বিশ্ব জুড়ে সৌন্দর্যের ৮টি অদ্ভুত মানদণ্ড

সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য হলো মানুষ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সব মানুষই সুন্দর। আর সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এই সৌন্দর্যকে আরও সুন্দর করে তুলতে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাই কিছু না কিছু করে থাকে। এবং এটি এক এক স্থানে এক এক রকম কিন্তু তারপরও কিছু অন্যরকম সৌন্দর্য স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে যা শুধু আপনাকে অবাকই করবে না, বরং কখনো কখনো তা দেখে আপনি ভয়ও পেতে পারেন।
তাই এই লেখায় কিছু অন্যরকম সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরব যা আপনার ধারণা পরিবর্তন করবে। এবং খুবই অবাক করা বিষয় হলো এ ধরনের সৌন্দর্য কৌশল শুধু সেই জাতির মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আধুনিক মানুষের মধ্যেও এখন এই চর্চা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে লেখাটির শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

৮) ইয়ানোমামি জাতি, ব্রাজিল

ইয়ানোমামি জাতি,source:theserangoonview.wordpress.com

দক্ষিণ আফ্রিকার ঘন বনাঞ্চলের আদিবাসী এই ইয়ানোমামি জাতি আধুনিক পৃথিবীর সাথে সবচেয়ে কম যোগাযোগ হয় এমন একটি জাতি। যদিও তাদেরকে সবচেয়ে ভয়ংকর বা বিপদজনক জাতি হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। যেহেতু ব্রাজিল সরকার তাদেরকে বিভিন্ন রোগ এবং অনুপ্রবেশকারী থেকে রক্ষা করতে পারছে না, কিন্তু এই জাতির নারীদের দিকে একটু লক্ষ্য করা উচিত।
তাদেরকে প্রতিদিন খুব সংগ্রাম করে বাঁচতে হয় কারণ তাদেরকে প্রায়ই কিডন্যাপ করা হয় বা শারীরিক অত্যাচার করা হয়। তারা তাদের মুখে কাঠি ভেদ করে থাকে। অনেক নৃবিজ্ঞানী মনে করে থাকেন স্টিক পিয়ার্সিং বা কাঠি ভেদন হয়তো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অথবা বয়ঃসন্ধিকালের চিহ্ন হিসেবে করা হয়ে থাকে।

৭) ডাসানাইচ জাতি, ইথিওপিয়া

ডাসানাইচ জাতি,source:www.pinterest.com

ইথিওপিয়ার ওমো ভ্যালি আদিবাসিদের সবচেয়ে জনবহুল জায়গা হিসেবে পরিচিত। আমরা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের মানুষেরা যখন দারুণভাবে পৃথিবীকে বিভিন্নভাবে দূষিত করে যাচ্ছি, সেখানে প্রকৃতির একেবারে কাছের আর ভিন্ন সংস্কৃতির এই মানুষেরা আমাদের করা নষ্ট জিনিসগুলো নিয়ে অলংকার হিসেবে ব্যবহার করে।
তারা ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে মাথা, গলার অলংকার বানিয়ে থাকে। আমরা সবাই জানি যে আধুনিক ফ্যাশনের জগতে রিসাইকেলিং করা হয়। কিন্তু আসল রিসাইকেলিং কি তারা করে যা ওমো ভ্যালির জাতি করে থাকে? আমাদের উচিত তাদের কাছ থেকে শেখা, তাদের সহজ সাধারণ জীবনকে অনুসরণ করা।

৬) এপাটানি নারীজাতি, ভারত

এপাটানি নারীজাতি,source:terraworldtravel.com

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আদিবাসী এই এপাটানি জাতি। তাদের নারীদের সে স্থানের আশেপাশের জাতির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হিসেবে মানা হয়ে। তাই পুরুষের কাছে নিজেদের আকর্ষণীয় করতে এই জাতির নারীরা নাক ফুটো করে বড় বড় নাকফুল পরে থাকে। সত্যিকার অর্থে এটা বিউটি স্ট্যান্ডার্ড নয় বরং তাদেরকে সবার মাঝে বেশ আলাদা করে।

৫) আফার জাতি, ইথিওপিয়া

আফার জাতি,source:www.flickr.com

ইথিওপিয়ার অন্যতম সুন্দর আদিবাসী আফার জাতির রয়েছে কিছু স্বতন্ত্র সৌন্দর্য মান আর তা হলো “টিথ চিজলিং” অর্থাৎ দাঁত বাটালি দ্বারা কাটা। হাসলে দাঁতের সার্প বা চোখা রূপ তাঁদের জন্য সৌন্দর্যের একটি প্রতীক। চুলে বিশেষ পদ্ধতিতে বিনুনি করা আর নাক ফোঁড়ানোর মতো কাজগুলোও এ জাতি করে থাকে।

৪) মুরসি জাতি, ইথিওপিয়া

মুরসি জাতি;source:www.pinterest.com

মুরসি জাতির নারীরা মূলত তাদের প্লেট ঠোঁটের জন্য স্বীকৃত কিন্তু তাদের আরও একটি অসাধারণ সুন্দর আদর্শ রয়েছে যা তারা অনুসরণ করে থাকে। তা হলো তাঁরা তাদের মাথা শিং এবং ফুলের মুকুট দিয়ে সাজাতে খুব পছন্দ করে এবং পাশাপাশি তারা তাদের চেহারাও পেইন্ট করে থাকে।
মূলত, এটি করা হতো দাসত্ব বন্ধ করার জন্য। এ কারণে অনেক নারীকে বিকলাঙ্গ করা হতো এবং এরপর বলা হতো তারা দাসত্বের জন্য উপযুক্ত নয়। একসময় এটি দাসত্ব বন্ধ করার জন্য এক ধরনের কর্মকাণ্ড ছিল কিন্তু এখন এই সাজ তাদের সৌন্দর্যের প্রতীক এবং এই জাতির নারীদের স্বীকৃতি স্বরুপ।

৩) লাহুই জাতি, ভিয়েতনাম

লাহুই জাতি:source:www.humbert-online.de

যখন আমরা আধুনিক মানুষেরা দাঁত ঝকঝকে সাদা রাখার জন্য ৩ বেলা ব্রাশ করি তখন পৃথিবীর কোনো একটি জায়গার এক জাতি তাদের দাঁতে কালো রং দিয়ে পেইন্ট করে এতে সৌন্দর্য খুঁজে পায়, ভাবতে পারেন! লাহুই জাতির মেয়েরা বিয়ের জন্য উপযুক্ত হলে তাদের দাঁত এমন কালো রং করা হয়ে থাকে। এই জাতি ছাড়াও এশিয়ার অনেক জায়গায় এমন রীতি রয়েছে। এটির মাধ্যমে জাপানের সমাজে উচ্চ অবস্থানও বুঝিয়ে থাকে।

২) ডায়াক নারী, ইন্দোনেশিয়া

ডায়াক নার:source:www.indoindians.com

ডায়াক জাতির মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে কানের লতি যত দীর্ঘ ততই তারা সুন্দর হিসেবে বিবেচিত হবে। খুব ছোট বয়সেই তারা কান ফুটো করে এবং পিতলের ভারী কানের দুল পরে থাকে কানের লতি দীর্ঘ করার জন্য। এটি তাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঐতিহ্য হিসেবে পালন করতে হয়।

১) এজিয়ো সাল, দক্ষিণ কোরিয়া

এজিয়ো সাল:souce:brightside.me

দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষেরা বিভিন্ন সৌন্দর্যতে আসক্ত। নারীরা সবসময় চেষ্টা করে কী করে তাদের চেহারায় একদম বাচ্চাদের মতো একটি কিউট লুক নিয়ে আসা যায়। কিউটনেসের একেবারে শীর্ষ রেজাল্টের জন্য তারা প্ল্যাস্টিক সার্জারী সহ বিভিন্ন মেকআপ ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে তাদের কাছে প্রিয় হলো এজিয়ো সাল বা চোখের নিচে বাচ্চাদের মতো হালকা মেদ। এটা করতে চোখের নিচে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ফ্যাট ইনজেকশন দিতে হবে এমন নয়। বরং মেকআপের বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেও এমন লুক নিতে পারেন।
সুতরাং বলা যায় আমরা পৃথিবীর বিউটির অন্যরকম সব স্ট্যান্ডার্ড দেখলাম। আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত যে “বিউটি উইল সেইভ দ্য ওয়ার্ল্ড” অর্থাৎ সৌন্দর্যই পৃথিবীকে রক্ষা করবে। আর মনে রাখতে হবে মনের সৌন্দর্যই আসল সৌন্দর্য।
ফিচার ইমেজ- themellybooproject.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পেহেলগামের পাইন বনে ঘোড়ার রোমাঞ্চ

সকোত্রা দ্বীপ: যাকে বলা হয় পৃথিবীতেই এলিয়েনদের আবাস