৮টি অনিন্দিত দর্শনীয় স্থান যা অনেকেরই অজানা

source;ciaobambino.com

আমরা সবাই কম বেশি খুব পরিচিত আকর্ষণীয় স্থানগুলোর কথা জানি যেমন দ্য গ্রেট ওয়াল অফ চায়না অথবা তাজমহল ইত্যাদি। কিন্তু এ সকল প্রচলিত দর্শনীয় স্থানগুলো ছাড়াও আরও অনেক চমৎকার, প্রাচীন বিল্ডিং রয়েছে যা সম্পর্কে অনেক আগ্রহী ভ্রমণকারীও শোনেনি।

৮) দ্য গ্রেট মস্ক অফ ডেন্নি, মালি

দ্যা গ্রেট মস্ক অফ ডেন্নি; source: mustseeplaces.eu

জেনের এই মসজিদটি ১০০ বছরের পুরনো এবং এটি ইট-কাদার তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদ। ১৯৮৮ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা পেয়েছে। একটা সময় এই মসজিদ দর্শন করার ক্ষেত্রে টুরিস্টদের নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। সাইটটির প্রথম মসজিদটি ১৩ শতকের কাছাকাছি নির্মিত হয়েছিল, তবে বর্তমান কাঠামো ১৯০৭ সাল থেকে শুরু হয়।

জেনেভের সম্প্রদায়ের কেন্দ্র হিসেবে এটি আফ্রিকার সবচেয়ে বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কগুলোর একটি। সম্ভবত এই ছবিগুলো ১৯৯৬ সালে ভোগ ম্যাগাজিনের জন্য একটি নিখুঁত ফটোশুট করার পর নেওয়া হয়েছিল।

৭) চান্দ বাওরি, ইন্ডিয়া

চান্দ বাওরি; source: travelseewrite.com

চান্দ বাওরি ভারতের রাজস্থানের আভানেরি নামের একটি গ্রামে অবস্থিত। এটি ৮০০ এবং ৯০০ খ্রিস্টাব্দে নিকুম্ব রাজবংশের রাজা চান্ডা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং সমাপ্তির পরে আনন্দ ও সুখের দেবী হাশাত মাটির কাছে উৎসর্গ করেছিলেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো এবং গভীরতম সিঁড়িগুলোর একটি।

এর বিশাল আকৃতি দেখে বিধ্বস্ত পিরামিডের মতো মনে হয় যা মাটির নিচে ১০০ ফিট পর্যন্ত গিয়েছে। নিখুঁত প্রতিসাম্যের পাশ ঘেঁষে রয়েছে তিনটি দেয়াল যেখানে তিন হাজার পাঁচশটি সরু ধাপ বা সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে এবং এটি নিচের দিকের সবুজাভ একটি লেকের দিকে পথ প্রদর্শন করে থাকে। রাজস্থান রাজ্য অত্যন্ত শুষ্ক এবং চাঁদ বাওরির নকশা এবং চূড়ান্ত কাঠামো যতটা সম্ভব জল সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যেই তৈরি হয়েছিল।

কুয়াটির একদম নীচে যে বাতাস পাওয়া যায় তা উপরের দিকের বাতাসের চেয়ে ৫-৬ ডিগ্রি বেশি শীতল থাকে এবং চাঁদ বাওরিটি তীব্র তাপের সময় স্থানীয়দের জন্য একটি কমিউনিটি সংগ্রহস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কুয়াটির এক পাশে একটি প্যাভিলিয়ন এবং রয়্যালসদের জন্য বিশ্রাম রুম আছে।

৬) দ্য প্লেস অফ পার্লামেন্ট, রোমানিয়া

দ্য প্লেস অফ পার্লামেন্ট; source: brightside.com

বুখারেস্টের একটি জনপ্রিয় বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছিল তখন যখন পর্যন্ত রোমানিয়ায় সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র ছিল। এই স্থানকে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে দামী বেসামরিক প্রশাসনিক বিল্ডিং হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এই নব-ধ্রুপদী বিস্ময়ের রয়েছে আটটি অতিরিক্ত তলাসহ বারটি তলা এবং তিন লাখ তিরিশ হাজার স্কয়ার জায়গা নিয়ে তিন হাজার একশটি রুম। প্রধান স্থপতি আকা পেত্রেস্কু দ্বারা পরিকল্পিত এবং তত্ত্বাবধানকৃত একটি বিশাল ভবন এটি, প্রায় ১৩ বছর সময় নিয়ে নির্মিত হয়েছে  প্রায় ৭০০ স্থপতিদের একটি দল গঠন করে।

যদিও তার দীর্ঘ সময়ের নির্মাণের সময় মূলত প্রজাতন্ত্রের (হাউজ অফ দ্য রিপাব্লিক) নামকরণ করা হয়েছিল এবং ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে রোমানিয়ান বিপ্লবের পর এটি জনসাধারণের হাউজ (দ্য পিপলস হাউজ) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এর বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং আলোর খরচ প্রতি বছর ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

৫) স্টারি মোস্ট (পুরনো ব্রিজ), বসনিয়া-হারযিগোভিনা

স্টারি মোস্ট (পুরনো ব্রিজ); source: www.earthtrekker.com

পথচারীদের জন্য এই ব্রিজটি মোস্টার শহরের নেরেটভা নদীর উপর দিয়ে যায়। যা কিনা ১৯৯৩ সালে বসনিয়ান কোর্টের ভেঙে ফেলা একটি পুরাতন ব্রিজের আধুনিক রূপ।  ২০০৫ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায় স্টারি মোস্ট তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

এটি গতানুগতিক ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি জায়গা। ব্রীজের উপর থেকে নেরেটেভা নদীর ঠাণ্ডা পানিতে বাঞ্জি জাম্পিং করা তাদের বিনোদনের একটি বিশেষ ব্যবস্থা। টুরিস্টরা এই বিষয়টি খুব উপভোগ করে থাকেন।  

৪) কুম্ভালগড় ফোর্ট, ইন্ডিয়া

কুম্ভালগড় ফোর্ট; source: brightside.com

কুম্ভালগড় কেল্লাটি অন্যরকম সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি দেয়াল দ্বারা ঘেরাও করা। যা সেকালে “গার্ডিয়ান অফ ডেথ” অথবা “আই অফ মেওয়ার” নামে পরিচিত ছিল। এই দেওয়ালটি ৩৬ কিলোমিটার প্রসারিত আর কোনো কোনো স্থানে ৮ মিটার করে উঁচু।

এটি তৈরিতে পঞ্চদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দি পুরো ১০০ বছর সময় লেগেছিল। অনেকগুলো যুদ্ধ হওয়ার পরেও গ্রেট ওয়াল কখনোই খুব বেশি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

৩) শেখ লতফোল্লাহ মস্ক, ইরান

শেখ লতফোল্লাহ মস্ক: source; gracetheworld.wordpress.com

সাফাভিড ইরানীয়ান আর্কিটেকচারের একটি অসাধারণ মসজিদ ছিল এটি যা তৈরি করা হয়েছিল ১৬০২ থেকে ১৬১৯ সালের মধ্যে। এর মধ্যে সংস্কৃতির দারুণ প্রতিফলন রয়েছে।এটি ছাড়াও এই মসজিদের অসাধারণ হওয়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে।

মসজিদটির গঠনে কোনো মিনার বা আঙ্গিনা নেই, হয়তো এ কারণে হতে পারে যে শেখ লতফোল্লাহ মসজিদটি কখনই পাবলিক ব্যবহারের উদ্দ্যেশে তৈরি করা হয়নি। বরং এটি তৈরি করা হয়েছিল শাহ্‌ হারেমের নারীদের জন্য প্রার্থনার স্থান হিসেবে।

২) দেরাওয়ার ফোর্ট, পাকিস্তান

দেরাওয়ার ফোর্ট; source; rctravels.wordpress.com

স্কয়ার গঠনের এই বিস্ময়কর দেরাওয়ার তৈরি করা হয়েছিল ১৭৩৩ সালে। দূর্গটি গঠিত হয়েছিল ৪০টি বুরুজ নিয়ে যা পাকিস্তানি মরুভূমি থেকেও খুব সাবলীলভাবে গড়া হয়েছিল। সংযোজন করছি যে, এই দূর্গের দেওয়ালগুলো ১,৫০০ মিটার পরিধি এবং ৩০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় রয়েছে। এমনকি স্থানীয় নাগরীকরাও এর অস্তিত্ব সম্পর্কে খুব বেশি অবগত না বা পরিচিত না, সেখানে টুরিস্টদের কথা নাহয় বাদই দিলাম।

১) ফোর্ট অালেকজান্ডার দ্য ফার্স্ট, রাশিয়া

ফোর্ট অ্যালেকজান্ডার দ্য ফার্স্ট; source: www.magnusmundi.com

অালেকজান্ডার দ্য ফার্স্ট কেল্লাটি সাধারণত ‘প্লেগ ফোর্ট’ হিসেবেই পরিচিত। এটি সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং ক্রনস্ট্যাডের কাছাকাছি বাল্টিক সমুদ্রের শেষ উপসাগরে অবস্থিত। এটি ১৯ শতকের মাঝামাঝি বাল্টিক জলপথ রক্ষা করার জন্য একটি কৃত্রিম দ্বীপের উপর নির্মিত হয়েছিল। দুর্গটি দ্রুতই  প্লেগ এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া রোগের গবেষণাগার হয়ে ওঠে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রাচীন শহর মোহাম্মাদাবাদ বা বারোবাজারের আদ্যন্ত

গা ছমছমে ওল্ড মানালির গল্প