ভারতীয় ভিসায় নতুন ও কার্যকর পোর্ট সংযোজন

ভারত সাধারণত এক বছরের ট্যুরিস্ট ভিসা দিয়ে থাকে। সমস্যা হচ্ছে আবেদন পত্রে যে পোর্ট উল্লেখ করা হয় তার বাইরে অন্য কোনো পোর্ট দিয়ে যাওয়া বা আসা যেত না। এক ভিসা নিলেই সবগুলো পোর্ট ব্যবহার করতে পারলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হতো বাংলাদেশি পর্যটকদের। অনেকদিন ধরে কথাবার্তা চললেও এটা নিয়ে আর অগ্রগতি হয়নি।

সব পোর্ট বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করতে হলে প্রথম কাজ হতো সবগুলো স্থলবন্দরকে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) এ রূপান্তর করা। বছরখানেক আগে থেকেই ভারতে যে পোর্টের ভিসা থাকুক না কেন আসা যাওয়া করা যাচ্ছে। এ আইসিপিগুলোর বেশির ভাগই অবশ্য বিমানবন্দর। 

ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অধিকাংশ জায়গাতেই আইসিপি করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। ফলে ঘোষণা দেয়ার পরেও ভারত ২৬টি বন্দরকে আইসিপি করতে পেরেছে। স্থলপথে এর সংখ্যা মাত্র দুটি। যার একটি হচ্ছে বেনাপোল যার ভারতীয় অংশের নাম হরিদাসপুর আর অন্যটি দর্শনা যার ভারতীয় অংশের নাম গেদে।

ভারতের ২৪টি বিমান বন্দরেই আইসিপি। তার মানে সরাসরি হোক আর ট্রানজিট থাকুক এ সবগুলো বিমানবন্দরেই ভারতের ভিসা যে পোর্টেরই থাকুক নামা যাবে। ভিসাতে বাই এয়ার শব্দটি লেখা থাকুক বা না থাকুক। আসলে এ নিয়ম করার পর থেকেই সব ভিসাতে লিখে দেয়া হচ্ছে “আইসিপি হয়ে যাতায়াতে কোনো বাধা নেই”।

হরিদাসপুর ও গেদে এ দুটো স্থল বন্দরেই কিন্তু রেল পথও আছে। এর অর্থ রেল বা স্থলপথ দুটো ব্যবহার করেই যাওয়া যাবে ভিসাতে যে পোর্টই দেয়া থাকুক না কেন। হরিদাসপুর হয়ে যে ট্রেন চলে তার নাম বন্ধন এক্সপ্রেস, ছাড়ে বাংলাদেশ অংশে খুলনা থেকে আর ভারতীয় অংশে চিৎপুর থেকে। গেদে হয়ে চলে মৈত্রী এক্সপ্রেস যেটি ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে।

লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে আপনি ভিসা করতে চাইলে এতক্ষণ আলোচনা করা কোনো পোর্ট দেবার দরকার নেই, এগুলো এমনিতেই পাচ্ছেন। এ চারটি অপশনের সাথে যে কোনো একটি পোর্ট এতদিন পর্যন্ত দেয়া যেত। এখন দেয়া যাবে দুটি। এতে করে মোটামুটি ছয়টি অপশন আপনার সামনে খোলা থাকবে।

এখন যদি আপনি সঠিক পরিকল্পনা করে ভিসার পোর্ট নির্বাচন করে থাকেন তবে কখনোই আর পোর্ট নতুন করে সংযোজন করতে হবে না। কোন দুটি পোর্ট নির্বাচন করলে আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে। আমার মতে এ দুটি হচ্ছে ডাউকি বা আগরতলা ও ফুলবাড়ি বা চেংড়াবান্দা। রেল, বিমান, হরিদাসপুর আর গেদে তো থাকছেই সাথে। এবার মিলিয়ে দেখুন আপনার গন্তব্যের সাথে, আর কোনো পোর্টের দরকার আছে কিনা?

এবার আসি কীভাবে নতুন পোর্ট সংযোজন করবেন সে প্রসঙ্গে। পোর্ট পরিবর্তন আগে রীতিমতো দু:সাধ্য একটি ব্যপার ছিল। ভারতীয় হাইকমিশনে আবেদন পত্র জমা নিত, পোর্ট পরিবর্তনের অনুমতি পেলে তখন পাসপোর্ট জমা নিত। তবে যারা জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আবেদনপত্র জমা দেবার পর আর কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি।

এরপর হাইকমিশন থেকেই বলা হয়েছিল পোর্ট সংযোজনের আবেদন তারা আর সরাসরি গ্রহণ করবে না, সেটা ইমেইলে পাঠাতে হবে। দেখা গেলো ইমেইলেও আর উত্তর আসে না। ফলে কার্যত পোর্ট পরিবর্তন বন্ধ হয়ে যায় এবং এক বছরের জন্য অনেকেই তার ইচ্ছেমতো ভ্রমণ গন্তব্যে যেতে পারেনি। একমাত্র শ্যমলী পরিবহনের মাধ্যমে ডাউকি পোর্ট সংযোজন করা যেত, সেটার জন্যও গুনতে হতো ৫,০০০ টাকা।

এসব সমস্যা সমাধানে ভারতীয় হাইকমিশন এবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি আইভিএসিতেই নতুন পোর্ট সংযোজন করার জন্য আলাদা কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এখন সে সব কাউন্টারে নতুন পোর্ট সংযোজনের আবেদনপত্র জমা দিলে সহজেই পাওয়া যাবে নতুন দুটি পোর্ট। অবশ্য এ জন্য ফি দিতে হবে  ৩০০ টাকা। কয়েকজন আবেদনকারী প্রতি পোর্টের জন্য ৩০০ টাকা করে জমা দিয়েছিলেন, পরে জানা গেছে পরিবর্তন ১ টা বা ২ টা করুক ফি ৩০০ টাকায় থাকছে।

অতিরিক্ত রুট অনুমোদনের ঘোষণা ছবি ভারতীয় হাইকমিশনের ফেইসবুক পেজ থেকে

আবেদনপত্রের সাথে পাসপোর্ট ও এক কপি ছবি নিয়ে যেতে হবে এবং ভিসার মেয়াদ অন্তত তিন মাস থাকতে হবে। আরেকটি বিষয় কিন্তু তারা এখনো পরিস্কার করে বলেনি, সেটা হচ্ছে আগের ভিসায় দেয়া পোর্ট ব্যবহার করা থাকতে হবে কিনা। আবেদনপত্র জমা দিলে তারা লিখে দেবে কোনদিন পাসপোর্ট নিতে আসবেন, সে অনুসারে পাসপোর্ট ফেরত নিয়ে আসবেন।

আবেদন পত্রটি চাইলে এ লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এই আবেদনপত্র খুব সহজ সরল। এখানে  আপনার নাম, পাসপোর্ট নাম্বার, বর্তমান ভিসার তথ্য, কোন দুটি পোর্ট সংযোজন করতে চান, বর্তমান ঠিকানা আর ফোন নাম্বার দিলেই হবে। তবে মনে রাখবেন বর্তমান ভ্যালিড ভিসার মেয়াদ অন্তত তিনমাস থাকতে হবে, না হলে পোর্ট সংযোজনের আবেদন পত্র গ্রহণ করা হবে না।

এখন যদি আপনার বর্তমান ভিসা ফুলবাড়ি/চেংড়াবান্ধা হয়ে করা থাকে এবং আপনি নতুন করে ডাউকি আর আগরতলা যোগ করে নিতে পারেন, তাহলে কোনোভাবেই আপনার আর নতুন পোর্টের দরকার পড়বে না। আসলে ভারতের সাথে আমাদের স্থলপথে ৩০টা পোর্ট থাকলেও এ কয়েকটি পোর্টই পর্যটকরা বেশি ব্যবহার করে থাকে। বাকি পোর্টগুলো সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে থাকে।

কোন বর্ডার দিয়ে কোথায় যাবেন:

১. ফুলবাড়ী/চেংড়াবান্দা দিয়ে দার্জিলিং/সান্দাকফু/সিকিম ইত্যাদি
২. ডাউকি দিয়ে মেঘালয়/আসাম/অরুণাচল ইত্যাদি
৩. আগরতলা: ত্রিপুরা/মিজোরাম/অরুণাচল ইত্যাদি
৪. হরিদাসপুর: বেনোপোল দিয়ে যেদিকে যেতে চান। যেমন দিল্লী/আগ্রা অথবা চেন্নাই/দক্ষিণ ভারত
৫. ট্রেনে করে কলকাতার চিৎপুরে আসতে পারবেন।
৬. বিমানে সরাসরি যেতে পারবেন দিল্লী, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই ইত্যাদি শহরে। কলকাতায় ট্রানজিট নিয়ে যেতে পারবেন ভারতের প্রায় সব শহরে।

ফিচার ইমেজ: লেখক

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শ্রী লেদারসে আমাদের বিশ্রী অবস্থা!

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর