আমেরিকার যত ভ্রমণস্থানের গল্প: শিকাগো সিটি

www.hdfinewallpapers.com

পৃথিবীর অন্যতম উন্নত দেশ আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্র। অনেকের কাছেই আমেরিকা মানে ড্রিম কান্ট্রি বা স্বপ্নের দেশ৷ একদিন আমেরিকায় ঘুরতে যাবো বলে অনেকেই স্বপ্ন দেখে৷ আধুনিকতার আদলে মোড়ানো প্রচণ্ড সুন্দর এক দেশ আমেরিকা৷ প্রতি ঋতুতে যার একেক রূপ দেখা যায়, একেক শহরে নিত্য নতুন দিক উন্মোচিত হয় যে দেশের সে দেশ আমেরিকা।

আমেরিকা নিয়ে গল্প করবো পরের কয়েকটি লেখায়৷ প্রতি লেখায় থাকবে আমেরিকার নতুন নতুন শহরের বিভিন্ন ভ্রমণস্থানের গল্প৷ তবে বলে রাখা ভালো, আমেরিকার ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে গেলে একটা শক্ত ব্যাংক ব্যালেন্স দেখাতে হয় যা থাকলে অনায়াসেই মিলবে আমেরিকায় ঘুরতে যাওয়ার টিকেট৷

আজ গল্প করবো মিশিগান লেকের পাড়ে গড়ে ওঠা অন্যতম সুন্দর শহর শিকাগো নিয়ে। বিংশ শতাব্দীর স্থাপত্য আর চিত্রকলার কেন্দ্রবিন্দু এই শিকাগো শহর। জাঁকজমকে ভরপুর এই নগরীতে ইট-পাথরের স্থাপত্য থেকে সমুদ্রের নোনা পানির সৌন্দর্য কী নেই দেখার! চলুন তাহলে দেখে কী কী আছে এই শহরে ঘুরে দেখার৷

১. আর্ট ইন্সটিটিউট অফ শিকাগো

ছবিঃ terraamericanart.org

চিত্রকলায় ঝোঁক যাদের প্রচণ্ড, তাদের জন্য স্বর্গসম শিকাগোর এই আর্ট ইন্সটিটিউট অফ শিকাগো। শত শত নামীদামি চিত্রকর্মের অধিকারী এই জাদুঘরটি বিশ্বমানের জাদুঘর হিসেবে নাম কুড়িয়েছে অনেক আগেই। বিস্তর বৈচিত্র্য আর সৌন্দর্যে ভরপুর এর প্রতিটি চিত্রকর্ম, ফটোগ্রাফ, ভাস্কর্য, নান্দনিক বুনন শিল্প আর স্থাপত্যশৈলী যেকোনো পর্যটককে তাক লাগিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট৷

জাদুঘরটি এর দুর্দান্ত কিছু সংগ্রহ যেমন জর্জ সাউরেট এর “এ সানডে আফটারনুন অন লা গ্র্যান্ডে জেটি” এর মতো অনন্য কাজের জন্য বিখ্যাত। প্রায় ৪,০০,০০০ বর্গফুটের বিশাল এই জাদুঘরে পুরো একটা দিন কাটালেও কম মনে হবে শিল্পপ্রেমীদের৷

২. মিলেনিয়াম পার্ক

ছবিঃ cloudfront.net

বৃহত্তম গ্র্যান্ট পার্কের অংশ এই মিলেনিয়াম পার্ক ডাউনটাউন শিকাগোয় অবস্থিত৷ এই পার্কের একদম কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ১১০ টনের ক্লাউড গেইট নামক এক ভাস্কর্য যার আবরণ অনেকটা তরল পারদের মতো যেটা আসলে বানানো ঝকঝকে ইস্পাত দিয়ে।

আবরণটি পারিপার্শ্বিক দালানকোঠা, আকাশ, পর্যটক সবকিছুই খুব সুন্দর করে প্রতিফলন করে। পার্কের আরেকটি আকর্ষণ এখানকার ক্রাউন ফাউনটেন। অন্যতম কাজের মধ্যে রয়েছে এখানকার জে প্রিটজকার প্যাভিলয়নে কনসার্ট উপভোগ করা, লুউরে গার্ডেনে ঘুরে আসা ইত্যাদি৷

৩. নেভি পিয়ার

ছবিঃ fairfieldsuiteschicago.com

১৯১৬ সালে চিত্তবিনোদন আর জাহাজের সুযোগ-সুবিধার তাগিদে খোলা হয়েছিল নেভি পিয়ার যা এখন শিকাগোর অন্যতম পর্যটন স্থান৷ আজকের ৫০ একরের নেভি পিয়ার বাগান, দোকান, রেস্টুরেন্ট আর কনসার্টের স্টেজ দিয়ে পরিপূর্ণ৷ এখানে নেভি পিয়ার পার্ক নামে একটি পার্কও আছে যেখানে রয়েছে ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ফেরী, আছে থ্রিডি আইম্যাক্সে সিনেমা দেখার সুযোগ, আছে শিকাগো শেকস্পিয়ার থিয়েটারে নাট্যকারদের প্রতিভা দেখার সুযোগ৷

পাশেই রয়েছে ৬ তলা বিশিষ্ট ক্রিস্টাল গার্ডেন যা কেবল এক ভবনেই সীমাবদ্ধ কিন্তু এখানকার অন্যতম সুন্দর বোটানিক্যাল গার্ডেন এটি। শিকাগোর বাৎসরিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে পিয়ার কর্তৃপক্ষ, যেমন আগস্টের শিকাগো ফেস্টিভাল৷ শিকাগো থেকে জাহাজে করে আনন্দ ভ্রমণে যেতে চাইলে জাহাজে উঠতে হবে এখান থেকে৷

৪. মিউজিয়াম অফ সাইন্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি

ছবিঃ msichicago.org

জ্যাকসন পার্কের ঠিক উত্তর দিকে শেষ মাথায় অবস্থিত মিউজিয়াম অফ সাইন্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। ১৯৩৩ সালে স্থাপিত এই জাদুঘর নিঃসন্দেহে শিকাগোর অন্যতম শীর্ষ জাদুঘর যেখানে বিজ্ঞানের খুব সাধারণ এবং প্রাকৃতিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেখানো হয় প্রযুক্তি এবং শিল্পজাত উন্নয়ন কীভাবে ঘটানো যায়।

যেকোনো বয়সের বিজ্ঞানপ্রেমীরাই বেশ মজা পায় এখানে এসে। প্রায় সব পর্যটককেই এখানকার বিভিন্ন চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো সেগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে শিখে নেয় বিজ্ঞানের অনেক খুঁটিনাটি।

৫. বাকিংহাম ফাউন্টেন

ছবিঃ pridezillas.com

বাকিংহাম ফাউন্টেনের পুরো নাম ক্লারেন্স বাকিংহাম মেমোরিয়াল ফাউন্টেন যা ১৯২৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল। কৃত্রিম ফোয়ারাটি বিশ্বের বৃহত্তম সব কৃত্রিম ফোয়ারার মধ্যে অন্যতম। যুগান্তকারী আর্ট ডেকোর আমলে তৈরীকৃত এ ফোয়ারার স্থাপত্যশৈলীতে আছে বিশেষ অনন্যতা যেখানে মূল ঝর্ণার চারদিকে যে চারটি সমুদ্র ঘোটকের প্রতিকৃতি আছে তা মিশিগান হৃদের চারদিকের চার প্রদেশের চিহ্ন বহন করে৷

সকাল আটটা থেকে শুরু করে রাত এগারোটা অবধি প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫,০০০ গ্যালন পানি ২০০ নজেলের ভেতর দিয়ে উপরে ছুঁড়ে দেয়া হয় নান্দনিক এক দৃশ্য সৃষ্টির জন্য। দিনের বেলায় যার সৌন্দর্য দৃষ্টি এড়ায় না, রাতের বেলায় তা হয়ে ওঠে বর্ণিল মনকাড়া আলোয় আলোকিত। গ্র্যান্ট পার্কের কেন্দ্রবিন্দু এই কৃত্রিম ফোয়ারাটি৷

৬. ওইলিস টাওয়ার স্কাইডেক

ছবিঃ imgix.net

আমেরিকা গেলেন কিন্তু স্কাইস্ক্র্যাপার দেখলেন না- তা কি করে হয়? ১৯৯৬ এর আগে মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরে অবস্থিত পেট্রোনাস টাওয়ার ছিল সব থেকে উঁচু অফিস ভবন। ১৯৭৪ সালে আমেরিকার শিকাগোতে তৈরী হলো ১১০ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন সিয়ার্স টাওয়ার যার এখনকার নাম ওইলিস টাওয়ার। এখান থেকে শিকাগোর যে দৃশ্য ধরা পড়ে চোখের দৃষ্টিতে তা এক কথায় অসাধারণ।

পরিষ্কার আবহাওয়ার দিনে অনায়াসে এখান থেকে ৪০-৫০ মাইল দূরের পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোও দেখা যাবে খালি চোখে। শিকাগোর লোভনীয় স্থাপত্যশৈলী দেখার এর চেয়ে ভাল কোনো উপায় নেই৷ বহুতল এ ভবনটি তৈরী করতে সময় লেগেছে ৩ বছর আর এটি প্রায় ১,৪৫৩ ফুট উঁচু৷

৭. ফিল্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি

ছবিঃ platomadison.org

১৮৯৩ সালে স্থাপিত এই জাদুঘরের স্থানীয় নাম কলাম্বিয়ান মিউজিয়াম অফ শিকাগো। জীবাশ্ম আর ফসিল সংরক্ষণে বেশ সমৃদ্ধ এই জাদুঘরে রয়েছে ২০ মিলিয়নেরও বেশি উপাদান যেখানে একত্র করা হয়েছে প্রাণিবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, নৃবিদ্যার মতো বিচিত্র সব শাখাকে৷ এখানে আছে মিশরীয় সভ্যতা, উত্তর-কেন্দ্রীয়-দক্ষিণ আমেরিকান সভ্যতার নিদর্শন আর বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইরানোসরাসের সম্পূর্ণ কংকাল৷

ফিচার ইমেজ- hdfinewallpapers.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ট্রেক টু চন্দ্রখনি পাস ও প্রথম হিমালয় যাত্রা

কলকাতায় কেনাকাটার টিপস