চা প্রেমীরা এক বিকেলে ঘুরে আসতে পারেন শৈল্পিক টং ঘর থেকে

চা পাতার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। চা পাতা থেকে চা হয়। গ্রীকদেবী থিয়ার নামানুসারে চায়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘টি’। ইংরেজীতে চাকে টি বলে। ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে চীনে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হলেও ভারতবর্ষে চা চাষ শুরু হয় ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে। পূর্বে চায়ের প্রতি বাঙালিদের আগ্রহ না থাকলেও বর্তমানে চা ছাড়া বাঙালিদের যেন সকাল শুরু হয় না। সকাল, দুপুর, রাত প্রতিবেলায় চা চাই তাদের। আর চাকে ঘিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠছে বিভিন্ন ধরনের শপ। তবে যত দামী শপ গড়ে উঠুক না কেন চায়ের জন্য টং ঘরই উত্তম বলে আমার মনে হয়।
বিশেষ করে রাস্তার পাশে ছোট্ট টং ঘরে বসে চা খাওয়ার মজাই আলাদা। ছোট্ট একটি ঘর, তার মধ্যে দাদু বা দাদির বয়সী অথবা যেকোনো বয়সের যেকোনো লোক সারাদিন চা বানায় আর ক্লান্ত নাগরিকগণ চায়ের স্বাদ পেতে ভিড় জমায় চায়ের দোকানে। আজ রাস্তার পাশে ছোট ছাউনি ঘেরা টংয়ের দোকানের কথা বলবো না। আজ বলবো চায়ের শৈল্পিক স্থান টং ঘরের কথা।

ছবিসূত্রঃ dhakatimes24.com

টং ঘর ঢাকার মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ে অবস্থিত। আরেকটু সহজ করে বলা যায় ঢাকা উদ্যান লেগুনা স্টেশন থেকে পূর্ব পাশে কয়েক কদম হাঁটলে হাতের ডান পাশে পেয়ে যাবেন টং ঘর। টং ঘর নাম শুনে অবাক হতে পারেন। আপনার মনে হতে পারে বাঁশের ছাউনি ঘেরা কোনো দোকান কিংবা চায়ের স্টল। কিন্তু তা নয়। নবোদয় হাউজিংয়ে টং ঘর তৈরি করা হয়েছে শৈল্পিক ছোঁয়ায়। এখানে বিভিন্ন ধরনের চায়ের স্বাদ পাবেন। টং ঘরের আয়তন খুব বেশি নয়। এটি চায়ের দোকান বটে, তবে এখানের প্রতিটি ইটের কোণায় যেন শৈল্পিকতার নিপুণ পরশ জড়িত। টং ঘরকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে ছোট্ট। তবে ছোট হলে কী হবে, এখানে প্রতিদিন ভিড় জমায় শত শত চা খোর অর্থাৎ চা প্রেমী। কারণ টং ঘরে পাওয়া যায় হরেক রকম চা।

ছবিসূত্রঃ লেখক

আমি প্রথম আমার বন্ধুদের সাথে টং ঘরে গিয়েছি ২০১৭ সালে। টং ঘর আমার বাসা থেকে কাছে। অথচ আমি জানতাম না এত সুন্দর মার্জিত পরিবেশ ও শৈল্পিকতার ছোঁয়ায় গড়ে তোলা হয়েছে টং ঘরকে। টং ঘরে পা রাখতেই এক অদ্ভূত ভালো লাগা কাজ করেছে আমাদের সবার মধ্যে। টং ঘরের দেয়ালে লেখা আছে চা সংক্রান্ত বিশাল কবিতা। বসার জন্য রয়েছে ছোট ছোট টুল। টুলগুলো মাঝারি ও সুন্দর।

ছবিসূত্রঃ dhakatimes24.com

টং ঘরে চা পরিবেশন করা হয় মাটির কাপে। কাঁচের কাপও রয়েছে। তবে মাটির কাপে চা খাওয়ার অনুভূতি সত্যিই রোমাঞ্চকর। আমি ও আমার বন্ধুরা বসলাম। অনেক সময় ধরে আড্ডা দিলাম। টং ঘরে কিছুক্ষণ পর পর অসংখ্য চা প্রেমীরা আসে। কারণ এখানকার চায়ের স্বাদ চা প্রেমীদের বার বার ডেকে আনে।

ছবিসূত্রঃ লেখক

টং ঘরে অনেক কিছু নেই। খুব জাঁকজমক নকশা নেই, ঝাড়বাতি কিংবা ফ্যাশনেবল কিছু নেই। তবে যা আছে তা মানুষের হৃদয়কে ভাবিয়ে তোলে। টং ঘরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে ৭০ রকমের চা পাওয়া যায়। দেয়ালে তাকালে উপমহাদেশের চায়ের উৎপত্তির ইতিহাস দেখা যায়। শহুরে নাগরিকের পোড়া হৃদয়ের কাব্যও বোঝা যায়। সত্তর রকমের চায়ের মধ্যে রয়েছে দুধ চা, র চা, স্পেশাল আইটেম, কফি, কোল্ড কফি, মৌসুমী ফল যেমন আম চা, কলা চা, আমলকী চা, লেবু চা, বাদাম-দুধ চা, হরলিক্স চা, হারবাল চা, থেরাপি চা, খেজুর দুধ চা, বুস্ট চা ইত্যাদি।

ছবিসূত্রঃ লেখক

আমি এবং আমার বন্ধুরা কয়েক প্রকার চায়ের স্বাদ নিয়েছি। প্রতিটি চা অসাধারণ। বাদাম দুধ চা, দুধ চা, খেজুর দুধ চা, সুলতান সুলেমান চা, রজনীকান্ত চায়ের স্বাদ অন্যতম।

ছবিসূত্রঃ dhakatimes24.com

এছাড়াও রয়েছে অনন্ত জলিল চা, রোমিও জুলিয়েট চা। এখানে চায়ের দাম ১০-১০০ টাকায় ওঠানামা করে। একেক চায়ের একেক দাম। স্বাদের রয়েছে ভিন্নতা।

ছবিসূত্রঃ dhakatimes24.com

টং ঘরের পরিবেশ বেশ ভালো। এখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যেকোনো সময় যাওয়া যায়। চা প্রেমীরা টং ঘরে চা খেতে আসে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করতে নয়। চা খেয়ে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়েই চলে যেতে হয় এখান থেকে। কারণ জায়গাটা খুব বড় নয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে টং ঘর। কারণ এর রয়েছে নিজস্ব কিছু দর্শন যা চা প্রেমীদের ভাবিয়ে তোলে। এখানে অনেক প্রকারের চা পাওয়া যায় বলে অনেকে ভাবতে পারেন চায়ের স্বাদ ভালো হবে না। কিন্তু তা নয়। প্রতিটি চায়ের রয়েছে অন্যরকম স্বাদ। একটির স্বাদ অন্যটির চেয়ে ভিন্ন।
বিকেল থেকে সন্ধ্যায় এখানে প্রচুর লোকের ভিড় হয়। টং ঘরের সামনে প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা রয়েছে। এত মানুষ এখানে চা খেতে আসে যে সব চেয়ার ভরে যায়। অনেক লোককে দাঁড়িয়ে চা পান করতে হয়। টং ঘর ঠিক রাস্তার পাশে। চা খেতে খেতে নিশ্চয়ই বৃষ্টি দেখার অনুভূতিও দারুণ হবে।

যাওয়ার ব্যবস্থা

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে টং ঘরে যেতে হলে প্রথমে বাসে করে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড আসতে হবে। খিলগাঁও, পল্টন, গুলিস্তান থেকে টং ঘরে যেতে চাইলে মোহাম্মদপুরের যেকোনো বাসে চড়ে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। জিগাতলা বা ধানমন্ডি থেকে বাসে করে কিংবা লেগুনা অথবা রিকশায় বাস স্ট্যান্ডে যাওয়া যাবে। মিরপুরবাসীরা প্রজাপতি বাসে করে আসলে বাসস্ট্যান্ডে নামতে পারবেন। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা নিয়ে নবোদয়ের টং ঘর যাওয়া যায়। অথবা শিয়া মসজিদ থেকে লেগুনায় করে ঢাকা উদ্যান পর্যন্ত যাওয়া যায়। ঢাকা উদ্যানের ঢালেই টং ঘরের অবস্থান।
ফিচার ইমেজ – Dhakatimes24
 

var loaded = false; var loadFB = function() { if (loaded) return; loaded = true; (function (d, s, id) { var js, fjs = d.getElementsByTagName(s)[0]; if (d.getElementById(id)) return; js = d.createElement(s); js.id = id; js.src = "https://connect.facebook.net/en_US/sdk.js#xfbml=1&version=v3.0"; fjs.parentNode.insertBefore(js, fjs); }(document, 'script', 'facebook-jssdk')); }; setTimeout(loadFB, 0); document.body.addEventListener('bimberLoadFbSdk', loadFB); })();

Loading...