এর তেমন তথ্য প্রমান নেই। পাহাড় বেষ্টিত অপূর্ব সুন্দর এই লেকটি চাঁদনি রাতে যেন তার রূপের পসরা সাজিয়ে বসে। কটেজের বারান্দায় বসে এমন একটি রাত যেন স্বপ্নের থেকেও বেশি সুন্দর। অবশ্য কৃষ্ণপক্ষেও এর সৌন্দর্য কিছু কম নয়। লক্ষ তারার ঝিলিমিলি বগালেকের পানিতে মুখ লুকায়। বগালেক থেকে দার্জিলিং পাড়া হয়ে যেতে হয় কেওক্রাডং। এটি এক সময় বাংলাদেশর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। কেওক্রাডং এ দাঁড়িয়ে যে অনুভূতি হয় তা কখনো ভোলার নয়। আর কেওক্রাডাংয়ে সূর্যোদয়, সে তো এক মোহনীয় জাদুকরী মুহূর্ত বিবরণ। যেহেতু বর্ষা সিজন চলে আসছে তাই ঝর্নাতে ভিজতে তো হবেই তাই এই ট্যুরে আমরা চিংড়ি ঝর্না এবং বর বগ ঝর্নায় ভিজবো।

আনুমানিক প্লান-
২৩ আগস্ট — রাতের বাসে বান্দরবান যাত্রা।

২৪ আগস্ট — সকালে বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়িতে করে চলে যাব রুমা বাজার। সেখানে সকালের নাস্তা করে গাড়িতে যাবো বগালেকের পথে, সেখানে আমরা দুপুরের খাবার খাবো। তার পর হালকা বিশ্রাম শেষে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্য ট্রাকিং করে রওনা দিবো। সেখানে আমরা পূর্ণিমার রাতে জোছনা বিলাস করবো সাথে হবে গান বাজনা আর আড্ডা করে রাতের খাবার খেয়ে কটেজ এ রাত্রি যাপন করবো।

২৫ আগস্ট — খুব সকালে উঠে কেওক্রাডং এ সূর্যোদয় অবলোকন করবো। সকালের নাস্তা করে চলে আসবো দার্জিলিং পাড়ায় ব্যাগ রেখে ট্র্যাকিং শুরু করবো বরবগ ঝর্নার উদ্দেশ্য। ঝর্নায় কিছু সময় ভিজে চলে আসবো দার্জিলিং পাড়ায় ব্যাগ নিয়ে রওনা দেব বগালেক। বগালেকে পোঁছে আমরা যে যার মত আনন্দ করব। এক ফাঁকে দুপুরের খাবার খেয়ে নেব। বিকালে ও সন্ধ্যা বগালেকে উপভোগ করে রাতে হয়ে যাবে গান আর আড্ডা সাথে হবে বার বি কিউ এবং কেম্প ফায়ার শেষে কটেজে রাত্রি যাপন করব।

২৬ আগস্ট — আমরা সকালে উঠে নাস্তা করে চলে আসবো রুমা বাজারে সেখানে লাঞ্চ করে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা দিবো যদি রিজুক ঝরনায় পানি থাকে তাহলে ট্রলার দিয়ে রিজুক ঝরনা ঘুরে সেই ট্রলার দিয়ে বান্দরবান যাবো আর না হলে বাস/জিপ গাড়ি দিয়ে বান্দরবন শহরে চলে যাবো গ্রুপ রুম নেয়া হবে ফ্রেশ হবার জন্য এবং ব্যাগ রাখার জন্য সময় সুযোগ হলে চলে যাবো নিলাচল ঘুরে এসে রাতের ডিনার করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিবো।

২৭ আগস্ট — সকাল ৭ টায় ইনশাল্লাহ ঢাকায়।

ভ্রমণ খরচ: ৫,৭০০ টাকা জনপ্রতি।

কনফার্ম করার জন্য ৩,০৬০ টাকা বিকাশ করতে হবে।
বিকাশ করে অবশ্যই ফোন করে জানাতে হবে বা কমেন্ট করতে হবে।
বিকাশ নাম্বার : রুবেল ০১৯১১২৪৯৪৭০
০১৮৭৩২৪৯৪৭০

কেউ যদি হাতে হাতে টাকা দিতে চান তা হলে এডমিনের সাথে দেখা করে ৩,০০০ টাকা দিয়ে কনফার্ম করতে পারবেন

ভ্রমনের স্থান সমূহ:

  • বগালেক
  • কেওক্রাডং
  • বরবগ ঝর্না
  • চিংড়ি ঝর্না
  • রিজুক ঝর্না
  • সময় হলে আরো কিছু ঝর্নায় যাবো ।

বগালেক কমলাবাজার পর্যন্ত গাড়ি দিয়ে যাবো আর বগালেক থেকে কেওক্রাডং আমরা হেটে যাবো কেওক্রাডং যেতে আমাদের ৩/৪ ঘন্টা হাটা লাগবে পথে চিংড়ি ঝর্না দেখবো এবং বর বগ ঝর্না ৩/৪ ঘন্টা হেটে যেতে হবে তাই সবাই ভালো ভাবে যেনে শুনে বুকিং করবেন।

যদি আর্মিদের থেকে পারমিশন নিতে পারি অবশ্যই আমরা জাদিপাই ঝরনা দেখতে যাবো।

যে বিষয় গুলো বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে :

বগালেক ও কেওক্রাডং এর কিছু কিছু জায়গায় রবি এবং টেলিটক্ এর নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় বাকি সময় নেটওয়ার্ক এর বাহিরে থাকে হবে।

ব্যাকপ্যাকে খুব প্রয়োজনীয় ছাড়া কিছু নিবেন না, ব্যাকপ্যাক যতটা সম্ভব হালকা রাখবেন কারণ এটা আপনাকে বহন করতে হবে।

এখনে এক রুম এ শেয়ার বেসিসে রাত্রি যাপন করতে হবে অবশ্যই মেয়েদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

এই খরচে যা যা থাকছে
ঢাকা – বান্দরবান – ঢাকা নন এসি বাসের টিকেট। 
২৪ আগস্ট সকালের খাবার থেকে শুরু করে ২৬ আগস্ট রাতের খাবারসহ প্রতিদিন তিন বেলা করে মোট ৯ বেলা খাবার । 
জীপ গাড়ি ।
গাইড এর খরচ। 
ট্রলার খরচ।

যা থাকছে না
কোনো বাক্তিগত খরচ। 
ব্যক্তিগত ঔষধ।

যা সাথে নেয়া উচিত:

১- Odomos cream
২- ট্রেকিং এর জন্য হালকা জুতা।
৩- বড় পাতলা গামছা যাতে রোদের সময় মাথায় দিয়ে রোদ থেকে বাঁচতে পারেন।
৪- টর্চ লাইট।
৫- সানস্ক্রীন ক্রিম।
৬- সানগ্লাস।
৭- ক্যামেরা।
৮- ব্রাশ।
৯- গ্লুকোজ /সেলাইন
১০- অবশ্যই পানির বোতল নিবেন ২ টা।
১১- রাতে ঠান্ডার জন্য চাদর 
১২ শীতের হালকা কাপড়

বিশেষভাবে লক্ষনীয়
১- একটি ভ্রমন পিপাসু মন থাকতে হবে।
২- ভ্রমনকালীন যে কোন সমস্যা নিজেরা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।
৩- ভ্রমন সুন্দরমত পরিচালনা করার জন্য সবাই আমাদেরকে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন আশা রাখি।
৪- আমরা শালীনতার মধ্য থেকে সর্বোচ্চ আনন্দ উপভোগ করব।
৫-অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যে কোন সময় সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে, যেটা আমরা সকলে মিলেই ঠিক করব।
৬- বাংলার অভিযাত্রী ইকো টুরিজম এ বিশ্বাসী, টুরে যেয়ে প্রকৃতির কোন রকম ক্ষতি আমরা করবনা। কোন অপচনশীল বর্জ্য যেমন প্লাস্টিক প্যাকেট, বোতল যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলব ও ক্ষেত্রবিশেষে সাথে করে নিয়ে আসব। স্থানীয় জনবসতির সাথে বন্ধুত্বপূণ আচরন করব এবং যথোপযুক্ত সস্মান প্রদর্শন করব।

আমরা সবাই প্রকৃতি মায়ের সন্তান; এর হেফাজতের দায়িত্ব আমাদের সবার।

ভ্রমনের জন্য যে কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
ছেলে/মেয়ে সকলেই যেতে পারবেন।

যোগাযোগ :
রুবেল– ০১৯১১২৪৯৪৭০
০১৮৭৩২৪৯৪৭০

বাংলার অভিযাত্রী গ্রুপের সাথে থাকুন

https://www.facebook.com/groups/759507837518005/
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঈদের ছুটিতে ঝর্নাদের টানে!

ঈদের ছুটিতে মেঘ রাজ্য সাজেক ভ্রমণ