কম্বোডিয়ার সেরা ১০টি গন্তব্য

কম্বোডিয়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। এটি এক সময় খেমার সাম্রাজ্য নামে পরিচিত ছিল। খেমার রাজারা অনেক মন্দির সহ নানা স্থাপনা ও ভাস্কর্য  তৈরি করেছিলেন। সেসব স্থাপনা ও এর ধ্বংসাবশেষ খেমার প্রাচীন সাম্রাজ্যের সাক্ষ্য বহন করে। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে দেশটি পর্যটকদের কাছে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

কম্বোডিয়া মূলত অন্যতম প্রাচীন মন্দির এংকর ভাটের জন্যে বিখ্যাত। তাছাড়া অনেক সমুদ্র সৈকত ও জঙ্গলে ঘেরা প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ আপনাকে মুগ্ধ করবে। আজ কম্বোডিয়ার সেরা কয়েকটি স্থান সস্পর্কে চলুন জেনে নিই।

কেপ (Kep)   

কেপ; Source: touropia.com

কেপ কম্বোডিয়ার একটি সমুদ্র সৈকত। এখানে রয়েছে স্বচ্ছ নীল পানি, সবুজ প্রকৃতি আর মনোরম আবহাওয়া। সেই অগভীর সমুদ্রের নিচের প্রবাল দেখা যায়। আপনি এখানে চাইলে অগভীর সমুদ্রের তলে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। উপভোগ করতে পারবেন প্রবালের সৌন্দর্য!

রাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবস্থা খুব নাজুক। তাই দিনের বেলা ভ্রমণের জন্য বেশি উপযুক্ত। কেপের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ১৯০৮ সালে ফ্রান্সের অভিজাত শ্রেণী নিজেদের উপনিবেশ করে নেয়। কেপের ন্যাশনাল পার্কে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষণ ও পরিচর্যা পদ্ধতির দেখা মিলবে।

বাংলুং (Banlung)   

বাংলুং; Source: touropia.com

যারা বন জঙ্গলে ঘুরতে পছন্দ করেন, এটি তাদের জন্য একদম উপযুক্ত স্থান। এখনে বেশ কিছু পর্যটন সংস্থা আছে। যারা আপনাকে কিছুদিনের জন্য বনের ভেতর নিয়ে যাবে। যে কারণে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

দেখা মিলবে বাঁদর ও অন্য বন্য প্রাণীর। তবে যারা জোঁকের ভয় পান তাদের কিছুটা সমস্যা তো হবেই। ইয়েক লাওর আগ্নেয়গিরির কাছে গভীর হ্রদ দেখতে পাবেন। এখানে স্থানীয় কম্বোডিয়ান নারীদের কাপড় বুনতে দেখা যায়।

ব্যাটাম্বঙ (Battambang)   

ব্যাটাম্বং; Source: touropia.com

ব্যাটাম্বঙ কম্বোডিয়ার দ্বিতীয় জনবহুল নগরী। এখানকার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আপনাকে মুগ্ধ করবে। ১৮ শতকে এটি বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। পরে এটা ফ্রান্স ও ইন্দো চীনের উপনিবেশ হয়। কিছু ঔপনিবেশিক আমলের ভবন এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

শহরে এংকর শৈলী মন্দির ও বৌদ্ধ মন্দির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে সেগুলো সহজে খুঁজে পাবেন। পশু ও দেবদেবীর মূর্তি প্রায় আপনার চোখে পড়বে। সবচেয়ে বিখ্যাত মূর্তিটি প্রাচীন খেমার রাজার। ফনম পেন এর রাস্তায় এটি অবস্থিত।

কাম্পট (Kampot)       

কাম্পট; Source: touropia.com

কাম্পট থাইল্যান্ড উপসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত। এটি পর্যটকের চেয়ে মরিচের জন্য বেশি বিখ্যাত। কাম্পটের কালো মরিচ সারা বিশ্বে ভোজনবিলাসীদের কাছে জনপ্রিয়। কাম্পট বোকর (Bokor) ন্যাশনাল পার্কের প্রবেশ দ্বার। বোকর পাহাড়ের উপর অনেক বৌদ্ধ মন্দির ও মূর্তি রয়েছে।

কম্পট পরিত্যক্ত ফরাসি পাহাড় স্টেশন, মনোরম জলবায়ু, রেইন ফরেস্টের জন্য সুপরিচিত। এছাড়া আপনি নৌকা ভ্রমণ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য আপনার জন্য একটি বোনাস থাকছে। নৌকা ভ্রমণে বের হলে জলপ্রপাত দেখতে পারবেন আপনি। এছাড়াও কম্পং টরব গুহার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষও উপভোগ করতে পারেন আপনি। আর স্থানীয় লোভনীয় কাঁকড়ার স্বাদ তো নিতেই পারেন!

কেরাটি (Kratie)

কেরাটি; Source: touropia.com

কেরাটি চারপাশ দিয়ে ঔপনিবেশিক ভবন ঘেরা একটি শহর। এটি মিকিং নদীর তীরে অবস্থিত। এটি ভ্রমণের জন্যে তেমন বিখ্যাত নয়। কিন্তু ভ্রমণ মৌসুমে বেশ লোক সমাগম হয়। এখানে দুর্লভ irrawaddy প্রজাতির ডলফিন  দেখা যায়। তবে এদের পরিমাণ সংখ্যায় অনেক কমে গেছে। অনুমান করা হয় মিকিং এলাকাতে এ প্রজাতির মাত্র ৬৬-৮৬টি ডলফিন  রয়েছে।

সিহানুক্কিল (Sihanoukville )

সিহানুক্কিল; Source: touropia.com

কম্বোডিয়ার সাবেক রাজা নরডম সিহানুক এর নাম থেকে এসেছে। এটি থাইল্যান্ড উপসাগরের সবচেয়ে জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত। এটি কম্পং সাওম (Kompong saom) নামেও পরিচিত। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের মধ্য যুদ্ধ শেষ হয়েছিল।

এখানে এক সাথে বালুকাময় সৈকত ও পাথুরে সৈকত উভয় দেখতে পাবেন। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সেরা সমুদ্র সৈকত না হতে পারে, তবে কম্বোডিয়া ভ্রমণের পর আপনার ক্লান্ত শরীরে একটু প্রশান্তি দিতে এটাই সেরা স্থান।

সিয়েম রিপ (Siem Reap)     

সিয়েম রিপ; Source: touropia.com

সিয়েম রিপ কম্বোডিয়ার ক্রমবর্ধমান শহরগুলোর একটি। কিন্তু সেটি নয়, বরং সিয়েম রিপ অন্য কারণে বিখ্যাত। সিয়েম রিপকে বিখ্যাত মন্দির অ্যাংকর ভাটের প্রবেশ দ্বার বলা হয়। সিয়েম রিপ অবশ্য আস্তে আস্তে নিজেকে কম্বোডিয়ার প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে রয়েছে বিলাসবহুল পাঁচ তারা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে বাহারি লোভনীয় খাবার, যা আপনাকে মুগ্ধ করবে।

কহ কের (Koh ker)

কহ কের; Source: touropia.com

এটি সিয়েম রিপ থেকে ১২০ কিমি দূরে অবস্থিত। কহ কের অল্প কিছু দিনের জন্য খোয়ম সম্রাজের রাজধানী ছিল। এই অল্প সময়ে বেশ কিছু ভাস্কর্য ও মন্দির নির্মাণ করা হয়। এখানে ৩০ মিটার লম্বা পিরামিড বিশিষ্ট মন্দির রয়েছে। যা পাশের জঙ্গল থেকে উঁচু।

ফনম পেন (Phnom Penh) 

Source: touropia.com

এটি কম্বোডিয়ার সব থেকে বড় শহর এবং কম্বোডিয়ার রাজধানী। এটি ফরাসি ঔপনিবেশিক আমল থেকে রাজধানী ছিল। এখানে গেলে পাবেন মনোরম প্রকৃতির সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা ভূমি। যে কারণে এটি এশিয়ার মুক্তা নামে পরিচিত।

ফনম পেন আধুনিক ইন্দো চীন নির্মিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে মূল আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে রয়েল প্যালেস এবং জাতীয় জাদুঘর যেখানে খেমার সাম্রাজ্যের নিদর্শন রয়েছে। রাতে বাজারে হস্তনির্মিত আইটেম এবং স্মারক সংগ্রহ করতে পারেন।

এংকর (Angkor)      

এংকর; Source: touropia.com

৯ম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত এংকর শহর খেমার সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। তাই এটি ঐতিহাসিক ধনসম্পদে পরিপূর্ণ। এটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর মধ্যে একটি। বহু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখানে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত এংকর ভাট মন্দির, বিশ্বের বৃহত্তম একক ধর্মীয় স্মৃতিস্তম্ভ। এর চারপাশ জল দ্বারা বেষ্টিত। এংকর ভাট মন্দিরের চোখ ধাঁধানো স্থাপত্যশৈলী এটাকে বিখ্যাত করে তুলছে। মন্দিরের দেয়ালে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি খোদাই করা আছে। এগুলোর মাঝে গেলে আপনি নিমেষেই হারিয়ে যাবেন অন্য এক অতীত সমৃদ্ধময় ভুবনে।

তো প্রিয় পাঠক, আপনি যদি কম্বোডিয়ায় ঘুরতে যান, কোথা থেকে শুরু করবেন?

Feature Image: touropia.com

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক নজরে একটি জেলা: রাজশাহীর পুঠিয়ায় যত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

৫০ ডলারে দার্জিলিং ভ্রমণ! (রিশপ-লাভা)