পর্বত, সৈকত ও বন: এই তিনের শহর ক্যালিফোর্নিয়ায়

জমকালো শহর, সৈকত, ক্রীড়নক পার্ক এবং প্রকৃতির আর সব আশ্চর্য, সবকিছুরই সম্ভার যেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া। তাই পর্যটকের ভিড়ও লেগে থাকে বছরের প্রায় প্রতিটি দিনেই।

আজ কথা বলবো ক্যালিফোর্নিয়ার তেমনই উল্লেখযোগ্য ৭টি স্থান নিয়ে।

১) সান ফ্রান্সিস্কো এবং গোল্ডেন গেট ব্রিজ

the Golden Gate Bridge; source: queenanne

আমেরিকার যে কয়টা চমৎকার শহর আছে তার মধ্যে সান ফ্রান্সিস্কো অন্যতম। সাগর আর পর্বত তার সাথে উদ্ভট চারপাশ, ঐতিহাসিক স্থান, সবুজ সমারোহ, উজ্জীবিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আর নিরুদ্বেগ আচরণ এই সব মিলিয়ে মিলে সান ফ্রান্সিসকো শহরটা আবির্ভূত হয়েছে এক অত্যাশ্চর্য রূপে। গোল্ডেন গেট ব্রিজটা হচ্ছে তেমনই এক অন্যরকম নিদর্শন, মানুষজন ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘুরতে আসলেই যেটা একবার হলেও চোখে ভাসায়।

সান ফ্রান্সিস্কো উপসাগরের টলমলে নীল জলের বিপরীতে কমলা রঙের ফ্রেমের ব্রিজ কিংবা কুয়াশা মাখা সকালের সূর্যোদয় যখন এই এলাকাটা ঘিরে ধরে সে যেন এক অবিস্মরণীয় চিত্র। আপনি চাইলে খুব কাছ থেকে কিংবা দূর থেকে দেখে ভিন্নভাবে স্বাদ নিতে পারেন এই ব্রিজের। গাড়ি বা বাইক চালিয়ে যেতে পারেন ব্রিজের উপর দিয়ে কিংবা হেঁটেও যেতে পারেন।

২) জোসেমাইট ন্যাশনাল পার্ক

Yosemite valley; source: nps.gov

জোসেমাইট ন্যাশনাল পার্ক হচ্ছে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন এবং পর্যটক বহুল ন্যাশনাল পার্ক। পর্বত, উপত্যকা, নদী এবং দর্শনীয় ঝর্ণা এই সবকিছুই পর্যটক, শিল্পী কিংবা ক্রীড়াবিদদের দৃষ্টি কেড়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। তার মধ্যে জোসেমাইট ভ্যালি হচ্ছে মূল আকর্ষণ।

এই পার্কের সবচেয়ে অসাধারণ গাঠনিক চিত্রগুলো দেখা যায় হিমবাহের তৈরি বাঁকা পথ, গ্রানাইটের দেয়াল আর প্রচুর পরিমাণে জলপ্রপাতে। তাছাড়াও এখানে আপনি খুঁজে পাবেন জোসেমাইট ঝর্ণা, অর্ধ গম্বুজ এবং এল ক্যাপিটান। উপত্যকার পিছনে রয়েছে টিয়োগা রোড আর গ্ল্যাসিয়ার পয়েন্ট রোড যে দুটো একসাথে মিলিত হয়েছে এল্পাইনে যেখানে আপনি দেখতে পাবেন প্রকৃতির ঢেলে দেওয়া সাজসজ্জা।

হাইকিংয়ের জন্যেও এখানে ট্রেইলের অন্ত নেই। পার্কে যদি আপনি কয়েকটা রাত কাটাতে পারেন তাহলে ক্যাম্পিং করার জন্য মুগ্ধকর চারপাশ নিয়ে পেয়ে যাবেন দারুণ কিছু স্থান।

৩) ডিজনিল্যান্ড

Disneyland; source: swedest

ডিজনিল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান ভূখণ্ড এনাহেইমে অবস্থিত। বৃহদাকার এই বিনোদন পার্কটি সব রকমের রাইড, গেইম, শো এবং বিনোদনের মূলকেন্দ্র। রেস্টুরেন্ট আর হোটেল দিয়েও জায়গাটি ভরপুর। পার্কটি মূলত নানান ধরনের রাইড, বিনোদনপূর্ণ জগত আর সংস্কৃতির সমন্বয়ক।

বাচ্চা কিংবা বয়স্ক সবার জন্যই এখানে বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং বিনোদনের সুব্যবস্থা দেখা যায়। সাধারণত বাচ্চারা যখন গ্রীষ্ম, বড়দিন, বসন্ত কিংবা অন্যান্য উপলক্ষে স্কুলের ছুটি কাটায় তখন এই পার্ক পরিপূর্ণ হয়ে থাকে।

এটা যে শুধু পার্ক তা নয়, ডিজনিল্যান্ড হচ্ছে মূল আকর্ষণ। ডিজনিল্যান্ড রিসোর্টে আছে হোটেল, ডাইনিং, শপিং এবং ডিজনি অ্যাডভ্যাঞ্চার পার্ক। বাচ্চারা যা চায়, পার্কটি যদিও তা দিয়েই পরিপূর্ণ তবুও পরিবারের সব সদস্যই এখানে উপভোগ করে।

৪) ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক

Death valley national park; source: aufgegabelt

ডেথ ভ্যালি হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার এমন এক জায়গা যেখানে প্রচণ্ড সূর্যের তাপ আর গরমে চারদিক হয়ে থাকে আতিথেয়তাশূন্য আর এটাই যেন জায়গাটির বিশেষ সৌন্দর্য। ধূ ধূ বালিয়ারি মাঠ, শুষ্ক ভূমি, লবণাক্ত মাঠ, পর্বত এবং একটা হ্রদ যেটা কিনা সাগরের সাথে সংযুক্ত এই সব মিলিয়ে ডেথ ভ্যালি আবির্ভূত হয়েছে অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে।

পর্যটকরা এখানে এসে পুরোটা জায়গা গাড়িতে করে ঘুরে দেখতে পারেন, হাইক করতে পারেন ছোট ছোট ট্রেইলগুলোতে, ঘুরে দেখতে পারেন ভ্যালির পুরনো ইন্ডাস্ট্রিগুলো যেগুলো এখন অব্যবহৃত। হ্রদে যখন পানি থাকে তখন প্যাডেলে চেপে অগভীর পানিতে ভাসতেও পারেন।

৫) বিগ স্যুর

Big sure; source: afar.com

ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল কোস্টের রাস্তা ধরে এই দারুণ বিস্তৃত পথটি এগিয়ে গেছে আর পর্যটকদের সুযোগ করে দিয়েছে নগরীর কোলাহলকে পিছনে ফেলে প্রকৃতিতে ফিরে যাবার। ক্যাম্পিং এবং হাইকিংয়ের জন্য এই জায়গাটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তার মধ্যে গ্যারাপেটা স্টেট পার্ক এবং ফেইফার বিগ স্যুর স্টেট পার্ক হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

ইয়াংকি পয়েন্টে অবস্থিত কার্মেলের দক্ষিণ দিকের চার মাইল রাস্তাজুড়ে শুরু এই বিগ স্যুর সোজা চলে গেছে সালমন কোভের ১ নং হাইওয়ে ধরে দক্ষিণের প্রায় ১৭ মাইল পর্যন্ত। পূর্ব দিকে তা আবার সান্তা লুসিয়া মাউন্টেইন এবং ভেন্টানা জঙ্গলসহ ২২০ মাইলেরও বেশি ট্রেইল নিয়ে অবস্থিত।

যারা মূলত হাইকার বা সূর্যস্নানে কিংবা ক্যাম্পিংয়ে আগ্রহী তাদের জন্য ফেইফার বিগ স্যুর স্টেট পার্ক একটি আকর্ষণীয় জায়গা। অপরদিকে গ্যারাপাটা স্টেট পার্ক হচ্ছে সোনালী বালির দীর্ঘ, প্রশস্ত, অর্ধচন্দ্রকৃতি বিশাল সৈকত। ঢেউয়েরা এখানে এসে উত্তাল হয়ে ওঠে তবুও সাঁতারের জন্য পর্যটকদের কাছে এই জায়গাটি বেশ পছন্দের।

৬) তাহুই লেক

Lake Tahoe; souce: spews.com   

লেক তাহুই, সিয়েরা নেভাডা পর্বতের উপরে অবস্থিত। অবকাশ যাপনের জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি জায়গা এটি। নীল পানির হ্রদ যেটি কিনা চারপাশে পর্বত নিয়ে মাঝখানে নীলকান্তমণি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রীষ্মকালে যারা নৌকায় করে ভেসে বেড়াতে পছন্দ করেন, ক্যাম্পিং করতে পছন্দ করেন, সৈকত প্রেমী কিংবা প্রকৃত প্রেমিক তাদের জন্য লেক তাহুই একটি আদর্শ জায়গা।

আপনি চাইলেই এখানে সৈকতের সম্মুখে কিংবা গাছগাছালির আচ্ছাদনে দারুণ ক্যাম্প করার জন্য চমৎকার জায়গা পেয়ে যাবেন। স্কি’র জন্যও লেক তাহুইকে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান জায়গা হিসেবে ধরা হয়। জনপ্রিয় কিছু স্কি রিসোর্ট আছে এখানে। ইউএসএ’র স্কি লাভাররা শীতকালে দারুণ একটা সুযোগ লুফিয়ে নেন এই লেক তাহুই অঞ্চলে আসলেই।

৭) সিক্যুয়া এণ্ড কিংস ক্যানিওন ন্যাশনাল পার্ক

Sequoia and Kings National Park; source: parkgallery

পৃথিবীর বৃহত্তম গাছেদের বাড়ি যেতে হলে যে নামটি আপনাকে প্রথমেই উচ্চারণ করতে হবে তা হলো সিক্যুয়া এণ্ড কিংস ক্যানিওন ন্যাশনাল পার্ক। এখানের সিক্যুয়াগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো জীবন্ত উদ্ভিদ যারা প্রায় ২,০০০ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে আছে, কতক আবার ৩,০০০ বছরের পুরনো।

এখানের সবগুলো পার্কই চারপাশে গ্রানাইটের চূড়া, গভীর গিরিসংকট, হ্রদ, নদী এবং বন-জঙ্গল সম্বলিত পর্বত দিয়ে ঘেরা। তবে এরা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে প্রত্যেকেই আলাদা। আপনি যদি এই দুই পাশের পার্কই ঘুরে দেখতে চান তাহলে কমপক্ষে দু’দিন সময় নিয়ে বেরুতে হবে আপনাকে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জয়পুরের রসনাবিলাস উপহার!

গোমুখ অভিযান: রূপালী নদীর রূপে-স্রোতে