যে ৬টি কাজ আপনার ভ্রমণকে দিতে পারে নতুন রূপ!

ভ্রমণ পরিকল্পনার সব থেকে বেশি চিন্তার বিষয় হচ্ছে ছুটি। সবসময় ছুটির দিনগুলো সমান হয় না। তার জন্য আপনার ভ্রমণের দিনকাল এগিয়ে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অল্প ছুটির মধ্যে কীভাবে আপনি একটি সফল ভ্রমণ সম্পন্ন করে আসতে পারবেন, সেটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার পরিকল্পনার উপর।

এই পরিকল্পনাটি আপনার ভ্রমণকে করে তুলতে পারে সার্থক, সুন্দর এবং স্মৃতি মধুর। তাই সবসময় এমন কিছু চিন্তাভাবনা করতে হবে যাতে অল্প সময়ের মধ্যে ও স্বল্প বাজেটের মধ্যেও মনের মতো হয় ভ্রমণটি। তাই নিচে আমি বেশ কিছু উপায় লিপিবদ্ধ করছি যেটি অনুসরণ করলে আপনি হয়তো আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনাগুলো যথাযথ এবং চিন্তা মুক্তভাবে করতে পারবেন।

একটি নির্ঝঞ্ঝাট গন্তব্য বিবেচনা করুন

ভ্রমণের দিনগুলো আসলে বিদ্যুতের মতোই গতিময়। আপনি ভ্রমণে বের হলে সময় যেন আপনার সাথে পাল্লা দিয়ে চলবে। এছাড়া আপনি কোন ধরনের তথ্য বিবেচনা করে আপনার গন্তব্য বাছাই করেছেন সেটি একটি বড় ব্যাপার আপনার ভ্রমণটি সফল হবে কি হবে না সেই ক্ষেত্রে। যেমন ধরুন এমন কোনো একটি গন্তব্য বাছাই করুন যেখানে খুব সহজে ঘুরে আসা যাবে।

Source: stqatar

যেখানে স্বাভাবিকভাবে হোটেল থাকবে, সেখানে সামাজিক প্রচার মাধ্যমগুলো স্বাভাবিক থাকবে এবং সেখানকার বর্তমান সামাজিক অবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। এমন কোনো ধরনের পরিকল্পনা করা যাবে না যেটি আপনার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। যেমন ধরুন ২০১৫ সালে সন্ত্রাসী হামলার সময় সৌদি আরব, তিউনিসিয়াতে অনেক পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। এছাড়া সিয়েরা লিওন একটি বিপজ্জনক জায়গা স্বাভাবিকভাবে ভ্রমণ করার জন্য। তাই পরিস্থিতি বুঝে শুনে আপনার গন্তব্য বিবেচনা করুন।

নতুন কোথাও যাবার জন্য অর্থ সংরক্ষণ করুন

একটি ভ্রমণ করে এসেছেন মানেই সেই ভ্রমণটি শেষ নয়। কোনো একটি ভ্রমণ করে আসার পর পরবর্তী ডেস্টিনেশনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে থাকুন। এছাড়া স্পেন, ভারত, গ্রিসের মতো জায়গাগুলোতে আসলে একাধিকবার যাওয়ার দরকার হয়। এই দেশগুলো এত বড় এবং দর্শনীয় স্থানগুলো এত বেশি যে, এক সপ্তাহ দুই সপ্তাহের জন্য সেখানে সবগুলো জায়গা ঘুরে আসা সম্ভব নয়।

Source: The World or Bust

তার জন্য প্রথম একটি ভ্রমণ শেষ করার পর পরবর্তী ভ্রমণের জন্য পরিকল্পনা শুরু করতে। মাথায় রাখতে পারেন এই দেশগুলোতে বিমান ভ্রমণের জন্য বিমান টিকেটগুলো দুই থেকে তিন মাস আগে খুব কম মূল্যে পাওয়া যায়। আপনি যে সময়ে যাবেন, সেই সময় বিমানের টিকেট চান তাহলে তিন গুণের বেশি পর্যন্ত অর্থ ব্যয় হতে পারে। তাই মাথায় রাখবেন যত আগে আপনি বিমানের টিকিট বুক করে রাখতে পারবেন তত বেশি লাভ হবে আপনার।

একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিবারের লোকদের ব্যান লিস্টে রাখুন

যদি কোথাও আপনার একা একা ভ্রমণের ইচ্ছা থাকে সেক্ষেত্রে আপনি আপনার সময় এবং সুযোগ মতো ফ্লাইটের টিকেট বা যাত্রার দিনক্ষণ বাছাই করতে পারবেন। কিন্তু তার মধ্যে যদি পরিবারের লোকজন ঢুকিয়ে ফেলেন তাহলেই হবে বিপত্তি। যেমন ধরুন আপনার বাবার সময় হলো আপনার মায়ের সময় হলো না। তো আপনার জন্য ব্যাপারটি একটি সময় সাপেক্ষ হিসেবে গিয়ে দাঁড়াবে।

Source: stuff

তাই এক্ষেত্রে বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের লোকজনদের অ্যাভয়েড করে চলাই ভালো। তাছাড়া নতুন কোনো জায়গায় গেলে ছোটখাটো সমস্যাগুলো নিজে নিজে আপনি সমাধান করতে পারবেন, কিন্তু পরিবারের মানুষ যদি বেশি সংখ্যক হয়ে যায় সেক্ষেত্রে সমস্যাগুলো সমাধান করাও ঝামেলাপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই অল্প ছুটির দিনগুলোতে যদি একা একা ভ্রমণ করতে চান আপনার উচিত হবে, সবসময় কম সংখ্যক মানুষ নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা।

লোকাল যানবাহনে চলাচল করুন

কোথাও যাবার আগে সেখানকার অঞ্চল ভিত্তিক যানবহনের সময়সূচীগুলো দেখে নেওয়া সব থেকে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ কোথাও পৌঁছানোর পর সেখানকার যানবহনের খোঁজখবর নিতে নিতে আপনার হাতে সময় চলে যেতে পারে। আর এই মূল্যবান সময় বাঁচানোর জন্য যদি আপনি আগে থেকে খোঁজ খবর নিয়ে যান তাহলে আপনি লোকাল যানবাহন চলাচল করতে পারবেন।

Source: TakeMeTour’s Blog

এক্ষেত্রে আপনার সময় এবং টাকা দুইটাই বাঁচবে। লোকাল যানবাহনগুলোতে চলাচল করার সুবিধা হলো আপনি সেখানকার স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে যেতে পারবেন। যদি ভ্রমণে কোনো স্থানীয় মানুষের সাথে একাত্ম হওয়া যায় তবে সেই ভ্রমণটি সব থেকে উপভোগ্য হয়ে ওঠে বলে আমার বিশ্বাস।

ব্যাকপ্যাক যথাসম্ভব হালকা রাখার চেষ্টা করুন

একটি আরামদায়ক ভ্রমণের পূর্ব শর্ত হচ্ছে আপনি যত পারবেন নিজের সাথে কম মালামাল বহন করবেন। কারণ যত বেশি মালামাল বহন করেন না কেন তাতে আপনার এক-দুই দিনের সুবিধা হলেও, পুরো মালামালের ওজনটা আপনাকেই বহন করতে হবে। হোটেল রুম থেকে হয়তো কোথাও আপনাকে দূরে যেতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশাল একটি ব্যাগ যদি নিজের ঘাড়ে সবসময় ঝুলতে থাকে তাহলে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

Source: Thrifty Nomads

সেই ক্ষেত্রে যদি আপনি ছোট ব্যাগ এবং কম মালামাল বহন করেন তাহলে আপনার সেগুলো বহন করতে কোনো অসুবিধা হবে না। আপনি নির্ঝঞ্ঝাটে যেকোনো জায়গায় যেতে পারবেন ইচ্ছা মতো। খুব বেশি মালামাল মানেই হারিয়ে যাবার ভয়। তাই অল্প মালামাল নিন এবং সেগুলোর একটি লেআউট আপনি খাতায় লিখে নিন। কী কী সাথে নিয়েছেন সেগুলো কোথাও নামানোর পর সেখান থেকে হিসাব করে যদি ব্যাগে উঠান তাহলে হারানোর ভয় থাকবে না।

স্থানীয়দের মতো যাপনের চেষ্টা করুন

নতুন কোথাও গিয়ে থাকতে হলে স্থানীয়দের শিল্প সংস্কৃতি অনুযায়ী যদি আপনি থাকতে পারেন তাহলে, সেটি আপনার কাছে আপনার জন্য সম্মানের আর আনন্দের কারণ হতে পারে। যেমন ধরুন কোথাও গিয়ে হোটেল নেবেন কি হোমস্টে নেবেন সেটা ঠিক করা আপনারই কাজ। কিন্তু আমার মতে আপনি যদি কোনো একটি হোমস্টেতে থাকেন তাহলে সেখানকার স্থানীয় মানুষদের জীবনযাপন সম্পর্কে আপনি খুব কাছ থেকে দেখতে পারবেন। যেমন একজন কৃষকের জীবন যাপন যদি আপনি খুব কাছ থেকে দেখতে পারেন তাহলে আমার মনে হয় শহর থেকে এসে হঠাৎ একটু সময়ের জন্য হলেও আপনার ভালো লাগবে।

Source: The Lux Authority

বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায় আদিবাসীরা তাদের ঘরগুলো খুব কম মূল্যে ভাড়া দিয়ে থাকে। আপনি এখান থেকে কিছুটা অর্থ সঞ্চয় করতে পারবেন যেটা হোটেলে গেলে ব্যয় হয়ে যেত। এইগুলোতে অনেক সময় খাবার পর্যন্ত ফ্রি দেওয়া হয়। খাবার ফ্রী থাকলে আপনার খাবার খরচ বেঁচে যাবে। হয়তো আপনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত খুব ভালো চিকিৎসা না পেতে পারেন। হোমস্টেতে সেই চিন্তাটা থাকবে না। আপনাকে টয়লেটের জন্য সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হতে পারে।

কিন্তু একটু ভাবলেই দেখবেন এই ক্ষুদ্র সম্প্রদায়গুলো আপনার কাছে দু-এক রাত নিজেদের থাকার ঘর ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। এগুলো যখন ভাববেন তখন এক রাত হোমস্টেতে থেকে তাদের জীবন-জীবিকা খুব কাছ থেকে দেখেই বুঝতে পারবেন, নিজের অনুভূতিগুলো একটু ভিন্ন আঙ্গিকে অনুভূত হচ্ছে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গোমুখ অভিযান: চিরবাসা থেকে ভুজবাসা

কালিয়াকৈরের শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ির মেটেরঙা আভিজাত্য