আহসান মঞ্জিল: বাংলার মুসলিম নবাবদের সূতিকাগার

খুব ভোরে একদিন ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। ঠিক করেছিলাম, পুরান ঢাকার আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়াব। বুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে কেরানীগঞ্জের অলিগলি খুঁজে ছানা, মাঠা আর বাখরখানি খেয়ে ভাবলাম বুড়িগঙ্গার পাড় চরে বেড়াচ্ছি যেহেতু, আহসান মঞ্জিল ঘুরে আসি। লোকজনের ঝাপটা কম পড়বে। কিন্তু এতো দুর্ভাগ্য যে, গিয়ে জানলাম দশটার আগে মঞ্জিল খুলবেই না। যাই হোক, সেবার যেতে না পারলেও কিছুদিন পরেই গিয়েছিলাম আহসান মঞ্জিলে।

প্রধান ফটক ও সিঁড়ি। সোর্স: মেহেজাবিন

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জালালপুর পরগনার জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থান রংমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। পরবর্তীতে তার পুত্র শেখ মতিউল্লাহ রংমহলটি এক ফরাসি বণিকের নিকট বিক্রি করে দেন। তাদের বাণিজ্য কুটির হিসাবে এটি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিল। এরপরে ১৮৩৫ সালে বেগমবাজারে বসবাসকারী নওয়াব আবদুল গণির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ এটি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করেন।
নতুন ভবন নির্মাণের পরে তিনি তার প্রিয় পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন আহসান মঞ্জিল। ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন ঢাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানলে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। আহসান মঞ্জিলের দক্ষিণের বারান্দাসহ ইসলামপুর রোড সংলগ্ন নহবত খানাটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। পরবর্তীকালে নবাব আহসানুল্লাহ তা পুনঃনির্মাণ করেন। এর আগে প্রচণ্ড ঘুর্ণিঝড়েও আহসান মঞ্জিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
পেঁচানো এই সিঁড়িগুলো কেবল মুগ্ধতা বাড়ায়। সোর্স: মেহেজাবিন

এই ভবনের স্থাপত্যশৈলী অতি চমৎকার। প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ চূড়া। মূল ভবনের বাইরে ত্রি-তোরণ বিশিষ্ট প্রবেশদ্বারও দেখতে খুবই সুন্দর। একইভাবে ওপরে ওঠার সিঁড়িগুলোও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দু’টি মনোরম খিলান আছে যা সবচেয়ে ভালো লাগে। আহসান মঞ্জিলের অভ্যন্তরে দু’টি অংশ। বৈঠকখানা ও পাঠাগার আছে পূর্ব অংশে। পশ্চিম অংশে আছে নাচঘর ও অন্যান্য আবাসিক কক্ষ। নিচতলায় আছে দরবারগৃহ ও ভোজন কক্ষ।
এক মিটার উঁচু বেদির উপর স্থাপিত দ্বিতল প্রাসাদ ভবনটির নিচতলায় মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ৫ মিটার এবং দোতলায় ৫.৮ মিটার। প্রাসাদটির উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিকে একতলার সমান উঁচু করে গাড়ি বারান্দা। দক্ষিণ দিকের বাড়ি বারান্দার উপর দিয়ে দোতলার বারান্দা থেকে একটি সুবৃহৎ খোলা সিঁড়ি সম্মুখস্থ বাগান দিয়ে নদীর ধার পর্যন্ত নেমে গেছে। সিঁড়ির সামনের বাগানে একটি ফোয়ারা ছিল যা বর্তমানে নেই।
প্রাসাদের উভয় তলার উত্তর ও দক্ষিণ দিকে রয়েছে অর্ধবৃত্তাকার খিলান সহযোগে প্রশস্ত বারান্দা। বারান্দা ও কক্ষগুলোর মেঝে মার্বেল পাথরে শোভিত। আহসান মঞ্জিলের গম্বুজটি নির্মাণের জন্য প্রথমে নিচতলার বর্গাকার কক্ষটির চার কোণায় ইট দিয়ে ভরাট করে গোলাকার রূপ দেয়া হয়েছিলো। তখন এর উপর দোতলায় নির্মিত অনুরূপ গোলাকার কক্ষের ঊর্ধ্বাংশে ছাদের কাছে কক্ষটিকে অষ্টভুজাকৃতির করা হয়েছে। এ অষ্টকোণ কক্ষটিই পরে পরিণত হয়েছে ছাদের উপর গম্বুজের পিপায়। পরিশেষে অষ্টবাহুর সূচাগ্র মাথাগুলোকে কেন্দ্রের দিকে ক্রমশ হেলিয়ে চূড়াতে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে কুমুদ কলির আকারের গম্বুজটি। ভূমি থেকে গম্বুজ শীর্ষের উচ্চতা ২৭.১৩ মিটার।
মিনার। সোর্স: রিসাত

অভ্যন্তরভাগে গম্বুজের দুপার্শ্বে ভবনটিকে দুটি সুষম অংশে বিভক্ত করা যায়। দোতলায় পূর্ব দিকে রয়েছে বৃহদাকার ড্রইং রুম। এর উত্তরে লাইব্রেরি ও কার্ডরুম এবং পূর্বপ্রান্তে ৪টি বর্গাকার কক্ষ। দোতলায় পশ্চিম দিকে আছে বৃহদাকার জলসাঘর, এর উত্তরে হিন্দুস্থানি কক্ষ এবং পশ্চিম প্রান্তে ৪টি বর্গাকার কক্ষ। ড্রইং রুম ও জলসাঘরের ছাদে কাঠের তৈরি ভল্টেড সিলিং খুবই চমৎকার। এ কক্ষ দুটির মেঝের উপরি আবরণ কাঠের পাটাতনের তৈরি। নিচ তলায় পূর্বাংশে রয়েছে বৃহদাকার ডাইনিং হল ও ছয়টি বর্গাকার কক্ষ। পশ্চিমাংশে রয়েছে বৃহৎ দরবার হল। এর উত্তরে বিলিয়ার্ড কক্ষ। ডাইনিং ও দরবার হলের মেঝে সাদা, সবুজ, হলুদ প্রভৃতি রঙের চীনা টালি দ্বারা অলংকৃত। নিচতলায় পশ্চিম প্রান্তে নির্মিত ৫টি কক্ষের মধ্যবর্তীটি বিখ্যাত স্ট্রং রুম যেখানে নওয়াবদের মূলবান সামগ্রী সংরক্ষিত থাকত।
দীর্ঘ সিঁড়ির নিচ দিয়ে যাওয়া আসার পথ আছে। সোর্স: রিসাত

নবাবদের সব ধরনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এখান থেকেই নেওয়া হতো। বিশেষ করে সমাজ কাঠামো, জমিদারি এবং রাজনীতিসহ সব কিছুরই কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ প্রাসাদটি। রাতে অন্দরমহলেই বসত নাচের আসর। তখন নর্তকীদের নূপুরের শব্দে উছলে উঠত বুড়িগঙ্গার ঢেউ। তবে কালের পরিক্রমায় নবাবদের সেই আড়ম্বরপূর্ণ বিলাসী দিনগুলো আজ আর নেই। এখন এসব শুধুই ইতিহাস। অবশ্য নবাবদের জমিদারি কর্মকাণ্ড এখান থেকে পরিচালিত না হলেও তাদের নিদর্শনগুলো রয়েছে কালের সাক্ষী হয়ে। ১৮৫৯ সালে আহসান মঞ্জিলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৮৭২ সালে। সেই হিসেবে এর বয়স প্রায় দেড়শ বছর। তাই প্রাচীন এ স্থাপত্যটি বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। এটি দেখভালের দায়িত্বে আছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
পুরো জাদুঘরের ২৩টি কক্ষে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নবাবী আমলের বিভিন্ন নিদর্শন। আর ৯টি কক্ষে নতুন করে যোগ হওয়া ১২টি গ্যালারিতে লন্ডনের ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরিতে প্রাপ্ত এবং ১৯০৪ সালে ফ্রিত্জ কাপের তোলা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো হয়েছে। নতুন গ্যালারিগুলোর কাজ শেষ হয় অল্প কয়েক বছর আগে। একই সঙ্গে বর্তমানে আহসান মঞ্জিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আশপাশে ৪০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়।
ক্রমানুসারে গ্যালারিগুলোতে শোভা পাচ্ছে নবাবদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র। ডাইনিং কক্ষ, সিন্দুক, বড় আয়না, আলমারি, জমিদারদের বিশ্বস্ত হাতি, পিতল ও কাঁসার থালাবাসন, ফিরোজ জংয়ের গজদন্তসহ মাথার কঙ্কাল, অলংকার, চেয়ার-টেবিল, আতরদানি, পানদান, হাতির দাঁতে তৈরি চিরুনি, কাঁচি, সোফাসমেত ড্রয়িং রুম এবং বাইজি নাচের ঘরসহ ৪ হাজারের বেশি নিদর্শনে সমৃদ্ধ এ জাদুঘর। আরও রয়েছে ঢাকায় বিদ্যুৎ ও পানিসহ দেশে দেশে জনকল্যাণমূলক কাজে নবাবদের অবদানের বিবরণ, আইনসংক্রান্ত বই, পানির ড্রাম, বিভিন্ন সময়ে নবাবদের নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ-সংক্রান্ত তৎকালীন সংবাদপত্রগুলোর কাটিং, চিঠি, তরবারি, ফেজটুপি, হীরক, হুক্কাসহ আরও অনেক নিদর্শন।
এক্ষেত্রে ১৩ নম্বর গ্যালারিটি দর্শনার্থীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে সে সময়ের সামাজিক, রাজনীতিবিদ ও বিখ্যাত মনীষীদের ফ্রেমবদ্ধ ছবি স্থান পেয়েছে। এতে লিপিবদ্ধ রয়েছে তাদের পরিচিতিসহ নানা অবদানের কথা। বিশেষ করে ১৯০৬ সালে নবাব সলিমুল্লাহর মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং তৎকালীন নিখিল ভারত নেতৃবৃন্দের একই ফ্রেমের বৃহৎ ছবি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ ছাড়াও এ প্রাসাদের ছাদের ওপর একটি গম্বুজ রয়েছে, যা এক সময় ঢাকার সর্বোচ্চ চূড়া হিসেবে বিবেচিত হতো। এর পূর্ব-পশ্চিম প্রান্তে দুটি মনোরম খিলান রয়েছে। আর পূর্ব পাশে রয়েছে বৈঠকখানা ও একটি পাঠাগার।
আহসান মঞ্জিল। সোর্স: রিসাত

গম্বুজ কক্ষের উত্তর পাশের কক্ষটিতে রয়েছে আকর্ষণীয় কাঠের সিঁড়ি। সিঁড়িটির রেলিংয়ে আংগুর লতা সম্বৃদ্ধ লোহার তৈরি ব্যালাস্টার এবং জ্যামিতিক নকশা সমৃদ্ধ কাঠের সিলিংটি খুবই চিত্তাকর্ষক। নওয়াবদের গৌরবময় দিনগুলোতে এ সিঁড়ি কক্ষে সোনা দিয়ে বাঁধাইকৃত একটি ভিজিটর বুক রাখা থাকত। প্রাসাদে আগত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাতে তাদের মন্তব্য লিখতেন। দ্বিতল অন্দরমহলটির উচ্চতা রঙমহলের চেয়ে সামান্য কম। তবে এর উভয় তলায় দক্ষিণ দিকে নির্মিত প্রশস্ত বারান্দা এবং ছাদের উপর নির্মিত প্যারাপেট রঙমহলের পাশে মানানসই রূপ দিয়েছে।
আহসান মঞ্জিল এমন একটি স্থাপত্য যার সঙ্গে বাংলার ইতিহাসের বেশ কিছু অধ্যায় জড়িত। উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে পাকিস্তানের প্রথম পর্ব পর্যন্ত প্রায় একশ বছর ধরে এ ভবন থেকেই পূর্ব বাংলার মুসলমানদের নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে। ঢাকা তথা তৎকালীন পূর্ববঙ্গের এবং এখানকার মুসলমান অধিবাসীদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠায় নবাবরা সব কিছু করেছেন। পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে ঢাকার নওয়াবগণ প্রায় প্রতিদিন এখানে সালিশি দরবার বসাতেন। মুসলিম স্বাতন্ত্র্যে বিশ্বাসী নওয়াব আহসানুল্লাহর উদ্যোগে এখানে কংগ্রেস বিরোধী বহু সভা হয়েছে।
ব্রিটিশ ভারতের যেসব ভাইসরয়, গভর্নর ও লে. গভর্নর ঢাকায় এসেছেন, তাদের সবাই এখানে আগমন করেছেন। ১৮৭৪ সালে নওয়াব আবদুল গণির দানে ঢাকায় পানির কলের ভিত্তি স্থাপনের জন্য বড়লাট নর্থব্রুক ঢাকায় এসে এ প্রাসাদে সান্ধ্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এই নর্থব্রুকের নামে পুরনো ঢাকার বাংলাবাজারে এখনো রয়েছে নর্থব্রুক হল। ১৮৮৮ সালে লর্ড ডাফরিন ঢাকায় এসে আহসান মঞ্জিলের আতিথ্য গ্রহণ করেন। বঙ্গবিভাগ পরিকল্পনার প্রতি জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ১৯০৪ সালে লর্ড কার্জন পূর্ববঙ্গ সফরে এসে ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারিতে প্রাসাদে অবস্থান করেন। খাজা সলিমুল্লাহ তার যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রাসাদ থেকেই পরিচালনা করেছেন। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সূতিকাগার হিসেবে আহসান মঞ্জিল তাই ইতিহাসের অঙ্গ।
ঢাকার নওয়াবদের প্রভাব প্রতিপত্তি হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে আহসান মঞ্জিলের জৌলুসও স্তিমিত হতে থাকে। জমিদারি উচ্ছেদ আইনের আওতায় ১৯৫২ সালে ঢাকা নওয়াব এস্টেট অধিগ্রহণ করা হলে অর্থাভাবে নওয়াবের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে এ প্রাসাদ রক্ষণাবেক্ষণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। জমিদারি অধিগ্রহণের পর খাজা হাবিবুল্লাহ এ প্রাসাদ ছেড়ে পরীবাগ গ্রিন হাউসে বসবাস শুরু করেন। অংশীদারগণ বাছ-বিচার না করে প্রাসাদের কক্ষসমূহ ভাড়া দেয়ায় ভবনটি ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে। কালক্রমে অবৈধ দখলদারীরা স্থানটিকে নোংরা বস্তিতে পরিণত করে।
সম্মুখভাগ। সোর্স: রিসাত

আহসান মঞ্জিলের ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলাদেশ সরকার ভবনটিকে সংস্কার করে জাদুঘরে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়। ১৯৮৫ সালে আহসান মঞ্জিল ও সংলগ্ন চত্বর অধিগ্রহণ করা হয়। গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের দায়িত্বে এর সংস্কার কাজ সমাপ্ত হয় ১৯৯২ সালে। ওই বছর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাসাদটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এখানে একটি জাদুঘর স্থাপন করা হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ নবাবদের শৌর্যবীর্য দেখার জন্য এখানে ভিড় করেন।
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থাকা আহসান মঞ্জিলকে বর্তমানে নতুনভাবে রাঙিয়ে আরও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের আঙিনায় বিরল প্রজাতির বৃক্ষ এবং ফুটন্ত ফুল যে কাউকে রোমাঞ্চিত করবে। আহসান মঞ্জিলের অভ্যন্তরের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেখলে কয়েকশ বছর আগের একটি শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়। উৎসুক আগন্তুকরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন নবাবী শাসনামলের খণ্ডচিত্র। দর্শনার্থীদের কাছে এসব নিদর্শনের যথেষ্ট আবেদন রয়েছে। তবে প্রাচীন এ জাদুঘর সবকিছুতে সমৃদ্ধ থাকলেও ইটের বদলে টিনের সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক ছাড়া বাকি তিন দিকের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে যানবাহন পার্কিং করে রাখা ও অবাঞ্ছিত ব্যানার-ফেস্টুনের কারণে ম্লান হতে বসেছে জাদুঘরটির শত বছরের ঐতিহ্য। এ ছাড়া সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে ফুটপাথে বসেছে দোকানপাট। এতে সরু হয়ে গেছে সামনের সড়ক। ফলে আহসান মঞ্জিলে আসা দর্শনার্থীদের চোখে-মুখে দেখা যায় এক ধরনের অসন্তুষ্টির ছাপ। এখানে রিকশা-গাড়ির জট সহজে ছাড়তে চায় না। নবাববাড়ির সামনের যানজটের অবস্থা বেশি খারাপ।
পাশ থেকে আহসান মঞ্জিল। সোর্স: রিসাত

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আহসান মঞ্জিল জাদুঘর খোলা থাকে। এতে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য প্রবেশ মূল্য ২০, সার্কভুক্ত দেশ ২০ এবং অন্য বিদেশিদের জন্য টিকিট মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে এখানে ৫০০ দর্শনার্থী আসেন। এ ছাড়া ছুটি ও বিশেষ দিনগুলোতে চার থেকে পাঁচ হাজার দর্শনার্থী হয়ে থাকে।
তথ্যসূত্র
১। http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/aunoshilon/2017/04/11/188268.html
২। http://www.bd-pratidin.com/last-page/2018/04/05/319971
৩। http://www.kalerkantho.com/print-edition/education/2017/10/08/551238
ফিচার ইমেজ: রিসাত

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বান্দরবানের স্বপ্নকথন: সাঙ্গু নদী আর রিঝুক ঝর্ণার মহামায়া

সিলেট ভ্রমণের ইতিবৃত্তান্ত: প্রথম দেখায় শ্রীমঙ্গলের মাধবকুণ্ড