বিকালপর্বে চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে হন্টনের গল্পকথা

মেঘলা আবহাওয়া হওয়ায় বেলা বোঝা যাচ্ছিল না। হেঁটে হেঁটেই ঘুরছি, একটু আধটু দরকারে লেগুনা-বাসে চড়ছি। চট্টগ্রামের একটা অংশের রাস্তা খুবই ভালো। বোঝাই যাচ্ছে, অভিজাত এলাকা ওটা। এছাড়া বাকি রাস্তাগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। আবার, এই রাস্তার উপরেই ফ্লাইওভার বানানো। ওটুকুই শেষ না, আরোও বানানো হচ্ছে।

ফ্লাইওভারের উপরে কোনো যানবাহন চলে না বললেই চলে। এখানে একটা মজার কাহিনী আছে। সিএনজি ওয়ালাকে বলেছিলাম, ‘মামা, আমরা ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে যাব। কত নিবেন?’

উনি জবাবে বলেছিলেন, ‘উপর দিয়ে গেলে আড়াইশ, নিচ দিয়ে দুইশ।’

এই হলো ফ্লাইওভারের হাল। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে ভাঙা রাস্তা মেরামত করতেও দেখা গেছে ছাত্র ছাত্রীদের। কিন্তু প্রশাসনের খবর নেই এসব রাস্তার ব্যাপারে। যাই হোক, আমরা ঘোরাঘুরিতে ফিরে যাই।

বইবিপণী বাতিঘর

বাতিঘরে ঢুকেই চমকে গেলাম। কোথায় লাইব্রেরি? প্রথম দর্শনেই মনে হলো আমি একটা জাহাজে রয়েছি। জাহাজের কেবিনে হালকা সুরে বাজছে দূর সমুদ্রের গান। মেঝেতে কাঠের পাটাতন, ছাদে ঝুলছে নোঙর ফেলার মোটা রশি, ঈষৎ পড়ে রয়েছে পণ্যবাহী কনটেইনার। জানালায় চোখ দিলে মনে হবে এ যেন এক সমুদ্রগামী জাহাজ, ফেনিল ঢেউ পাড়ি দিয়ে ছুটছে আলোকের সন্ধানে। দেখা যাচ্ছে, সাগরের নীল পানিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে রঙ বেরঙের সামুদ্রিক মাছ।

আসলে এ হলো শিল্পের মায়া, অভ্যন্তরীণ সজ্জার এক শিল্পিত প্রদর্শনী। বহিরাঙ্গের এই বিস্ময় কাটতে না কাটতেই চোখ যাবে বইয়ের রাজ্যে। রবীন্দ্রনাথ থেকে হুমায়ূন আহমেদ, পামুক থেকে সার্ত্রে- কে নেই এই বইয়ের জাহাজে। এটি কোনো জলযান নয়, এটি একটি পাঠাগার, এরই নাম বাতিঘর। জাহাজের আদলে দোকানের অভ্যন্তরীণ সজ্জায় তুলে ধরা হয়েছে রূপসী চট্টগ্রাম তথা বন্দরনগর চট্টগ্রামকেই।

বইবিপণী বাতিঘর। সোর্স: মাদিহা মৌ

চট্টগ্রামের জামালখান প্রেস ক্লাব ভবনের নিচতলার গ্রন্থবিপণি বাতিঘর বইয়ের সংগ্রহ, বিষয়বৈচিত্র্য বা পরিসরের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বইয়ের দোকান। প্রায় ৭০ হাজার বই রয়েছে এখানে।

বায়েজিদ বোস্তামীর (রহ.) মাজার

মাজার প্রথায় আমি বিশ্বাসী নই। যে কোনো মাজারে গেলে কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি হয় আমার। তবুও ভাবলাম, চট্টগ্রামে যেহেতু এসেছিই, বায়েজিদ বোস্তামীর (রহ.) মাজারে কী চলছে, দেখে আসি।

আগেই শুনেছিলাম, বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারের পাদদেশে একটি সুবিশাল দীঘি অবস্থিত। এর বাসিন্দা হিসাবে বোস্তামীর কাছিম ও গজার মাছ সুবিখ্যাত। মাজারের বাইরে থেকেই এই দীঘি দেখতে পেলাম। মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার রাস্তার দুই ধারে সার বাঁধা দোকান।

দোকানে আগরবাতি, মোমবাতি, লাল সূতোর পশরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। সেই সাথে আছে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। তার মধ্যে কলা উল্লেখযোগ্য। এখানকার দোকানে এত পরিমাণ কলা থাকার কারণ বুঝতে পারলাম না। তবে একটু পরেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো।

বায়েজিদ বোস্তামীর (রহ.) মাজার। সোর্স: মাদিহা মৌ

কিছুদূর যেতেই বিশালাকার পুকুরটি দেখতে পেলাম। পুকুরের শাণ বাঁধানো ঘাটে পা ফেলার জায়গা নেই। ওখানকার প্রত্যেক ইঞ্চি জায়গা জুড়ে মহিলা-পুরুষেরা কাঠির মধ্যে কলা নিয়ে বসে আছে। কলা খেতে পুকুরের পাড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে বিশালাকার কিছু কচ্ছপ। এই তাহলে সেই বিস্ময়কর কচ্ছপ বা কাছিম বা মজার মাছ!

মাজার প্রাঙ্গণের বাতাস আগরবাতির ধোঁয়ায় ভারি হয়ে আছে। সেসব ছাপিয়ে সামনে এগিয়ে গেলাম। মাজারে ওঠার সিঁড়িতে জুতা পায়ে যাওয়া যাবে না। জুতা নিলয়ের কাছে জমা রেখে আমি আর আরমান উপরে উঠে গেলাম। গিয়ে দেখি এক মহিলা মাজারের সামনে যে সিজদায় পড়েছে, আর ওঠার কোনো নাম নেই। আমি মাজার ঘুরে ঘুরে দেখছি, এক খাদেম আমাকে বললো, ‘মাজারে এলে আগে এখানে সালাম করে যেতে হয়।’

আমি কিছু না বলে ওখান থেকে সরে আসতেই শুনতে পেলাম, ‘মাজারে সম্মান জানায় না, আসছে খালি ছবি তুলতে।’ আমি একরাশ বিতৃষ্ণা নিয়ে ওখান থেকে নেমে এলাম।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

চট্টগ্রাম শহর থেকে ২৫ কি.মি. উত্তরে একটি ছোট্ট বাজারের নাম বাঁশবাড়িয়া বাজার। এই বাজারের মধ্য দিয়ে সরু পিচ ঢালা পথে মাত্র ১৫ মিনিটে পৌঁছানো যায় বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র উপকূলে। বাজারের একটা সাইনবোর্ডে লেখা আছে,

“বাঁশবাড়িয়া বাজার হতে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত প্রতিজনে সিএনজি ভাড়া ২০ টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া প্রদান করবেন না।
আদেশক্রমে-ঘাট কর্তৃপক্ষ।”

এই ব্যাপারটা ভালো লাগলো। টুরিস্ট স্পট হয়ে গেলেই ওই এলাকার লোকাল বা রিজার্ভ যানবাহনের চালকরা আকাশচুম্বী দাম চেয়ে বসে। এখানে এটা নির্ধারিত করে দেওয়ায় ঠগবাজির হাত থেকে বাঁচা গেল। আমরা ভাড়া ঠিক না করেই রিকশায় চেপে বসলাম।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত। সোর্স: মাদিহা মৌ

বাঁশবাড়িয়া বীচে যাওয়ার পথটা অসাধারণ। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে আলোর খেলা। উপরে খোলা আকাশ পাশে খোলা জায়গা। একটু সামনে এগিয়ে গেলে বিশাল সমুদ্র। ঝাউ বাগানের সারি সারি গাছ ও নতুন জেগে ওঠা বিশাল বালির মাঠ। সেই মাঠ ঢেকে আছে সবুজ ঘাসে। এখন পর্যন্ত আমি কেবল বালির বীচই দেখেছি, সবুজ ঘাসে ঢাকা বীচ দেখিনি। ঝাউবন, সবুজ ঘাসের বীচ, শেষ বিকেলের মোহনীয়া আলো- সব মিলিয়ে এক অপূর্ব রূপ ধারণ করে আছে প্রকৃতি।

আজ আকাশের মন ভালো, তাই মৃদুমন্দ বাতাস বয়ে যাচ্ছে। সবগুলোকে বাদ দিয়ে বাঁশবাড়িয়ায় আসতে চেয়েছি এজন্য যে, এই সমুদ্র সৈকতের প্রায় আধা কিলোমিটারের বেশি সমুদ্রের ভেতর হেঁটে যাওয়া যায়। ঘাসের বীচ মাড়িয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম সমুদ্রের দিকে। জুতা পায়েই পানির কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালাম একটু পর পর ঢেউ এসে পায়ের মধ্যে আছড়ে পড়ছে।

নিলয় হাত তুলে হাতের ডান দিকে দেখালো। ওখানকার সমুদ্রে কেবল কতগুলো লাল পতাকা দেখতে পেলাম। ওকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ব্রিজ কই?’

ও বললো, ‘জোয়ার চলছে। ব্রিজটা ডুবে গেছে পানি বাড়ায়। তোর আর ব্রিজের উপর হেঁটে যাওয়া হলো না।’

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত। সোর্স: মাদিহা মৌ

বেশ কয়েকজনই ব্রিজ থেকে পড়ে ডুবে গিয়েছিল। পরের দিন তাদের লাশ পাওয়া যায়। তাই এখন লাল পতাকার বেষ্টনী দিয়ে কিছু জায়গা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরেও বিপদ কাটেনি। কারণ, বাঁশবাড়িয়ার এই সমুদ্রে সৈকত থেকে ক্রমে ঢালু হয়ে নিচু হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় ঝপ করে গভীরতা পাওয়া যাবে। এই গভীরতা আর জোয়ারের ঢেউয়ের সময় দক্ষ সাঁতারুও বাঁচতে পারে না।

স্পটটিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আছে, তবুও কিছু প্রভাবশালী ওইখানে ব্যবসার সুবিধার্থে চালু রেখেছে। কাজেই বাঁশবাড়িয়া গেলেও সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। সমুদ্রের পানিতে না নামাই উত্তম।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে সীতাকুণ্ডে অথবা চট্টগ্রামের অলংকার থেকে সীতাকুণ্ড যাওয়ার যেকোনো বাস বা টেম্পুতে করে বাঁশবাড়িয়া নামতে হবে। ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। অলংকার থেকে চট্টগ্রাম হাইওয়ে ধরে ২৩ কি.মি. যেতে হবে। এটা বাড়বকুণ্ডের একটু আগে।

বাঁশবাড়িয়া নামার পর সিএনজিতে করে আরও ২.৫ কি.মি. গেলে বেড়িবাঁধ পাওয়া যাবে। সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা করে। চাইলে রিজার্ভও নেওয়া যায়। তাহলে আপনাকে বাঁধের সামনে পযর্ন্ত নিয়ে যাবে। রিজার্ভ ভাড়া ৩০০ টাকা নেবে।

প্রথম সমুদ্র দেখে আমার ভাইটার বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। সোর্স: শিহাব ভাই

বিকেলের এই সময়টায় যদি শহর থেকে বাইরে যেতে না চান, তাহলে ঘুরে দেখতে পারেন শহরের প্রাণকেন্দ্র জিইসি থেকে খুব কাছেই দুটো দারুণ জায়গা। এই জায়গা দুটো আমরা দেখেছিলাম পরদিন সকালে। বাঁশবাড়িয়া না গেলে এসব একদিনেই দেখে নেওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা

জিইসি মোড় থেকে রিকশাওয়ালা সিমেট্রি আসার জন্য ভাড়া চেয়েছিল ৫০ টাকা। নিলয় বলেছিল, এখান থেকে হেঁটে যেতে বড়জোর পনেরো মিনিট লাগবে। বাদশা মিয়া সড়কের মোড় পর্যন্ত হেঁটে আসতে লাগলো সাত মিনিট। তারপর বাদশা মিয়া সড়কে পা বাড়িয়েই বুঝলাম, কেন রিকশাচালক এত টাকা চেয়েছে। এই রাস্তাটা ক্রমশ খাড়া উপরের দিকে উঠে গিয়েছে। এত উপরে টেনে নিতে রিকশাওয়ালার জান বেরিয়ে যেত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা। সোর্স: মাদিহা মৌ

উপরে উঠে সবে সিমেট্রির সীমানা ধরে এগুচ্ছি, তখনই নিলয় ফোন করে বললো, ‘এখনো সম্ভবত সিমেট্রির গেট খোলেনি। তুই এক কাজ কর, কাছেই সিমেট্রির গেটের অপর পাশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা। তুই একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবি।’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘কী বলিস? বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এত দূরে চারুকলা? তা হয় নাকি? তুই নিশ্চিত?’

উত্তরে ও হেসে বললো, ‘হ্যাঁ, চারুকলা বিভাগটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরেই। আমি অনেকদিন আগে এসেছিলাম, তাই এক্সাক্ট লোকেশনটা তোকে বলতে পারছি না। তুই একটু এগিয়ে গিয়ে দেখ। কোনো সমস্যা নেই, এটা সর্বসাধারণের জন্য খোলা। তুই দেখলেই বুঝবি কোনটা চারুকলা।’

বেশিক্ষণ হাঁটতে হলো না। পেয়ে গেলাম। ঢুকতেই প্রথমেই চোখে পড়লো, শিল্পী রশিদ চৌধুরী আর্ট গ্যালারি। ওখান দিয়ে এগিয়ে সামনে যেতেই পুরো ইন্সটিটিউটের সবচেয়ে সুন্দর অংশটি নজরে এলো। চমৎকার কিছু ভাস্কর্য সার বেঁধে রাখা হয়েছে ওখানটায়। এটার পাশ দিয়েই নেমে গেছে অনেকগুলো সিঁড়ির ধাপ।

তরতর করে নিচে নেমে উপরের দিকে তাকালাম। সিঁড়ির ধাপগুলো জায়গায় জায়গায় ক্ষয়ে গিয়েছে। তবুও এগুলো বিশেষত্ব ধারণ করে আছে। প্রত্যেকটি সিঁড়ি রঙ করা। ফলে সূর্যের আলোর ঝলকে অদ্ভুত রঙের খেলা তৈরি করেছে। সিঁড়ির পাশের দেয়ালে আঁকা আছে চিত্রকর্ম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বাইরের দেয়াল। সোর্স: মাদিহা মৌ

আরো কিছু সিঁড়ির ধাপ আরো নিচে নেমে গেছে। এখানটায় এসে দেখলাম, কিছু ভাস্কর্য নির্মাণাধীন অবস্থায় পড়ে আছে। এতক্ষণ পর্যন্ত কোথাও টু শব্দের আওয়াজ না পেলেও, এখানে এসে একজন লোকের সাথে দেখা হয়ে গেল। আমি কিছু না বলে উপরে উঠে এলাম। তবে আগের রাস্তা ধরে যাইনি। মূল ভবনের আঙিনায় ওঠার জন্য আরোও একটা সিঁড়ি পথ আছে।

এই সিঁড়িপথটুকু আরোও নান্দনিক। ঘুরে ঘুরে একটু পর পর অল্প কিছু কিছু সিঁড়ির ধাপ। আমি এভাবে ঘুরে ঘুরেই উঠলাম। এই সিঁড়িগুলোর পাশের দেয়ালে আঁকা আছে ট্রাইবাল নৃত্য। মূল ভবনের দেয়ালে ১৪২৩ সালের বর্ষবরণের জন্য আঁকা হয়েছে। ওতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলার গ্রামীণ চিত্র। মূলত এই প্রতিষ্ঠানটির যেখানেই খালি দেয়াল আছে, সেখানেই আঁচড় পড়েছে রঙ তুলির শৈল্পিকতা।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কাছেই সিমেট্রি। ওটা ঘুরে নিয়ে ঢুকে পড়লাম বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সমাধিসৌধ দেখতে। প্রবেশদ্বার পেরিয়ে সামনে এগিয়ে গেলাম পিচঢালা রাস্তা ধরে। রাস্তার দুই ধারে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ। তারমধ্যে সবার আগে নজর কাড়বে বড় বড় কাঠগোলাপ গাছগুলো। সাদা এবং লাল, দুই ধরনের গাছ জুড়েই ফুটে রয়েছে অসংখ্য ফুল।

দু’পাশে ফুলের বাগানওয়ালা পিচঢালা রাস্তা পেরিয়ে সামনে গেলেই চোখে পড়বে ওয়ার সিমেট্রির প্রধান ফটক। ফটকের ঠিক মাঝখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। সমাধিস্থলের মাঝখান বরাবর একটি দৃষ্টিনন্দন ক্রুশ চিহ্নিত বেদি। বেদির দুই ধারে সার বেঁধে শুয়ে আছেন ১২টি দেশের সেনা ও বিমান বাহিনীর ৭৫৫ জন যোদ্ধা।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি। সোর্স: মাদিহা মৌ

আমি ঘুরে ঘুরে সব কবর দেখেছি। বৈমানিকদের আলাদা কবরের সারি, মুসলিমদের আলাদা, আফ্রিকানদের আলাদা। এমনকি এক জায়গায় একটা কবরে আঠারো জন জাপানিকে সমাহিত করা হয়েছে।

সময়সূচি

প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত থাকে। এখানে প্রবেশ করতে কোনো ফি এর দরকার হয় না। প্রবেশপথে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখা আছে, “সিমেট্রির গেট বন্ধ থাকলে দয়া করে খোলার জন্য অনুরোধ করবেন না।”

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি। সোর্স: মাদিহা মৌ

কীভাবে যাবেন:

চট্টগ্রামের জিইসির মোড় থেকে সোজা পূর্ব দিকে প্রবর্তক মোড় বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে কিছুদূর গিয়ে বামে মেরী’স স্টোপস ক্লিনিক রেখে কিছু দূর এগিয়ে গেলে একটা তিন রাস্তার চত্বর পাওয়া যাবে। ওটা পেরিয়ে একটু সামনে এগুলেই ডানে (দক্ষিণ) যে রাস্তাটা গেছে সেটাই বাদশা মিয়া চৌধুরী সড়ক। জায়গাটির নাম মেহেদীবাগ। ওয়ার সিমেট্রির অবস্থান ১৯ বাদশা মিয়া চৌধুরী সড়ক, মেহেদীবাগ।

এই সড়ক ধরে হেঁটে গেলেই সিমেট্রি পাওয়া যাবে খুব সহজেই। তার আরেকটু সামনেই চারুকলা। আমি সাজেশন দেব এখানে রিকশা নিয়ে না আসার। জিইসি থেকে হেঁটে আসাই ভালো উপায়। তবে কেউ সিএনজি করে আসতে চাইলে, অনায়াসেই আসতে পারবে।

এখানকার লোকাল লোকজনও খুব ভালো করে ওয়ার সিমেট্রির অবস্থান সম্পর্কে জানে না। জিইসির বেশিরভাগ রিকশাচালক চিনতে পারছিল না। তাই পথের মোটামুটি ধারণা নিয়ে গেলে ভালো হবে।

ফিচার ইমেজ: মাদিহা মৌ

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বারিক্কা টিলা থেকে জাদুকাটা নদীর রূপের অ্যাখ্যান

অবশেষে তাজিংডংয়ের স্বপ্ন চূড়ায়