বিশ্বের সেরা কয়েকটি হোটেল

ভ্রমণে বেরুলে ব্যাগ গোছানো, বাজেট সেট করা ছাড়াও আরেকটা চিন্তা থাকবে থাকার জায়গা নিয়ে। দিনের বেলা হয়তো এই জায়গা ঐ জায়গা ঘুরেই কাটিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু চিন্তাটা রাত কাটানো নিয়ে। কিছু কিছু গন্তব্যে হয়তো স্থানীয়দের সাথে থাকার সুযোগ থাকে, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাত কাটানো লাগে হোটেলগুলোতে। নিচে বিশ্বের সেরা কয়েকটি হোটেল নিয়েই আলোকপাত করা হলো।

রকিং জে’স (পুয়ের্তো ভিয়েহো, কোস্টারিকা)

রকিং জে’স-এর অভ্যন্তরীণ চিত্র; সোর্স – nomadicmatt

রকিং জেস আসলে মধ্য আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের মতো। বহু বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হোটেলটি। হোটেলের সামনেই রয়েছে সৌন্দর্যময় সাদা সমুদ্র সৈকত। হোটেলের খাবারের মানও বেশ ভালো, প্রতিরাতেই বারবিকিউ সার্ভ করা হয় এখানে। প্রচুর পার্টিও হয়। হোটেলটিতে নিম্নমূল্য থেকে শুরু করে উচ্চমূল্য পর্যন্ত সব ধরনের রুমই রয়েছে। আছে দোলনা-সদৃশ বিছানাও। হোটেলটিতে বিশাল আকৃতির স্পেসও রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ট্রাভেল সার্ভিসের অফার করা হয়। যদিও এটি শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে, তারপরও নিঃসন্দেহেই সেরা উপভোগ্য হোটেলগুলোর একটি। অনেক বিখ্যাত লোকেদেরও দেখা মেলে এখানে।

কাবুল (বার্সেলোনা, স্পেন)

কাবুল হোটেলের ভিতরের চিত্র; সোর্স – bcstatic

তর্কাতিতভাবেই পৃথিবীর সেরা হোটেলগুলোর একটি এই কাবুল। যদি কারো পার্টি করে রাত কাটানোর ইচ্ছা থাকে, তাহলে কাবুলই সবচেয়ে সেরা জায়গাগুলোর একটি। কাবুলে কেউ ঘুমাতে আসে না। এটি বিখ্যাত এর ভিতরের আবহ ও পার্টির আয়োজনের জন্য। সবসময়ই এটি অতিথিতে পরিপূর্ণ থাকে।
গ্রীষ্মকালে মাসখানেক আগে থেকেই হোটেল বুক করে রাখে পর্যটক ও আনন্দপিপাসুরা। কাবুলে এলে সুযোগ থাকে বিশ্বের একেক প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সাথে পরিচিত হওয়ার। শুধু তাই নয়- কার্ড গেম, পান করা, গান শোনা সবই সম্ভব এখানে। প্রতি রাতেই কাবুলে ফ্রি ডিনারের আয়োজন থাকে। তরুণ পর্যটকদের জন্য কাবুল নিঃসন্দেহেই সবচেয়ে আনন্দদায়ক জায়গাগুলোর একটি।

ফ্রান্সেসকো (আইয়স, গ্রীস)

ফ্রান্সেসকো হোটেল থেকে দেখতে পাওয়া প্রাকৃতিক দৃশ্য; সোর্স – travellintale.com

আইয়সের প্রধান দুটি হোটেলের একটি ফ্রান্সেসকো, অন্যটি ফার আউট বিচ রিসোর্ট। এই দুটোর মধ্যে ফ্রান্সেসকোতেই পর্যটকদের বেশি ভিড় থাকে, কারণ এটা শহরের খুব কাছেই অবস্থিত। তাছাড়া স্টাফরাও রাতে নিজ দায়িত্বে অতিথিদের সাথে পরিচিত হয়, পরিচয় করিয়ে দেয় অন্যান্য অতিথিদের সাথে। সামাজিকতার মাত্রা এখানে ফার আউটের চেয়ে অনেক বেশি। এখানে এসে নতুন কারো সাথে পরিচিত না হওয়া বা একা থাকা অসম্ভব। সেই সাথে বিলাসবহুল পুল তো রয়েছেই। এসব ছাড়াও এর আরো একটি আকর্ষণীয় দিক হলো, ফ্রান্সেসকোর পাশেই রয়েছে পৃথিবীর সেরা মিল্কশেক তৈরি করার প্রতিষ্ঠান।
ফ্রান্সেসকোর রুমগুলো বেশ সুন্দর এবং বিছানাগুলো বেশ আরামদায়ক। তবে ফ্রান্সেসকোর প্রধান আকর্ষণ এর অবস্থান। শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের কোনো কমতি নেই এখানে। সেই সাথে বেশিদিন থাকলে অনেক অনেক বন্ধু বানানোর সম্ভাবনা তো রয়েছেই।

হোস্টেল মোস্টেল (বুলগেরিয়া)

ভেলিকো টার্নাভোতে অবস্থিত হোস্টেল মোস্টেল; সোর্স – booking.com

বুলগেরিয়ার তিনটি শহরে এই হোটেলের শাখা রয়েছে। সোফিয়া, প্লোভদিভ, ভেলিকো টার্নোভো – তিনটি শহরেই এই হোটেলের শাখা রয়েছে। তবে অবস্থান তিনটি হলেও হোটেলের মূলনীতিগুলো একই – আরামদায়ক বিছানা, ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রি ডিনার, ফ্রি বিয়ার, পুল টেবিল এবং ফ্রি ও দ্রুত গতির ইন্টারনেট।
স্বাভাবিকভাবেই যে হোটেল থেকে সুস্বাদু নাস্তা, ফ্রি বিয়ার এবং প্রতি রাতে পাস্তা পরিবেশন করা হয় – সেটাকে পছন্দ না করার কোনো উপায়ই থাকে না। তবে শুধু এটাই নয়, এখানকার পরিবেশটা অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সামাজিক। তিনটি শাখার মধ্যে ভেলিকো টার্নোভোরটাই বেশি সেরা এর অবস্থানের কারণে। হোটেলটির চারপাশেই পর্বতমালা এবং একপাশে পুরনো দুর্গ থাকায় প্রচুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা পাওয়া যায়।

খাওসান হোস্টেল (টোকিও)

খাওসান হোটেলের ভিতরের চিত্র; সোর্স – khaosan-tokyo.com

টোকিও শহরের একদম কেন্দ্রেই রয়েছে এই হোটেলটি। হোটেলের পরিবেশ খুবই চমৎকার। এখানকার স্টাফদের আচরণ খুব ভালো, স্টাফরা বেশ জ্ঞানসম্পন্নও। জাপানের অন্যান্য সবকিছুর মতোই এই হোটেলটিতেও কোনো ময়লার চিহ্ন নেই। পুরোটাই একদম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এখানে চা-কফি সম্পূর্ণ ফ্রি, ভেতরে ঘুরে বেড়ানোর মতো খোলামেলা জায়গাও রয়েছে। এছাড়া এর বাইরের পরিবেশ বেশ মোহনীয়।

মিলহাউজ (বুয়েনস আয়ার্স)

মিলহাউজ হোটেলের অভ্যন্তরীণ চিত্র; সোর্স – nomadicmatt

বুয়েনস আয়ার্সের এই চমৎকার হোটেলটিতে রয়েছে ফ্রি চা, কফি, সুস্বাদু নাস্তা, ছাদ, কিচেন, ফ্রি লকার, পুল টেবিল এবং বোর্ড গেমসহ আরো নানা রকম আয়োজন। শুধু তাই নয় হোটেলের ছাদে প্রতিরাতেই ডিনারের আয়োজন করা হয়। বলতে গেলে রাতে প্রায় পার্টি সেন্টারে পরিণত হয়ে যায় জায়গাটা।
তবে একটা ভালো ব্যাপার হলো, ভেতরের চত্বরের চারপাশে থাকা রুমগুলো থেকে পার্টির কোনো শব্দ শোনা যায় না। অর্থাৎ কেউ যদি পার্টিতে নাও যেতে চায় তাহলেও সে এখানে নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পারবে। এখানের স্টাফরা যথেষ্ট জ্ঞানসমৃদ্ধ। তারা শুধু হোটেল স্টাফই নয়, এক হিসেবে ট্রাভেল গাইডও বটে; শহরে বা দেশে ঘুরে বেড়ানোর জন্য যাবতীয় সব নির্দেশনা তাদের থেকেই জেনে নেওয়া যাবে, সেটাও বিনামূল্যে।

গ্যালারি হোস্টেল (পোর্তো)

পোর্তোর গ্যালারি হোস্টেল; সোর্স – telegraph

পোর্তোর এই বিলাসবহুল হোটেলটি পর্তুগালের খুব সাশ্রয়ী হোটেল না হলেও, এই হোটেল-কাম-গ্যালারিতে রয়েছে চমৎকার পর্তুগিজ খাবার। পিছনের দিকে আছে উঠোন, ডিনারের পর কমপ্লিমেন্টারি পানীয়, গেম রুম এবং বন্ধুবৎসল স্টাফ – যারা সর্বদাই নিয়োজিত থাকে অতিথিদের সেবায়। হোটেলের দেয়ালে থাকা ছবিগুলো স্থানীয় শিল্পীদের আঁকা। কেউ চাইলে এগুলো কিনে নিতে পারে। শিল্পপ্রেমী হলে এখানে অবশ্যই একবার যাওয়া উচিৎ।

ফ্যাব্রিকা (তিবিলিসি)

ফ্যাব্রিকা হোস্টেল; সোর্স – booking.com

সোভিয়েত আমলে ফ্যাব্রিকা ছিল একটি ফ্যাক্টরি অ্যারিয়া। বর্তমানে এটিই পরিণত হয়েছে বহুতল বিশিষ্ট দালানে যেখানে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, বার, হোটেল, মিনি-অ্যাপার্টমেন্ট, অফিস স্পেস। দালান থেকে বেরুলেও পাওয়া যাবে একগাদা বার এবং রেস্টুরেন্ট। এখানে ডর্মগুলোও বেশ প্রশস্ত, বিছানা বেশ নরম এবং আরামদায়ক। তাছাড়া আলো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো নিজের মতো করে সেট করে নেওয়া যায় এখানে। বহু কাজে ব্যবহৃত এই দালানটি স্থানীয়দের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় এবং এটি শহরের সবচেয়ে সেরা জায়গাগুলোরও একটি।
ফিচার ইমেজ – ytimg.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অযোধ্যা মঠ: ইটে গাঁথা এক প্রাচীন শৈল্পিক স্থাপত্য

ভারতের দুর্দান্ত সব রেলভ্রমণের ইতিকথা