স্বল্প খরচে ভ্রমণের জন্য সেরা দশটি গন্তব্য

আপনি যদি ভ্রমণপিপাসু হয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানোর ভ্রমণ তালিকায় গন্তব্যের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু তালিকার সংখ্যাই নয়, সেই সাথে চাপ বাড়ছে পকেটের ওপরও। হয়তো পকেটের কারণে ইচ্ছা তালিকা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, কিংবা তালিকা থেকে গন্তব্যের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তবে চাইলেই কিন্তু কম খরচে বিশ্বের অনেক দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব। থাইল্যান্ড থেকে শুরু করে গুয়াতেমালা পর্যন্ত অনেক গন্তব্য আছে যেগুলোতে ভ্রমণের জন্য অন্তত ব্যাংক ডাকাতি করতে হবে না। নিচে এমনই কয়েকটি গন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হলো:

থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের কোহ-লান্তা দ্বীপ; সোর্স – traveltriangle.com

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য থাইল্যান্ড খুবই জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। থাইল্যান্ডের এই জনপ্রিয়তার কারণ এখানকার মনোরম দ্বীপসমূহ, বিস্তৃত সংস্কৃতি, অসংখ্য বীচ-হাট, লোভনীয় ও সুস্বাদু খাবার এবং অভিযানের জন্য প্রচুর পরিমাণ গন্তব্য। এগুলো উপভোগ করা যায় একদম স্বল্প খরচে। পুরো দেশজুড়েই যোগাযোগের রুটের সংখ্যা অত্যধিক বেশি হলেও, জনতার ভিড় থেকে আড়াল হওয়া খুব একটা কঠিন কিছু নয়।
চাইলেই যেতে পারেন নাখন সি থাম্মারাটে, দেশের সবচেয়ে ভালো ভালো খাবার পাওয়া যায় এখানে। অথবা মেই হং সন লুপ থেকে মোটরবাইক ভাড়া করে বেরিয়ে পড়তে পারেন জঙ্গল ঘেরা উত্তরের পর্বতমালার ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া ৬০০ কিলোমিটার লম্বা ট্রিপে।

দক্ষিণ আফ্রিকা

শ্বেত গন্ডার – মা ও শাবক; সোর্স – researchgate.net

দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকটা হলো এখানে গেলে পাওয়া যায় শিকারের অভিজ্ঞতা। ছোটখাটো শিকার থেকে শুরু করে ‘বিগ ফাইভ‘ও শিকার করা যায় দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেটাও আবার বাজেটের ওপর তেমন কোনো চাপ না ফেলেই করা সম্ভব।
ক্রুজার ন্যাশনাল সাফারি পার্কের ভিড় এড়াতে চাইলে যেতে পারেন লুলুয়ে-উম্ফোলোজিতে। এখানে গেলে দেখা পাবেন শ্বেত গন্ডারেরও। এছাড়া অ্যাডভেঞ্চারাস হাইকিংয়ের জন্য যেতে পারেন ড্রাকেন্সবার্গেও। তাছাড়া শুধু কেপটাউনও তো ভ্রমণের জন্য চমৎকার একটি গন্তব্য।

ভিয়েতনাম

হালং বে তে অবস্থিত চুনাপাথর ফলকের ক্ষুদে দ্বীপ

আমেরিকান যুদ্ধের (ভিয়েতনাম যুদ্ধ) পর থেকে কয়েক দশক ধরে দেশটিতে অনবরত পরিবর্তন আসলেও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ভিয়েতনাম এখনো অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে আছে। দেশটির প্রধান আকর্ষণ এখানকার সৌন্দর্যময় গ্রামাঞ্চলগুলো। উত্তরের চুনাপাথরের ফলক থেকে শুরু করে মিকং ডেল্টার ধানী-ভূমি এবং জলপথ পর্যন্ত পুরোটা দেশই ছবির মতো সুন্দর।
পুরোটা দেশজুড়েই মোহনীয় কিছু সমুদ্রসৈকত এবং কর্মব্যস্ত শহর। এছাড়া ভিয়েতনামিজ খাবার তো রয়েছেই। খুব অল্প খরচেই দেশের সবচেয়ে সেরা খাবার পাওয়া যায় এখানকার প্রতিটি ফুড স্টলেই। ভিয়েতনামের স্থানীয়দের আতিথেয়তাও মুগ্ধ করার মতো।

কিউবা

ভারাদেরো সমুদ্রসৈকত; সোর্স – tripadvisor.com

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং কিউবার সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এই ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলো ভ্রমণের সবচেয়ে সেরা সময় এটাই। ভ্রমণপিপাসু হলে দেশের রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন এবং ট্রাভেলিং খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই যাওয়া উচিৎ ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্রে।
এখানে আসলে যেতে পারেন হাভানার সালসা ক্লাবে, কিংবা মিশে যেতে পারেন সান্টিয়াগোর জুলাই কার্নিভালে। অথবা ভারাদেরো সমুদ্র সৈকতে যেতে পারেন ক্যারিবিয়ান উষ্ণতায় সূর্যস্নানের জন্য। কিউবায় গিয়ে যেটাই করুন না কেন বা যেখানেই যান না কেন – কিউবা থেকে মুগ্ধতার নেশাতুর রাশ না নিয়ে ফেরা একদম অসম্ভব।

প্রাগ, চেক প্রজাতন্ত্র

প্রাগ শহরের এরিয়াল ভিউ; সোর্স – spendlifetraveling.com

পর্যটকদের ওপর চেক সরকার একটু কড়া হলেও, ভ্রমণের জন্য প্রাগ এখনো ইউরোপের সবচেয়ে সাশ্রয়ী খরচের রাজধানীগুলোর একটি। মাত্র অল্প কিছু চেক মুদ্রার বিনিময়েই উদরপূর্তি করা সম্ভব এখানে, সেই সাথে স্থানীয় সুস্বাদু বিয়ার তো আছেই।
এছাড়া পুরো শহরজুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে সৌন্দর্যের ছোঁয়া, ইতিহাসে পরিপূর্ণ শহরের প্রতিটা অংশ। পায়ে হেঁটে ঘুরতে চাইলে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা গন্তব্য এই প্রাগই।

গুয়াতেমালা

বিখ্যাত ‘চিকেন বাস’; সোর্স – mayo2maya

গুয়াতেমালার সৌন্দর্যে মোহাচ্ছন্ন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। পুরো দেশ জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মায়ান ঐতিহ্য এবং উপনিবেশিক শাসনামলের ছাপ। অর্থের মূল্য কম হওয়ায় স্প্যানিশ শেখার জন্য সবচেয়ে সেরা জায়গা।
ভাষার দক্ষতা আয়ত্তে এসে গেলেই দেশ ভ্রমণের জন্য চড়ে বসতে পারেন দেশের বিখ্যাত ক্যামিওনেতাস বা ‘চিকেন বাসে’, কিংবা অবলোকন করতে পারেন অ্যান্টিগার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে, অথবা বিমোহিত হতে পারেন মায়াদের স্মৃতিস্মারক টিকাল মন্দির দেখে।
টিকাল মন্দির; সোর্স – cahalpech.com

বুলগেরিয়া

ভার্না শহর; সোর্স – shutterstock.com

বুলগেরিয়াকে তেমন পর্যটক কেন্দ্র বলে গণ্য করা হয় না, তবে সীমিত বাজেটের ট্রাভেলারদের জন্য বুলগেরিয়া খুবই ভালো একটি গন্তব্য। দেশটিতে বেশ কিছু চমৎকার সমুদ্র সৈকত আছে। শুধু মোহনীয় সামুদ্রিক উপকূলই নয়, দেশটিতে রয়েছে অনেক সৌন্দর্যমন্ডিত পুরোনো শহরও। উপকূলের ধারে থাকা ভার্না এবং প্রাচীন প্লোভদিভ এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে পায়ে হেঁটে বা মাউন্টেইন বাইকে চড়ে এক্সপ্লোর করার মতো চমৎকার কিছু পর্বতমালা।

বলিভিয়া

সালার দি ইইউয়ানির সল্ট ফ্ল্যাট; সোর্স – wikipedia.org

দক্ষিণ আমেরিকায় সবচেয়ে স্বল্প খরচে ভ্রমণের গন্তব্য হলো বলিভিয়া। যদিও পর্যটকরা এই গন্তব্যকে কিছুটা এড়িয়ে চলেন। এখানে যাতায়াতে মাঝেমধ্যেই একটু সমস্যার সৃষ্টি করে। তবে সব শঙ্কা দূর করে একবার যাওয়ার পর ভ্রমণটাকে রঙিন মনে হবে। দেশটির সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ হচ্ছে সালার দি ইইউনির সল্ট ফ্ল্যাটগুলো। বলিভিয়ায় দুই-তিনদিনের ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ দেড়শো ডলারের মতো খরচ লাগতে পারে।

মেক্সিকো

মেক্সিকো রিভিয়েরা মায়া; সোর্স – The Fit Traveller

মেক্সিকোতে গেলে বাজেটের হয়তো বেশির ভাগটাই খরচ হবে টাকোশেল এবং টাকিলার পিছনে, তবে এছাড়াও দেশটিতে ঘুরে দেখার মতো রয়েছে অসংখ্য স্থান। খুব কম খরচেই দেশের অধিকাংশই ঘুরে দেখা সম্ভব। আপনি চাইলেই সূর্যস্নান করতে পারেন সৈকতের সাদা বালিতে, উপভোগ করতে পারেন ওহাকার স্ট্রিট ফুডগুলো অথবা শীতল হতে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ সেনোটে। তবে যেটাই করুন না কেন, দেশটিতে একবার ভ্রমণে গেলে বারবার সেখানে ফিরে যেতে ইচ্ছা করবে।
যিৎনুপ সেনোট; সোর্স – alamy stock

লাওস

নং খিয়াও; সোর্স – bittenescapes.com

অবশ্যই বাজেট ফ্রেন্ডলি একটি গন্তব্য লাওস। তারপরও লাওসের জীবনযাপন বা অর্থমূল্যের ব্যাপারে ভাবলে অবাক হতেই হবে। অর্থের মূল্য সেখানে খুবই কম। এজন্যই পর্যটকদের কাছেও বেশ পছন্দের জায়গা এই দেশটি।
এখানে সামান্য কিছু ভাংতি টাকার বিনিময়েই থাকা সম্ভব মার্জিত লুয়ান প্রাবং এর উত্তরে অবস্থিত নং খিয়াও নদীর পার্শ্ববর্তী বাংলোতে। শুধু তাই না, এই স্বল্প বাজেটেই বোটে করে সেখানে জলপথে ঘুরে দেখা এবং দেশের উপাদেয় খাবারও উপভোগ করা সম্ভব।
ফিচার ইমেজ – curbed.com

Loading...

20 Comments

Leave a Reply
  1. আশ্চর্যজনক ভাবে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা নাই!

  2. ভেবেছিলাম পারহেড বাজেট দেওয়া থাকবে ……. এতো খুবই সাধারণ ইনফর্মেশন…….

  3. আমি প্রাগে/চেক রিপাবলিক যেতে চাই কিভাবে কেমন খরচ কতদিন থাকতে হবে বিস্তারিত জানাবেন।

  4. খরচের একটা অানুমানিক হিসাব দিলে (ভিসা,ট্রান্সপোর্ট ও খাওয়া খরচ সহ সাইট সিইং)ভাল হত।

  5. আনুসঙ্গিক সব খরচসহ একজনের জন্য কোন দেশে কতো টাকা ব্যয় হবে জানালে ভালো হতো।

  6. বাংলাদেশ থেকে বাজেট ট্রিপ এ যেতে হলে ইন্ডিয়া, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া এবং চীন এই সাতটি দেশই হতে পারে সেরা গন্তব্য। কিউবা, বু ল্ গে রি, চেক রিপাব্লিক, মেক্সিকো এসব দেশে যাওয়ার বিমান ভাড়াই অনেক বেশি। লেখক কোন বিদেশী ট্রাভেল গাইড থেকে হুবহু কপি পেষ্ট করেছেন যে কারণে এটি অপ্রয়োজনীয় এবং অপ্রাসঙ্গিক লেখা।

  7. আমি প্রাগে/চেক রিপাবলিক যেতে চাই কিভাবে কেমন খরচ কতদিন থাকতে হবে বিস্তারিত জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক নজরে একটি জেলা: প্রাচীন জনপদের শহর যশোর

এক নজরে একটি জেলা: নড়াইলের ঘাটে ঘাটে পড়ে আছে ইতিহাস