আমেরিকার যত ভ্রমণস্থানের গল্প: লাস ভেগাস সিটি

ক্যাসিনোর স্বর্গ লাস ভেগাসের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন? লাল-নীল হাজার বাতি আর ব্যস্ত জীবনের জমকালো বিলাসিতার এক প্রকাণ্ড শহরের নাম লাস ভেগাস। আমেরিকার এই শহরে জুয়াড়ির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও ঘুরে দেখার জায়গাও কিন্তু নেহাত কম নয়৷ পর্যটকদের সবরকম সুবিধা দিতে বছরের যেকোনো সময় প্রস্তুত থাকে এখানকার হোটেল-মোটেলগুলো।

রাস্তার ধার ঘেঁষে রিসোর্ট অথবা অদ্বিতীয় জাদুঘর থেকে শুরু করে সীমান্ত ঘেরা আগ্নেয়গিরি আর উপত্যকায় মোড়ানো অসম্ভব সুন্দর এক শহর লাস ভেগাস। লাস ভেগাসে ঘুরতে যাওয়া অনেকের সারাজীবনের সাধ, সে সাধেরই অংশ হিসেবে লাস ভেগাসের ভ্রমনস্থানগুলোর গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের লেখা৷

লাস ভেগাসে যেখানে সবচেয়ে বেশি পর্যটক যায় শীতকালে, সেখানে গরমকালে হোটেলের সুইমিংপুলগুলোই যেন শেষ আশ্রয়। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক কী কী আছে লাস ভেগাসে ঘুরে দেখার মতো।

১. দ্য স্ট্রিপ

ছবিঃ desktopbackground.org

লাস ভেগাসের উত্তরপূর্ব কোণা থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত আড়াই মাইল দীর্ঘ কেন্দ্রীয় স্টেশনের নাম দ্য স্ট্রিপ৷ দ্য স্ট্রিপের বিশেষত্ব হলো এর দুই পাশে লাইন করে সাজানো আছে বিলাসিতার বিভিন্ন রিসোর্ট, নামীদামী সব হোটেল-মোটেল আর আমোদপ্রমোদের প্রাসাদসমূহ৷ নিয়ন আলোতে এই স্ট্রিপের সৌন্দর্য দেখার জন্য কয়েক দেশ পাড়ি দিয়ে পর্যটক আসে লাস ভেগাসে।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই স্ট্রিপে হাঁটতে পছন্দ করেন৷ প্রকৃতপক্ষে স্ট্রিপটি শুরু হয় মান্ডালায় বে হোটেল থেকে আর শেষ হয় ট্রেজার আইল্যান্ড হোটেলে গিয়ে। এর প্রকৃত সৌন্দর্য অবিরাম উপভোগ করতে চাইলে রুম নিতে হবে স্ট্রিপের পাশের দামী হোটেলগুলোতে।

২. ফ্রেমন্ট স্ট্রিট এক্সপেরিয়েন্স

ছবিঃ staticflickr.com

স্ট্রিপ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে লাস ভেগাস ডাউনটাউনে প্রতিদিন একটা জায়গায় আলোর মেলা বসে প্রতিনিয়ত৷ জায়গার নাম ফ্রেমন্ট স্ট্রিট৷ রাস্তাটি শুধুমাত্র পর্যটকদের হাঁটার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এই এলাকায় কোনো ধরনের যানবাহন ঢুকতে পারে না৷

আলো দিয়ে মাথার উপরের ছাদে প্রতিচ্ছবি ঘটিয়ে এমন সব আবহাওয়া তৈরী করা হয় যা ফেলে অন্য জায়গায় ঘুরতে যাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়৷ প্রতি রাতে নতুন নতুন আলোক-সজ্জা আর রাস্তার পাশে বিভিন্ন কলাকারের কৌতূহলী সব কর্মকাণ্ড এই রাস্তাকে দিয়েছে অনন্যতা আর আর আলাদা সৌন্দর্য।

৩. লাস ভেগাস আর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে হেলিকপ্টার ভ্রমণ

ছবিঃ blog.headout.com

লাস ভেগাসের পুরো দৃশ্য একবারে চোখে দেখতে আর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানকার হেলিকপ্টার ভ্রমণ অন্যতম জনপ্রিয় একটি কার্যক্রম। লাস ভেগাসের বিভিন্ন বেসরকারী এজেন্সী আছে যারা এই হেলিকপ্টার ভ্রমণ করায়৷ এই ভ্রমণে পুরো লাস ভেগাস তো বটেই, অনন্য সুন্দর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে ঘুরিয়ে আনবে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায়৷ যাদের হাতে সময় কম এবং যারা পাখির চোখে লাস ভেগাসের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাদের জন্য এটি একটি লোভনীয় সুযোগও বটে।

৪. ভেনেটিয়ান হোটেল আর গন্ডোলা ভ্রমণ

ছবিঃ i.ytimg.com

লাস ভেগাসের অন্যতম দারুণ রিসোর্ট ভেনেটিয়ান হোটেল৷ ভেনিসের আদলে তৈরিকৃত এ রিসোর্টে আমেরিকা এসেও পাবেন ইটালির পূর্ণ স্বাদ। এখানে আপনি ইচ্ছে করলে ভেনিসের বিশেষ নৌকা গন্ডোলায় চড়ে স্ট্রিপ কমপ্লেক্সটি ঘুরে দেখতে পারবেন পুরো দিনে।

নৌকাগুলোকে বলা হয় গন্ডোলিয়ার যেগুলো ট্রেজার আইল্যান্ড রিসোর্টের ঠিক উল্টো পাশের ভেনেটিয়ান হোটেলের শপিং এক্রেডের পাশেই দাঁড়ানো থাকে যাত্রী নেয়ার জন্য৷ লাস ভেগাসের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ এই গন্ডোলা ভ্রমণ যেখানে নৌকার চারদিকে থাকবে নীল পানির আধার আর মাথার উপর থাকবে বিশাল সব অট্টালিকায় ঘেরা আকাশ৷

৫. প্যারিস হোটেল এবং আইফেল টাওয়ার

ছবিঃ images.oyster.com

লাস ভেগাসের স্ট্রিপে অবস্থিত আইফেল টাওয়ারের প্রতিকৃতি দিয়ে বানানো হয়েছে প্যারিস হোটেল। স্ট্রিপে যেকোনো ভবনের চাইতে এই প্যারিস হোটেল চোখে পড়ে সবার আগে৷ ৪৬ তলা বিশিষ্ট এই রিসোর্টে আইফেল টাওয়ারের প্রতিকৃতি দিয়ে বানানো স্থাপত্যে আপনি চাইলে বিলাসবহুল দুপুর বা রাতের খাবার যেকোনোটাই সারতে পারবেন, সাথে থাকবে স্ট্রিপের অসাধারণ ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য আর প্যারিসের অনবদ্য ছোঁয়া, আইফেল টাওয়ার৷

আইফেল টাওয়ারের এই রোমান্টিক রেস্টুরেন্টের ঠিক এক তলা নিচে থেকেই দেখা যাবে সুন্দর বেলাগিও ফোয়ারা। লাস ভেগার বোলেভার্ডের অন্যতম আকর্ষণ এই প্যারিস হোটেল।

৬. লিংকের ফেরিস হুইল

ছবিঃ i.pinimg.com

স্ট্রিপ থেকে একটু সামনে এগোলেই চোখে পড়বে বিশালাকৃতির এক নাগরদোলা যার স্থানীয় নাম ফেরিস হুইল। ৫৫০ ফুট উচ্চতার এই দানবাকৃতির ফেরিস হুইলে উঠে নেয়া যাবে লাস ভেগাসের অন্যরকম সৌন্দর্যের স্বাদ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই হুইলে যেখানে মানুষ উঠে বসে তাদের বলা হয় কেবিন আর প্রতি কেবিনে মানুষ ধরে প্রায় ৪০ জনের মতো৷

একবার ঘুরে আসতে এই আধুনিক নাগরদোলাটি সময় নেয় পাক্কা ৩০ মিনিট যার প্রতিটি মুহূর্তই স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো। এখান থেকে লাস ভেগাস সবচেয়ে সুন্দর লাগে রাতের জমকালো আলোতে যখন এই মায়ানগরী তার প্রতিটা কোণা সাজিয়ে তোলে নানান রঙের বাহারি সাজে৷

৭. মব মিউজিয়াম

ছবিঃ upload.wikimedia.org

লাস ভেগাসের নেভাডায় অবস্থিত সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী আর স্রোতের বিপরীতের জাদুঘর হলো “দ্য মব মিউজিয়াম”। এর প্রাতিষ্ঠানিক নাম “দ্য ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ অর্গানাইজড ক্রাইম এন্ড ল’ রেইনফোর্সমেন্ট” যা স্থানীয়রা মব মিউজিয়াম নামেই জানে। মব মানে দাঙ্গাহাঙ্গামাকারী। তো বুঝতেই পারছেন ঠিক কী উপাদান দিয়ে সাজানো হয়েছে এ জাদুঘর।

প্রাক্তন ইউএস পোস্ট অফিস ও কোর্টহাউজের ভবনে গড়ে তোলা এ জাদুঘর ১৯৫০ এর সময়ের বিভিন্ন অরাজনৈতিক দল যারা আমেরিকায় শান্তি বহালের বিপক্ষে ছিল তাদের জীবনধারা, তাদের করা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন আর অরাজকতার ইতিহাস তুলে ধরেছে বিশ্বের সামনে৷ ক্রিমিনাল স্টাডিতে যাদের ঝোঁক প্রচণ্ড তাদের জন্য বেশ উপযোগী একটি স্থান এটি ঘুরে দেখার জন্য।

ফিচার ইমেজ- images.wallpaperscraft.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভারতের সমুদ্রস্বর্গ গোয়ার নয়নাভিরাম সব ভ্রমণস্থানের গল্প

সবুজের ভূস্বর্গ সিলেটের বুকে দুই রাত তিন দিনের বাজেট ট্রিপ