ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর পাঁচটি রোডট্রিপ

প্রতিটি ট্রাভেলারের কাছে রোড ট্রিপ একটি অনবদ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, কারণ আকাশ দিয়ে বা সমুদ্র দিয়ে জাহাজে বা প্লেনে করে যাওয়ার সাথে গাড়িতে করে চারপাশের পরিবেশ দেখতে দেখতে যাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। তাই একটি রোড ট্রিপই আপনাকে দিতে পারে সব থেকে বেশি উত্তেজনা এবং অবিরাম মুগ্ধতা।

বিশেষ করে কোনো রাস্তা যখন মোটরগাড়ির উপযোগী হয়ে থাকে তখনই সে রাস্তাগুলো দিয়ে রোড ট্রিপ করা হয়। এগুলো হতে পারে সমুদ্রের পাশ দিয়ে শত শত কিলোমিটার, বিস্তৃত পাহাড়ের ভেতর দিয়ে খুব গহীন কোনো জায়গা অথবা সুবিশাল কোনো উপত্যকা যা শেষ করতে বেশ কিছু দিন লেগে যেতে পারে। এই ট্রিপগুলো শুধুমাত্র সাধারণ ট্রিপ হয়ে থাকে না বরং প্রতিটি ট্রাভেলারের অন্তরে গেঁথে থাকে, প্রতিটি গ্রাম, মোড় আর প্রতিটি রাস্তা।

Source: The Telegraph

থাকুক আপনার একটি গাড়ি অথবা একটি সাইকেল অথবা মোটরসাইকেল। শুধু বেরিয়ে পড়লেই এই রাস্তাগুলো হবে আপনার ভ্রমণের সবথেকে রোমাঞ্চকর মাধ্যম। যদি কিছু দিনের মধ্যে ইংল্যান্ডে রোড ট্রিপের ইচ্ছা থাকে তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। নিচে ইংল্যান্ডের সব থেকে সেরা কিছু রোড ট্রিপের বর্ণনা দেবার চেষ্টা করছি।

স্কটল্যান্ডের নর্থ কোস্ট

শহুরে আধুনিক জীবন-যাপনে এবং অসহ্য ট্রাফিক জ্যামে অতিষ্ঠ হওয়ার পর যদি আপনার কোথাও দীর্ঘ পথ ভ্রমণের ইচ্ছা হয় তাহলে চার থেকে সাত দিন ড্রাইভ করে আপনি এই অঞ্চলটি কাভার করতে পারবেন। এখানে যদিও হোটেল এবং বসবাসের জায়গা বেশ কম এবং অনেক দূরে দূরে তাই অগ্রিমভাবে নিজের খাবার এবং থাকার জায়গার পরিকল্পনা করে নিতে হবে। এই রাস্তা যেন সঙ্গীতের মতো আপনাকে নিয়ে যাবে প্রতিটি ছোট ছোট পাহাড়ি বাঁক দিয়ে।

Source: Scotland’s BEST B&Bs

ডরনচের পূর্ব উপকূল থেকে এন্টিভা পর্যন্ত এই রাস্তাটি চলে গেছে পাহাড়ি এলাকার মধ্যে দিয়ে। যেতে যেতে দু’পাশে দেখতে পাবেন সারি সারি পাহাড় আর বিশাল উন্মুক্ত ভ্যালি। এই রাস্তায় গাড়ির চাপও খুব কম বলে স্বাচ্ছন্দ্যে পাড়ি দিয়ে ফেলতে পারেন শত শত কিলোমিটার রাস্তা। তাই আপনি যদি একই সাথে প্রকৃতির সাথে আপনার ড্রাইভিংকে মিশিয়ে ফেলতে চান অবশ্যই স্কটল্যান্ডের এই রাস্তায় আপনাকে বেরিয়ে পড়তে হবে।

ইয়র্কশায়ার সার্কিট

৩-৪ দিনের ছোটখাটো ড্রাইভিং যদি পছন্দ হয়ে থাকে, এছাড়া যদি আপনি আমোদপ্রিয় হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে এই রুটটি আপনার জন্য। কারণ এই রুটটিতে আপনার গাড়ি রাখার জায়গার অভাব হলেও আড্ডা দেওয়ার জায়গার অভাব হবে না। এখানে রাস্তায় পাবেন ইংল্যান্ডের সবথেকে সুন্দর কিছু গ্রাম, জলপ্রপাত এবং বেশ কিছু ঘূর্ণায়মান ব্যাকড্রপ।

Source: Welcome to Yorkshire

তাছাড়া পাবেন গ্রীষ্মকালীন উষ্ণ আবহাওয়ার ভেতর বিশাল ঘেসো প্রান্তরে শান্তির পরশ। এই এলাকাটিতে সাপের উপদ্রব থাকলেও সেটি নিয়ে খুব বেশি বিচলিত না হলেও চলবে। ইংল্যান্ডের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সম্প্রদায় এই রুটের পাশেই বা মাঝে বিভিন্ন গ্রামে থাকেন। ইচ্ছা করলে তাদের সাথে পরিচিত হয়ে যেতে পারবেন। সকলেই ভ্রমণার্থীদের সাদরে গ্রহণ করে এরা। রাস্তাগুলো মধ্যযুগীয় ইতিহাসের মধ্য দিয়ে এখনো পর্যন্ত বহমান রয়ে গেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের আটলান্টিক মহাসড়ক

সমুদ্রের পাশ দিয়ে রাস্তার ইতিহাসের সবথেকে জনপ্রিয় ইংল্যান্ডের এই মহাসড়কটি প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার লম্বা। যা দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি পর্যটনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। চার থেকে পাঁচ দিনে সম্পূর্ণ রাস্তাটি আপনি কাভার করতে পারবেন গাড়ি চালিয়ে। ইচ্ছা করলে যদিও একদিনে কাভার করা সম্ভব, কিন্তু এই জায়গাটি ভ্রমণার্থীদের কাছে এতই জনপ্রিয় যে তারা ক্যাম্পিং করে বসে যান যেখানে সেখানে। সার্ফারদের জন্য এই জায়গাটি স্বর্গরাজ্য কারণ এই মহাসমুদ্রের পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা সড়কের জন্য তাদের সমুদ্রে আসতে যেতে সুবিধা হয়।

Source: welgrowgroup

এই মহাসড়কের সবখানেই থাকা খাওয়ার জায়গা প্রচুর পরিমাণ। তাই গাড়ি পার্কিং এবং থাকা খাওয়া নিয়ে চিন্তা করাটার কোনো দরকার নেই। এই এলাকার সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত পরিমাণ প্রতারক চক্র বিস্তার করে আছে। তাই খুব সাবধানে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। শুধুমাত্র সতর্ক থাকলেই আপনি খুবই সাবলীলভাবে আপনার ড্রাইভিং, সার্ফিং, স্কুবা ডাইভিং এবং সি ফুডগুলো উপভোগ করতে পারবেন। তাই শুধু ড্রাইভিং নয়, এর পাশাপাশি যদি কিছু সামুদ্রিক অ্যাক্টিভিটি করার ইচ্ছা থাকে তাহলে দেরি না করে এখনি চলে আসুন দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের এই আটলান্টিক মহাসড়কে।

স্কটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের রাস্তা

ফোর্ট উইলিয়াম থেকে মিল্লাগ পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার একটি অদ্ভুত পুরাতন রাস্তা রয়েছে। যা প্রশান্ত মহাসাগরের পাশ ঘেঁষে চলে গিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় যেন শত শত বছর পুরনো সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। এখানকার প্রতিটি পর্বত, প্রতিটি মোড় এবং প্রতিটি ঘর বাড়ি যেন ভিক্টোরিয়া যুগের ইতিহাস বহন করে আসছে।

Source: VisitScotland

ফোর্ট উইলিয়াম ক্যালাডোনিয়ান খালটি প্রথমে নির্মিত হয়েছিল বাণিজ্যের জন্য। অতীতের বেশ কিছু স্থানীয় বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের স্মৃতিস্তম্ভ এখনো দাঁড়িয়ে আছে ১৭৪৫ সালের পর থেকে। যুক্তরাজ্যের সবথেকে চিত্তাকর্ষক এই প্রাচীনতম স্থাপনাগুলো এই রাস্তার পাশ দিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রায় ৩০০ বছর আগে। এখানে রয়েছে বিখ্যাত সিনেমা হ্যারি পটারের বেশ কিছু শুটিং স্পট। আপনি যদি সমুদ্রের সাথে প্রাচীন স্থাপনাগুলো পছন্দ করে থাকেন এবং হ্যারি পটার ভক্ত হলে মাত্র দুই থেকে তিন দিন সময় নিয়ে চলে আসতে পারবেন এই রাস্তাটিতে।

চেস ওয়ালেস ড্রাগন থেকে ব্ল্যাক মাউন্টেন পাস

ড্রাইভিংয়ের টপ গিয়ার ভক্তদের জন্য এই রাস্তাটি সবথেকে জনপ্রিয়। চেস ওয়ালেস ড্রাগন থেকে ব্ল্যাক মাউন্টেন পাসের এলাকাটি অতিক্রম করার সময় আপনি স্বাভাবিকভাবেই দুই পাশে অজস্র পর্বতমালা এবং গিরিখাতের পাশ দিয়ে পার হবেন। বিন্দুমাত্র সময়ের জন্য আপনার একাকী বা খারাপ অনুভূত হবে না। এছাড়া বেশ কিছু অফ ট্রেইল রাইডিং এখানে দেয়া যায়। মাত্র ৪০ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ড্রাইভিংয়ে আপনি এই রাস্তাটি অতিক্রম করতে পারবেন।

Source: videobiker

একটি ব্যাপার জানা দরকার সেটি হচ্ছে, অবশ্যই দক্ষিণ দিক থেকে আসা উত্তর দিকের রাস্তাটি সব থেকে বেশি রোমাঞ্চকর। তাই এই রাস্তাটি অতিক্রম করতে ভুলবেন না। এলাকাটিতে স্বাভাবিকভাবে স্থানীয় কৃষকরা থাকেন এবং বিভিন্ন মোটর বাইক রাইডিং হয়ে থাকে। এগুলো ছাড়া এই এলাকায় বিশেষ কোনো একটিভিটি পাবেন না। এই এক্টিভিটিগুলো অত্যন্ত মুখর হয়ে থাকে, বিশেষ করে রেসিং এবং রাইডিংয়ের ইভেন্টগুলো। আপনি যদি মোটর রাইড পছন্দ করেন তাহলে এই রাস্তাটি আপনার জন্য সারা জীবনের সব থেকে বেশি রোমাঞ্চকর রাস্তা হতে যাচ্ছে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গোমুখ অভিযান: শেষ দেড় কিলোমিটার অথবা জীবন!

জোছনার আলোয় ঝাউ বনে ঘেরা সোনাদিয়া দ্বীপে ক্যাম্পিং